
ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন
DR. Khandaker Mosharraf Hossain
সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা
পরিচিতি
ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন কুমিল্লা-১ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি, নির্বাচনী ফলাফল, আগের মেয়াদ, সংসদীয় কমিটি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।
ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন (Khandaker Mosharraf Hossain) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে দাউদকান্দি ও মেঘনা উপজেলা নিয়ে গঠিত কুমিল্লা-১ আসনের সংসদ সদস্য। পেশায় ভূতত্ত্ববিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা এই রাজনীতিক বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জাতীয় স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য।
এবার নিয়ে পঞ্চমবারের মতো সংসদে এসেছেন তিনি। এর আগে বিএনপি সরকারে তিনি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ, স্বরাষ্ট্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন।
শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা
১৯৪৬ সালের ১ অক্টোবর কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গয়েশপুর গ্রামে তাঁর জন্ম। বাবা খন্দকার আশরাফ আলী, মা হোসনে আরা হাসনা হেনা। ১৯৬২ সালে দাউদকান্দি হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক পাস করে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৮ সালে ভূতত্ত্বে এমএসসি ডিগ্রি লাভ করেন। পরে কলম্বো প্ল্যান বৃত্তি নিয়ে যুক্তরাজ্যে যান এবং ১৯৭৩ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভূতত্ত্বে পিএইচডি অর্জন করেন।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় যুক্তরাজ্যে থেকে তিনি প্রবাসী বাঙালিদের সংগঠিত করে বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত গড়ার কাজে যুক্ত হন এবং ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক হিসেবে নেতৃত্ব দেন।
১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগে জুনিয়র লেকচারার হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু। ১৯৮৬ সালে তিনি একই বিভাগের অধ্যাপক হন এবং ১৯৮৭ সাল থেকে বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।
রাজনৈতিক জীবন
১৯৭৯ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের (Ziaur Rahman) আহ্বানে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। দলের ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক, যুগ্ম মহাসচিব এবং কুমিল্লা (উত্তর) জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালনের পর ১৯৯৪ সাল থেকে তিনি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য।
কুমিল্লা-২ আসন থেকে তিনি ১৯৯১ সালে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন; একই আসনে ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারি ও জুনে এবং ২০০১ সালেও জয়ী হন। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত তিনি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ছিলেন এবং ১৯৯৬ সালের মার্চে অল্প কিছুদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালের অক্টোবর থেকে ২০০৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তিনি চারদলীয় জোট সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ছিলেন।
২০০৮ সালের নির্বাচনে পুনর্গঠিত কুমিল্লা-১ আসনে তিনি আওয়ামী লীগের মোহাম্মদ সুবিদ আলী ভূঁইয়ার (Mohammad Subid Ali Bhuiyan) কাছে পরাজিত হন। এরপর দল দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে থাকাকালেও তিনি স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দলের নীতিনির্ধারণে যুক্ত থাকেন।
২০২৬ নির্বাচন
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-১ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে তিনি ১,৪১,৪৪০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. মনিরুজ্জামান (Md. Moniruzzaman) পান ৯৪,৮৪৫ ভোট; জয়ের ব্যবধান ৪৬,৫৯৫ ভোট। এই জয়ে ২০০৮ সাল থেকে আওয়ামী লীগের হাতে থাকা আসনটি বিএনপির ঘরে ফেরে।
উল্লেখযোগ্য কাজ ও অবদান
স্বাস্থ্যমন্ত্রী থাকাকালে ২০০৩ সালের ১৯ মে তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) ৫৬তম বিশ্ব স্বাস্থ্য পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হন। এই পরিষদেই তামাক নিয়ন্ত্রণবিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তি ‘ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল’ গৃহীত হয়। তামাকবিরোধী কাজের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তাঁকে ‘নো টোব্যাকো গ্লোবাল অ্যাওয়ার্ড’-এর জন্য মনোনীত করে; ২০০৪ সালের বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবসে রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ (Iajuddin Ahmed) পুরস্কারটি তাঁর হাতে তুলে দেন।
তাঁর লেখা বইয়ের মধ্যে রয়েছে ‘মুক্তিযুদ্ধে বিলাত প্রবাসীদের অবদান’, ‘সংসদে কথা বলা যায়’ ও ‘আমার রাজনীতির রোজনামচা’। নিজ এলাকায় শিক্ষা ও সমাজসেবার লক্ষ্যে তিনি ড. মোশাররফ ফাউন্ডেশন গড়ে তোলেন; এর সহায়তায় দাউদকান্দি, ইলিয়টগঞ্জ ও গৌরীপুরে কলেজ, বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও এতিমখানা চলছে।
সূত্র: উইকিপিডিয়া (বাংলা), উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, du.ac.bd, today.thefinancialexpress.com.bd, en.prothomalo.com, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩, bssnews.net ১, tbsnews.net, bssnews.net ২, apps.who.int, archive.thedailystar.net, dailyinqilab.com, asset.ecs.gov.bd। ভুল দেখলে জানান।
* চিহ্নিত তথ্য সদস্যের উইকিপিডিয়া নিবন্ধ থেকে নেওয়া; সংসদ বা নির্বাচন কমিশনের নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি। ভুল দেখলে জানান।
বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম
২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নিয়ে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব শুরু করেন। দলীয়ভাবে তিনি বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য।
কুমিল্লা-১ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দাউদকান্দি ও মেঘনার মানুষের প্রতিনিধিত্ব, আইন প্রণয়ন এবং সরকারের কাজের তদারকি তাঁর মূল দায়িত্ব। তিনি সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটিরও সদস্য; স্পিকারের সভাপতিত্বে এই কমিটি অধিবেশনের মেয়াদ ও কার্যসূচি ঠিক করে।
৫ মার্চ ২০২৬ দাউদকান্দিতে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ে তিনি দুর্নীতি দমন ও আইনের শাসনের ওপর জোর দিয়ে বলেন, ‘অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই।’
১২ মার্চ ২০২৬ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের (Tarique Rahman) প্রস্তাবে তিনি ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন; তাঁর সভাপতিত্বেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন।
১৩ জুলাই ২০২৬ স্পিকারের সিদ্ধান্তে গঠিত ১০ সদস্যের বাংলাদেশ-চীন সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপের চেয়ারপারসন হন তিনি।
সূত্র: bssnews.net ১, bssnews.net ২, dailyinqilab.com ১, dailyinqilab.com ২, itvbd.com। ভুল দেখলে জানান।
নির্বাচনী এলাকা
সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।
নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি
কুমিল্লা-১ জাতীয় সংসদের ২৪৯ নম্বর আসন। নির্বাচন কমিশনের ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখের সীমানা গেজেট অনুযায়ী চট্টগ্রাম বিভাগের কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলা ও মেঘনা উপজেলা নিয়ে আসনটি গঠিত। ২০২৬ সালের নির্বাচনে এখানে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ৪,৩৮,৬১৬ জন।
দাউদকান্দি উপজেলার পশ্চিমে মেঘনা নদী, দক্ষিণে চাঁদপুর জেলা; ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে এর অবস্থান, গোমতী নদীর ওপর রয়েছে মেঘনা-গোমতী সেতু। ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী জনসংখ্যা ৪,০৬,৪০৫। দাউদকান্দি পৌরসভা ও ১৫টি ইউনিয়ন নিয়ে উপজেলাটি গঠিত। ধান, পাট, গম, আলু ও সবজি প্রধান ফসল। বর্ষার প্লাবনভূমিতে সমবায়ভিত্তিক মাছ চাষের ‘দাউদকান্দি মডেল’-এর সূচনা হয় ১৯৯৬ সালে এখানকার পানকৌড়ি ফিশারিজের মাধ্যমে। ইলিয়টগঞ্জ আর বি উচ্চ বিদ্যালয় (১৯০৮) এখানকার পুরোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান; দরিয়া সওদাগরের মসজিদ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। দাউদকান্দি, গৌরীপুর ও ইলিয়টগঞ্জ প্রধান বাজার।
মেঘনা উপজেলা মেঘনা নদীর তীরের চরাঞ্চল; ১৯৯৮ সালে দাউদকান্দি ও হোমনার কয়েকটি ইউনিয়ন নিয়ে এটি গঠিত হয়। আয়তন ৯৯.৫৭ বর্গকিলোমিটার, ইউনিয়ন আটটি। ২০২২ সালের জনশুমারিতে জনসংখ্যা ১,১৮,৮০৬। কৃষি ও মৎস্য প্রধান জীবিকা, প্রবাসী আয়ও গুরুত্বপূর্ণ। মানিকারচর কলেজ (১৯৭০) এখানকার উল্লেখযোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
আসনটির সীমানা কয়েক দফা বদলেছে। ২০০৮-পূর্ব কুমিল্লা-১ ছিল ভিন্ন এলাকা, যেখানে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে বিএনপির এম কে আনোয়ার (M. K. Anwar) জয়ী হন। দাউদকান্দি ও মেঘনা নিয়ে গঠিত আসনে ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের মোহাম্মদ সুবিদ আলী ভূঁইয়া (Mohammad Subid Ali Bhuiyan) জয়ী হন। ২০২৩ সালের সীমানায় মেঘনার বদলে তিতাস যুক্ত হয় এবং ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের আবদুস সবুর (Abdus Sabur) নির্বাচিত হন। ২০২৫ সালের গেজেটে তিতাস বাদ পড়ে মেঘনা আবার যুক্ত হয়; এই সীমানায় ২০২৬ সালে বিএনপির ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন জয়ী হন।
সূত্র: asset.ecs.gov.bd, tbsnews.net, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, prothomalo.com, উইকিপিডিয়া (বাংলা) ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, en.banglapedia.org ১, উইকিপিডিয়া (বাংলা) ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩, en.banglapedia.org ২, dlc.dlib.indiana.edu, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৪, observerbd.com। ভুল দেখলে জানান।
সংসদে মেয়াদ
সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ৫ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন; আগের ৪টি মেয়াদের মধ্যে ১টির বিস্তারিত এখানে আছে। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।
২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে এই আসনের ফল
আসনের সব ফল →এই আসনের সাধারণ নির্বাচনের বিজয়ী ও বর্তমান সংসদ সদস্যের নাম আলাদা। নিচের কার্ডের শেষে উৎসের বিবরণ দেখুন।
- ড, খন্দকার মোশাররফ হোসেন
BNPবিজয়ী১,৪১,৪৪০৫৭.৮% - Md. Moniruzzaman
BJEI৯৪,৮৪৫৩৮.৭%
- Bashir Ahmed
IAB৬,৫০২২.৭% - Sayed Md. Ifthekhar AhsanJP(ERSHAD)৬৩১০.৩%
- Md. Shafiul BasarAB৫১১০.২%
- Mohammad Abul Kalam AzadBRP৪১১০.২%
- Omar FarooqInd২০৫০.১%
- Abu Zayed Al MahnudInd২০১০.১%
- Barua Monojit DhimanBasad১৪৪০.১%
সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন(১)
আসন: কুমিল্লা-১
আসনের পাতা →(ক) দাউদকান্দি উপজেলা এবং (খ) মেঘনা উপজেলা
সংসদীয় কমিটি(১)
সংবাদ ও ভিডিও
সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…