মূল বিষয়ে যান
English
সর্বশেষ
জাকারিয়া তাহের

জাকারিয়া তাহের

Zakaria Taher

বর্তমান সদস্য, ত্রয়োদশ সংসদমন্ত্রী, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়মোট ২ বার নির্বাচিত

সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা

পরিচিতি

জাকারিয়া তাহের কুমিল্লা-৮ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সংসদ সদস্য এবং বর্তমানে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি, আগের মেয়াদ, সংসদীয় কমিটি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।

জাকারিয়া তাহের (Zakaria Taher), যিনি সুমন নামেও পরিচিত, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতা, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসনের সংসদ সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের (Tarique Rahman) মন্ত্রিসভায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী। পেশায় ব্যবসায়ী এই রাজনীতিক দুইবারের সংসদ সদস্য।

বরুড়ার একটি পরিচিত রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান তিনি; প্রথমবার নির্বাচিত হওয়ার দুই দশকের বেশি সময় পর ২০২৬ সালে আবার সংসদে ফেরেন।

শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা

১৯৬৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার আদ্রা ইউনিয়নের সোনাইমুড়ী গ্রামে তাঁর জন্ম। বাবা এ কে এম আবু তাহের (A K M Abu Taher) ছিলেন শিল্পপতি ও বিএনপির সংসদ সদস্য; ১৯৯১ ও ২০০১ সালে তিনি তৎকালীন কুমিল্লা-৭ (বরুড়া) আসন থেকে নির্বাচিত হন। সম্পূর্ণ বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের মালিকানায় গড়া প্রথম বেসরকারি ব্যাংক ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের (National Bank Limited) অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ছিলেন আবু তাহের। মা সুফিয়া খানম।

জাকারিয়া তাহের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিজনেস ম্যানেজমেন্টে ব্যাচেলর অব সায়েন্স ডিগ্রি অর্জন করেন। পেশাগত জীবনে তিনি ব্যবসায়ী; দ্য ডেইলি স্টার (The Daily Star) তাঁর পটভূমি হিসেবে প্রকৌশল ও নির্মাণ ব্যবসার কথা উল্লেখ করেছে।

রাজনৈতিক জীবন

২০০৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর বাবার মৃত্যুতে কুমিল্লা-৭ আসন শূন্য হলে সে বছরের ১৮ ডিসেম্বর উপনির্বাচন হয়। বিএনপির প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়ে তিনি প্রথমবার সংসদ সদস্য হন এবং ২০০৬ সালের অক্টোবরে অষ্টম জাতীয় সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৮ সালের সীমানা পুনর্নির্ধারণের পর তিনি নতুন কুমিল্লা-৮ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ১,২১,৮৮৭ ভোট পান, তবে আওয়ামী লীগের নাসিমুল আলম চৌধুরীর (Nasimul Alam Chowdhury) কাছে পরাজিত হন। ২০১৮ সালের নির্বাচনেও তিনি এই আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। দলীয় সাংগঠনিক দায়িত্বে তিনি কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির কর্মসংস্থানবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন।

২০২৬ নির্বাচন

২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৮ আসনে সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ধানের শীষ প্রতীকে জাকারিয়া তাহের পান ১,৬৯,১৭৮ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মোঃ শফিকুল আলম হেলাল (Md. Shafiqul Alam Helal) দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পান ৪৫,০৯১ ভোট। ১,২৪,০৮৭ ভোটের এই ব্যবধান ছিল কুমিল্লা জেলায় সর্বোচ্চ। আসনটির ৩,৮০,৮৩৩ জন নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে ৫৯.৫৬ শতাংশ ভোট দেন।

উল্লেখযোগ্য কাজ ও অবদান

ঢাকার গুলশানে যে ভবনটি ২০০৮ সাল থেকে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে, সেটি তাঁর পরিবারের মালিকানাধীন। দলের রাজনৈতিকভাবে কঠিন সময়ে ভবনটি দলকে ব্যবহার করতে দেওয়া হয় এবং পরের বছরগুলোতে এটি দলের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্র হয়ে ওঠে; বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া (Khaleda Zia) দীর্ঘ সময় এখানে কাজ করেছেন।

সূত্র: উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (বাংলা), prothomalo.com, dhakatimes24.com, bangla.bdnews24.com, deshrupantor.com, epfs.thedailystar.net, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৪, archive.thedailystar.net, tbsnews.net। ভুল দেখলে জানান।

জন্ম১৫ ডিসেম্বর ১৯৬৫, ৬০ বছর
জন্মস্থানবরুড়া, কুমিল্লা
লিঙ্গপুরুষ
পেশাব্যবসায়ী
পিতাএ কে এম আবু তাহের
মাতাসুফিয়া খানম
বর্তমান মেয়াদ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০৩১
সংসদ সদস্য নির্বাচিতমোট ২ বার

বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম

২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনের কাছে শপথ নিয়ে তিনি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। একই দিন থেকে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় দেশের আবাসন নীতি, নগর উন্নয়ন এবং সরকারি ভবনের নকশা, নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে; গণপূর্ত অধিদপ্তর, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ এবং রাজউকসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এই মন্ত্রণালয়ের অধীন। ২১ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লা সার্কিট হাউসে দপ্তরপ্রধানদের সভায় তিনি বলেন, আইনের বাইরে গিয়ে কেউ স্থাপনা নির্মাণ করতে পারবে না এবং অপচয় ও দুর্নীতি রোধে বিশেষ নজর দেওয়া হবে। ৩ জুন রমনা পার্ক আকস্মিক পরিদর্শন করে তিনি পরিচ্ছন্নতা বাড়ানো, লেক উন্নয়ন ও সড়কবাতি স্থাপনের নির্দেশ দেন। ২৮ জুন সংসদে তিনি জানান, রাজউকের ড্যাপ (২০২২-২০৩৫) অনুযায়ী কড়াইল বস্তিসহ ৫৮টি এলাকায় নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে প্রায় এক লাখ সাশ্রয়ী ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ৮ আগস্ট তিনি জানান, আগামী দুই-তিন বছরের মধ্যে বরুড়ায় কোনো কাঁচা রাস্তা না রাখার লক্ষ্যে কাজ চলছে।

সূত্র: উইকিপিডিয়া (ইংরেজি), ittefaq.com.bd, deshrupantor.com, prothomalo.com, bssnews.net। ভুল দেখলে জানান।

নির্বাচনী এলাকা

কুমিল্লা-৮

সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।

নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি

কুমিল্লা-৮ জাতীয় সংসদের ২৫৬ নম্বর আসন। নির্বাচন কমিশনের ২০২৫ সালের সীমানা নির্ধারণ অনুযায়ী আসনটি চট্টগ্রাম বিভাগের কুমিল্লা জেলার বরুড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত। উপজেলাটি একটি পৌরসভা (বরুড়া, ৯টি ওয়ার্ড) ও ইউনিয়নসমূহ নিয়ে গঠিত। ২০২৬ সালের নির্বাচনে এখানে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ৩,৮০,৮৩৩ জন।

প্রায় ২৪২ বর্গকিলোমিটার আয়তনের বরুড়া কুমিল্লা শহর থেকে প্রায় ২৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে। এর উত্তরে কুমিল্লা আদর্শ সদর ও চান্দিনা, দক্ষিণে লাকসাম ও চাঁদপুরের শাহরাস্তি, পূর্বে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ ও লালমাই এবং পশ্চিমে চাঁদপুরের কচুয়া; পূর্ব কোণে লালমাই পাহাড়ের একাংশ পড়েছে। ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী উপজেলার জনসংখ্যা ৪,৫৬,৩৪১। ১৯৪৮ সালে থানা, ১৯৮৩ সালে উপজেলা এবং ১৯৯৫ সালে পৌরসভা গঠিত হয়।

কৃষি এখানকার প্রধান জীবিকা; ধান, আলু, গম, সরিষা, পান ও সবজি প্রধান ফসল, আর পান, ধান ও সবজি বাইরে পাঠানো হয়। বরুড়া, রামমোহন, ঝলম, খোশবাস ও পয়ালগাছা এলাকার পরিচিত হাট। পাঁচথুবী আহমদিয়া ফাজিল মাদ্রাসা (১৮৬০), গালিমপুর টিসি উচ্চ বিদ্যালয় (১৯১৪) ও বরুড়া শহীদ স্মৃতি সরকারি কলেজ (১৯৭২) উল্লেখযোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। লালমাই পাহাড়চূড়ার চণ্ডীমাতা মন্দির এবং আদিনামুড়ার মসজিদ ও মাজার এখানকার ঐতিহ্যের অংশ; ১৯৭১ সালের ১০ সেপ্টেম্বর পয়ালগাছা বটতলীতে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে লড়াইয়ে পাঁচজন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন।

২০০৮ সালের আগে বরুড়া তৎকালীন কুমিল্লা-৭ আসনের অন্তর্ভুক্ত ছিল; সেখানে ১৯৯১ ও ২০০১ সালে বিএনপির এ কে এম আবু তাহের এবং ২০০৪ সালের উপনির্বাচনে তাঁর ছেলে জাকারিয়া তাহের জয়ী হন। ২০০৮ সালের সীমানায় কুমিল্লা-৮ আসনে বরুড়ার সঙ্গে কুমিল্লা সদর দক্ষিণের কিছু এলাকা ছিল, ২০১৪ সালের আগে সীমানা আবার বদলায়। এই আসনে ২০০৮, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ এবং ২০১৪ সালে জাতীয় পার্টি জয়ী হয়; ২০২৬ সালে আসনটি পায় বিএনপি।

সূত্র: উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, tbsnews.net, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, উইকিপিডিয়া (বাংলা), en.banglapedia.org, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৪, archive.thedailystar.net, prothomalo.com। ভুল দেখলে জানান।

সংসদে মেয়াদ

ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬কুমিল্লা-৮বর্তমান মেয়াদBNP
অষ্টম সংসদ, ২০০১কুমিল্লা-৭COMILLA-7BNP

সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ২ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।

২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট

আসনের সব ফল →
ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬প্রার্থীদের মোট ২,২০,৩৬৯ ভোট
  1. জাকারিয়া তাহেরBNPবিজয়ী১,৬৯,১৭৮৭৬.৮%
  2. Md. Shafiqul Alam HelalBJEI৪৫,০৯১২০.৫%
  3. Mohammad Golam MorshedBSP৩,২২৪১.৫%
  4. Md Golam SadekIAB২,২৭৬১.০%
  5. Abdul KaderIOJ২৭৯০.১%
  6. Md. Mofiz Uddin AhmedBRP১৬১০.১%
  7. Md. Ali AshrafBasad১৬০০.১%
উৎস: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড। নির্বাচন কমিশনের গেজেটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি।মূল পাতা

সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন

এই সদস্য সম্পর্কে সংসদ সচিবালয়ের কোনো প্রজ্ঞাপন নেই।সংসদ সচিবালয় কোনো সদস্যের নামে প্রজ্ঞাপন বা সরকারি আদেশ প্রকাশ করলে তা প্রতিদিন এখানে যুক্ত হয়।

আসন: কুমিল্লা-৮

আসনের পাতা →
এলাকা

বরুড়া উপজেলা

সংসদীয় কমিটি(১)

সংবাদ ও ভিডিও

সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…

কোথা থেকে তথ্য আসে

সদস্য, আসন, কমিটি ও অধিবেশন আসে জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইট থেকে; ভোটার সংখ্যা নির্বাচন কমিশন ও মন্ত্রিসভা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে। ভোটের ফল ও জীবনীর সূত্র আলাদা করে প্রতিটি পাতায় লেখা।

সব সূত্র দেখুন →

কত দিন পরপর হালনাগাদ

প্রতি রাতে পুরো সাইট সংসদের তথ্যভান্ডার থেকে নতুন করে তৈরি হয়। নতুন প্রজ্ঞাপন, বৈঠকের কার্যসূচি বা কমিটির পরিবর্তন পরদিনের মধ্যে যুক্ত হয়; সংবাদ শিরোনাম দিনে কয়েকবার।

পদ্ধতি →

ভুল পেলে

প্রতিটি সদস্যের পাতায় “সংশোধন জানান” বোতাম আছে। সূত্রসহ জানালে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাচাই করে ঠিক করা হয়; সদস্যের দপ্তর নিজের পাতাও হালনাগাদ করাতে পারেন।

যোগাযোগ →