মূল বিষয়ে যান
English
সর্বশেষ
ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির

ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির

Barrister Muhammad Nawshad Zamir

বর্তমান সদস্য, ত্রয়োদশ সংসদ

সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা

পরিচিতি

ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির পঞ্চগড়-১ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক, বিএনপি। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি, নির্বাচনী ফলাফল, আগের মেয়াদ, সংসদীয় কমিটি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।

ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির (Muhammad Nawshad Zamir) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য। পেশায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নওশাদ জমির ২০২৬ সালের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো সংসদে আসেন। সংসদে তিনি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি।

পঞ্চগড়-১ একসময় তাঁর পিতা ব্যারিস্টার মুহম্মদ জমির উদ্দিন সরকারের (Muhammad Jamiruddin Sircar) নির্বাচনী এলাকা ছিল। ২০০৮ সালে হাতছাড়া হওয়া আসনটি প্রায় দেড় যুগ পর তাঁর হাত ধরে আবার বিএনপির কাছে ফিরেছে।

শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা

নওশাদ জমির ১৯৭০ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মুহম্মদ জমির উদ্দিন সরকার জাতীয় সংসদের স্পিকার, মন্ত্রী ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন; ২০২৬ সালের ১২ জুলাই ঢাকায় তিনি মারা যান। মাতা বেগম নূর আখতার সরকার।

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন; তাঁর নিজের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী দুটি পরীক্ষাতেই তিনি প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন। এরপর হার্ভার্ড ল স্কুল (Harvard Law School) থেকে এলএলএম এবং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় (University of Oxford) থেকে এমএসসি ডিগ্রি নেন।

পেশাগত জীবনে তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী।

রাজনৈতিক জীবন

রাজনীতিতে তিনি বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক।

২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি পঞ্চগড়-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী হন। সেবার ১,৩২,৫৩৯ ভোট পেলেও আওয়ামী লীগের মো. মজাহারুল হক প্রধানের কাছে তিনি পরাজিত হন। ২০২৬ সালের নির্বাচনে দল আবার তাঁকে এ আসনে মনোনয়ন দেয়।

২০২৬ নির্বাচন

১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে নওশাদ জমির ১,৭৬,১৬৯ ভোট পান। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম (Sarjis Alam) পান ১,৬৮,০৪৯ ভোট; ব্যবধান ৮,১২০ ভোট। নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ এ ফল ঘোষণা করেন।

ফল ঘোষণার পর সারজিস আলম মঞ্চে এসে তাঁকে অভিনন্দন জানান। নওশাদ জমিরও তাঁকে ধন্যবাদ দিয়ে বলেন, শুরুতেই দুজন জেলার জন্য একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেছিলেন, মতভেদ থাকলেও তা পারস্পরিক সমঝোতায় মেটানো হবে।

সূত্র: উইকিপিডিয়া (বাংলা), উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, nawshadzamir.com, dhakatribune.com, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, bssnews.net ১, unb.com.bd, dhakatimes24.com, banglatribune.com, dailyinqilab.com, bssnews.net ২। ভুল দেখলে জানান।

জন্ম৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৭০, ৫৬ বছর
জন্মস্থানধানমন্ডি, ঢাকা*
লিঙ্গপুরুষ
শিক্ষাঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (আইনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর), হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় (এলএলএম), অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় (কর বিষয়ে স্নাতকোত্তর), লিংকন'স ইন (বার-অ্যাট-ল)
পেশাআইনজীবী*
পিতামুহম্মদ জমির উদ্দিন সরকার
মাতাবেগম নূর আখতার সরকার
বর্তমান মেয়াদ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০৩১
সংসদ সদস্য নির্বাচিতমোট ১ বার

* চিহ্নিত তথ্য সদস্যের উইকিপিডিয়া নিবন্ধ (বাংলা) ও উইকিপিডিয়া নিবন্ধ (ইংরেজি) থেকে নেওয়া; সংসদ বা নির্বাচন কমিশনের নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি। ভুল দেখলে জানান।

বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম

তিনি ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে সংসদ সদস্য। ২০২৬ সালের ২৭ আগস্ট সংসদে কমিটি পুনর্গঠনের মাধ্যমে তিনি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি হন; এর আগে তিনি এ কমিটির সদস্য ছিলেন।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি সংসদে উত্থাপিত আইন ও বিচার-সংক্রান্ত বিল খুঁটিয়ে দেখে সংসদে প্রতিবেদন দেয় এবং মন্ত্রণালয়ের কাজ পর্যালোচনা করে। সভাপতি হিসেবে নওশাদ জমির ২০২৬ সালের ৩০ আগস্ট কমিটির বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন; সেখানে সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬ ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬ পর্যালোচনা করে দুটি বিলই সংশোধনীসহ পাসের সুপারিশ করা হয়।

তিনি বেসরকারি সদস্যদের বিল ও বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত-প্রস্তাব সম্পর্কিত কমিটিরও সদস্য। ১২ মে ২০২৬ কমিটিটির প্রথম বৈঠকে জনগুরুত্বপূর্ণ বেসরকারি বিল উত্থাপনে সংসদ সদস্যদের সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এ ছাড়া বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (দ্বিতীয় সংশোধন) বিল, ২০২৬ পর্যালোচনায় গঠিত বিশেষ কমিটির সদস্য হিসেবে ৩০ জুন ২০২৬ কমিটির যে বৈঠকে বিলটির প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়, তাতে তিনি অংশ নেন।

সূত্র: bssnews.net ১, dailyinqilab.com, bssnews.net ২, bssnews.net ৩। ভুল দেখলে জানান।

নির্বাচনী এলাকা

পঞ্চগড়-১

সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।

নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি

পঞ্চগড়-১ জাতীয় সংসদের ১ নম্বর আসন, রংপুর বিভাগের পঞ্চগড় জেলায়। নির্বাচন কমিশনের ২০২৫ সালের সীমানা নির্ধারণ অনুযায়ী আসনটি পঞ্চগড় সদর উপজেলা, তেঁতুলিয়া উপজেলা এবং আটোয়ারী উপজেলা (বোদা পৌরসভার অংশ বাদে) নিয়ে গঠিত। জেলা নির্বাচন অফিসের হিসাবে ২০২৬ সালের নির্বাচনে এ আসনে ভোটার ছিলেন ৪,৫৮,৮০৭ জন, ভোটকেন্দ্র ১৫৫টি।

পঞ্চগড় সদর উপজেলা (৩৪৭.০৮ বর্গকিলোমিটার) জেলার উত্তরাংশে; এর উত্তর, পূর্ব ও পশ্চিমের একাংশজুড়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ। ২০২২ সালের জনশুমারিতে জনসংখ্যা ৩,৩৫,৩৬৬। পঞ্চগড় পৌরসভা ও দশটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ উপজেলায় রয়েছে প্রাচীন দুর্গনগরী ভিতরগড় এবং পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণের রকস মিউজিয়াম।

তেঁতুলিয়া (১৮৯.১২ বর্গকিলোমিটার) দেশের সর্ব-উত্তরের উপজেলা; ২০২২ সালে জনসংখ্যা ১,৬০,১৮০, ইউনিয়ন সাতটি। চা, কমলা ও আনারস চাষ এবং পাথর উত্তোলন এখানকার অর্থনীতির বড় অংশ। বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর, মহানন্দা নদী ও চা-বাগান ছাড়াও এখান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে পাওয়ার জন্য উপজেলাটি পরিচিত।

আটোয়ারী (২০৯.৯২ বর্গকিলোমিটার) ঠাকুরগাঁও জেলা ও ভারত সীমান্তের মাঝে; ২০২২ সালে জনসংখ্যা ১,৪১,৫৪৯, ইউনিয়ন ছয়টি। টাঙ্গন, নাগর ও পাথরাজ নদী এবং মির্জাপুর শাহী মসজিদ এ উপজেলার পরিচিতি।

১৯৯১ সালে বিএনপির মির্জা গোলাম হাফিজ এবং জুন ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে বিএনপির ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আসনটিতে জয়ী হন। ২০০৮ ও ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের মজাহারুল হক প্রধান, ২০১৪ সালে নাজমুল হক প্রধান এবং ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের নাঈমুজ্জামান ভূঁইয়া নির্বাচিত হন; ২০২৬ সালে বিএনপি আসনটি ফিরে পায়। ২০০৮ সাল থেকে আসনটি এই তিন উপজেলা নিয়েই গঠিত, তবে ২০২৫ সালের সীমানা নির্ধারণে বোদা পৌরসভার দুটি ওয়ার্ড পঞ্চগড়-২-এ চলে যায়।

সূত্র: bssnews.net, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৪, en.prothomalo.com, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৫, dhakatribune.com। ভুল দেখলে জানান।

সংসদে মেয়াদ

ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬পঞ্চগড়-১বর্তমান মেয়াদBNP

সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ১ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।

২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট

আসনের সব ফল →
ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬প্রার্থীদের মোট ৩,৫০,০২৫ ভোট
  1. ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমিরBNPবিজয়ী১,৭৬,১৬৯৫০.৩%
  2. Md Sarjis AlamNCP১,৬৮,০৪৯৪৮.০%
  3. Nazmul Haque PradhanBangladesh JaSad৩,০০৯০.৯%
  4. Md Abdul Wadud (Badsha)BSP১,০১৮০.৩%
  5. Md Mahfuzar RahmanGOP৮৩৬০.২%
  6. Md Ferdous AlamBangladesh Labour Party৬৮৩০.২%
  7. Md. Sirajul IslamBNF২৬১০.১%
উৎস: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড। নির্বাচন কমিশনের গেজেটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি। উইকিপিডিয়াতেও বিজয়ীর ভোট একই।মূল পাতা

সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন

এই সদস্য সম্পর্কে সংসদ সচিবালয়ের কোনো প্রজ্ঞাপন নেই।সংসদ সচিবালয় কোনো সদস্যের নামে প্রজ্ঞাপন বা সরকারি আদেশ প্রকাশ করলে তা প্রতিদিন এখানে যুক্ত হয়।

আসন: পঞ্চগড়-১

আসনের পাতা →
এলাকা

(ক) পঞ্চগড় সদর উপজেলা, (খ) তেঁতুলিয়া উপজেলা এবং (গ) আটোয়ারী উপজেলা [বোদা পৌরসভার অংশ বাদে]

সংসদীয় কমিটি(৫)

সংবাদ ও ভিডিও

সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…

কোথা থেকে তথ্য আসে

সদস্য, আসন, কমিটি ও অধিবেশন আসে জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইট থেকে; ভোটার সংখ্যা নির্বাচন কমিশন ও মন্ত্রিসভা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে। ভোটের ফল ও জীবনীর সূত্র আলাদা করে প্রতিটি পাতায় লেখা।

সব সূত্র দেখুন →

কত দিন পরপর হালনাগাদ

প্রতি রাতে পুরো সাইট সংসদের তথ্যভান্ডার থেকে নতুন করে তৈরি হয়। নতুন প্রজ্ঞাপন, বৈঠকের কার্যসূচি বা কমিটির পরিবর্তন পরদিনের মধ্যে যুক্ত হয়; সংবাদ শিরোনাম দিনে কয়েকবার।

পদ্ধতি →

ভুল পেলে

প্রতিটি সদস্যের পাতায় “সংশোধন জানান” বোতাম আছে। সূত্রসহ জানালে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাচাই করে ঠিক করা হয়; সদস্যের দপ্তর নিজের পাতাও হালনাগাদ করাতে পারেন।

যোগাযোগ →