মূল বিষয়ে যান
English
সর্বশেষ
মোঃ আবুল কালাম আজাদ

মোঃ আবুল কালাম আজাদ

Md. Abul Kalam Azad

বর্তমান সদস্য, ত্রয়োদশ সংসদ

সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা

পরিচিতি

মোঃ আবুল কালাম আজাদ খুলনা-৬ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি, নির্বাচনী ফলাফল, আগের মেয়াদ, সংসদীয় কমিটি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।

মোঃ আবুল কালাম আজাদ (Md. Abul Kalam Azad) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে খুলনা-৬ (কয়রা ও পাইকগাছা) আসনের সংসদ সদস্য। দলে ও নিজ এলাকায় তিনি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ নামে পরিচিত। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর (Bangladesh Jamaat-e-Islami) কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক এই নেতা প্রথমবারের মতো সংসদে এসেছেন।

নিজের জীবনী অনুযায়ী ছাত্রজীবন থেকে চার দশকের বেশি সময় ধরে তিনি সাংগঠনিক রাজনীতিতে যুক্ত, যার বড় অংশ কেটেছে খুলনা মহানগরে দলের নেতৃত্বে। নির্বাচনী হলফনামায় পেশা হিসেবে তিনি ব্যবসার কথা উল্লেখ করেছেন।

শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা

তিনি ১৯৬৬ সালের ৪ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা আক্কাছ আলী লস্কর, মাতা ছতুফা বেগম। নিজের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত জীবনী অনুযায়ী তিনি কয়রাতেই বেড়ে ওঠেন এবং আট ভাইবোনের মধ্যে দ্বিতীয় ভাই।

ওই জীবনী অনুযায়ী প্রাথমিক শিক্ষা শেষে তিনি মাদ্রাসা শিক্ষায় যান; খুলনা আলিয়া মাদ্রাসা থেকে আলিম ও ফাজিল এবং ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা থেকে কামিল পাস করেন। নির্বাচনী হলফনামাতেও তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা কামিল বলে উল্লেখ আছে।

রাজনৈতিক জীবন

নিজের জীবনী অনুযায়ী, ১৯৮১ সালে তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরে যোগ দেন। সংগঠনটির ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা শাখার সভাপতি (১৯৮৫-৮৬), ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি (১৯৮৯-৯১) এবং কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদকের (১৯৯১-৯২) দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

পরে জামায়াতে ইসলামীতে তিনি প্রথমে খুলনা মহানগরের সেক্রেটারি এবং পরে আমিরের দায়িত্ব পালন করেন; তাঁর জীবনী অনুযায়ী সেক্রেটারি পদে ছিলেন ১৯৯৭ থেকে ২০১১ এবং আমির পদে ২০১২ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত। বর্তমানে তিনি দলের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক।

২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকে তিনি খুলনা-৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন; সেবার আসনটিতে আওয়ামী লীগের আখতারুজ্জামান বাবু (Akhteruzzaman Babu) জয়ী হন। ২০২৬ সালের হলফনামায় তিনি ৩৪টি মামলার কথা উল্লেখ করে জানান, এগুলোতে তিনি খালাস বা অব্যাহতি পেয়েছেন, কিংবা সাক্ষী হিসেবে যুক্ত।

২০২৬ নির্বাচন

২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে তিনি ১,৫০,৭২৪ ভোট পান। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী (S M Monirul Hasan Bappy) পান ১,২৪,৭১০ ভোট; ব্যবধান ২৬,০১৪ ভোট। বাপ্পী তখন খুলনা জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব ছিলেন। ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে আজাদকে দীর্ঘদিন ধরে মাঠে সক্রিয় প্রার্থী বলা হয়। একই প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বাধীনতার পর বিএনপি কখনো এই আসনে জয় পায়নি।

রিটার্নিং অফিসারের ফলাফল বিবরণী অনুযায়ী আসনের ৪,২৩,৩৩২ জন ভোটারের মধ্যে ২,৮৮,১৯১টি ভোট পড়ে, অর্থাৎ প্রায় ৬৮ শতাংশ। বৈধ ২,৮২,৬৭২ ভোটের প্রায় ৫৩ শতাংশ পান তিনি। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় পার্টি ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থীরা প্রত্যেকে তিন হাজারের কম ভোট পান। ২০০১ সালের পর এই প্রথম আসনটিতে জামায়াতের প্রার্থী জয়ী হলেন।

সূত্র: জাতীয় সংসদ, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, abulkalamazad.info, jugantor.com ১, jugantor.com ২, en.prothomalo.com, thedailystar.net ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, 103.183.38.66 ১, 103.183.38.66 ২, bangla.bdnews24.com, dailysangram.com, ajkerpatrika.com, thedailystar.net ২। ভুল দেখলে জানান।

জন্ম৪ নভেম্বর ১৯৬৬, ৫৯ বছর
জন্মস্থানকয়রা, খুলনা
লিঙ্গপুরুষ
পেশাব্যবসা
পিতাআক্কাছ আলী লস্কর
মাতাছতুফা বেগম
বর্তমান মেয়াদ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০৩১
সংসদ সদস্য নির্বাচিতমোট ১ বার

বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম

২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য। ২০২৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর সংসদে গঠিত পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে তিনি সদস্য হিসেবে আছেন।

সংসদ সদস্য হিসেবে আইন প্রণয়নে অংশ নেওয়া ও কয়রা-পাইকগাছার মানুষের প্রতিনিধিত্বের পাশাপাশি স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের কাজ পর্যালোচনার দায়িত্বও তাঁর। ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তিনি পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিচ্ছন্নতা অভিযানের সূচনা করেন এবং জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চিকিৎসাসেবা চলার বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। ১২ মে কয়রা উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় তিনি বলেন, সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে দ্রুত অভিযান শুরু হবে এবং নিয়মিত টহলের জন্য বন বিভাগে জনবল চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। একই দিন পাইকগাছায় সরকারি বোরো ধান সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি।

সূত্র: ajkerpatrika.com, dailyjanakantha.com, probashirdiganta.com, dailyinqilab.com। ভুল দেখলে জানান।

নির্বাচনী এলাকা

খুলনা-৬

সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।

নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি

খুলনা-৬ জাতীয় সংসদের ১০৪ নম্বর আসন। নির্বাচন কমিশনের সীমানা অনুযায়ী খুলনা বিভাগের খুলনা জেলার কয়রা ও পাইকগাছা উপজেলা নিয়ে আসনটি গঠিত। ২০২৬ সালের নির্বাচনে এখানে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ৪,২৩,৩৩২ জন।

কয়রা উপজেলার উত্তরে পাইকগাছা, পূর্বে দাকোপ, পশ্চিমে সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও আশাশুনি এবং দক্ষিণে সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগর। আয়তন প্রায় ১,৭৭৫ বর্গকিলোমিটার; ২০২২ সালের জনশুমারিতে জনসংখ্যা ২,২০,১০২। সাতটি ইউনিয়নের এই উপজেলায় ধান, আলু ও সবজি চাষ এবং চিংড়ি ঘের প্রধান জীবিকা; কাঠ, গোলপাতা, মধু ও মাছের পোনা এখান থেকে বাইরে যায়। শিবসা, কপোতাক্ষ ও আড়পাঙ্গাশিয়া এখানকার প্রধান নদী। আমাদি ইউনিয়নের প্রাচীন মসজিদকুঁড় মসজিদ ও কপোতাক্ষ মহাবিদ্যালয় (১৯৮৪) পরিচিত স্থাপনা। ২০০৭ সালের সিডর ও ২০০৯ সালের আইলায় উপজেলাটি ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়।

পাইকগাছা উপজেলা খুলনা শহর থেকে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণে। একটি পৌরসভা ও দশটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত উপজেলাটির জনসংখ্যা ২০২২ সালের জনশুমারিতে ২,৮৬,২০৯। কৃষি ও ব্যবসা প্রধান জীবিকা; ধান, পাট, তিল ও সবজির পাশাপাশি বাগদা চিংড়ি চাষ এখানকার অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ। কপোতাক্ষ ও শিবসা নদী এবং কপিলমুনি হাট সুপরিচিত; ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে কপিলমুনির যুদ্ধে রাজাকারদের প্রধান ঘাঁটির পতন হয়। রসায়নবিদ আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় (Prafulla Chandra Ray) ১৮৬১ সালে রাড়ুলী-কাটিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। পাইকগাছা কলেজ ও কপিলমুনি কলেজ (দুটিই ১৯৬৭) এখানকার পুরোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

১৯৯১ ও ২০০১ সালে জামায়াতে ইসলামীর শাহ মোঃ রুহুল কুদ্দুস এবং ১৯৯৬ সালের জুনে ও ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা আসনটিতে জয়ী হন। প্রথম আলোর তথ্য অনুযায়ী, স্বাধীনতার পর বিএনপি এখানে কখনো জেতেনি। ২০২৬ সালে আসনটি আবার জামায়াতের হাতে যায়। সময়ের সঙ্গে আসনের সীমানা বদলেছে, তাই পুরোনো ফল বর্তমান সীমানার সঙ্গে হুবহু তুলনীয় নয়।

সূত্র: 103.183.38.66, উইকিপিডিয়া (বাংলা) ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, en.banglapedia.org ১, citypopulation.de ১, উইকিপিডিয়া (বাংলা) ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, en.banglapedia.org ২, citypopulation.de ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩, thedailystar.net, en.prothomalo.com, bangla.bdnews24.com। ভুল দেখলে জানান।

সংসদে মেয়াদ

ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬খুলনা-৬বর্তমান মেয়াদBJEI

সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ১ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।

২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট

আসনের সব ফল →
ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬প্রার্থীদের মোট ২,৮২,৬৭২ ভোট
  1. মোঃ আবুল কালাম আজাদBJEIবিজয়ী১,৫০,৭২৪৫৩.৩%
  2. S M Monirul Hasan (Bappi)BNP১,২৪,৭১০৪৪.১%
  3. Md Asadullah FakirIAB২,৯৫০১.০%
  4. Md Mostafa Kamal JahangirJP(ERSHAD)২,৭১৭১.০%
  5. Prashanta Kumar MondalCPB১,৫৭১০.৬%
উৎস: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড। নির্বাচন কমিশনের গেজেটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি। উইকিপিডিয়াতেও বিজয়ীর ভোট একই।মূল পাতা

সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন(৩)

জনাব মোঃ আবুল কালাম আজাদ, ১০৪ খুলনা-৬৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, অনাপত্তিপত্রPDF
জনাব মোঃ আবুল কালাম আজাদ, ১০৪ খুলনা-৬ (জাপান সফর)১৬ জুলাই ২০২৬, অনাপত্তিপত্রPDF
মোঃ আবুল কালাম আজাদ২৪ নভেম্বর ২০২৫, অনাপত্তিপত্রPDF

আসন: খুলনা-৬

আসনের পাতা →
এলাকা

(ক)কয়রা এবং(খ) পাইকগাছা উপজেলা

সংসদীয় কমিটি(১)

সংবাদ ও ভিডিও

সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…

সম্পাদকের যাচাই করা ২টি খবর

কোথা থেকে তথ্য আসে

সদস্য, আসন, কমিটি ও অধিবেশন আসে জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইট থেকে; ভোটার সংখ্যা নির্বাচন কমিশন ও মন্ত্রিসভা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে। ভোটের ফল ও জীবনীর সূত্র আলাদা করে প্রতিটি পাতায় লেখা।

সব সূত্র দেখুন →

কত দিন পরপর হালনাগাদ

প্রতি রাতে পুরো সাইট সংসদের তথ্যভান্ডার থেকে নতুন করে তৈরি হয়। নতুন প্রজ্ঞাপন, বৈঠকের কার্যসূচি বা কমিটির পরিবর্তন পরদিনের মধ্যে যুক্ত হয়; সংবাদ শিরোনাম দিনে কয়েকবার।

পদ্ধতি →

ভুল পেলে

প্রতিটি সদস্যের পাতায় “সংশোধন জানান” বোতাম আছে। সূত্রসহ জানালে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাচাই করে ঠিক করা হয়; সদস্যের দপ্তর নিজের পাতাও হালনাগাদ করাতে পারেন।

যোগাযোগ →