মূল বিষয়ে যান
English
সর্বশেষ
মোঃ জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি

মোঃ জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি

Md. Zonayed Abdur Rahim Saki

বর্তমান সদস্য, ত্রয়োদশ সংসদপ্রতিমন্ত্রী, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়

সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা

পরিচিতি

মোঃ জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য, গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটি ও রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য এবং বর্তমানে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।

মোঃ জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি (Zonayed Saki) ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনের সংসদ সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের (Tarique Rahman) সরকারে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী। গণসংহতি আন্দোলনের (Ganosamhati Andolan) প্রতিষ্ঠাকালীন নেতা সাকি তিন দশকের বেশি সময় ধরে ছাত্র, শ্রমিক ও জাতীয় সম্পদ রক্ষার আন্দোলনে যুক্ত।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েই তিনি সরকারের দায়িত্ব পান।

শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা

১৯৭৩ সালের ৯ ডিসেম্বর তাঁর জন্ম। পৈতৃক নিবাস ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ফরদাবাদ ইউনিয়নের চরলহনিয়া গ্রামে। বাবা মোঃ ফজলুর রহমান, মা মাসুদা খানম। বাবার সরকারি চাকরির সুবাদে শৈশব ও কৈশোর কেটেছে দেশের বিভিন্ন জেলায়।

ঢাকার মতিঝিল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৮৮ সালে মাধ্যমিক এবং ঢাকা কলেজ থেকে ১৯৯০ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। ১৯৯১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগে ভর্তি হন। তাঁর স্ত্রী আলোকচিত্রী তাসলিমা আখতার (Taslima Akhter), যিনি গণসংহতি আন্দোলনেও সক্রিয়।

রাজনৈতিক জীবন

১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে তিনি রাজনীতিতে আসেন এবং বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনে যোগ দেন। ১৯৯৮ সালে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচিত হয়ে বেতন-ফি বৃদ্ধিবিরোধী ও যৌন নিপীড়নবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। ২০০০ সালে ছাত্ররাজনীতি থেকে বিদায় নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হন।

২০০২ সালের ২৯ আগস্ট শ্রমিক ও সামাজিক আন্দোলনের কর্মীদের নিয়ে গণসংহতি আন্দোলন গঠনে নেতৃত্ব দেন; ২০১৬ সালের বিশেষ সাংগঠনিক সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে দলের প্রধান সমন্বয়কারী হন। ২০১৫ সালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে এবং ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১২ আসনে প্রার্থী হন।

২০২২ সালের আগস্টে আত্মপ্রকাশ করা সাত দলের জোট গণতন্ত্র মঞ্চে তাঁর দল শরিক ছিল, আর বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের যুগপৎ আন্দোলনেও তিনি অন্যতম সংগঠক ছিলেন। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন এবং জুলাই সনদ প্রণয়নের আলোচনায় অংশ নেন। সরকারি দায়িত্বের কারণে ২০২৬ সালের ৪ এপ্রিল তিনি দলের প্রধান সমন্বয়কারীর পদ ছাড়েন; দলের কেন্দ্রীয় কমিটি ও রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য হিসেবে যুক্ত আছেন।

২০২৬ নির্বাচন

নির্বাচনী প্রচারে তিনি মেঘনা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ এবং বাঞ্ছারামপুরকে একটি স্বনির্ভর অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি আসনটি শরিকদের ছেড়ে দেয়। বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে দলীয় প্রতীক মাথাল নিয়ে লড়ে সাকি পান ৯৫,৩৪২ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মোঃ মহসিন (Md. Mohsin) পান ৩৯,৯৭৬ ভোট; ব্যবধান ৫৫,৩৬৬ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সাঈদ উদ্দিন খান (Sayeed Uddin Khan) পান ৮,৫৭২ ভোট।

উল্লেখযোগ্য কাজ ও অবদান

তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আন্দোলনে তিনি নেতৃত্বের ভূমিকায় ছিলেন। ২০০৬ সালের ২৬ আগস্ট দিনাজপুরের ফুলবাড়ী কয়লাখনিবিরোধী আন্দোলনে সরাসরি নেতৃত্ব দেন। পরে ঢাকা-সুনেত্র ও ঢাকা-রামপাল লংমার্চ এবং সুন্দরবন অভিমুখী জনযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ছাত্রজীবন থেকেই বস্তিবাসীর পুনর্বাসন ও শ্রমিকের ন্যায্য মজুরির দাবিতে আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন তিনি।

সূত্র: plandiv.gov.bd, উইকিপিডিয়া (বাংলা), উইকিপিডিয়া (ইংরেজি), prothomalo.com ১, prothomalo.com ২, en.prothomalo.com, bangla.bdnews24.com, bangla.thedailystar.net, newagebd.net, bssnews.net। ভুল দেখলে জানান।

জন্ম৯ ডিসেম্বর ১৯৭৩, ৫২ বছর
জন্মস্থানচরলহনিয়া, বাঞ্ছারামপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
লিঙ্গপুরুষ
শিক্ষাঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (পরিসংখ্যান বিভাগ)
পিতামোঃ ফজলুর রহমান
মাতামাসুদা খানম
বর্তমান মেয়াদ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০৩১
সংসদ সদস্য নির্বাচিতমোট ১ বার

বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম

২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। ৪ মার্চের দায়িত্ব পুনর্বণ্টনে তাঁকে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রাখা হয়; ২১ আগস্টের মন্ত্রিসভা রদবদলের পরও তিনি এই পদে বহাল আছেন।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) প্রণয়ন, জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) উপস্থাপনের জন্য উন্নয়ন প্রকল্প প্রক্রিয়াকরণ এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের তদারকির দায়িত্বে। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে সাকি এসব কাজের নেতৃত্বে আছেন।

২২ ফেব্রুয়ারি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের তিনি জানান, উন্নয়নের গতি বজায় রেখেই চলমান প্রকল্পগুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হবে। ১৪ জুলাই নিউইয়র্কে জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক ফোরামে বাংলাদেশের বক্তব্যে তিনি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বছরে ১৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি অর্থায়ন ঘাটতির কথা তুলে ধরে অনুদান, সহজ শর্তের ঋণ ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের আহ্বান জানান। ১৪ সেপ্টেম্বর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ উদ্ভাবন মেলায় তিনি উন্নয়ন প্রকল্পে দ্বৈততা এড়াতে মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন।

সূত্র: plandiv.gov.bd, tbsnews.net, bssnews.net ১, bssnews.net ২। ভুল দেখলে জানান।

নির্বাচনী এলাকা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬

সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।

নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ চট্টগ্রাম বিভাগের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার একটি সংসদীয় আসন, জাতীয় সংসদের ২৪৮ নম্বর আসন। নির্বাচন কমিশনের ২০২৫ সালের সীমানা নির্ধারণ অনুযায়ী আসনটি গঠিত পুরো বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নিয়ে। ২০২৬ সালের নির্বাচনে এখানে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ২,৮৯,৬৭৪ জন।

বাঞ্ছারামপুর জেলার পশ্চিম প্রান্তে মেঘনা ও তিতাস নদীর তীরে অবস্থিত। এর উত্তরে নরসিংদী সদর, দক্ষিণে কুমিল্লার হোমনা, পূর্বে নবীনগর ও কুমিল্লার মুরাদনগর এবং পশ্চিমে মেঘনার ওপারে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার। আয়তন প্রায় ১৮৭.৩০ বর্গকিলোমিটার; একটি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়ন নিয়ে উপজেলাটি গঠিত। ২০২২ সালের জনশুমারিতে জনসংখ্যা ৩,৩৫,১১৮।

অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর; ধান, পাট, গম, সরিষা, তিল ও সবজি প্রধান ফসল, পাশাপাশি লুঙ্গি, গামছা, শাড়ি ও সুতি কাপড় এখানকার উল্লেখযোগ্য পণ্য। চন্দন ও বামনধর বিল পরিচিত জলাভূমি। বাঞ্ছারামপুর সরকারি কলেজ (১৯৭৩), রূপসদী বৃন্দাবন উচ্চ বিদ্যালয় (১৯১৫) ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। রূপসদী ও উজানচর জমিদারবাড়ি, শাহ রাহাত আলী ও কান্দু শাহের মাজার, উজানচরের বৈশাখী মেলা এবং রূপসদী মেলা এলাকার পরিচিত ঐতিহ্য।

আসনটি ১৯৮৪ সালে গঠিত হয়। ২০০৮ সালে এর সীমানা নতুন করে নির্ধারিত হয় এবং ২০১৮ সালে নবীনগর উপজেলার বড়িকান্দি ও সলিমগঞ্জ ইউনিয়ন এ আসন থেকে বাদ পড়ে। ১৯৯১ ও ২০০১ সালে আসনটি বিএনপির দখলে ছিল; ১৯৯৬ (জুন), ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের এ বি তাজুল ইসলাম (A. B. Tajul Islam) এখানে জয়ী হন। ২০২৬ সালে প্রথমবার গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী জোনায়েদ সাকি আসনটিতে জয় পান।

সূত্র: উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (বাংলা) ১, en.banglapedia.org, উইকিপিডিয়া (বাংলা) ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, dpp.gov.bd, prothomalo.com। ভুল দেখলে জানান।

সংসদে মেয়াদ

ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬বর্তমান মেয়াদPSM

সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ১ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।

২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট

আসনের সব ফল →
ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬প্রার্থীদের মোট ১,৪৯,৫৩৬ ভোট
  1. মোঃ জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিGSAবিজয়ী৯৫,৩৪২৬৩.৮%
  2. Md. MohsinBJEI৩৯,৯৭৬২৬.৭%
  3. Sayeed Uddin KhanIAB৮,৫৭২৫.৭%
  4. Md. Abu NaserBIF২,৩৫৩১.৬%
  5. Dr. Md. Sayeduzzaman KamalInd১,৯২৬১.৩%
  6. Mohammad Abu Kayes ShikdarInd৬৬৬০.৪%
  7. Shafiqul IslamGOP২৮৯০.২%
  8. K.M. JabirJSD১৬৭০.১%
  9. Md. Habibur RahamanIBB১৩৯০.১%
  10. Md. Shafiqul IslamNPP১০৬০.১%
উৎস: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড। নির্বাচন কমিশনের গেজেটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি। উইকিপিডিয়াতেও বিজয়ীর ভোট একই।মূল পাতা

সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন

এই সদস্য সম্পর্কে সংসদ সচিবালয়ের কোনো প্রজ্ঞাপন নেই।সংসদ সচিবালয় কোনো সদস্যের নামে প্রজ্ঞাপন বা সরকারি আদেশ প্রকাশ করলে তা প্রতিদিন এখানে যুক্ত হয়।

আসন: ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬

আসনের পাতা →
এলাকা

বাঞ্ছারামপুর উপজেলা

সংসদীয় কমিটি(২)

সংবাদ ও ভিডিও

সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…

সম্পাদকের যাচাই করা ২টি খবর

কোথা থেকে তথ্য আসে

সদস্য, আসন, কমিটি ও অধিবেশন আসে জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইট থেকে; ভোটার সংখ্যা নির্বাচন কমিশন ও মন্ত্রিসভা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে। ভোটের ফল ও জীবনীর সূত্র আলাদা করে প্রতিটি পাতায় লেখা।

সব সূত্র দেখুন →

কত দিন পরপর হালনাগাদ

প্রতি রাতে পুরো সাইট সংসদের তথ্যভান্ডার থেকে নতুন করে তৈরি হয়। নতুন প্রজ্ঞাপন, বৈঠকের কার্যসূচি বা কমিটির পরিবর্তন পরদিনের মধ্যে যুক্ত হয়; সংবাদ শিরোনাম দিনে কয়েকবার।

পদ্ধতি →

ভুল পেলে

প্রতিটি সদস্যের পাতায় “সংশোধন জানান” বোতাম আছে। সূত্রসহ জানালে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাচাই করে ঠিক করা হয়; সদস্যের দপ্তর নিজের পাতাও হালনাগাদ করাতে পারেন।

যোগাযোগ →