মূল বিষয়ে যান
English
সর্বশেষ
আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম

আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম

Ali Newaz Mahmood Khyom

বর্তমান সদস্য, ত্রয়োদশ সংসদপ্রতিমন্ত্রী, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়মোট ২ বার নির্বাচিত

সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা

পরিচিতি

আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম রাজবাড়ী-১ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সদস্য, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি, বিএনপি এবং বর্তমানে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।

আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম (Ali Newaz Mahmood Khyom) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতা, রাজবাড়ী-১ (সদর-গোয়ালন্দ) আসনের সংসদ সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের (Tarique Rahman) মন্ত্রিসভায় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য।

তাঁর রাজনৈতিক পথচলা রাজবাড়ীকে ঘিরেই। ২০০১ সালের পর ২০২৬ সালে দ্বিতীয়বার তিনি এই আসন থেকে সংসদে নির্বাচিত হয়েছেন।

শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা

১৯৫৭ সালের ২৫ মে তাঁর জন্ম। বাবা ডা. এ কে এম এ ওয়াহিদ, মা রাজিয়া বেগম।

রাজনৈতিক জীবন

একসময় তিনি বামপন্থী রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন; ২০০১ সালে ওয়ার্কার্স পার্টি ছেড়ে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন এবং সে বছরের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে রাজবাড়ী-১ আসনে প্রার্থী হন। ৯৫,২৬৬ ভোট পেয়ে আওয়ামী লীগের কাজী কেরামত আলীকে (Kazi Keramat Ali) ১০,২০৯ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে তিনি প্রথমবার সংসদ সদস্য হন। ওই নির্বাচনে প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার ভোট দেন। এর মধ্য দিয়ে জুন ১৯৯৬-এ আওয়ামী লীগের হাতে যাওয়া আসনটি বিএনপি ফিরে পায়। ২০০১ সালের অক্টোবর থেকে ২০০৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তিনি সংসদে ছিলেন।

২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে ৮৩,৯৩৩ ভোট পেয়েও তিনি কাজী কেরামত আলীর কাছে পরাজিত হন; সেবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী পান ১,৪১,৫৬১ ভোট, আর ভোট পড়ে সাড়ে ৮৮ শতাংশ। ২০১৮ সালের নির্বাচনেও একই আসনে তিনি জয় পাননি। দলে তিনি রাজবাড়ী জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন এবং দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হন।

২০২৫ সালের নভেম্বরে বিএনপি তাঁকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজবাড়ী-১ আসনে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করে। মনোনয়ন পাওয়ার পর তিনি দলের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করার প্রতিশ্রুতি দেন এবং নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন।

২০২৬ নির্বাচন

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে তিনি ১,৫৪,৫৪১ ভোট পান। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর (Bangladesh Jamaat-e-Islami) মো. নুরুল ইসলাম (Md. Nurul Islam) পান ১,০১,০৯২ ভোট। জাকের পার্টির মোহাম্মদ আলী বিশ্বাস ও জাতীয় পার্টির খন্দকার হাবিবুর রহমান পান যথাক্রমে ৮,০৮৭ ও ২,৫৮৬ ভোট। আসনটিতে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ৪,৩০,২১৬ জন। ৫৩,৪৪৯ ভোটের ব্যবধানে জিতে তিনি দ্বিতীয়বার সংসদে আসেন, আর ২০০১ সালের পর আসনটি আবার বিএনপির হাতে ফেরে।

সূত্র: উইকিপিডিয়া (বাংলা) ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, উইকিপিডিয়া (বাংলা) ২, prothomalo.com ১, prothomalo.com ২, dbcnews.tv, tbsnews.net, জাতীয় সংসদ, moca.gov.bd, en.prothomalo.com, deshrupantor.com, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩। ভুল দেখলে জানান।

জন্ম২৫ মে ১৯৫৭, ৬৯ বছর
জন্মস্থানগোপালপুর গ্রাম, মদাপুর ইউনিয়ন, কালুখালী উপজেলা, রাজবাড়ী
লিঙ্গপুরুষ
পিতাডাঃ এ. কে. এম. এ ওয়াহিদ
মাতারাজিয়া বেগম
বর্তমান মেয়াদ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০৩১
সংসদ সদস্য নির্বাচিতমোট ২ বার

বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম

২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি তারেক রহমানের মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হন; মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী (Nitai Roy Chowdhury)। ২০২৬ সালের আগস্টে মন্ত্রিসভায় রদবদলের পরও তিনি একই দায়িত্বে বহাল রয়েছেন।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় দেশের শিল্প-সংস্কৃতি, সাহিত্য ও ঐতিহ্যের চর্চা, সংরক্ষণ ও বিকাশের দায়িত্বে রয়েছে; প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তিনি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সঙ্গে এ দায়িত্ব পালন করছেন।

১ মার্চ ২০২৬ রাজবাড়ী জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি জানান, জেলায় একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, নদীবন্দর ও রেলওয়ে ওয়ার্কশপ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০ জুন চাঁদপুর শিল্পকলা একাডেমিতে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সাংস্কৃতিক অঙ্গন পুনর্গঠন এবং শিল্পীদের সহায়তায় সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। ১৬ আগস্ট চট্টগ্রামে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে মতবিনিময় সভায় তিনি সারা দেশে প্রাথমিক, কারিগরি ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের নিয়ে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা আয়োজনের ওপর জোর দেন; ৩১ আগস্ট জেলা শহরগুলোতে শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এ কর্মসূচি শুরুর কথা জানানো হয়। ৯ অক্টোবর রাজবাড়ীতে বাংলা উৎসবের উদ্বোধন করে তিনি মৌলবাদ মোকাবিলায় সংস্কৃতির সব শাখাকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।

সূত্র: bssnews.net ১, bssnews.net ২, bssnews.net ৩, deshrupantor.com, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি)। ভুল দেখলে জানান।

নির্বাচনী এলাকা

রাজবাড়ী-১

সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।

নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি

রাজবাড়ী-১ জাতীয় সংসদের ২০৯ নম্বর আসন। নির্বাচন কমিশনের সীমানা নির্ধারণ অনুযায়ী ঢাকা বিভাগের রাজবাড়ী জেলার রাজবাড়ী সদর ও গোয়ালন্দ উপজেলা নিয়ে আসনটি গঠিত। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের নির্বাচনী পাতা অনুযায়ী ২০২৬ সালের নির্বাচনে এখানে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ৪,৩০,২১৬ জন।

জেলা সদর রাজবাড়ী সদর উপজেলার আয়তন প্রায় ৩২২ বর্গকিলোমিটার। এর উত্তরে পদ্মা নদী, যার ওপারে পাবনার সুজানগর ও বেড়া; দক্ষিণে ফরিদপুর সদর ও মধুখালী। রাজবাড়ী পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত উপজেলার জনসংখ্যা ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী ৩,৮৪,৫৩৪। কৃষিই প্রধান জীবিকা; ধান, পাট, আখ, তিল ও চিনাবাদাম প্রধান ফসল, আর পাট, তিল ও খয়ের এখান থেকে বাইরে যায়। খানখানাপুর ও বেলগাছির হাট পরিচিত। শতবর্ষী রাজবাড়ী রেলস্টেশন, রাজা সূর্য কুমার ইনস্টিটিউট (১৮৮৮), রাজবাড়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় (১৮৯২) ও রাজবাড়ী সরকারি কলেজ এখানকার উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠান।

পূর্বে পদ্মার তীরে, পদ্মা ও যমুনার মিলনস্থলের কাছে গোয়ালন্দ উপজেলা, আয়তন প্রায় ১২২ বর্গকিলোমিটার। গোয়ালন্দ পৌরসভা এবং দৌলতদিয়া, দেবগ্রাম, ছোটভাকলা ও উজানচর ইউনিয়নে ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী ১,২৮,৭৯৬ জনের বাস। কৃষির পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য আয়ের বড় উৎস; ১৯৯০-এর দশক থেকে পোলট্রি হ্যাচারি ও ফিড মিল এখানে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান করছে। ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের দৌলতদিয়া ফেরিঘাট থেকে পদ্মা পার হয়ে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়ায় যাওয়া যায়। নদীভাঙন ও চর জেগে ওঠায় ঐতিহাসিক গোয়ালন্দ ঘাট এ পর্যন্ত ১১ বার সরেছে।

১৯৮৪ সালে গঠিত আসনটিতে ১৯৯১ সালে এবং ১৯৯২ সালের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়ী হয়। প্রধান দলগুলোর বর্জন করা ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬-এর নির্বাচনে বিএনপি, জুন ১৯৯৬-এ আওয়ামী লীগ এবং ২০০১ সালে বিএনপি আসনটি পায়। ২০০৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কাজী কেরামত আলী (Kazi Keramat Ali) টানা জয়ী হন; ২০২৬ সালে আসনটি আবার বিএনপির হাতে আসে।

সূত্র: উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (বাংলা) ১, tbsnews.net, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, উইকিপিডিয়া (বাংলা) ২, en.banglapedia.org ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩, উইকিপিডিয়া (বাংলা) ৩, en.banglapedia.org ২, thedailystar.net। ভুল দেখলে জানান।

সংসদে মেয়াদ

ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬রাজবাড়ী-১বর্তমান মেয়াদBNP
অষ্টম সংসদ, ২০০১রাজবাড়ী-১RAJBARI-1BNP

সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ২ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।

২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট

আসনের সব ফল →
ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬প্রার্থীদের মোট ২,৬৬,৩০৬ ভোট
  1. আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়মBNPবিজয়ী১,৫৪,৫৪১৫৮.০%
  2. Md. Nurul IslamBJEI১,০১,০৯২৩৮.০%
  3. Mohammad Ali BiswasZP৮,০৮৭৩.০%
  4. Khondokar Habibur RahmanJP(ERSHAD)২,৫৮৬১.০%
উৎস: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড। নির্বাচন কমিশনের গেজেটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি।মূল পাতা

সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন

এই সদস্য সম্পর্কে সংসদ সচিবালয়ের কোনো প্রজ্ঞাপন নেই।সংসদ সচিবালয় কোনো সদস্যের নামে প্রজ্ঞাপন বা সরকারি আদেশ প্রকাশ করলে তা প্রতিদিন এখানে যুক্ত হয়।

আসন: রাজবাড়ী-১

আসনের পাতা →
এলাকা

(ক)রাজবাড়ী সদর এবং(খ) গোয়ালন্দ উপজেলা

সংসদীয় কমিটি(১)

সংবাদ ও ভিডিও

সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…

সম্পাদকের যাচাই করা ১টি খবর

কোথা থেকে তথ্য আসে

সদস্য, আসন, কমিটি ও অধিবেশন আসে জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইট থেকে; ভোটার সংখ্যা নির্বাচন কমিশন ও মন্ত্রিসভা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে। ভোটের ফল ও জীবনীর সূত্র আলাদা করে প্রতিটি পাতায় লেখা।

সব সূত্র দেখুন →

কত দিন পরপর হালনাগাদ

প্রতি রাতে পুরো সাইট সংসদের তথ্যভান্ডার থেকে নতুন করে তৈরি হয়। নতুন প্রজ্ঞাপন, বৈঠকের কার্যসূচি বা কমিটির পরিবর্তন পরদিনের মধ্যে যুক্ত হয়; সংবাদ শিরোনাম দিনে কয়েকবার।

পদ্ধতি →

ভুল পেলে

প্রতিটি সদস্যের পাতায় “সংশোধন জানান” বোতাম আছে। সূত্রসহ জানালে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাচাই করে ঠিক করা হয়; সদস্যের দপ্তর নিজের পাতাও হালনাগাদ করাতে পারেন।

যোগাযোগ →