মূল বিষয়ে যান
English
সর্বশেষ
সিলেট বিভাগ

সিলেট জেলা

Sylhet · ৬টি সংসদীয় আসন · ১৩টি উপজেলা। প্রতিটি আসনের বর্তমান সদস্য, সংসদের তথ্যভান্ডার অনুযায়ী।

আসন৬
উপজেলা১৩
দল২

সিলেট জেলা পরিচিতি

সিলেট জেলা বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল সিলেট। এটি সিলেট বিভাগের অধিক্ষেত্রভুক্ত একটি জেলা। উপজেলার সংখ্যানুসারে সিলেট বাংলাদেশের একটি “এ” শ্রেণীভুক্ত জেলা। সিলেট বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বে অবস্থিত একটি প্রাচীন জনপদ। বনজ, খনিজ ও মৎস্য সম্পদে ভরপুর এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত জন্য এ জেলা খ্যাত। জৈন্তিয়া পাহাড়ের অপরূপ দৃশ্য, জাফলং এর মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য, জাফলং চা বাগান, ভোলাগঞ্জের সারি সারি পাথরের স্তূপ, পাথরের বিছানাখ্যাত বিছনাকান্দি, রাতারগুল জলাবন পর্যটকদের টেনে আনে বার বার। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর সিলেট জেলার বিপুল সংখ্যক লোক পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অভিবাসন গ্রহণ করেছে।

নামকরণ

প্রাচীন গ্রন্থাদিতে এ অঞ্চলের বিভিন্ন নামের উল্লেখ আছে। হিন্দুশাস্ত্র অনুসারে শিবের স্ত্রী সতী দেবীর কাটা হস্ত এই অঞ্চলে পড়েছিল, যার ফলে 'শ্রী হস্ত' হতে শ্রীহট্ট নামের উৎপত্তি বলে হিন্দু সম্প্রদায় বিশ্বাস করেন। খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতকের ঐতিহাসিক এরিয়ান লিখিত বিবরণীতে এই অঞ্চলের নাম "সিরিওট" বলে উল্লেখ আছে।

ইতিহাস

সিলেটের আঞ্চলিক ইতিহাস গ্রন্থ অনুসারে এই অঞ্চলের সীমানার যে উল্লেখ পাওয়া যায় সে অনুসারে তৎকালীন বর্তমান সিলেট বিভাগের চেয়ে আয়তনে কিছুটা বড় ছিল কারণ অধুনা আসামের করিমগঞ্জ জেলাও সিলেটের অন্তর্ভুক্ত ছিল। কামাখ্যা তন্ত্র অনুযায়ী শ্রীহট্ট কামরূপ রাজ্যের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমানায় অবস্থিত ছিল। সপ্তদশ শতকে রচিত যোগিনী তন্ত্রে শ্রীহট্টের প্রাচীন শৈব তীর্থক্ষেত্র শ্রীহট্টনাথ মহাদেবের মন্দিরের অবস্থানের বিবরণ এরকম: এতন্মধ্যে মহাদেব শ্রীহট্ট নমো নমঃ। অতপর খ্রিস্টীয় সপ্তম শতাব্দীর পরবর্তী সময়ে এই অঞ্চলের ভৌগোলিক রুপরেখার বিভিন্ন পরিবর্তন ঘটে।

অবস্থান ও আয়তন

সিলেট জেলার ভৌগোলিক অবস্থান ২৪­° ৪০’ থেকে ২৫° ১১’’ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯১° ৩’’ থেকে ৯২° ৩’’ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ। সিলেট জেলার উত্তরে ভারতের মেঘালয়, দক্ষিণে মৌলভীবাজার জেলা, পূর্বে ভারতের আসাম, পশ্চিমে সুনামগঞ্জ জেলা ও হবিগঞ্জ জেলা। এই জেলার আয়তন ৩,৪৯০.৪০ বর্গ কিমি। বাৎসরিক সর্বচ্চো তাপমাত্রা ৩৩.২° সেলসিয়াস ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৩.৬° সেলসিয়াস। বাৎসরিক বৃষ্টিপাত ৩৩৩৪ মিলিমিটার। সংরক্ষিত বনাঞ্চল ২৩৬.৪২ বর্গ কিলোমিটার।

অর্থনীতি

যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, মধ্যপ্রাচ্য সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সিলেট বিভাগের মানুষের বসবাস রয়েছে। প্রবাসীদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রা এই বিভাগের প্রধান উৎস[২]। এছাড়া পাহাড়ে ও প্রান্তরে বেড়ে ওঠা কৃষি ব্যবস্থাপনা যেমন; চা, ধান, মাছ, কমলা, লেবু, আনারস, বাঁশ, আম, ইত্যাদি এই অঞ্চলের মানুষের অনন্য অবলম্বন এছাড়া সিলেট পর্যটন এলাকা হিসেবে প্রসিদ্ধ। পর্যটন খাত থেকেও প্রচুর মুদ্রা অর্জন করে সিলেট। সরকারী ভাবে সিলেটে দুইটি বিসিক শিল্প নগরী গড়ে উঠেছে।

দর্শনীয় স্থান

হযরত শাহজালাল ও হযরত শাহ পরান এর পবিত্র মাজার শরীফ এ জেলায় অবস্থিত। প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক ধর্মপ্রাণ লোক মাজার জিয়ারতের উদ্দেশ্যে আগমন করেন। শীত মৌসুমে সিলেটের হাওর-বাওর গুলো ভরে উঠে অতিথি পাখির কলরবে।

তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া, সিলেট জেলা · CC BY-SA 4.0

সিলেট জেলার উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব

  • শামসুল উলামা আবু নসর ওহীদ · শিক্ষাবিদ
  • ব্যারিস্টার আহমদ আলি খান · অবিভক্ত ভারতের প্রথম মুসলিম ব্যারিস্টার
  • জেনারেল এম এ জি ওসমানী · মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক
  • মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যদেব · বৈষ্ণব ধর্মের প্রবর্তক
  • মরমি কবি হাছন রাজা · বিখ্যাত মরমি কবি ও সাধক
  • গোবিন্দ চন্দ্র দেব · দার্শনিক
  • হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী · সাবেক স্পীকার
  • ডক্টর ত্রিগুনা সেন · রাজনীতিবিদ ও শিক্ষাবিদ
  • অশোকবিজয় রাহা · বিখ্যাত আধুনিক কবি
  • পূর্ণেন্দুকিশোর সেনগুপ্ত · ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের বিপ্লবী পুরুষ
  • রাধারমণ দত্ত · বৈষ্ণব কবি
  • মাওলানা আতহার আলী · রাজনীতিবিদ

জেলার মানচিত্র

সিলেট জেলা

সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর। ৬টি আসন; এলাকায় চাপ দিলে সেই আসনের পাতা।

আসন ও সংসদ সদস্য

সিলেট জেলা সিলেট বিভাগের একটি জেলা, জাতীয় সংসদে যার ৬টি আসন: সিলেট-১, সিলেট-২ (বিশ্বনাথ ও ওসমানী নগর উপজেলা), সিলেট-৩, সিলেট-৪ (কোম্পানীগঞ্জ,গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর উপজেলা), সিলেট-৫ (কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ উপজেলা) ও সিলেট-৬ (বিয়ানী বাজার ও গোলাপগঞ্জ উপজেলা)। ত্রয়োদশ সংসদে আসনগুলোর মধ্যে বিএনপির ৫টি ও খেলাফত মজলিসের ১টি। দ্বাদশ সংসদে (২০২৪) এই আসনগুলো ছিল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৫টি ও স্বতন্ত্র ১টি।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ | হালনাগাদ ২৪ অক্টোবর ২০২৬

কোথা থেকে তথ্য আসে

সদস্য, আসন, কমিটি ও অধিবেশন আসে জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইট থেকে; ভোটার সংখ্যা নির্বাচন কমিশন ও মন্ত্রিসভা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে। ভোটের ফল ও জীবনীর সূত্র আলাদা করে প্রতিটি পাতায় লেখা।

সব সূত্র দেখুন →

কত দিন পরপর হালনাগাদ

প্রতি রাতে পুরো সাইট সংসদের তথ্যভান্ডার থেকে নতুন করে তৈরি হয়। নতুন প্রজ্ঞাপন, বৈঠকের কার্যসূচি বা কমিটির পরিবর্তন পরদিনের মধ্যে যুক্ত হয়; সংবাদ শিরোনাম দিনে কয়েকবার।

পদ্ধতি →

ভুল পেলে

প্রতিটি সদস্যের পাতায় “সংশোধন জানান” বোতাম আছে। সূত্রসহ জানালে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাচাই করে ঠিক করা হয়; সদস্যের দপ্তর নিজের পাতাও হালনাগাদ করাতে পারেন।

যোগাযোগ →