মূল বিষয়ে যান
English
সর্বশেষ
আন্দালিভ রহমান

আন্দালিভ রহমান

Andaleeve Rahman

বর্তমান সদস্য, ত্রয়োদশ সংসদমন্ত্রী, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়মোট ২ বার নির্বাচিত

সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা

পরিচিতি

আন্দালিভ রহমান ভোলা-১ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এবং বর্তমানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি, নির্বাচনী ফলাফল, আগের মেয়াদ, সংসদীয় কমিটি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।

ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ (Andaleeve Rahman Partho) ভোলা-১ (ভোলা সদর) আসনের সংসদ সদস্য এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী। ২০০৮ সাল থেকে তিনি বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান। ২০২৬ সালের নির্বাচনে বিএনপি-নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসেবে জিতে তিনি দ্বিতীয়বার সংসদে এসেছেন।

পেশায় আইনজীবী পার্থ আইন শিক্ষার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। তাঁর বাবা নাজিউর রহমান মঞ্জুর (Naziur Rahman Manzur) ছিলেন বিজেপির প্রতিষ্ঠাতা; বাবার রেখে যাওয়া দল ও ভোলার রাজনীতি, দুটোরই হাল এখন তাঁর হাতে।

শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা

১৯৭৪ সালের ২০ এপ্রিল ঢাকায় তাঁর জন্ম। বাবা নাজিউর রহমান মঞ্জুর ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক মন্ত্রী; ১৯৮৯ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত ঢাকার মেয়র ছিলেন। মা শেখ রেবা রহমান। পরিবারের শিকড় ভোলায়; গ্রামের বাড়ি ভোলা সদরের উত্তর দিঘলদী ইউনিয়নে। স্ত্রী শেখ শায়রা রহমান; তাঁদের তিন সন্তান।

ঢাকার সেন্ট যোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনার পর তিনি লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় (University of London) থেকে আইনে স্নাতক (এলএলবি) ডিগ্রি নেন এবং লিংকনস ইন (Lincoln's Inn) থেকে বার-অ্যাট-ল সম্পন্ন করেন। দেশে ফিরে প্রখ্যাত আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিকুল হকের (Rafiqul Huq) তত্ত্বাবধানে আইন পেশায় তাঁর হাতেখড়ি।

রাজনৈতিক জীবন

২০০০ সালে বাবার হাত ধরে তিনি রাজনীতিতে আসেন। ২০০১ সালে নাজিউর রহমান মঞ্জুর সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের (Hussain Muhammad Ershad) সঙ্গে নীতিগত মতপার্থক্যের জেরে জাতীয় পার্টি থেকে বেরিয়ে বিজেপি গঠন করেন। ২০০৮ সালের এপ্রিলে বাবার মৃত্যুর পর পার্থ দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন।

সে বছরের নবম সংসদ নির্বাচনে চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে ভোলা-১ আসনে ৯৫,১৫৮ ভোট পেয়ে তিনি আওয়ামী লীগের ইউসুফ হোসেন হুমায়ুনকে (Yusuf Hossain Humayun) ১৬,৬৬৯ ভোটের ব্যবধানে হারান। ২০১৪ সালের নির্বাচন তাঁর দল বর্জন করে। ২০১৮ সালে ঢাকা-১৭ আসনে প্রার্থী হয়ে তিনি ৩৮,৬৩৯ ভোট পান, তবে জয়ী হননি। ২০১৯ সালের ৬ মে বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ নেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তিনি বিজেপিকে ২০-দলীয় জোট থেকে সরিয়ে নেন; দলের বক্তব্য ছিল, সংসদে যোগ দেওয়ায় ২০১৮ সালের নির্বাচন প্রত্যাখ্যানের নৈতিক অবস্থান বিএনপি হারিয়েছে। ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় সেতু ভবনে হামলার একটি মামলায় ২৫ জুলাই তাঁকে গুলশানের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

২০২৬ নির্বাচন

২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ভোলা-১ আসনে আটজন প্রার্থী ছিলেন। পার্থ পান ১,০৫,৫৪৩ ভোট, প্রদত্ত ভোটের ৪৯.৫১ শতাংশ। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. নজরুল ইসলাম (Md Nazrul Islam) পান ৭৫,৩৩৭ ভোট; ব্যবধান ৩০,২০৬ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. ওবায়দুর রহমান (Md Obaidur Rahman) পান ২৫,২৪৫ ভোট। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম তিনি আবার এ আসনে জয়ী হলেন।

উল্লেখযোগ্য কাজ ও অবদান

নবম সংসদে (২০০৯–২০১৪) তিনি সংস্থাপন মন্ত্রণালয়-বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। আইন শিক্ষায়ও তাঁর ভূমিকা রয়েছে: ঢাকার ব্রিটিশ স্কুল অব ল (British School of Law), যেখানে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন কার্যক্রম পড়ানো হয়, তিনি সেই প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ। প্রায় দুই দশক ধরে তিনি বাবার প্রতিষ্ঠিত দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

সূত্র: উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (বাংলা), bssnews.net, thefinancialexpress.com.bd, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩, en.prothomalo.com ১, tbsnews.net, bangla.thedailystar.net, en.prothomalo.com ২, observerbd.com, london.ac.uk, en.prothomalo.com ৩। ভুল দেখলে জানান।

জন্ম২০ এপ্রিল ১৯৭৪, ৫২ বছর
জন্মস্থানঢাকা
লিঙ্গপুরুষ
শিক্ষাসেন্ট যোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ঢাকাইউনিভার্সিটি অব লন্ডন (এলএলবি)লিংকনস ইন, লন্ডন (বার-অ্যাট-ল)
পেশাব্যারিস্টার, শিক্ষক*
পিতানাজিউর রহমান
মাতামিসেস রেবা রহমান
বর্তমান মেয়াদ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০৩১
সংসদ সদস্য নির্বাচিতমোট ২ বার

* চিহ্নিত তথ্য সদস্যের উইকিপিডিয়া নিবন্ধ থেকে নেওয়া; সংসদ বা নির্বাচন কমিশনের নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি। ভুল দেখলে জানান।

বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম

২০২৬ সালের ২১ আগস্ট মন্ত্রিসভার প্রথম রদবদলে বঙ্গভবনে শপথ নিয়ে তিনি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর দায়িত্ব পান; এটি তাঁর প্রথম মন্ত্রিত্ব। পাশাপাশি তিনি বিজেপির চেয়ারম্যান।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সরকারের তথ্য প্রচার, বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এবং গণমাধ্যম-সংক্রান্ত নীতি দেখভাল করে।

মন্ত্রী হওয়ার আগে ১৪ জুন সংসদ তাঁকে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি করে; ২৯ জুন তাঁর সভাপতিত্বে কমিটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল ও পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) সংশোধন বিল পর্যালোচনা করে।

২৩ আগস্ট মন্ত্রণালয়ের পরিচিতি সভায় তিনি সরকারি কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কর্মকর্তাদের একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। ২৫ আগস্ট সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সরকার কাউকে নিয়ন্ত্রণ করবে না, কারও মুখ বন্ধ করবে না। ১০ সেপ্টেম্বর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে জানান, সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইনের খসড়া এখনো আলোচনার পর্যায়ে; কোনো কণ্ঠ দমনের জন্য আইনটি করা হচ্ছে না।

সূত্র: prothomalo.com, bssnews.net, dhakatribune.com, bangla.thedailystar.net ১, bangla.thedailystar.net ২। ভুল দেখলে জানান।

নির্বাচনী এলাকা

ভোলা-১

সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।

নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি

ভোলা-১ বরিশাল বিভাগের ভোলা জেলার একটি সংসদীয় আসন। নির্বাচন কমিশনের সীমানা অনুযায়ী আসনটি গঠিত পুরো ভোলা সদর উপজেলা নিয়ে। দেশের বৃহত্তম দ্বীপ ভোলার এই উপজেলাতেই জেলা সদর ভোলা শহর। উপজেলার আয়তন ৪১৩.১৬ বর্গকিলোমিটার। ভোলা পৌরসভার (৯টি ওয়ার্ড) পাশাপাশি এতে ১৩টি ইউনিয়ন রয়েছে: রাজাপুর, পূর্ব ইলিশা, পশ্চিম ইলিশা, কাচিয়া, বাপ্তা, ধনিয়া, শিবপুর, আলীনগর, চর সামাইয়া, ভেলুমিয়া, ভেদুরিয়া, উত্তর দিঘলদী ও দক্ষিণ দিঘলদী।

২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী উপজেলার জনসংখ্যা ৪,৪৪,৮৩৮, যা জেলার সাতটি উপজেলার মধ্যে চরফ্যাশনের পরেই দ্বিতীয়; প্রায় ৩৫ শতাংশ মানুষ শহরাঞ্চলে বাস করেন। উপজেলার পূর্বে দৌলতখান ও দক্ষিণে বোরহানউদ্দিন। দ্বীপ জেলাটির পূর্ব ও উত্তরে মেঘনা এবং পশ্চিমে তেঁতুলিয়া নদী। কৃষি এখানকার মানুষের প্রধান জীবিকা, আর ইলিশের জন্য ভোলার পরিচিতি দেশজোড়া। উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আছে ভোলা সরকারি কলেজ, ভোলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও যুগীরঘোলের ভোলা সদর হাসপাতাল।

২০২৬ সালের নির্বাচনে আসনটিতে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ৪,০৬,৫৬৭ জন; ভোট পড়ে ৫২.৪৩ শতাংশ।

১৯৮৪ সালে ভোলা জেলা গঠনের পর আসনটি তৈরি হয়। ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগের তোফায়েল আহমেদ (Tofail Ahmed) এখানে জয়ী হন; ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারি ও ২০০১ সালের নির্বাচনে আসনটি পান বিএনপির মোশারেফ হোসেন শাহজাহান (Mosharef Hossain Shahjahan)। ২০০৮ সালে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) আন্দালিভ রহমান পার্থ জেতেন, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে আবার তোফায়েল আহমেদ, আর ২০২৬ সালে আসনটি ফের বিজেপির ঘরে ফেরে।

সূত্র: উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, উইকিপিডিয়া (বাংলা), উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩, citypopulation.de, unb.com.bd। ভুল দেখলে জানান।

সংসদে মেয়াদ

ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬ভোলা-১বর্তমান মেয়াদBJP
নবম সংসদ, ২০০৮আসন উল্লেখ নেইJP

সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ২ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।

২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট

আসনের সব ফল →
ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬প্রার্থীদের মোট ২,০৮,৪৮১ ভোট
  1. আন্দালিভ রহমানBJPবিজয়ী১,০৫,৫৪৩৫০.৬%
  2. Md Nazrul IslamBJEI৭৫,৩৩৭৩৬.১%
  3. Md Obaidur RahmanIAB২৫,২৪৫১২.১%
  4. Md Ainur Rahman Jewel MiaGOP১,১০৩০.৫%
  5. Md Akbar HossainJP(ERSHAD)৫৯৯০.৩%
  6. Md Ashraf AliIFB৩০৩০.১%
  7. Md Mizanur RahmanNPP২১৭০.১%
  8. Rafizul HossainInd১৩৪০.১%
উৎস: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড। নির্বাচন কমিশনের গেজেটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি। উইকিপিডিয়াতেও বিজয়ীর ভোট একই।মূল পাতা

সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন

এই সদস্য সম্পর্কে সংসদ সচিবালয়ের কোনো প্রজ্ঞাপন নেই।সংসদ সচিবালয় কোনো সদস্যের নামে প্রজ্ঞাপন বা সরকারি আদেশ প্রকাশ করলে তা প্রতিদিন এখানে যুক্ত হয়।

আসন: ভোলা-১

আসনের পাতা →
এলাকা

ভোলা সদর উপজেলা

সংসদীয় কমিটি(২)

সংবাদ ও ভিডিও

সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…

কোথা থেকে তথ্য আসে

সদস্য, আসন, কমিটি ও অধিবেশন আসে জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইট থেকে; ভোটার সংখ্যা নির্বাচন কমিশন ও মন্ত্রিসভা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে। ভোটের ফল ও জীবনীর সূত্র আলাদা করে প্রতিটি পাতায় লেখা।

সব সূত্র দেখুন →

কত দিন পরপর হালনাগাদ

প্রতি রাতে পুরো সাইট সংসদের তথ্যভান্ডার থেকে নতুন করে তৈরি হয়। নতুন প্রজ্ঞাপন, বৈঠকের কার্যসূচি বা কমিটির পরিবর্তন পরদিনের মধ্যে যুক্ত হয়; সংবাদ শিরোনাম দিনে কয়েকবার।

পদ্ধতি →

ভুল পেলে

প্রতিটি সদস্যের পাতায় “সংশোধন জানান” বোতাম আছে। সূত্রসহ জানালে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাচাই করে ঠিক করা হয়; সদস্যের দপ্তর নিজের পাতাও হালনাগাদ করাতে পারেন।

যোগাযোগ →