
মোঃ নুরুল হক
Md. Nurul Haque
সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা
পরিচিতি
মোঃ নুরুল হক পটুয়াখালি-৩ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি, গণঅধিকার পরিষদ এবং বর্তমানে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।
নুরুল হক নুর (Nurul Haque Nur) পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা ও দশমিনা) আসনের সংসদ সদস্য এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক সহসভাপতি হিসেবে তিনি ‘ভিপি নুর’ নামে পরিচিত।
ছাত্র আন্দোলন থেকে উঠে আসা এই রাজনীতিক এখন গণঅধিকার পরিষদের (Gono Odhikar Parishad) সভাপতি। নিজের জন্মভূমি গলাচিপা যে আসনের অংশ, সেখান থেকেই তিনি প্রথমবার সংসদে এসেছেন।
শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার প্রত্যন্ত চরবিশ্বাস ইউনিয়নের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে তাঁর জন্ম। বাবা ইদ্রিস হাওলাদার চরবিশ্বাস ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য; মা নিলুফা বেগম তাঁর শিশুকালেই মারা যান। তাঁরা তিন ভাই ও পাঁচ বোন। স্ত্রী মারিয়া আক্তার শিক্ষকতা করেন; তাঁদের দুই মেয়ে ও এক ছেলে।
চরবিশ্বাস জনতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পর তিনি গাজীপুরের কালিয়াকৈরে পড়াশোনা চালিয়ে যান এবং ২০১০ সালে এসএসসি পাস করেন। ২০১২ সালে ঢাকার উত্তরা হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পাসের পর পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বছর পড়েন। এরপর ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (University of Dhaka) ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন।
রাজনৈতিক জীবন
বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরুর দিকে তিনি কিছুদিন মুহসীন হল ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। ২০১৮ সালে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে তিনি কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রথম সারির নেতা হয়ে ওঠেন। আন্দোলনের সময় একাধিকবার হামলার শিকার হন, যার মধ্যে ওই বছরের ৩০ জুন কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনের হামলার ছবি ব্যাপক আলোচিত হয়।
২০১৯ সালের ১১ মার্চ, ২৮ বছর পর অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্যানেল থেকে তিনি ১১,০৬২ ভোট পেয়ে সহসভাপতি নির্বাচিত হন; ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন পান ৯,১২৯ ভোট। ২০২০ সালের ২২ জুন পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্বে ছিলেন।
২০২৩ সালের ১০ জুলাই দলের কাউন্সিলে তিনি গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০২৪ সালের কোটা আন্দোলনের সময় তিনি গ্রেপ্তার হয়ে রিমান্ড ও কারাবাসের মুখোমুখি হন। ২০২৫ সালের ২৯ আগস্ট ঢাকায় জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে এক সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়ে তিনি দেশে ও বিদেশে চিকিৎসা নেন।
২০২৬ নির্বাচন
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে পটুয়াখালী-৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। আসনটির নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ৩,৭৫,৮৭১ জন। তিনি পান ৯৭,৩২৩ ভোট; নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক বিএনপি নেতা, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হাসান মামুন (Md Hasan Mamun) পান ৮১,৩৬১ ভোট। জয়ের ব্যবধান ১৫,৯৬২ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আবু বকর সিদ্দিকী পান ৩৮,১৮৮ ভোট। এর মধ্য দিয়ে তিনি প্রথমবার সংসদ সদস্য হন।
উল্লেখযোগ্য কাজ ও অবদান
তাঁদের নেতৃত্বাধীন কোটা সংস্কার আন্দোলনের পর ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের পরিপত্র জারি হয়। ছাত্র আন্দোলনের অভিজ্ঞতা থেকে তরুণদের নেতৃত্বে নতুন দল গড়ার উদ্যোগ নিয়ে ২০২১ সালের ২৬ অক্টোবর অর্থনীতিবিদ রেজা কিবরিয়ার (Reza Kibria) সঙ্গে তিনি ঢাকার পল্টনে গণঅধিকার পরিষদের আত্মপ্রকাশ ঘটান; তিনি দলটির প্রতিষ্ঠাতাদের একজন।
সূত্র: prothomalo.com ১, prothomalo.com ২, bdnews24.com, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি), উইকিপিডিয়া (বাংলা), tbsnews.net, itvbd.com ১, dhakatimes24.com ১, dhakatimes24.com ২, prothomalo.com ৩, itvbd.com ২। ভুল দেখলে জানান।
বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম
২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। ৪ মার্চ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের পর থেকে তিনি শুধু প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী; ২১ আগস্টের মন্ত্রিসভা রদবদলের পরও তিনি এই পদে আছেন।
প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তিনি মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর (Ariful Haque Choudhury) সঙ্গে বিদেশে কর্মসংস্থান, অভিবাসন ব্যয়, প্রবাসীদের কল্যাণ এবং ফেরত আসা কর্মীদের সহায়তার কাজ দেখভাল করেন। মন্ত্রণালয়ে প্রথম কর্মদিবস ১৯ ফেব্রুয়ারি তিনি অভিবাসন ব্যয় কমানোকে শীর্ষ অগ্রাধিকার বলেন এবং বিমানবন্দরে কর্মীদের সম্মানজনক সেবা ও ছয় মাসের অগ্রাধিকার তালিকা তৈরির নির্দেশ দেন। ১৪ মে ব্র্যাকের এক কর্মশালায় তিনি ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে অভিবাসন বন্ধের আহ্বান জানান এবং ফেরত আসা অভিবাসীদের জন্য আরও টেকসই উদ্যোগের কথা বলেন। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি তিনি জানান, জুলাই থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রায় ৪,৮০০ বাংলাদেশির ভিসা বাতিল হয়েছে এবং সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানানো হয়েছে। ১৩ অক্টোবর তিনি বলেন, পাঠানো রেমিট্যান্সের ভিত্তিতে প্রবাসীদের ব্যবসা বা বাড়ি করার ঋণ দিতে চায় সরকার।
সূত্র: tbsnews.net, thefinancialexpress.com.bd, dhakatimes24.com, itvbd.com, prothomalo.com। ভুল দেখলে জানান।
নির্বাচনী এলাকা
সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।
নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি
পটুয়াখালী-৩ বরিশাল বিভাগের পটুয়াখালী জেলার একটি সংসদীয় আসন, জাতীয় সংসদের ১১৩ নম্বর আসন। নির্বাচন কমিশনের ২০২৫ সালের সীমানা নির্ধারণ অনুযায়ী আসনটি গঠিত (ক) দশমিনা এবং (খ) গলাচিপা উপজেলা নিয়ে। ২০২৬ সালের নির্বাচনে এখানে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ৩,৭৫,৮৭১ জন।
দশমিনা (আয়তন প্রায় ৩৫২ বর্গকিলোমিটার) তেঁতুলিয়া নদীর তীরে; এর উত্তরে বাউফল, পূর্বে ভোলার লালমোহন ও চরফ্যাশন। সাতটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত উপজেলাটির জনসংখ্যা ২০২২ সালের জনশুমারিতে ১,৩০,৪০২। কৃষিই প্রধান জীবিকা। চর বাঁশবাড়িয়ায় প্রায় ১,০৪৪ একর জমিতে গড়ে ওঠা দশমিনা বীজ উৎপাদন খামারকে দেশের বৃহত্তম বীজ উৎপাদন খামার বলা হয়; এখানে আমন ও বোরো ধানসহ নানা ফসলের বীজ উৎপাদন হয়।
গলাচিপা (আয়তন প্রায় ৯২৫ বর্গকিলোমিটার) উপকূলীয় উপজেলা, একটি পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত; ২০১১ সালে এর একাংশ নিয়ে রাঙ্গাবালী উপজেলা গঠিত হয়। ২০২২ সালের জনশুমারিতে জনসংখ্যা ৩,০০,২১৮। রামনাবাদ নদীর তীরের গলাচিপা শহর ধান ও অন্যান্য ফসলের নদীবন্দর; এখানকার শনিবারের সাপ্তাহিক হাট বৃহত্তর বরিশালের অন্যতম বড় হাট। আগুনমুখা নদীর মোহনা এলাকার পরিচিত স্থান; ধান, তরমুজ, আলু ও বাদাম প্রধান ফসল। গলাচিপা সরকারি কলেজ ও গলাচিপা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট উল্লেখযোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
আসনটি ১৯৭৩ সালে গঠিত হয়; ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে পটুয়াখালী সদরের আউলিয়াপুর ইউনিয়ন বাদ দিয়ে এর সীমানা ছোট করা হয়। ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের জুনে আওয়ামী লীগের এ কে এম জাহাঙ্গীর হোসাইন এবং ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপির শাহজাহান খান এখানে জয়ী হন। ২০০১ সালেও এ কে এম জাহাঙ্গীর হোসাইন নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের গোলাম মাওলা রনি, ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের এ কে এম জাহাঙ্গীর হোসাইন এবং ২০১৮ ও ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের এস এম শাহজাদা জয়ী হন। ২০২৬ সালে গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর আসনটিতে জয় পান।
সূত্র: tbsnews.net, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (বাংলা) ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, উইকিপিডিয়া (বাংলা) ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩, উইকিপিডিয়া (বাংলা) ৩, thedailystar.net। ভুল দেখলে জানান।
সংসদে মেয়াদ
সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ১ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।
২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট
আসনের সব ফল →- মোঃ নুরুল হক
GOPবিজয়ী৯৭,৩২৩৪১.৬%
- Md Hasan MamunInd৮১,৩৬১৩৪.৮%
- Md Abu Bakar Siddiqui
IAB৩৮,১৮৮১৬.৩% - Muhammad Shah Alam
BJEI১৬,২৫৫৬.৯%
- SM Fazlul HaqueInd৯৭৮০.৪%
সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন
আসন: পটুয়াখালি-৩
আসনের পাতা →(ক)দশমিনা এবং(খ) গলাচিপা উপজেলা
সংসদীয় কমিটি(৩)
সংবাদ ও ভিডিও
সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…