খুলনা জেলা
Khulna · ৬টি সংসদীয় আসন · ৯টি উপজেলা। প্রতিটি আসনের বর্তমান সদস্য, সংসদের তথ্যভান্ডার অনুযায়ী।
খুলনা জেলা পরিচিতি
খুলনা জেলা হলো বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক এলাকা। অবস্থানগত কারণে এটি বাংলাদেশের একটি বিশেষ শ্রেণীভুক্ত জেলা। খুলনা জেলা আয়তনের দিক থেকে বাংলাদেশের চতুর্থ বৃহত্তম জেলা। এটির জেলা শহর হলো খুলনা বিভাগের সদর দপ্তর। খুলনা জেলার দক্ষিণে অবস্থিত রয়েছে বঙ্গোপসাগর এবং এর নয়নাভিরাম সমুদ্রসৈকত। পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন খুলনা জেলার দক্ষিনের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে অবস্থিত। খুলনা জেলায় রয়েছে দুইটি পৌরসভা এবং একটি সিটি কর্পোরেশন। খুলনা জেলায় উপজেলার সংখ্যা হলো মোট ৯টি।
ইতিহাস
প্রায় ৬০০ বছর আগে ইসলাম ধর্ম প্রচারক উলুঘ খানজাহান আলি এই জেলায় এসেছিলেন ধর্ম প্রচারের জন্য। তিনি প্রথমে সুন্দরবন এলাকা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অত্র অঞ্চলে তার বসতি স্থাপন করেন এবং বাগেরহাটের আশেপাশের এলাকায় তার শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। এভাবেই জনবসতি বাড়তে থাকে বৃহত্তর খুলনাঞ্চলে। পরবর্তীতে ১৯৪৭ এ বঙ্গভঙ্গ এর সময় ভারত এর কবল থেকে পূর্ব পাকিস্তানে খুলনা অঞ্চলের অন্তর্ভুক্তিকরণ এবং খুলনা বিভাগের প্রতিষ্ঠার পিছনে প্রধান ভূমিকা ছিল মরহুম খান এ সবুর এর। শুরুতে ১৮৪২ সালে খুলনা এলাকাটি যশোর জেলার মহকুমা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল।
অবস্থান ও আয়তন
খুলনা জেলার উত্তরে যশোর জেলা ও নড়াইল জেলা, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, পূর্বে বাগেরহাট জেলা, পশ্চিমে সাতক্ষীরা জেলা।
অর্থনীতি
বাংলাদেশের অন্যতম শিল্প ও বাণিজ্যিক এলাকা হওয়ায় খুলনা শহরকে শিল্প নগরী হিসেবে ডাকা হয়। খুলনা নগরীর হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানি শিল্পের কারণে খুলনা এই নামটি দ্বারা পরিচিত হয়েছে। এখন কৃষির দিক বাদ দিয়ে মানুষের শিল্পের দিকে ঝোক বেশি, তারপরও খুলনার গ্রামাঞ্চলে এখনো নোনা পানি, মিষ্টি পানির বিভিন্ন জাতের চিংড়ি, সাদা মাছ চাষ হচ্ছে। এই কারণে খুলনার গ্রামাঞ্চলে অনেক ঘের দেখতে পাওয়া যায়।
সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য
জারি, সারি, কীর্তন, গাজীর গান, হালুই গান, মনসার ভাসান, ভাটি পূজার গান উল্লেখযোগ্য। কাবাডি, গোল্লললাছুট, হাডুডু, ঘোড়দৌড়, কানামাছি, লাঠিখেলা, কুস্তি, ডাংগুটি, নৌকাবাইচ, বাঘবন্দি, জোড়-বিজোড় প্রভৃতি খেলা এ অঞ্চলে এখনও প্রচলিত। বিভিন্ন নাট্যগোষ্ঠীর নাট্যচর্চাও এখানে পরিলক্ষিত হয়।
নদ-নদী
খুলনা জেলায় রয়েছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নদী। এখানকার নদীগুলো হচ্ছে রূপসা নদী, ভৈরব নদ, আতাই নদী, শিবসা নদী, পশুর নদী, কপোতাক্ষ নদ, নবগঙ্গা নদী, চিত্রা নদী, পশুর নদী, আঠারোবাঁকি নদী, ভদ্রা নদী, বুড়িভদ্রা নদী, শৈলমারী নদী, কাজিবাছা নদী, ডাকাতিয়া নদী, শাকবাড়িয়া নদী, কাঁকরী নদী, ঝপঝপিয়া নদী, তেলিগঙ্গা-ঘেংরাইল নদী, অর্পণগাছিয়া নদী, কুঙ্গা নদী, মারজাত নদী, মানকি নদী, বল নদী, নলুয়া নদী, ঘনরাজ নদী।
তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া, খুলনা জেলা · CC BY-SA 4.0
জেলার মানচিত্র
সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর। ৬টি আসন; এলাকায় চাপ দিলে সেই আসনের পাতা।
আসন ও সংসদ সদস্য
খুলনা জেলা খুলনা বিভাগের একটি জেলা, জাতীয় সংসদে যার ৬টি আসন: খুলনা-১ (বটিয়াঘাটা ও দাকোপ উপজেলা), খুলনা-২ (খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড ১৬ থেকে ৩১ পর্যন্ত), খুলনা-৩, খুলনা-৪, খুলনা-৫ (ফুলতলা,ডুমুরিয়া উপজেলা ও গিলাতলা ক্যান্টনমেন্ট এলাকা) ও খুলনা-৬ (কয়রা ও পাইকগাছা উপজেলা)। ত্রয়োদশ সংসদে আসনগুলোর মধ্যে বিএনপির ৪টি ও জামায়াতে ইসলামীর ২টি। দ্বাদশ সংসদে (২০২৪) সবগুলো আসনই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ছিল।
- খুলনা-১ , আসন ৯৯বটিয়াঘাটা ও দাকোপ উপজেলা
আমীর এজাজ খানখুলনা-১, BNP - খুলনা-২ , আসন ১০০খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড ১৬ থেকে ৩১ পর্যন্ত
শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলালখুলনা-২, BJEI - খুলনা-৩ , আসন ১০১খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড ১ থেকে ১৫ ও দিঘলিয়া উপজেলার আঢ়ংঘাটা ও যোগীপোল ইউনিয়ন
রকিবুল ইসলামখুলনা-৩, BNP - খুলনা-৪ , আসন ১০২আঢ়ংঘাটা ও যোগীপোল ইউনিয়ন ব্যতীত দিঘলিয়া, রূপসা ও তেরখাদা উপজেলা
এস কে আজিজুল বারীখুলনা-৪, BNP - খুলনা-৫ , আসন ১০৩ফুলতলা,ডুমুরিয়া উপজেলা ও গিলাতলা ক্যান্টনমেন্ট এলাকা
মোহাম্মদ আলি আসগারখুলনা-৫, BNP - খুলনা-৬ , আসন ১০৪কয়রা ও পাইকগাছা উপজেলা
মোঃ আবুল কালাম আজাদখুলনা-৬, BJEI
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ | হালনাগাদ ২৪ অক্টোবর ২০২৬