রাজবাড়ী জেলা
Rajbari · ২টি সংসদীয় আসন · ৫টি উপজেলা। প্রতিটি আসনের বর্তমান সদস্য, সংসদের তথ্যভান্ডার অনুযায়ী।
রাজবাড়ী জেলা পরিচিতি
রাজবাড়ী জেলা বাংলাদেশের ফরিদপুর অঞ্চলে অবস্থিত ঢাকা বিভাগের অন্তর্গত একটি জেলা। ১৯৮৪ সালের ১লা মার্চ তৎকালীন ফরিদপুর জেলার গোয়ালন্দ মহকুমা ফরিদপুর থেকে পৃথক হয়ে রাজবাড়ী জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ১৮৭০ সালে গড়াই রেল সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হলে ১৮৭১ সালে ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির পূর্ববঙ্গ অংশে রেলপথ কলকাতা হতে গোয়ালন্দ ঘাট পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়। ঢাকাসহ বর্তমান বাংলাদেশের পূর্ব অংশে সহজে যাতায়াতের অবধারিত একটি স্থান হওয়ায় একে "বাংলার দ্বারপথ" নামে অভিহিত করা হত।
নামকরণ
রাজবাড়ী রাজা সূর্য্য কুমারের নামানুসারে নামকরণ করা হয়েছে এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু রাজবাড়ী জেলা রাজার সেই ঐতিহ্য ধারণ করে আছে আজো। পদ্মা, হড়াই, গড়াই, চন্দনা, কুমার আর চত্রা পলিবাহিত এক কালের 'বাংলার প্রবেশদ্বার' বলে পরিচিত গোয়ালন্দ মহকুমা আজকের রাজবাড়ী জেলা। ১৯৮৪ সালের ১ লা মার্চ গোয়ালন্দ মহকুমা রাজবাড়ী জেলায় রুপান্তরিত হয়।
ইতিহাস
বর্তমান রাজবাড়ী জেলা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল। ১৭৬৫ সালে ইংরেজরা বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানী লাভের পর উত্তর পশ্চিম ফরিদপুর অঞ্চল রাজশাহীর জমিদারীর অন্তর্ভুক্ত ছিল। নাটোর রাজার জমিদারী চিহ্ন হিসেবে রাজবাড়ী জেলার বেলগাছিতে রয়েছে স্নানমঞ্চ, দোলমঞ্চ। পরবর্তীতে এ জেলা এক সময় যশোর জেলার অংশ ছিল। ১৮১১ সালে ফরিদপুর জেলা সৃষ্টি হলে রাজবাড়ীকে এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এছাড়াও রাজবাড়ী জেলার বর্তমান উপজেলাগুলো অতীতে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল। পাংশা থানা এক সময় পাবনাজেলার অংশ ছিল। ১৮৫৯ সালে পাংশা ও বালিয়াকান্দিকে নবগঠিত কুমারখালী মহকুমার অধীনে নেয়া হয়।
অবস্থান ও আয়তন
রাজবাড়ী জেলার উত্তরে পাবনা জেলা, দক্ষিণে ফরিদপুর জেলা ও মাগুরা জেলা, পূর্বে মানিকগঞ্জ জেলা, পশ্চিমে কুষ্টিয়া জেলা এবং ঝিনাইদহ জেলা। রাজবাড়ীকে ঘিরে পদ্মা, চন্দনা, গড়াই নদী ও হড়াই নদী, কুমার নদী ও চিত্রা নদী।
জনসংখ্যা
২০২২ সালের পপুলেশন সেন্সাস প্রিলিমিনারি রিপোর্ট অনুসারে জেলার লিঙ্গানুপাত ৯৭.৭৯।
অর্থনীতি
বৃহৎ শিল্পের মধ্যে গোয়ালন্দ টেক্সটাইল মিল নামে একটি সুতাকল, রাজবাড়ী জুট মিল, মোস্তফা প্লাস্টিক লিমিটেড, সুনিপূন অর্গানিক্স নামে একটি রেক্টিফাইড স্পিরিট প্রস্তুতকারী কারখানা অন্যতম। এ ছাড়া শিল্পনগরী বিসিক এর অধীনে বেশ কিছু ক্ষুদ্র শিল্প কারখানা রয়েছে। মূলত কৃষি নির্ভর হলেও চাকরি, ব্যবসা করা এ জেলার মানুষের অন্যতম পেশা। কামার, কুমার, তাঁতী, জেলে ও হরিজন প্রভৃতি পেশার লোকজনও এ জেলায় বসবাস করে। কিছুসংখ্যক অবাঙ্গালী পরিবারও এ জেলায় বসবাস করে।
তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া, রাজবাড়ী জেলা · CC BY-SA 4.0
রাজবাড়ী জেলার দর্শনীয় স্থান
- মেইন স্ট্রিট
- রাজবাড়ি সরকারি কলেজ
- ধুঞ্চি গোদার বাজার
- শাহ পাহলোয়ানের মাজার
- দাদ্শী মাজার শরীফ - রাজবাড়ী শহর থেকে ১ কি.মি. পূর্বে
- নলিয়া জোড় বাংলা মন্দির - বালিয়াকান্দি থানার নলিয়া গ্রাম
- আবু হেনা পার্ক বাহাদুরপুর, পাংশা, রাজবাড়ী
- সমাধিনগর মঠ - বালিয়াকান্দি উপজেলার জঙ্গল ইউনিয়ন
- রথখোলা সানমঞ্চ - বেলগাছি
- নীলকুঠি
- মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতি কেন্দ্র - পদমদী
- দৌলতদিয়া ঘাট
জেলার মানচিত্র
সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর। ২টি আসন; এলাকায় চাপ দিলে সেই আসনের পাতা।
আসন ও সংসদ সদস্য
রাজবাড়ী জেলা ঢাকা বিভাগের একটি জেলা, জাতীয় সংসদে যার ২টি আসন: রাজবাড়ী-১ (রাজবাড়ী সদর ও গোয়ালন্দ উপজেলা) ও রাজবাড়ী-২ (পাংশা, কালুখালী ও বালিয়াকান্দি উপজেলা)। ত্রয়োদশ সংসদে সবগুলো আসনই বিএনপির। দ্বাদশ সংসদে (২০২৪) সবগুলো আসনই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ছিল।
- রাজবাড়ী-১ , আসন ২০৯রাজবাড়ী সদর ও গোয়ালন্দ উপজেলা
আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়মরাজবাড়ী-১, BNP - রাজবাড়ী-২ , আসন ২১০পাংশা, কালুখালী ও বালিয়াকান্দি উপজেলা
মোঃ হারুন-অর-রশিদরাজবাড়ী-২, BNP
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ | হালনাগাদ ২৪ অক্টোবর ২০২৬