
কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)
Kazi Shah Mofazzal Houssain (Kaikobad)
সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা
পরিচিতি
কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) কুমিল্লা-৩ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সংসদ সদস্য এবং বর্তমানে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি, সংসদীয় কমিটি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।
কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ (Kazi Shah Mofazzal Hossain Kaikobad) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভাইস চেয়ারম্যান, কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনের সংসদ সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman)-এর মন্ত্রিসভায় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী। ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি এই আসন থেকে ষষ্ঠবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
মুরাদনগরের সর্বস্তরের মানুষের কাছে তিনি ‘দাদাভাই’ নামে পরিচিত। প্রায় চার দশকের সংসদীয় রাজনীতিতে সাতবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি ছয়বার জয়ী হয়েছেন।
শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা
১৯৫৬ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর সদরের মুরাদনগর গ্রামে তাঁর জন্ম। বাবা প্রয়াত কাজী নোমান আহমেদ, মা প্রয়াত ছৈয়দা রশিদা বেগম। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি)। পেশায় তিনি একজন উদ্যোক্তা।
রাজনৈতিক জীবন
১৯৮৬ সালে তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি প্রথমবার কুমিল্লা-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৮ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকে দ্বিতীয়বার জয়ী হন। ১৯৯১ সালের পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি তৃতীয় হন; আসনটিতে জয়ী হন বিএনপির রফিকুল ইসলাম মিয়া (Rafiqul Islam Miah)। এটিই তাঁর একমাত্র পরাজয়। ১৯৯৬ সালের ১২ জুনের সপ্তম সংসদ নির্বাচনে লাঙ্গল প্রতীকে তৃতীয়বার জয়ী হন।
পরে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন এবং ২০০১ ও ২০০৮ সালে ধানের শীষ প্রতীকে চতুর্থ ও পঞ্চমবারের মতো সংসদ সদস্য হন। ২০০১ সালে তিনি আওয়ামী লীগের ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন (Yussuf Abdullah Harun)-কে ২৪,২১০ ভোটে এবং ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের জাহাঙ্গীর আলমকে ১৪,৫৬৩ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। ২০১৬ সালের আগস্টে ঘোষিত বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটিতে তিনি ৩৩ জন ভাইস চেয়ারম্যানের একজন হন।
দলের বিরোধী রাজনীতির পর্বে তিনি দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে ছিলেন। ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলায় ২০১৮ সালে বিচারিক আদালত তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিল; ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর হাইকোর্ট মামলার সব আসামিকে খালাস দেন। ২০২৪ সালের ২৮ ডিসেম্বর তিনি সৌদি আরব থেকে ঢাকায় ফেরেন। বিমানবন্দরে মুরাদনগর থেকে আসা বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী তাঁকে স্বাগত জানান, আর দেশে ফিরে তিনি প্রথমে জিয়াউর রহমান (Ziaur Rahman)-এর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান।
২০২৬ নির্বাচন
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে তিনি ১,৫৯,২৯১ ভোট পান। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. ইউসুফ সোহেল (Md. Yousuf Sohel) পান ১,০৯,৫৯৯ ভোট; ব্যবধান ৪৯,৬৯২ ভোট। আসনটিতে নয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ৫,০০,৭২৬ জন। জয়ের পর তিনি বলেন, তিনি নিজেকে মুরাদনগরের মানুষের ‘খাদেম’ মনে করেন এবং একটি আধুনিক মুরাদনগর গড়তে চান।
উল্লেখযোগ্য কাজ ও অবদান
হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ (Hussain Muhammad Ershad)-এর সরকারের সময় ১৯৯০ সালের ২ মে থেকে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন; ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রীদের তালিকায় তাঁর নাম রয়েছে। মুরাদনগরের অবকাঠামো, শিক্ষা ও যোগাযোগ উন্নয়নে তাঁর দীর্ঘদিনের ভূমিকার কথা স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক নেতারা বিভিন্ন সময়ে উল্লেখ করেছেন।
সূত্র: জাতীয় সংসদ, উইকিপিডিয়া (বাংলা), উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, prothomalo.com, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, thedailystar.net, en.prothomalo.com, khoborsangjog.com, deshrupantor.com, bssnews.net, tbsnews.net, mora.gov.bd, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, dhakatimes24.com। ভুল দেখলে জানান।
* চিহ্নিত তথ্য সদস্যের উইকিপিডিয়া নিবন্ধ থেকে নেওয়া; সংসদ বা নির্বাচন কমিশনের নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি। ভুল দেখলে জানান।
বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম
২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন এবং একই দিন তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান।
মন্ত্রণালয়ের প্রধান হিসেবে হজ ও উমরাহ ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সেবাকর্মীদের কল্যাণমূলক কার্যক্রম তাঁর দায়িত্বের আওতায়। ২০২৬ সালের মার্চের শেষে সৌদি আরবের মদিনায় সৌদি হজ ও উমরাহমন্ত্রী তাওফিক বিন ফাওজান আল-রাবিয়াহ (Tawfiq bin Fawzan Al-Rabiah)-র সঙ্গে বৈঠকে দুই পক্ষ হজ ও উমরাহ সেবায় সহযোগিতা জোরদারে একমত হয়; তিনি বাংলাদেশি হজযাত্রীদের কল্যাণে একটি লিখিত প্রস্তাবও দেন। ৭ এপ্রিল সংসদে তিনি জানান, ১৮ এপ্রিল থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হবে এবং ২০২৭ সালের প্যাকেজে খরচ কমানোর বিষয় বিবেচনা করা হবে। ২১ আগস্টের রদবদলে মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন (Mohammad Shamim Kaiser Lincoln) এই মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে যুক্ত হন। ১০ সেপ্টেম্বর তিনি জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ধর্মীয় নেতা ও সেবাকর্মীদের রাষ্ট্রীয় সম্মানী কর্মসূচিতে ১,১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে, যার আওতায় ৮৬,৭০৯টি প্রতিষ্ঠানের ২,৫৬,০৭৪ জন আসবেন।
সূত্র: dhakatimes24.com ১, observerbd.com ১, observerbd.com ২, dhakatimes24.com ২। ভুল দেখলে জানান।
নির্বাচনী এলাকা
সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।
নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি
কুমিল্লা-৩ জাতীয় সংসদের ২৫১ নম্বর আসন। নির্বাচন কমিশনের সীমানা নির্ধারণ অনুযায়ী চট্টগ্রাম বিভাগের কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলা নিয়ে আসনটি গঠিত। ২০২৬ সালের নির্বাচনে এখানে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ৫,০০,৭২৬ জন।
মুরাদনগর গোমতী নদীর তীরে, জেলা শহর থেকে সড়কপথে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে। ৩৪০.৭৩ বর্গকিলোমিটার আয়তনের উপজেলাটি কুমিল্লা জেলার সবচেয়ে বড়; উত্তরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর, দক্ষিণে চান্দিনা, পূর্বে দেবিদ্বার ও ব্রাহ্মণপাড়া, পশ্চিমে দাউদকান্দি ও হোমনা। গোমতী, বুড়ি ও পুরোনো তিতাস প্রধান নদী। ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী জনসংখ্যা ৫,৮২,৯৫০। উপজেলার ২২টি ইউনিয়ন মুরাদনগর ও বাঙ্গরা বাজার থানায় বিভক্ত ছিল; ২০২৬ সালের ৮ জুলাই সরকারি প্রজ্ঞাপনে এর ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে নতুন বাঙ্গরা উপজেলা গঠিত হয়েছে।
প্রায় অর্ধেক মানুষের জীবিকা কৃষি, এরপর ব্যবসা ও চাকরি; ধান, গম, মসুর ও সরিষা প্রধান ফসল। শ্রীকাইল ও বাঙ্গরা গ্যাসক্ষেত্র এই এলাকায় অবস্থিত। শ্রীকাইল কলেজ (১৯৪১) এখানকার পুরোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। পাহাড়পুরে প্রাচীন তাম্রলিপি পাওয়া গেছে, আর রামচন্দ্রপুর হাট ও কোম্পানীগঞ্জ বাজার পরিচিত বাণিজ্যকেন্দ্র। ১৮৫৮ সালে থানা হিসেবে যাত্রা শুরু করে ১৯৮৩ সালে এটি উপজেলা হয়। মুক্তিযুদ্ধে পান্তিবাজার ও চাপিতলায় মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে পাকিস্তানি বাহিনীর সংঘর্ষ হয়।
আসনের নাম ধরে হিসাব করলে, ১৯৯১ সালে বিএনপির রফিকুল ইসলাম মিয়া (Rafiqul Islam Miah) জয়ী হন। ১৯৯৬ সালের জুনে জাতীয় পার্টির এবং ২০০১ ও ২০০৮ সালে বিএনপির কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালে স্বতন্ত্র এবং ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন, ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের জাহাঙ্গীর আলম সরকার জয়ী হন; ২০২৬ সালে আসনটি আবার বিএনপির হাতে আসে।
সূত্র: জাতীয় সংসদ, tbsnews.net, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, উইকিপিডিয়া (বাংলা), en.banglapedia.org, bssnews.net, dhakatimes24.com, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৪। ভুল দেখলে জানান।
সংসদে মেয়াদ
সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ৬ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন; আগের ৫টি মেয়াদের মধ্যে ১টির বিস্তারিত এখানে আছে। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।
২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট
আসনের সব ফল →- কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)
BNPবিজয়ী১,৫৯,২৯১৫৮.০% - Md. Yousuf Sohel
BJEI১,০৯,৫৯৯৩৯.৯%
- Ahmed Abdul Kaiyum
IAB৩,৫৯৩১.৩% - Md Khorshed AlamBangladesh Congress৭১৭০.৩%
- Moniruzzaman
GOP৬৩৩০.২%
- Chowdhury Rakibul HaqueAmjanatar Dol২৪৪০.১%
- Md. Sharif Uddin SarkarIBB১৬৭০.১%
- Riaz Md. SharifNDM১৫২০.১%
- Md. Emdadul HaqueBRP১১১০.০%
সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন
আসন: কুমিল্লা-৩
আসনের পাতা →মুরাদনগর উপজেলা
সংসদীয় কমিটি(১)
সংবাদ ও ভিডিও
সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…
সম্পাদকের যাচাই করা ৭টি খবর