
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম
Hafiz Uddin Ahmad Bir Bikram
সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা
পরিচিতি
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম ভোলা-৩ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সংসদ সদস্য। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি, নির্বাচনী ফলাফল, আগের মেয়াদ, সংসদীয় কমিটি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম একজন বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ ও মুক্তিযোদ্ধা, যিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য বীর বিক্রম খেতাবে ভূষিত হন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশের ১৩তম জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম (Hafiz Uddin Ahmad, Bir Bikram) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং ভোলা-৩ (লালমোহন-তজুমদ্দিন) আসনের সংসদ সদস্য। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) এই প্রবীণ নেতা একই আসন থেকে সাতবার নির্বাচিত হয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য খেতাবপ্রাপ্ত এই অবসরপ্রাপ্ত মেজর একসময় ঢাকার মাঠের পরিচিত ফুটবলারও ছিলেন।
শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা
১৯৪৪ সালের ২৯ অক্টোবর ভোলার লালমোহনে তাঁর জন্ম। বাবা ডা. আজহার উদ্দিন আহমদ ছিলেন পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সাবেক সদস্য, মা করিমুন্নেসা বেগম। বরিশাল জিলা স্কুল ও সরকারি ব্রজমোহন কলেজে পড়ার পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ১৯৬৪ সালে স্নাতক (সম্মান) ও ১৯৬৫ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন। ছাত্রজীবনে ১৯৬৪ থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত তিনি পূর্ব পাকিস্তানের দ্রুততম মানবের পদক জেতেন।
তাঁর স্ত্রী শিক্ষাবিদ দিলারা হাফিজ (Dilara Hafiz) ইডেন কলেজ ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যক্ষ এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ছিলেন। ২০২৬ সালের ২৮ মার্চ তিনি মারা যান।
রাজনৈতিক জীবন
রাজনীতিতে আসার আগে তিনি ছিলেন প্রথম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের কর্মকর্তা। ১৯৭১ সালের ৩০ মার্চ যশোর সেনানিবাসে তিনি পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন এবং প্রায় আট ঘণ্টার যুদ্ধের পর প্রায় দুই শ সৈনিক নিয়ে বেরিয়ে আসেন। ৩১ জুলাই কামালপুর বিওপি আক্রমণে তিনি আহত হন, আর ১৪ ডিসেম্বর সিলেটের এমসি কলেজ রণাঙ্গনে তাঁর কোম্পানি পাকিস্তানি বাহিনীকে পরাজিত করে। স্বাধীনতার পর মেজর পদ থেকে তিনি অবসর নেন।
১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে তিনি ভোলা-৩ থেকে সংসদ সদস্য হন। ১৯৯১ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ের পর ১৯৯২ সালে বিএনপিতে যোগ দেন এবং ১৯৯৬ সালের দুই নির্বাচন ও ২০০১ সালের নির্বাচনে দলের প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন। খালেদা জিয়া (Khaleda Zia)-র সরকারে ১৯৯৬ সালে তিনি বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী এবং ২০০১ সালের পর পাট, পানিসম্পদ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন।
২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি এ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। দলের ভাইস চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় ২০২৪ সালের ১৬ আগস্ট তাঁকে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য করা হয়।
২০২৬ নির্বাচন
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে তিনি ১,৪৫,৯৯০ ভোট পেয়ে জয়ী হন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির মোহাম্মদ নিজামুল হক নাঈম পান ৫৭,৩৫১ ভোট; ব্যবধান ৮৮,৬৩৯ ভোট। আসনটিতে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ৩,৮৮,৫৫০ জন। ২০০১ সালের পর এই প্রথম আসনটি বিএনপির হাতে ফেরে। নির্বাচনের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি তারেক রহমান (Tarique Rahman)-এর মন্ত্রিসভায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন এবং ১১ মার্চ সে পদ ছাড়েন।
উল্লেখযোগ্য কাজ ও অবদান
মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি বীর বিক্রম খেতাব পান। ফুটবলে তিনি ঢাকা মোহামেডানের হয়ে ১২ বছর খেলেছেন, ১৯৭৬ সালে দলের অধিনায়ক ছিলেন এবং ১৯৭০ সালে তেহরানে আরসিডি প্রতিযোগিতায় পাকিস্তান জাতীয় দলের অধিনায়কত্ব করেন। ফিফা (FIFA) তাঁকে শতবর্ষ অর্ডার অব মেরিট সম্মাননা দেয়। মুক্তিযুদ্ধ ও সেনাজীবনের স্মৃতি নিয়ে লেখা তাঁর বইয়ের মধ্যে রয়েছে 'রক্তে ভেজা একাত্তর' এবং 'সৈনিক জীবন: গৌরবের একাত্তর, রক্তাক্ত পঁচাত্তর'।
সূত্র: prothomalo.com, উইকিপিডিয়া (বাংলা), উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, tbsnews.net ১, bssnews.net, জাতীয় সংসদ, dhakatribune.com ১, thefinancialexpress.com.bd, tbsnews.net ২, itvbd.com, dhakatribune.com ২, opac.iub.edu.bd, opac.northsouth.edu। ভুল দেখলে জানান।
* চিহ্নিত তথ্য সদস্যের উইকিপিডিয়া নিবন্ধ থেকে নেওয়া; সংসদ বা নির্বাচন কমিশনের নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি। ভুল দেখলে জানান।
বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম
২০২৬ সালের ১২ মার্চ সংসদের প্রথম অধিবেশনে তিনি কণ্ঠভোটে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হন। সেদিনই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন (Mohammed Shahabuddin) তাঁকে শপথ পড়ান।
স্পিকার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন, কার্যপ্রণালি-বিধি অনুযায়ী সংসদ পরিচালনা করেন এবং বিদেশে সংসদের প্রতিনিধিত্ব করেন। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করলে ২৪ জুলাই থেকে ২১ আগস্ট নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (Mirza Fakhrul Islam Alamgir) শপথ নেওয়া পর্যন্ত তিনি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। ৭ সেপ্টেম্বর তিনি কার্যপ্রণালি-বিধি সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি ও পিটিশন কমিটির সভাপতি মনোনীত হন। ৫ অক্টোবর তানজানিয়ার আরুশায় আইপিইউ অ্যাসেম্বলিতে সংসদীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার সময় তিনি ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের ৩৭ দেশের এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন।
সূত্র: timesofoman.com, en.prothomalo.com, jugantor.com ১, jugantor.com ২, bangla.bdnews24.com। ভুল দেখলে জানান।
নির্বাচনী এলাকা
সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।
নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি
ভোলা-৩ জাতীয় সংসদের ১১৭ নম্বর আসন। নির্বাচন কমিশনের সীমানা অনুযায়ী বরিশাল বিভাগের ভোলা জেলার তজুমদ্দিন ও লালমোহন উপজেলা নিয়ে আসনটি গঠিত; এতে রয়েছে লালমোহন পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়ন। বাংলাপিডিয়ার হিসাবে দুই উপজেলার মোট আয়তন প্রায় ৯০৯ বর্গকিলোমিটার। ২০২৬ সালের নির্বাচনে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ৩,৮৮,৫৫০ জন।
লালমোহন উপজেলা ভোলা জেলার দক্ষিণাংশে; উত্তরে বোরহানউদ্দিন ও তজুমদ্দিন, দক্ষিণে চরফ্যাশন, পূর্বে মনপুরা। আয়তন ৩৯৬.২৪ বর্গকিলোমিটার, ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী জনসংখ্যা ২,৯৭,৬৯২। পৌরসভার বাইরে এখানে নয়টি ইউনিয়ন। অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর; ধান, মরিচ, চিনাবাদাম, সুপারি ও পান প্রধান ফসল, আর ইলিশ প্রধান রপ্তানি পণ্য। তেঁতুলিয়া ও বেতুয়া এ উপজেলার প্রধান নদী। লালমোহন সরকারি শাহবাজপুর কলেজ উল্লেখযোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রমাগঞ্জ হাট ও লর্ড হার্ডিঞ্জ বাজার পরিচিত বাণিজ্যকেন্দ্র।
তজুমদ্দিন উপজেলা জেলার পূর্ব প্রান্তে, মেঘনার তীরে। আয়তন ৫১২.৯১ বর্গকিলোমিটার, যার প্রায় অর্ধেক জুড়ে শাহবাজপুর চ্যানেল। ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী জনসংখ্যা ১,৩৪,১৭৬। এখানে পাঁচটি ইউনিয়ন: বড় মলংচড়া, চাঁচড়া, চাঁদপুর, শম্ভুপুর ও সোনাপুর। কৃষিই প্রধান আয়ের উৎস; চিনাবাদাম, নারকেল, সুপারি ও আলু প্রধান রপ্তানি পণ্য। ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত তজুমদ্দিন ডিগ্রি কলেজ উপজেলার একমাত্র কলেজ।
১৯৯১ সালে স্বতন্ত্র এবং ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে হাফিজ উদ্দিন আহমদ এখানে জয়ী হন। ২০০৮ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত আসনটি আওয়ামী লীগের হাতে ছিল; ২০২৬ সালে তা আবার বিএনপির হাতে আসে। বিভিন্ন সময়ে আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ হয়েছে, তাই আগের নির্বাচনগুলোর এলাকা বর্তমান সীমানার সঙ্গে হুবহু মেলে, এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
সূত্র: tbsnews.net, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩, en.banglapedia.org ১, en.banglapedia.org ২, citypopulation.de, dailyinqilab.com, itvbd.com। ভুল দেখলে জানান।
সংসদে মেয়াদ
সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ৭ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন; আগের ৬টি মেয়াদের মধ্যে ১টির বিস্তারিত এখানে আছে। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।
২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট
আসনের সব ফল →- হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম
BNPবিজয়ী১,৪৫,৯৯০৬৮.৮% - Mohammad Nizamul HaqueBDP৫৭,৩৫১২৭.০%
- Md Mosleh Uddin
IAB৭,২৫৫৩.৪% - Md Kamal UddinJP(ERSHAD)৭৮৯০.৪%
- Md. Rahmat UllahInd৫০৮০.২%
- Md Abu Taiyeb
GOP২৬০০.১%
সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন(৪)
আসন: ভোলা-৩
আসনের পাতা →(ক)তজুমদ্দিন এবং(খ) লালমোহন উপজেলা
সংসদীয় কমিটি(৪)
সংবাদ ও ভিডিও
সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…
সম্পাদকের যাচাই করা ১৪টি খবর