মূল বিষয়ে যান
English
সর্বশেষ
সিলেট বিভাগ

সুনামগঞ্জ জেলা

Sunamganj · ৫টি সংসদীয় আসন · ১২টি উপজেলা। প্রতিটি আসনের বর্তমান সদস্য, সংসদের তথ্যভান্ডার অনুযায়ী।

আসন৫
উপজেলা১২
দল১

সুনামগঞ্জ জেলা পরিচিতি

সুনামগঞ্জ জেলা বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। উপজেলার সংখ্যানুসারে সুনামগঞ্জ বাংলাদেশের একটি “এ” শ্রেণীভুক্ত জেলা। কিংবদন্তি এবং ঐতিহাসিক তথ্যাবলি থেকে অনুমান করা হয় যে, সুনামগঞ্জ জেলার সমগ্র অঞ্চল প্রাচীন কামরূপ বা প্রাগজ্যোতিষপুর রাজ্যের অন্তর্গত ছিল। জনৈক মোঘল সিপাহি সুনামুদ্দির নামে সুনামগঞ্জের নামকরণ করা হয়। ১৮৭৭ খ্রিষ্টাব্দে সুনামগঞ্জকে মহকুমায় এবং ১৯৮৪ খ্রিষ্টাব্দে জেলায় উন্নীত করা হয়। বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি নদী রয়েছে সুনামগঞ্জ জেলায়। এজন্য সুনামগঞ্জকে কখনো কখনো নদীমাতৃক বাংলার রাজধানী হিসেবেও আখ্যায়িত করা হয়।

নামকরণ

‘সুনামদি’ নামক জনৈক মোগল সিপাহীর নামানুসারে সুনামগঞ্জের নামকরণ করা হয়েছিল বলে জানা যায়। ‘সুনামদি’ নামক উক্ত মোগল সৈন্যের কোন এক যুদ্ধে বীরোচিত কৃতিত্বের জন্য সম্রাট কর্তৃক সুনামদিকে এখানে কিছু ভূমি পুরস্কার হিসাবে দান করা হয়। তার দানস্বরূপ প্রাপ্ত ভূমিতে তারই নামে সুনামগঞ্জ বাজারটি স্থাপিত হয়েছিল। এভাবে সুনামগঞ্জ নামের ও স্থানের উৎপত্তি হয়েছিল বলে মনে করা হয়ে থাকে।

ইতিহাস

প্রাচীনকাল থেকে বহু ভাষাভাষী জাতি, বর্ণ ও ধর্ম নিয়ে বেড়ে উঠেছে সার্বভৌম বাংলাদেশের বর্তমান সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ অঞ্চল। পৌরাণিক যুগে প্রাচীন কামরূপ বা প্রাগজ্যোতিষপুর রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল সুনামগঞ্জ। সুনামগঞ্জের লাউড় পর্বতে কামরূপ রাজ্যের উপরাজধানী স্থাপন করেছিলেন রাজা ভগদত্ত। রাজা ভগদত্তের শাসনামলে সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলাসহ বাংলাদেশের ঢাকা এবং ময়মনসিংহ জেলার মধ্যবর্তী অঞ্চল লাউড় রাজ্যের অধীন শাসিত হত। লাউড়ের গড়ের ভগ্নাবশেষ আজও অত্র অঞ্চলে বিদ্যমান, যা রাজা ভগদত্তের বাড়ি বলে জনশ্রুতিতে ব্যক্ত।

অবস্থান ও আয়তন

উত্তরে ভারতের মেঘালয়, পূর্বে সিলেট জেলা, দক্ষিণে হবিগঞ্জ জেলা, পশ্চিমে নেত্রকোণা জেলা ও কিশোরগঞ্জ জেলা।

অর্থনীতি

অধিকাংশ মানুষ কৃষির উপর নির্ভরশীল। ধান উৎপাদনে এ জেলা বিশেষ ভূমিকা পালন করে সমগ্র বাংলাদেশে বিশেষ করে বাংলাদেশ খাদ্যে আজ স্বয়ংসম্পূর্ণ। মূলতঃ পাথর শিল্প, মৎস্য, ধান, সিমেন্ট শিল্প।

সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য

হালযাত্রা, গোরমার নাচ, ধামাইল ও সূর্যব্রত গান, বীজবাস-ব্রত, বনলক্ষ্মীব্রত, ক্ষীরবাসব্রত, ফিরাল প্রভৃতি লোকজ আচার-অনুষ্ঠান উল্লেখযোগ্য।

নদ-নদী

সুনামগঞ্জ জেলায় বিভিন্ন নদী প্রবাহিত হয়েছে। যেমনঃ সুরমা নদী, জাদুকাটা নদী, কুশিয়ারা নদী, নলজুর নদী, মনাই নদী, পিয়াইন নদী, সারী-গোয়াইন, ইটাখোলা নদী, সোনালী চেলা, ঘানুয়ারা নদী, বোকা নদী ও মহাসিং নদী। এসব নদীকে সাধারণ মানুষের বিভিন্ন জীবন ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। নদীপথে যাতায়াতে উল্লেখ্য নদী গুলোর ভূমিকা রয়েছে। জেলেদের জীবিকা নির্বাহে নদীগুলো অন্যতম মাধ্যম।

তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া, সুনামগঞ্জ জেলা · CC BY-SA 4.0

সুনামগঞ্জ জেলার উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব

  • হাছন রাজা · মরমী কবি
  • শাহ আবদুল করিম · বাউলসম্রাট
  • রাধারমণ দত্ত · বৈষ্ণব কবি ও ধামালি নৃত্যের প্রবর্তক
  • দুর্বিন শাহ · বাউল সাধক
  • সৈয়দ শাহনুর · মরমি কবি
  • অদ্বৈত আচার্য · বৈষ্ণব সাধক
  • শামসুল উলামা আবু নসর ওহীদ · শিক্ষাবিদ ও রাজনীতিবিদ
  • বিপ্লবী ফজলুল হক সেলবর্ষী · সাংবাদিক ও ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের নেতা
  • দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ · জাতীয় অধ্যাপক, দার্শনিক
  • সুহাসিনী দাস · ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের নেত্রী, সমাজসেবী
  • নির্মলেন্দু চৌধুরী · উপমহাদেশের প্রখ্যাত লোকসংগীত শিল্পী
  • শাহেদ আলী · কালজয়ী কথাশিল্পী ও ভাষাসৈনিক

জেলার মানচিত্র

সুনামগঞ্জ জেলা

সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর। ৫টি আসন; এলাকায় চাপ দিলে সেই আসনের পাতা।

আসন ও সংসদ সদস্য

সুনামগঞ্জ জেলা সিলেট বিভাগের একটি জেলা, জাতীয় সংসদে যার ৫টি আসন: সুনামগঞ্জ-১ (ধর্মপাশা,মধ্যনগরতাহিরপুর ও জামালগঞ্জ উপজেলা), সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই ও শাল্লা উপজেলা), সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ উপজেলা), সুনামগঞ্জ-৪ (সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা) ও সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলা)। ত্রয়োদশ সংসদে সবগুলো আসনই বিএনপির। দ্বাদশ সংসদে (২০২৪) এই আসনগুলো ছিল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৪টি ও স্বতন্ত্র ১টি।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ | হালনাগাদ ২৪ অক্টোবর ২০২৬

কোথা থেকে তথ্য আসে

সদস্য, আসন, কমিটি ও অধিবেশন আসে জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইট থেকে; ভোটার সংখ্যা নির্বাচন কমিশন ও মন্ত্রিসভা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে। ভোটের ফল ও জীবনীর সূত্র আলাদা করে প্রতিটি পাতায় লেখা।

সব সূত্র দেখুন →

কত দিন পরপর হালনাগাদ

প্রতি রাতে পুরো সাইট সংসদের তথ্যভান্ডার থেকে নতুন করে তৈরি হয়। নতুন প্রজ্ঞাপন, বৈঠকের কার্যসূচি বা কমিটির পরিবর্তন পরদিনের মধ্যে যুক্ত হয়; সংবাদ শিরোনাম দিনে কয়েকবার।

পদ্ধতি →

ভুল পেলে

প্রতিটি সদস্যের পাতায় “সংশোধন জানান” বোতাম আছে। সূত্রসহ জানালে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাচাই করে ঠিক করা হয়; সদস্যের দপ্তর নিজের পাতাও হালনাগাদ করাতে পারেন।

যোগাযোগ →