মূল বিষয়ে যান
English
সর্বশেষ
চট্টগ্রাম বিভাগ

বান্দরবন জেলা

Bandarban · ১টি সংসদীয় আসন · ৭টি উপজেলা। প্রতিটি আসনের বর্তমান সদস্য, সংসদের তথ্যভান্ডার অনুযায়ী।

আসন১
উপজেলা৭
দল১

বান্দরবন জেলা পরিচিতি

বান্দরবান জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত চট্টগ্রাম বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। পূর্ব রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান একসাথে একটি জেলা ছিল। ১৯৮৪ সালে এরশাদ সরকারের আমলে পার্বত্য চট্টগ্রামের লামা ও বান্দরবান এই দুই মহকুমা নিয়ে বান্দরবান জেলা গঠন করা হয়। ১৮৬০ সালের আগে এই জেলা চট্টগ্রাম জেলার অংশ ছিল। ১৮৬০ সালে চট্টগ্রামকে ভেঙে পার্বত্য চট্টগ্রাম গঠন করে ব্রিটিশ সরকার। বান্দরবান জেলার মোট আয়তন ৪৪৭৯.০২ বর্গ কিলোমিটার।

নামকরণ

বান্দরবান জেলার নামকরণ নিয়ে একটি কিংবদন্তি রয়েছে। এলাকার বাসিন্দাদের প্রচলিত রূপকথায় আছে, এ এলাকায় একসময় অসংখ্য বানর বাস করত। আর এই বানরগুলো শহরের প্রবেশমুখে ছড়ার পাড়ে পাহাড়ে প্রতিনিয়ত লবণ খেতে আসত। এক সময় অনবরত বৃষ্টির কারণে ছড়ার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বানরের দল ছড়া পাড় হয়ে পাহাড়ে যেতে না পারায় একে অপরকে ধরে ধরে সারিবদ্ধভাবে ছড়া পার হয়। বানরের ছড়া পারাপারের এই দৃশ্য দেখতে পায় এই জনপদের মানুষ।

অবস্থান ও আয়তন

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাংশে ২১°১১´ থেকে ২২°২২´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯২°০৪´ থেকে ৯২°৪১´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ জুড়ে বান্দরবান জেলার অবস্থান। রাজধানী ঢাকা থেকে এ জেলার দূরত্ব প্রায় ৩২৫ কিলোমিটার এবং চট্টগ্রাম বিভাগীয় সদর থেকে প্রায় ৭৫ কিলোমিটার। এ জেলার উত্তরে রাঙ্গামাটি জেলা, দক্ষিণে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য, পূর্বে রাঙ্গামাটি জেলা ও মিয়ানমারের চিন রাজ্য, পশ্চিমে কক্সবাজার জেলা ও চট্টগ্রাম জেলা।

জনসংখ্যা

বান্দরবান জেলা বাংলাদেশের সবচেয়ে কম জনবসতিপূর্ণ জেলা। বাংলাদেশের জনশুমারি ও গৃহগণনা - ২০২২ অনুযায়ী এ জেলার মোট জনসংখ্যা ৪,৮১,১০৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ - ২,৪৬,৯৪৭ জন, মহিলা - ২,৩৪,১৪৬ জন এবং হিজড়া - ১৩ জন। জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গ কিলোমিটারে প্রায় ১০৭জন।

অর্থনীতি

বান্দরবান পার্বত্য জেলা দুর্গম পাহাড়ী এলাকা হলেও এটি প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ বিধায় জাতীয় পর্যায়ে এ জেলার গুরুত্ব অনস্বীকার্য। বিস্তীর্ণ পাহাড়ী এলাকায় অবস্থিত অশ্রেণীভুক্ত বনাঞ্চল মূল্যবান কাঠ ও বনজ সম্পদে পরিপূর্ণ। একই সঙ্গে এ জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদী উৎপাদিত বনজ সম্পদ আহরণ ও বিপননে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য

সরকারি ও কথ্য ভাষা হিসেবে বাংলা প্রচলিত। স্থানীয় বাঙালিরা চাটগাঁইয়া ভাষায় কথা বলে। এছাড়াও অন্যান্য ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভাষা হিসেবে মারমা, ম্রো, ত্রিপুরা, বম, লুসাই, চাকমা, তঞ্চঙ্গ্যা, চাক, খিয়াং, খুমি, পাংখুয়া ইত্যাদি প্রচলিত। বান্দরবানের মারমাদের বর্ষবরণ উৎসবের নাম সাংগ্রাই এবং ত্রিপুরাদের বর্ষবরণ উৎসবের নাম বৈসু।

নদ-নদী

এই জেলার অন্যতম নদী সাঙ্গু নদী, যা সাংপো বা শঙ্খ নামেও পরিচিত। এই নদীর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল, এটি বাংলাদেশের একমাত্র নদী যা দক্ষিণ থেকে উত্তরে প্রবাহিত হয়। অন্যান্য নদীর মধ্যে রয়েছে মাতামুহুরী নদী এবং বাঁকখালী নদী।

তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া, বান্দরবান জেলা · CC BY-SA 4.0

বান্দরবন জেলার দর্শনীয় স্থান

  • তাজিংডং সরকারিভাবে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ
  • কেওক্রাডং, সরকারিভাবে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ
  • সাকা হাফং, বেসরকারিভাবে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ
  • চিম্বুক পাহাড়
  • ডিম পাহাড়
  • তমা তুঙ্গী
  • দেবতাখুম
  • নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্র
  • নীলাচল
  • পাসিংপাড়া
  • মারাইংতং
  • নাফাখুম জলপ্রপাত

বান্দরবন জেলার উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব

  • জাফর ইকবাল
  • অং শৈ প্রু চৌধুরী, ১৫তম বোমাং রাজা, প্রাক্তন সাংসদ
  • মং শৈ প্রু চৌধুরী · বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ
  • ইউ কে চিং, বীর বিক্রম খেতাব প্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা
  • মা ম্যা চিং · বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ
  • বীর বাহাদুর উশৈ সিং, রাজনীতিবিদ
  • মাম্যাচিং মারমা · বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ
  • মাধবী মার্মা · বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ
  • সাচিং প্রু জেরী · বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ
  • ব্রজ বিহারী বড়ুয়া · বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা

জেলার মানচিত্র

বান্দরবন জেলা

সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর। ১টি আসন; এলাকায় চাপ দিলে সেই আসনের পাতা।

আসন ও সংসদ সদস্য

বান্দরবন জেলা চট্টগ্রাম বিভাগের একটি জেলা, জাতীয় সংসদে যার ১টি আসন: বান্দরবন (বান্দরবান পার্বত্য জেলা)। ত্রয়োদশ সংসদে আসনটি বিএনপির। দ্বাদশ সংসদে (২০২৪) আসনটি ছিল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ | হালনাগাদ ২৪ অক্টোবর ২০২৬

কোথা থেকে তথ্য আসে

সদস্য, আসন, কমিটি ও অধিবেশন আসে জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইট থেকে; ভোটার সংখ্যা নির্বাচন কমিশন ও মন্ত্রিসভা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে। ভোটের ফল ও জীবনীর সূত্র আলাদা করে প্রতিটি পাতায় লেখা।

সব সূত্র দেখুন →

কত দিন পরপর হালনাগাদ

প্রতি রাতে পুরো সাইট সংসদের তথ্যভান্ডার থেকে নতুন করে তৈরি হয়। নতুন প্রজ্ঞাপন, বৈঠকের কার্যসূচি বা কমিটির পরিবর্তন পরদিনের মধ্যে যুক্ত হয়; সংবাদ শিরোনাম দিনে কয়েকবার।

পদ্ধতি →

ভুল পেলে

প্রতিটি সদস্যের পাতায় “সংশোধন জানান” বোতাম আছে। সূত্রসহ জানালে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাচাই করে ঠিক করা হয়; সদস্যের দপ্তর নিজের পাতাও হালনাগাদ করাতে পারেন।

যোগাযোগ →