
খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর
Khandakar Abdul Muktadir
সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা
পরিচিতি
খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর সিলেট-১ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সংসদ সদস্য এবং বর্তমানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।
খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর (Khandaker Abdul Muktadir) সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের (Tarique Rahman) মন্ত্রিসভায় বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপি (Bangladesh Nationalist Party)-র এই নেতা পেশায় ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তা।
২০১৬ সাল থেকে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা। সিলেট-১ আসনে দ্বিতীয়বার প্রার্থী হয়ে ২০২৬ সালে তিনি প্রথমবারের মতো সংসদে আসেন এবং প্রথম মেয়াদেই মন্ত্রিসভায় জায়গা পান। তাঁর বাবাও একই আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন।
শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা
মুক্তাদীরের জন্ম ১৯৬৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর, সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার তেতলী ইউনিয়নের আহমদপুর গ্রামে। বাবা খন্দকার আব্দুল মালিক (Khandaker Abdul Malik) ছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতাদের একজন; ১৯৭৯, ১৯৯১ এবং ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২০০৪ সালে মারা যান। বাবা ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত সিলেট-১ আসনের প্রতিনিধিত্ব করেন। মা রওশন আরা চৌধুরী। বাবার পাঁচ সন্তানের মধ্যে মুক্তাদীর কনিষ্ঠ পুত্র।
সিলেটের ব্লু বার্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজে ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পর তিনি সিলেট ক্যাডেট কলেজ থেকে এসএসসি এবং ঢাকা সিটি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমএসএস এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় (North South University) থেকে ব্যবসায় প্রশাসনে এমবিএ ডিগ্রি নেন। তাঁর স্ত্রী জাকিয়া ইয়াসমিন; তাঁদের এক ছেলে ও এক মেয়ে।
রাজনৈতিক জীবন
বাবার দল বিএনপিতে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন ২০১১ সালে। ২০১৬ সালে দলের তৎকালীন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার (Khaleda Zia) উপদেষ্টা হন।
২০১৮ সালের ৮ ডিসেম্বর বিএনপি তাঁকে সিলেট-১ আসনে মনোনয়ন দেয়। একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে তিনি ১,২৩,৮৫১ ভোট পান। আসনটিতে ২,৯৮,৬৯৬ ভোট পেয়ে জয়ী হন আওয়ামী লীগের এ কে আব্দুল মোমেন (A. K. Abdul Momen), যিনি তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের ছোট ভাই।
বিরোধী দলে থাকার সময় ২০২৩ সালের ৮ এপ্রিল দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিতে সিলেটে পৌঁছালে একটি পুরোনো মামলায় ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামনে থেকে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
২০২৬ নির্বাচন
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আটজন প্রার্থীর লড়াইয়ে ধানের শীষ প্রতীকে তিনি ১,৭৬,৯৩৬ ভোট পান। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা হাবিবুর রহমান (Maulana Habibur Rahman) পান ১,৩৪,৯৮৩ ভোট; ব্যবধান ৪১,৯৫৩ ভোট। প্রদত্ত ভোটের ৫৫.৬ শতাংশই পান তিনি। ১৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার আগারগাঁওয়ের ফল সংগ্রহ ও প্রচার কেন্দ্র থেকে বেসরকারিভাবে এই ফল ঘোষণা করা হয়। আসনটির ২১৫টি ভোটকেন্দ্রে ৬,৮০,৯৪৬ জন নিবন্ধিত ভোটারের প্রায় ৪৭ শতাংশ ভোট দেন। এই জয়ে ২০০১ সালের পর প্রথমবার আসনটি বিএনপির হাতে ফেরে।
উল্লেখযোগ্য কাজ ও অবদান
রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার আগে তাঁর পরিচয় ছিল ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তা হিসেবে। সিলেটের ব্যবসায়ীদের সংগঠন সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (Sylhet Chamber of Commerce and Industry) সভাপতি হিসেবে তিনি স্থানীয় ব্যবসায়ী সমাজের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
সূত্র: উইকিপিডিয়া (বাংলা), উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, prothomalo.com, thedailystar.net, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩, en.prothomalo.com, bssnews.net, tbsnews.net, dhakatimes24.com ১, dhakatimes24.com ২। ভুল দেখলে জানান।
* চিহ্নিত তথ্য সদস্যের উইকিপিডিয়া নিবন্ধ থেকে নেওয়া; সংসদ বা নির্বাচন কমিশনের নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি। ভুল দেখলে জানান।
বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম
২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি একসঙ্গে তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন: বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সেদিনের দপ্তর বণ্টনের প্রজ্ঞাপনে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়।
তিন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দেশের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বাণিজ্য, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা, শিল্পায়ন এবং পাট ও বস্ত্র খাতের নীতি ও তদারকি তাঁর দায়িত্বে। ১৬ জুন মন্ত্রণালয়ের এক সভায় তিনি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচক দলকে দক্ষ জনবল দিয়ে আরও শক্তিশালী করার কথা জানান। ২২ জুন ঢাকায় আইএলও ও বিডার এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, যেখানে ব্যবসা শুরু করতে প্রায় এক বছর লাগত, সেখানে ১৪ দিনের মধ্যে কার্যক্রম শুরুর সুযোগ তৈরি করাই সরকারের লক্ষ্য। ২৭ জুন সিলেটে তিনি জানান, মন্ত্রিসভা চট্টগ্রামের আনোয়ারায় প্রায় ৮০০ একর জমিতে চীনা শিল্পপার্ক অনুমোদন করেছে। সেপ্টেম্বরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের অনুপস্থিতিতে তাঁর সংসদীয় দায়িত্ব পালনের জন্য যে দুজনকে মনোনীত করে, মুক্তাদীর তাঁদের একজন।
সূত্র: bssnews.net, observerbd.com, prothomalo.com, dhakatribune.com। ভুল দেখলে জানান।
নির্বাচনী এলাকা
সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।
নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি
সিলেট-১ জাতীয় সংসদের ২২৯ নম্বর আসন, সিলেট বিভাগের সিলেট জেলায় অবস্থিত। সীমানা অনুযায়ী আসনটি গঠিত সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ১ থেকে ২৭ এবং ৩১ থেকে ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড এবং সিলেট সদর উপজেলা নিয়ে। ২০২৬ সালের নির্বাচনে এখানে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ৬,৮০,৯৪৬ জন; এর মধ্যে পুরুষ ৩,৫৩,১৮৬, নারী ৩,২৭,৭৪৭ এবং হিজড়া ১৩ জন।
সুরমা নদীর তীরের সিলেট নগরী বিভাগীয় সদর। ৪২ ওয়ার্ডের সিটি কর্পোরেশনের আয়তন প্রায় ৭৯.৫ বর্গকিলোমিটার; ২০২২ সালের জনশুমারিতে জনসংখ্যা ৫,৩২,৮৩৯। প্রবাসীদের পাঠানো আয় এবং চা-শিল্প এ অঞ্চলের অর্থনীতির বড় ভিত্তি। নগরীর হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর দরগাহ দেশের প্রধান ধর্মীয় তীর্থস্থানগুলোর একটি, প্রতিবছর হাজারো মানুষ এখানে আসেন। নগরীর উত্তরে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশের তৃতীয় ব্যস্ততম বিমানবন্দর; এর কাছেই মালনীছড়া চা-বাগান, যাকে দেশের প্রথম চা-বাগান হিসেবে ধরা হয়। কুমারগাঁওয়ে ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ এবং সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এই এলাকার উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠান।
নগরীকে ঘিরে থাকা সিলেট সদর উপজেলার আয়তন প্রায় ৩০২ বর্গকিলোমিটার। ২০২২ সালের জনশুমারিতে সিটি কর্পোরেশনের বাইরের উপজেলা এলাকার জনসংখ্যা ছিল ৪,৪৪,৯১৪। নগরীর বাইরে উপজেলাটি মূলত গ্রামীণ।
১৯৯১ সালে এবং ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আসনটিতে বিএনপির খন্দকার আব্দুল মালিক নির্বাচিত হন; জুন ১৯৯৬-এ আওয়ামী লীগের হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী এবং ২০০১ সালে বিএনপির সাইফুর রহমান জয়ী হন। ২০০৮ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত আসনটি আওয়ামী লীগের হাতে ছিল: আবুল মাল আবদুল মুহিত (২০০৮, ২০১৪) ও এ কে আব্দুল মোমেন (২০১৮, ২০২৪)। ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে আসনের সীমানা নতুন করে নির্ধারণ করা হয়। ২০২৬ সালে আসনটি আবার বিএনপির হাতে আসে।
সূত্র: উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (বাংলা), tbsnews.net, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩, citypopulation.de ১, citypopulation.de ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৪, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৫। ভুল দেখলে জানান।
সংসদে মেয়াদ
সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ১ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।
২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট
আসনের সব ফল →- খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর
BNPবিজয়ী১,৭৬,৯৩৬৫৫.৭% - Maulana Habibur Rahman
BJEI১,৩৪,৯৮৩৪২.৫%
- Mahmudul Hasan
IAB২,৭০১০.৯% - Pranab Jyoti PalBasad১,১১৩০.৪%
- Mohammad Anwar HossainCPB৯০৮০.৩%
- Sanjay Kanta DasSPB-M৮০১০.৩%
- Akmal Hossain
GOP৩১৪০.১%
সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন
আসন: সিলেট-১
আসনের পাতা →(ক)সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড নম্বর-১,২,৩,৪,৫,৬,৭,৮,৯,১০,১১,১২,১৩,১৪,১৫,১৬,১৭,১৮,১৯,২০,২১,২২,২৩,২৪,২৫,২৬,২৭,৩১,৩২,৩৩,৩৪,৩৫,৩৬,৩৭,৩৮,৩৯ এবং (খ) সিলেট সদর উপজেলা
সংসদীয় কমিটি(৩)
সংবাদ ও ভিডিও
সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…
সম্পাদকের যাচাই করা ১টি খবর