
রুমিন ফারহানা
Rumeen Farhana
সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা
পরিচিতি
রুমিন ফারহানা ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি, নির্বাচনী ফলাফল, আগের মেয়াদ, সংসদীয় কমিটি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।
রুমিন ফারহানা (Rumeen Farhana) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের আংশিক) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য। পেশায় ব্যারিস্টার এই রাজনীতিবিদ এর আগে একাদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সংসদ সদস্য ছিলেন। এবার তিনি দ্বিতীয়বারের মতো সংসদে এসেছেন, প্রথমবার সরাসরি ভোটে।
দীর্ঘদিন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা থাকলেও ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর দল তাঁকে বহিষ্কার করে। সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর সংবাদ প্রতিবেদনগুলোতেও তিনি স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হিসেবেই পরিচিত।
শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা
রুমিন ফারহানা ১৯৮১ সালের ১৯ আগস্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার ইসলামপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা অলি আহাদ (Oli Ahad) ছিলেন ভাষা আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ও রাজনীতিবিদ; ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের সংগঠিত করায় তাঁর ভূমিকা ছিল; ২০০৪ সালে তিনি স্বাধীনতা পুরস্কার পান এবং ২০১২ সালে মারা যান। মাতা রাশিদা বেগম। রুমিন হলি ক্রস উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। এরপর লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় (University of London) থেকে আইনে স্নাতক এবং যুক্তরাজ্যের লিংকনস ইন (Lincoln's Inn) থেকে বার-অ্যাট-ল সম্পন্ন করেন।
রাজনৈতিক জীবন
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার (Khaleda Zia) সান্নিধ্যে তিনি বিএনপির রাজনীতিতে আসেন এবং দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। সংসদে পাঁচটি আসন পাওয়ায় বিএনপি একটি সংরক্ষিত নারী আসনের ভাগ পায়, আর দল তাঁকেই একক প্রার্থী করে। ২০১৯ সালের ২৮ মে তিনি সেই আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন এবং ৯ জুন শপথ নেন; একাদশ সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে তিনিই ছিলেন বিএনপির একমাত্র সদস্য। ২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর ঢাকার গোলাপবাগের সমাবেশে বিএনপির সংসদ সদস্যদের পদত্যাগের ঘোষণার পর ১১ ডিসেম্বর তিনি সংসদ থেকে পদত্যাগ করেন।
২০১৭ সাল থেকে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ এলাকায় রাজনৈতিক কাজ করে আসছেন। তাঁর ভাষ্যে, ২০১৮ সালের নির্বাচনে দলের এক জ্যেষ্ঠ নেতার জন্য তাঁকে সরে দাঁড়াতে বলা হয়েছিল। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি আসনটি জোটসঙ্গী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশকে ছেড়ে দিলে ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগে বিএনপি তাঁকে বহিষ্কার করে; দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী (Ruhul Kabir Rizvi) বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানান।
২০২৬ নির্বাচন
১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর নির্বাচনে হাঁস প্রতীক নিয়ে তিনি ১,১৮,৫৪৭ ভোট পান। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, বিএনপি-নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব (Junayed Al Habib) পান ৮০,৪৩৪ ভোট; ব্যবধান ৩৮,১১৩ ভোট। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আশরাফ উদ্দিন ২০,৪০১ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন। পরদিন সরাইলের শাহবাজপুরে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, দলমত নির্বিশেষে অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তিনি কথা বলবেন এবং আসনের প্রায় পাঁচ লাখ ভোটারের কাছেই তাঁর দায়বদ্ধতা।
উল্লেখযোগ্য কাজ ও অবদান
আইনজীবী হিসেবে তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আইন পেশায় যুক্ত এবং ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য। লেখালেখিতেও তিনি সক্রিয়; তাঁর প্রকাশিত বইয়ের মধ্যে রয়েছে 'আমাদের রোজনামচা' (২০১৮) ও 'যতটুকু বলতে পেরেছি' (২০২২)।
সূত্র: উইকিপিডিয়া (বাংলা), উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, en.prothomalo.com ১, dhakatribune.com, en.prothomalo.com ২, thedailystar.net ১, thedailystar.net ২, thedailystar.net ৩, thedailystar.net ৪, globalvoices.org, tbsnews.net, thedailystar.net ৫। ভুল দেখলে জানান।
বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ শপথ নিয়ে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সংসদ সদস্য হিসেবে তাঁর কাজ আইন প্রণয়নে অংশ নেওয়া, সরকারের কাজের জবাবদিহি চাওয়া এবং সংসদে নিজ এলাকার মানুষের কথা তুলে ধরা। কোনো দলের সদস্য না হয়েও তিনি সংসদের আলোচনায় নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন। ৭ এপ্রিল ২০২৬ রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে দলীয় পরিচয়ের ব্যক্তিদের নিয়োগের সমালোচনা করেন। ১৯ এপ্রিল জ্বালানি সংকট নিয়ে আলোচনায় তিনি মন্ত্রীদের কাছে অকটেন ও ডিজেলের মজুত কত দিনের, তা জানতে চান। ৮ জুন সরকারের প্রথম ১০০ দিনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) তথ্য তুলে ধরেন। ৯ সেপ্টেম্বর ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) বিলের আলোচনায় গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সারের সংকট এবং ঋণখেলাপি প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্যে সরকারি দলের সদস্যরা আপত্তি জানান।
সূত্র: thedailystar.net ১, thedailystar.net ২, thedailystar.net ৩, en.prothomalo.com। ভুল দেখলে জানান।
নির্বাচনী এলাকা
সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।
নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ জাতীয় সংসদের ২৪৪ নম্বর আসন, চট্টগ্রাম বিভাগের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়। নির্বাচন কমিশনের ২০২৫ সালের সীমানা নির্ধারণ অনুযায়ী আসনটি গঠিত সরাইল উপজেলা, আশুগঞ্জ উপজেলা এবং বিজয়নগর উপজেলার বুধন্তি ও চান্দুরা ইউনিয়ন নিয়ে। এই দুই ইউনিয়ন আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে ছিল; ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত চূড়ান্ত গেজেটে এগুলো এই আসনে যুক্ত হয়। ২০২৬ সালের নির্বাচনে আসনটিতে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ৪,৯৯,৪৪৮ জন।
সরাইল উপজেলার উত্তরে নাসিরনগর ও দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর; মেঘনা, তিতাস ও বগাদিয়া এর প্রধান নদী। ২০২২ সালের জনশুমারিতে এর জনসংখ্যা ৩,৬৪,৩৬৯, ইউনিয়ন নয়টি। কৃষিই প্রধান জীবিকা; ধান, পাট, গম ও সরিষা প্রধান ফসল। আরিফাইলের সাগরদিঘি মসজিদ, সরাইলের হাটখোলা জামে মসজিদ ও বাড়িউড়ার হাতিরপুলের মতো মোগল আমলের স্থাপনা এখানকার ঐতিহ্য।
মেঘনা নদীর তীরের আশুগঞ্জ উপজেলার আয়তন ৬৭.৫৯ বর্গকিলোমিটার; ২০২২ সালের জনশুমারিতে জনসংখ্যা ২,১০,৩৫৬। এটি দেশের পরিচিত নদীবন্দর ও শিল্পকেন্দ্র; এখানে আশুগঞ্জ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও জিয়া সার কারখানা রয়েছে, আর আছে বহু চালকল। মুক্তিযুদ্ধে আশুগঞ্জ সাইলো ও লালপুর বাজার এলাকায় গণহত্যা হয়েছিল। বিজয়নগরের চান্দুরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে অবস্থিত।
১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের জুনের নির্বাচনে আসনটিতে বিএনপির আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া (Abdul Sattar Bhuiyan) জয়ী হন; ২০০১ সালে ইসলামী ঐক্যজোটের ফজলুল হক আমিনী (Fazlul Haque Amini), ২০০৮ ও ২০১৪ সালে জাতীয় পার্টির জিয়াউল হক মৃধা (Ziaul Haque Mridha) এবং ২০১৮ সালে আবার আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া নির্বাচিত হন। ২০২৪ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী মঈন উদ্দিন (Moin Uddin) এবং ২০২৬ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা জয়ী হন। আসনের সীমানা একাধিকবার বদলেছে, তাই আগের ফলাফলগুলো ভিন্ন সীমানায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনের।
সূত্র: bangla.thedailystar.net, deshrupantor.com, tbsnews.net, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, en.banglapedia.org ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩, en.banglapedia.org ২। ভুল দেখলে জানান।
সংসদে মেয়াদ
সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ২ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।
২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট
আসনের সব ফল →- রুমিন ফারহানাIndবিজয়ী১,১৮,৫৪৭৪৯.৮%
- Mohammad Junayed Al HabibJUIB৮০,৪৩৪৩৩.৮%
- Ashraf Uddin
NCP২০,৪০১৮.৬%
- S.N Tarun DeyInd১২,৫৬০৫.৩%
- Nesar Ahmed
IAB৩,৮৫১১.৬% - Md. Main UddinIBB১,৪১৯০.৬%
- Taimur Reza Md. ShahjadJSD৩৮৪০.২%
- Ad. Md. Ziaul Haque MridhaJP(ERSHAD)১৯৯০.১%
- Sharifa AkterAmjanatar Dol১৮১০.১%
সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন(১)
আসন: ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২
আসনের পাতা →(ক) সরাইল উপজেলা, (খ) আশুগঞ্জ উপজেলা এবং (গ) বিজয়নগর উপজেলার নিম্নলিখিত ইউনিয়নসমূহ: (১) বুধন্তি ইউনিয়ন ও (২) চান্দুরা ইউনিয়ন
সংসদীয় কমিটি(১)
সংবাদ ও ভিডিও
সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…
সম্পাদকের যাচাই করা ১০টি খবর