মূল বিষয়ে যান
English
সর্বশেষ
এস কে আজিজুল বারী

এস কে আজিজুল বারী

SK Azizul Baree

বর্তমান সদস্য, ত্রয়োদশ সংসদ

সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা

পরিচিতি

এস কে আজিজুল বারী খুলনা-৪ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের তথ্যবিষয়ক সম্পাদক। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি, নির্বাচনী ফলাফল, আগের মেয়াদ, সংসদীয় কমিটি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।

এস কে আজিজুল বারী (SK Azizul Baree) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য। রাজনীতিতে তিনি আজিজুল বারী হেলাল নামে বেশি পরিচিত। রূপসা ও তেরখাদা উপজেলা এবং দিঘলিয়ার বেশির ভাগ নিয়ে গঠিত এই আসন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনয়নে তিনি প্রথমবারের মতো সংসদে এসেছেন।

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি হেলাল বর্তমানে বিএনপির কেন্দ্রীয় তথ্যবিষয়ক সম্পাদক। ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা এই নেতা দুই দশকের বেশি সময় দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সক্রিয়।

শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা

তিনি ১৯৬৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা শেখ মোকাম বারী এবং মাতা সাহারা খাতুন। সংসদের তথ্য অনুযায়ী তাঁর স্থায়ী ঠিকানা খুলনার রূপসা উপজেলায়। নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা বিএসসি (সম্মান)।

রাজনৈতিক জীবন

হেলালের রাজনৈতিক পথচলা শুরু বিএনপির ছাত্রসংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে। ২০০২ সালের ডিসেম্বরের শেষে গঠিত ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে তিনি সাধারণ সম্পাদক হন। ২০০৫ সালের ১ জানুয়ারি ঘোষিত আংশিক কমিটিতে তাঁকে কেন্দ্রীয় সভাপতি করা হয়; ২০০৯ সালের জুলাইয়ে নতুন কমিটি ঘোষণার আগ পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্বে ছিলেন।

২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে তিনি প্রথমবার সংসদ নির্বাচনে লড়েন ঢাকা-১৮ আসনে, তবে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনে নিজ এলাকা খুলনা-৪ আসনে তিনি বিএনপির প্রার্থী ছিলেন; সেবার আওয়ামী লীগের আবদুস সালাম মুর্শেদী জয়ী হন। দল বিরোধী অবস্থানে থাকার বছরগুলোতে তিনি সরকারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন এবং একাধিকবার গ্রেপ্তার হন; ২০২৬ সালের নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে হওয়া ৭০টি মামলার ২৫টিতে তিনি খালাস পেয়েছেন এবং ২৮টি প্রত্যাহার হয়েছে; বাকিগুলো এখনো নিষ্পত্তি হয়নি।

২০২৬ নির্বাচন

নির্বাচনের আগে ২০২৬ সালের ২৪ জানুয়ারি রূপসা উপজেলায় তিনি ৭৪ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন। এতে খুলনা মহানগরীর সঙ্গে রূপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয়ার সরাসরি যোগাযোগের জন্য ভৈরব নদের ওপর দ্বিতীয় সেতু নির্মাণ, অসমাপ্ত নগরঘাট ও রেলিগেট সেতুর কাজ শেষ করা, আতাই ও ভৈরব নদের ভাঙন রোধে টেকসই বাঁধ এবং বন্ধ স্টার জুট মিল আবার চালুর প্রতিশ্রুতি ছিল।

২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে তিনি ১,২৩,১৬২ ভোট পান। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খেলাফত মজলিসের এস এম সাখাওয়াত হোসাইন (S M Sakhaowat Hossain) দেওয়াল ঘড়ি প্রতীকে পান ১,০৯,৫৩০ ভোট; জয়ের ব্যবধান ১৩,৬৩২ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ইউনুস আহম্মেদ সেখ পান ১৩,৩৪৫ ভোট। রিটার্নিং অফিসারের স্বাক্ষরিত ফলাফল বিবরণী অনুযায়ী আসনের ৩,৭৮,৪৫৩ জন ভোটারের মধ্যে ২,৫২,৫০৬ জন ভোট দেন, যা প্রায় ৬৬.৭ শতাংশ; বৈধ ভোট ছিল ২,৪৬,৮৯৬টি।

সূত্র: জাতীয় সংসদ, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি), উইকিপিডিয়া (বাংলা), thedailystar.net ১, archive.thedailystar.net, today.thefinancialexpress.com.bd, thedailystar.net ২, thedailystar.net ৩, en.prothomalo.com ১, en.prothomalo.com ২, deshrupantor.com ১, bssnews.net ১, bssnews.net ২, 103.183.38.66 ১, 103.183.38.66 ২, dhakatribune.com, tbsnews.net, bangla.bdnews24.com, deshrupantor.com ২। ভুল দেখলে জানান।

জন্ম২ সেপ্টেম্বর ১৯৬৭, ৫৯ বছর
লিঙ্গপুরুষ
শিক্ষাঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (মৃত্তিকা বিজ্ঞানে বিএসসি সম্মান, জাপানিজ স্টাডিজে প্রফেশনাল মাস্টার্স)
পেশারাজনীতিবিদ
পিতাশেখ মোকাম বারী
মাতাসাহারা খাতুন
বর্তমান মেয়াদ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০৩১
সংসদ সদস্য নির্বাচিতমোট ১ বার

বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম

২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য। ২০২৬ সালের ৮ জুলাই সংসদে গঠিত সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি এবং ১৩ জুলাই গঠিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির তিনি সদস্য।

সংসদ সদস্য হিসেবে আইন প্রণয়নে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি তিনি রূপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয়ার উন্নয়ন এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেন। সরকারি হিসাব কমিটির সদস্য হিসেবে তিনি সরকারি অর্থের ব্যয় ও নিরীক্ষা আপত্তি তদারকিতে এবং পররাষ্ট্র কমিটিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাজ পর্যালোচনায় যুক্ত। ২০২৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তেরখাদা উপজেলা পরিষদে কর্মকর্তাদের সঙ্গে সভায় তিনি জলাবদ্ধতা কমানো ও সেচ সুবিধা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ খালের তালিকা করে ধাপে ধাপে পুনঃখননের নির্দেশ দেন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। ২৬ ফেব্রুয়ারি রূপসা উপজেলার আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় তিনি চাঁদাবাজি, দখল ও মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে নির্দেশ দেন। ১৯ জুন রূপসার আমতলা হাটে এক অনুষ্ঠানে তিনি সরকারি অর্থের উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ওপর জোর দেন।

সূত্র: bangla.bdnews24.com, deshrupantor.com, bssnews.net ১, bssnews.net ২, bssnews.net ৩, bssnews.net ৪। ভুল দেখলে জানান।

নির্বাচনী এলাকা

খুলনা-৪

সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।

নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি

খুলনা-৪ জাতীয় সংসদের ১০২ নম্বর আসন। নির্বাচন কমিশনের সীমানা অনুযায়ী খুলনা বিভাগের খুলনা জেলার রূপসা ও তেরখাদা উপজেলা এবং আঢ়ংঘাটা ও যোগীপোল ইউনিয়ন বাদে দিঘলিয়া উপজেলা নিয়ে আসনটি গঠিত। ২০২৬ সালের নির্বাচনে এখানে ভোটার ছিলেন ৩,৭৮,৪৫৩ জন, ভোটকেন্দ্র ১৪৪টি।

রূপসা উপজেলা খুলনা মহানগরীর কোতোয়ালি ও খালিশপুর থানার পূর্ব পাশে, রূপসা, ভৈরব ও নবগঙ্গা নদীর তীরে। আয়তন ১২০.১৫ বর্গকিলোমিটার; ২০২২ সালের জনশুমারিতে জনসংখ্যা ২,০৬,৭৪৮। পাঁচটি ইউনিয়নের এই উপজেলায় কৃষির পাশাপাশি ব্যবসা ও শ্রমজীবী আয় বড় ভূমিকা রাখে; চিংড়ি, সুপারি ও সবজি বাইরে যায়, আছে ডকইয়ার্ড, ইটভাটা ও শাঁখা শিল্প। রূপসা সেতু এবং বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের সমাধি এখানকার পরিচিত স্থান।

তেরখাদা উপজেলার উত্তরে নড়াইলের কালিয়া, দক্ষিণে রূপসা। আয়তন ১৮৯.৪৯ বর্গকিলোমিটার; ২০২২ সালের জনশুমারিতে জনসংখ্যা ১,২৮,৯২৫। ছয় ইউনিয়নের এই উপজেলা মূলত কৃষিনির্ভর; ধান, নারকেল ও গলদা চিংড়ি প্রধান পণ্য, প্রধান নদী আঠারোবাঁকি। নর্থ খুলনা ডিগ্রি কলেজ (১৯৬৬) এবং মুক্তিযুদ্ধের সময়ের পাতলা ক্যাম্প উল্লেখযোগ্য।

দিঘলিয়া উপজেলা খুলনা মহানগরীর উত্তরে ভৈরব, চিত্রা ও নবগঙ্গা নদীর তীরে। আয়তন ৭৭.১৬ বর্গকিলোমিটার; ২০২২ সালের জনশুমারিতে পুরো উপজেলার জনসংখ্যা ১,৬৭,০২৫। এখানে চাকরি ও কৃষি আয়ের প্রধান উৎস, আছে একটি পাটকল। সেনহাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় (১৮৭৭) ও সেনহাটি শিববাড়ি কালীমন্দির পরিচিত প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা।

১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের জুনে আওয়ামী লীগের মোস্তফা রশিদী সুজা এবং ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারি ও ২০০১ সালে বিএনপির এম নূরুল ইসলাম জয়ী হন। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের মোল্লা জালাল উদ্দিন, ২০১৪ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সুজা এবং ২০১৮ সালের উপনির্বাচন, একই বছরের সাধারণ নির্বাচন ও ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের আবদুস সালাম মুর্শেদী নির্বাচিত হন; ২০২৬ সালে আসনটি পায় বিএনপি। সময়ের সঙ্গে আসনের সীমানা বদলেছে, তাই পুরোনো ফল বর্তমান সীমানার সঙ্গে হুবহু তুলনীয় নয়।

সূত্র: জাতীয় সংসদ, 103.183.38.66, tbsnews.net, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, en.banglapedia.org ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, en.banglapedia.org ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩, en.banglapedia.org ৩, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৪, উইকিপিডিয়া (বাংলা)। ভুল দেখলে জানান।

সংসদে মেয়াদ

ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬খুলনা-৪বর্তমান মেয়াদBNP

সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ১ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।

২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট

আসনের সব ফল →
ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬প্রার্থীদের মোট ২,৪৬,৮৯৬ ভোট
  1. এস কে আজিজুল বারীBNPবিজয়ী১,২৩,১৬২৪৯.৯%
  2. S M Sakhaowat HossainKM১,০৯,৫৩০৪৪.৪%
  3. Yunus Ahmed SheikhIAB১৩,৩৪৫৫.৪%
  4. S M Azmal HossainInd৮৫৯০.৩%
উৎস: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড। নির্বাচন কমিশনের গেজেটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি।মূল পাতা

সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন(১)

জনাব এস কে আজিজুল বারী, ১০২ খুলনা-৪ (যুক্তরাষ্ট্র সফর)৬ জুলাই ২০২৬, অনাপত্তিপত্রPDF

আসন: খুলনা-৪

আসনের পাতা →
এলাকা

(ক)আঢ়ংঘাটা ও যোগীপোল ইউনিয়ন ব্যতীত দিঘলিয়া, (খ)রূপসা এবং (গ)তেরখাদা উপজেলা

সংসদীয় কমিটি(২)

সংবাদ ও ভিডিও

সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…

কোথা থেকে তথ্য আসে

সদস্য, আসন, কমিটি ও অধিবেশন আসে জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইট থেকে; ভোটার সংখ্যা নির্বাচন কমিশন ও মন্ত্রিসভা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে। ভোটের ফল ও জীবনীর সূত্র আলাদা করে প্রতিটি পাতায় লেখা।

সব সূত্র দেখুন →

কত দিন পরপর হালনাগাদ

প্রতি রাতে পুরো সাইট সংসদের তথ্যভান্ডার থেকে নতুন করে তৈরি হয়। নতুন প্রজ্ঞাপন, বৈঠকের কার্যসূচি বা কমিটির পরিবর্তন পরদিনের মধ্যে যুক্ত হয়; সংবাদ শিরোনাম দিনে কয়েকবার।

পদ্ধতি →

ভুল পেলে

প্রতিটি সদস্যের পাতায় “সংশোধন জানান” বোতাম আছে। সূত্রসহ জানালে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাচাই করে ঠিক করা হয়; সদস্যের দপ্তর নিজের পাতাও হালনাগাদ করাতে পারেন।

যোগাযোগ →