রাঙ্গামাটি জেলা
Rangamati · ১টি সংসদীয় আসন · ১০টি উপজেলা। প্রতিটি আসনের বর্তমান সদস্য, সংসদের তথ্যভান্ডার অনুযায়ী।
রাঙ্গামাটি জেলা পরিচিতি
রাঙ্গামাটি জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত চট্টগ্রাম বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। পূর্ব রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান একসাথে একটি জেলা ছিল। ১৮৬০ সালের আগে এটি চট্টগ্রাম জেলার অংশ ছিল। ১৮৬০ সালে চট্টগ্রামকে ভেঙে পার্বত্য চট্টগ্রাম গঠন করে ব্রিটিশ সরকার। ১৯৮৪ সালে এরশাদ সরকারের আমলে পার্বত্য চট্টগ্রামকে ভেঙে জেলা খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান নামে নতুন দুটি জেলা গঠন করা হয় এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা বাকি অংশ অর্থাৎ চন্দ্রঘোনা ও রাঙ্গামাটি সদর এই দুই মহকুমা নিয়ে রাঙামাটি জেলা আত্মপ্রকাশ করে। উপজেলার সংখ্যানুসারে রাঙ্গামাটি বাংলাদেশের একটি “এ” শ্রেণিভুক্ত জেলা।
অবস্থান ও আয়তন
রাঙ্গামাটি জেলার মোট আয়তন ৬১১৬.১৩ বর্গ কিলোমিটার। এটি আয়তনের দিক থেকে বাংলাদেশের বৃহত্তম জেলা। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাংশে ২২°২৭´ থেকে ২৩°৪৪´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯১°৫৬´ থেকে ৯২°৩৩´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ জুড়ে রাঙ্গামাটি জেলার অবস্থান। রাজধানী ঢাকা থেকে এ জেলার দূরত্ব প্রায় ৩০৮ কিলোমিটার এবং চট্টগ্রাম বিভাগীয় সদর থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার।
জনসংখ্যা
বাংলাদেশের জনশুমারি ও গৃহগণনা - ২০২২ অনুযায়ী এ জেলার মোট জনসংখ্যা ৬,৪৭,৫৮৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ - ৩,৩৩,২০৪ জন, মহিলা - ৩,১৪,৩৫৬ জন এবং হিজড়া - ২৬ জন। জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গ কিলোমিটারে প্রায় ১০৬জন।
অর্থনীতি
রাঙ্গামাটি জেলায় জুম পদ্ধতিতে পাহাড়ে চাষাবাদ হয়ে থাকে। এ জেলায় উৎপাদিত প্রধান শস্যগুলো হল ধান, পাট, আলু, তুলা, ভুট্টা, সরিষা। এছাড়া এ জেলায় প্রচুর পরিমাণে ফলজ ও বনজ গাছের বাগান রয়েছে, যা বাইরে রপ্তানি করে এ জেলার লোকেরা জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। প্রধান রপ্তানি দ্রব্যের মধ্যে রয়েছে কাঁঠাল, আনারস, বনজ পণ্য, কাঠ ইত্যাদি। এছাড়া এ জেলায় আম, কলা, লিচু, জাম ইত্যাদি ফলের প্রচুর ফলন হয়।
সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য
সরকারি ভাষা ও কথ্য ভাষা হিসেবে বাংলা প্রচলিত। স্থানীয় চাটগাঁইয়ারা চাটগাঁইয়া ভাষায় কথা বলে। এছাড়াও অন্যান্য ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভাষা হিসেবে চাকমা, মারমা, ম্রো, ত্রিপুরা, বম, লুসাই, তঞ্চঙ্গ্যা, চাক, খিয়াং, খুমি, পাংখুয়া ইত্যাদি প্রচলিত রয়েছে। পার্বত্যাঞ্চলে চাকমাদের প্রধান সামাজিক উৎসব বিজু উৎসব এবং ত্রিপুরাদের প্রধান সামাজিক উৎসবের নাম বৈসু।
নদ-নদী
রাঙ্গামাটি জেলার প্রধান নদী কর্ণফুলী। এ নদী ভারতের লুসাই পাহাড় থেকে উৎপন্ন হয়ে রাঙ্গামাটির উত্তর-পূর্ব সীমান্ত দিয়ে ঠেগা নদীর মোহনা হয়ে এ অঞ্চলে প্রবেশ করেছে। কর্ণফুলী নদীর উপনদীগুলো হল কাচালং, মাইনী, চেঙ্গি, ঠেগা, সলক, রাইংখ্যং। এছাড়া এ জেলায় রয়েছে বাংলাদেশের বৃহত্তম কাপ্তাই হ্রদ। এ উপনদীগুলো বর্ষাকালে যথেষ্ট খরস্রোতা থাকলেও শুষ্ক মৌসুমে নাব্যতাসহ পানির পরিমাণ প্রায় থাকে না।
তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া, রাঙ্গামাটি জেলা · CC BY-SA 4.0
রাঙ্গামাটি জেলার দর্শনীয় স্থান
- কমলক ঝর্ণা
- ঘাগড়া তৈমা ঝর্ণা
- ধুপপানি ঝর্ণা
- মুপ্পোছড়া ঝর্ণা
- শুভলং ঝর্ণা
- সিকাম তৈসা ঝর্ণা
- হাজাছড়া ঝর্ণা
- কাপ্তাই হ্রদ
- কংলাক পাহাড়
- সাজেক উপত্যকা
- দুমলং
- চাকমা রাজবাড়ি
রাঙ্গামাটি জেলার উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব
- আলমগীর কবির · বাংলাদেশী চলচ্চিত্র পরিচালক ও স্থপতি
- মুমতাহিনা টয়া · অভিনেত্রী
- ফিরোজা বেগম চিনু · রাজনীতিবিদ
- রাসেল মাহমুদ লিটন · ফুটবল খেলোয়াড়
- কনক চাঁপা চাকমা · চাকমা শিল্পী
- জাহেদ উর রহমান · উপদেষ্টা
- পারিজাত কুসুম চাকমা · প্রাক্তন সংসদ সদস্য
- মঞ্জুলিকা চাকমা · নারী উদ্যোক্তা
- সুরকৃষ্ণ চাকমা · বক্সিং প্লেয়ার
- রূপনা চাকমা · নারী ফুটবলার
- ঋতুপর্ণা চাকমা · নারী ফুটবলার
- জয়া চাকমা · নারী ফুটবলার
জেলার মানচিত্র
সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর। ১টি আসন; এলাকায় চাপ দিলে সেই আসনের পাতা।
আসন ও সংসদ সদস্য
রাঙ্গামাটি জেলা চট্টগ্রাম বিভাগের একটি জেলা, জাতীয় সংসদে যার ১টি আসন: রাঙ্গামাটি (রাংগামাটি পার্বত্য জেলা)। ত্রয়োদশ সংসদে আসনটি বিএনপির। দ্বাদশ সংসদে (২০২৪) আসনটি ছিল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের।
- রাঙ্গামাটি , আসন ২৯৯রাংগামাটি পার্বত্য জেলা
দীপেন দেওয়ানরাঙ্গামাটি, BNP
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ | হালনাগাদ ২৪ অক্টোবর ২০২৬