মূল বিষয়ে যান
English
সর্বশেষ
সাচিং প্রু

সাচিং প্রু

Saching Prue

বর্তমান সদস্য, ত্রয়োদশ সংসদমন্ত্রী, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়মোট ২ বার নির্বাচিত

সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা

পরিচিতি

সাচিং প্রু বান্দরবন আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের বান্দরবান জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এবং বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি, আগের মেয়াদ, সংসদীয় কমিটি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।

সাচিং প্রু জেরী (Saching Prue Jerry) বান্দরবান আসনের সংসদ সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের (Tarique Rahman) মন্ত্রিসভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপি (Bangladesh Nationalist Party)-র এই নেতা বান্দরবান জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এবং দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। সংসদের নথিতে তাঁর নাম সাচিং প্রু।

মারমা (Marma) জনগোষ্ঠীর এই নেতা ধর্মে বৌদ্ধ এবং বান্দরবানের ঐতিহ্যবাহী বোমাং সার্কেলের (Bohmong Circle) রাজপরিবারের সন্তান। ১৯৯৬ সালে প্রথমবার সংসদ সদস্য হওয়ার তিন দশক পর ২০২৬ সালে তিনি একই আসন থেকে আবার নির্বাচিত হন।

শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা

সাচিং প্রু জেরীর জন্ম ১৯৫৩ সালের ১৫ জানুয়ারি, বান্দরবানে। বাবা অং শৈ প্রু চৌধুরী (Aung Shwe Prue Chowdhury) ছিলেন বোমাং সার্কেলের ১৫তম রাজা; ১৯৯৮ সাল থেকে ২০১২ সালে মৃত্যু পর্যন্ত তিনি এই আসনে ছিলেন। রাজনীতিতেও তিনি সক্রিয় ছিলেন: ১৯৭৯ সালে বিএনপির হয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম-২ আসন থেকে দ্বিতীয় জাতীয় সংসদের সদস্য হন এবং ১৯৮১-৮২ সালে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। মা আবাই প্রু।

পরিবারের আরেক সদস্য, জেরীর আত্মীয়া মা ম্যা চিং (Ma Mya Ching) বিএনপির মনোনয়নে সংরক্ষিত মহিলা আসন থেকে পঞ্চম ও ষষ্ঠ জাতীয় সংসদের সদস্য ছিলেন। এভাবে পারিবারিক সূত্রেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে তাঁর পরিচয়।

রাজনৈতিক জীবন

১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে বান্দরবান আসন থেকে তিনি প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। স্বল্পস্থায়ী সেই সংসদের মেয়াদ ছিল ১৯ মার্চ থেকে ৩০ মার্চ ১৯৯৬ পর্যন্ত।

এরপর প্রায় তিন দশক আসনটি আওয়ামী লীগের বীর বাহাদুর উশৈ সিং (Bir Bahadur Ushwe Sing)-এর হাতে ছিল। এই দীর্ঘ সময় বিরোধী রাজনীতিতে থেকে জেরী জেলায় দলের সাংগঠনিক কাজে যুক্ত থাকেন। ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে লড়ে তিনি ৫৮,৭১৯ ভোট পান; বীর বাহাদুর পান ১,৪৩,৯৬৬ ভোট।

২০২৬ নির্বাচন

প্রচারের সময় তিনি বান্দরবানের পানি সংকটের স্থায়ী সমাধান, শঙ্খ (সাঙ্গু), মাতামুহুরী ও বাঁকখালীসহ নদী রক্ষা, থানচি-রুমার মতো দুর্গম এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং বান্দরবানকে পর্যটন জেলা হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন।

২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চার প্রার্থীর লড়াইয়ে তিনি ১,৪১,৪৫৫ ভোট পান। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আবু সাঈদ মো. সুজাউদ্দিন (Abu Sayeed Md. Suja Uddin) পান ২৬,১৬২ ভোট; ব্যবধান ১,১৫,২৯৩ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আবুল কালাম আজাদ ৪,৭১৮ এবং জাতীয় পার্টির আবু জাফর মো. ওয়ালীউল্লাহ ২,৪৩৫ ভোট পান। নির্বাচন কমিশন প্রথম দিকে যেসব আসনের বেসরকারি ফল ঘোষণা করে, বান্দরবান ছিল তার একটি। এই জয়ে ১৯৯৬ সালের পর প্রথমবার আসনটি বিএনপির হাতে ফেরে।

উল্লেখযোগ্য কাজ ও অবদান

সংসদের বাইরে স্থানীয় সরকারে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি বান্দরবান সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। পরে পাহাড়ের স্থানীয় শাসনের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

সূত্র: উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (বাংলা), উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৪, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৫, bssnews.net, tbsnews.net, unb.com.bd, en.prothomalo.com, ittefaq.com.bd। ভুল দেখলে জানান।

জন্ম১৫ জানুয়ারি ১৯৫৩, ৭৩ বছর
জন্মস্থানবান্দরবান
লিঙ্গপুরুষ
পিতাঅং শৈ প্রু চৌধুরী
মাতাআবাই প্রু
বর্তমান মেয়াদ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০৩১
সংসদ সদস্য নির্বাচিতমোট ২ বার

বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম

২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য। ২১ আগস্ট ২০২৬ সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে শপথ নিয়ে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী হন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলার উন্নয়ন ও প্রশাসনের সমন্বয় করে; পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ, তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড এর আওতায়। দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের পর কয়েক মাস শূন্য থাকা মন্ত্রীর পদে তিনি আসেন; মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। ৩১ আগস্ট কক্সবাজার জেলার আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন নিয়ে এক অনলাইন সভায় তিনি অপরাধ ও মাদকের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি কার্যকর করার কথা বলেন। ১ সেপ্টেম্বর বান্দরবানে এক সংবর্ধনায় জানান, পাহাড়ের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো পর্যায়ক্রমে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। ১৪ সেপ্টেম্বর সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাতে তিনি পাহাড়ের জনগোষ্ঠীগুলোর সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষায় দুই মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগ চান। ৭ অক্টোবর ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে পরিবেশবান্ধব পর্যটন, শিক্ষা ও নিরাপদ পানি সরবরাহে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।

সূত্র: উইকিপিডিয়া (ইংরেজি), en.prothomalo.com, bssnews.net ১, banglastream.net, bssnews.net ২, npbnews.com। ভুল দেখলে জানান।

নির্বাচনী এলাকা

বান্দরবন

সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।

নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি

বান্দরবান জাতীয় সংসদের ৩০০ নম্বর, অর্থাৎ তালিকার শেষ আসন। সীমানা অনুযায়ী চট্টগ্রাম বিভাগের পুরো বান্দরবান পার্বত্য জেলা নিয়ে এটি গঠিত: বান্দরবান সদর, রোয়াংছড়ি, রুমা, থানচি, লামা, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা। জেলার আয়তন প্রায় ৪,৪৭৯ বর্গকিলোমিটার; ২০২২ সালের জনশুমারিতে জনসংখ্যা ৪,৮১,১০৬, জনঘনত্বে দেশের সবচেয়ে কম। ২০২৬ সালের নির্বাচনে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ৩,১৫,৪২২ জন।

জেলার প্রায় ৫৯ শতাংশ মানুষ বাঙালি; বাকিরা মারমা, ম্রো, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, বম, চাকমা, খুমি, চাক ও খিয়াংসহ বিভিন্ন পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মানুষ। এলাকাটি ঐতিহ্যবাহী বোমাং সার্কেলের অংশ। সাঙ্গু (শঙ্খ), মাতামুহুরী ও বাঁকখালী প্রধান নদী; এর মধ্যে সাঙ্গু দক্ষিণ থেকে উত্তরে বয়ে গেছে। বনজ কাঠ ও বাঁশ, আনারস-কলা-পেঁপের মতো ফল, জুমে চাষ করা বিন্নি ধান ও ভুট্টা এবং পর্যটন অর্থনীতির ভিত্তি।

২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী সবচেয়ে জনবহুল লামা (১,৩৯,৬৮৯), যেখানে একটি পৌরসভা আছে। জেলা সদর ও পৌরসভা নিয়ে বান্দরবান সদর উপজেলার জনসংখ্যা ১,১১,০৯৬; থেরবাদী বৌদ্ধদের উপাসনালয় বুদ্ধ ধাতু জাদি এই উপজেলায়। নাইক্ষ্যংছড়ি (৭৬,৪৭৭) কক্সবাজার জেলা ও মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সীমান্তঘেঁষা। মাতামুহুরীর তীরের আলীকদমে (৬৩,৮০০) আলীর গুহা ও মারায়ন তং পাহাড়। রুমায় (৩২,৫৩৩) কেওক্রাডং ও বগাকাইন হ্রদ; মিয়ানমার সীমান্তের থানচিতে (২৯,৭৯০) নাফাখুম ও আমিয়াখুম জলপ্রপাত। রোয়াংছড়ির জনসংখ্যা ২৭,৭২১।

১৯৮৪ সালে সৃষ্ট আসনটিতে ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগের বীর বাহাদুর উশৈ সিং এবং ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপির সাচিং প্রু জেরী জয়ী হন। জুন ১৯৯৬ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত টানা ছয়বার বীর বাহাদুর নির্বাচিত হন। জেলার সীমানাই আসনের সীমানা হওয়ায় এর এলাকা অপরিবর্তিত রয়েছে। ২০২৬ সালে আসনটি আবার বিএনপির হাতে আসে।

সূত্র: উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, tbsnews.net, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, উইকিপিডিয়া (বাংলা), citypopulation.de, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৪, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৫, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৬, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৭, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৮, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৯, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১০। ভুল দেখলে জানান।

সংসদে মেয়াদ

ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬বান্দরবনবর্তমান মেয়াদBNP

সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ২ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন; আগের ১টি মেয়াদের বিস্তারিত সংসদের তথ্যভান্ডারে পাওয়া যায়নি। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।

২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট

আসনের সব ফল →
ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬প্রার্থীদের মোট ১,৭৪,৭৭০ ভোট
  1. সাচিং প্রুBNPবিজয়ী১,৪১,৪৫৫৮০.৯%
  2. Abu Sayeed Md. Suja UddinNCP২৬,১৬২১৫.০%
  3. Md Abul Kalam AzadIAB৪,৭১৮২.৭%
  4. Abu Zafar Md. Wali UllahJP(ERSHAD)২,৪৩৫১.৪%
উৎস: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড। নির্বাচন কমিশনের গেজেটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি।মূল পাতা

সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন

এই সদস্য সম্পর্কে সংসদ সচিবালয়ের কোনো প্রজ্ঞাপন নেই।সংসদ সচিবালয় কোনো সদস্যের নামে প্রজ্ঞাপন বা সরকারি আদেশ প্রকাশ করলে তা প্রতিদিন এখানে যুক্ত হয়।

আসন: বান্দরবন

আসনের পাতা →
এলাকা

বান্দরবান পার্বত্য জেলা

সংসদীয় কমিটি(১)

সংবাদ ও ভিডিও

সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…

সম্পাদকের যাচাই করা ১টি খবর

কোথা থেকে তথ্য আসে

সদস্য, আসন, কমিটি ও অধিবেশন আসে জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইট থেকে; ভোটার সংখ্যা নির্বাচন কমিশন ও মন্ত্রিসভা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে। ভোটের ফল ও জীবনীর সূত্র আলাদা করে প্রতিটি পাতায় লেখা।

সব সূত্র দেখুন →

কত দিন পরপর হালনাগাদ

প্রতি রাতে পুরো সাইট সংসদের তথ্যভান্ডার থেকে নতুন করে তৈরি হয়। নতুন প্রজ্ঞাপন, বৈঠকের কার্যসূচি বা কমিটির পরিবর্তন পরদিনের মধ্যে যুক্ত হয়; সংবাদ শিরোনাম দিনে কয়েকবার।

পদ্ধতি →

ভুল পেলে

প্রতিটি সদস্যের পাতায় “সংশোধন জানান” বোতাম আছে। সূত্রসহ জানালে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাচাই করে ঠিক করা হয়; সদস্যের দপ্তর নিজের পাতাও হালনাগাদ করাতে পারেন।

যোগাযোগ →