
আরিফুল হক চৌধুরী
Ariful Haque Choudhury
সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা
পরিচিতি
আরিফুল হক চৌধুরী সিলেট-৪ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সংসদ সদস্য এবং বর্তমানে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ও শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী।
আরিফুল হক চৌধুরী (Ariful Haque Choudhury) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী, সিলেট-৪ (কোম্পানীগঞ্জ-গোয়াইনঘাট-জৈন্তাপুর) আসনের সংসদ সদস্য। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপির (Bangladesh Nationalist Party) এই নেতা সিলেটে ‘আরিফ’ নামে পরিচিত।
ওয়ার্ড কমিশনার হিসেবে স্থানীয় সরকারে যাত্রা শুরু করে তিনি টানা দুই মেয়াদে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র ছিলেন। চার দশকের বেশি সময়ের দলীয় রাজনীতির পর ২০২৬ সালে প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েই তিনি মন্ত্রিসভায় জায়গা পান।
শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা
১৯৫৯ সালের ২৩ নভেম্বর সিলেট শহরের কুমারপাড়ায় তাঁর জন্ম। বাবা মরহুম শফিকুল হক চৌধুরী, মা আমিনা খাতুন। সিলেট শহরেই তাঁর বেড়ে ওঠা; ছাত্রজীবনে তিনি মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন। তাঁর স্ত্রী সামা হক চৌধুরী।
রাজনৈতিক জীবন
১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠার বছরেই তিনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে যোগ দেন এবং পরে সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হন। জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন।
২০০৩ সালে তিনি সিলেট সিটি করপোরেশনের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার নির্বাচিত হন। ২০১৩ সালের ১৫ জুন মেয়র নির্বাচনে আওয়ামী লীগের তৎকালীন মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরানকে (Badar Uddin Ahmed Kamran) প্রায় ৩৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারান। ২০১৮ সালের ৩০ জুলাইয়ের নির্বাচনে কামরানকে ৬,১৯৬ ভোটে হারিয়ে আবার মেয়র হন; সেবার পাঁচ সিটির মধ্যে কেবল সিলেটেই বিএনপির প্রার্থী জেতেন। ২০০৭ সালের জরুরি অবস্থার সময় এবং পরে সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যা মামলায় তাঁকে কারাগারে যেতে হয় ও মেয়র পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়; ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে তিনি জামিনে মুক্তি পান।
দলের সিদ্ধান্ত মেনে ২০২৩ সালের সিটি নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হননি। ওই বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর তাঁকে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য করা হয়। ২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক সংস্কার, ট্রেনের বগি বাড়ানো ও বিমানভাড়া যৌক্তিক করার দাবিতে তিনি সিলেট নগরের কোর্ট পয়েন্টে প্রতীকী অবস্থান কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন।
২০২৬ নির্বাচন
সিলেট-১ আসনে দল খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরকে প্রার্থী করার পর ২০২৫ সালের নভেম্বরে হাইকমান্ডের নির্দেশে তিনি সিলেট-৪ আসনে প্রচারে নামেন। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পান ১,৮১,৬০৯ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. জয়নাল আবেদীন (Md. Joynal Abedin); জয়ের ব্যবধান এক লাখ ভোটের বেশি।
উল্লেখযোগ্য কাজ ও অবদান
কমিশনার থাকাকালে তিনি সিটি করপোরেশনের নগর উন্নয়ন ও পরিকল্পনা কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। তাঁর ভাষ্যমতে, মেয়র থাকার সময় নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে তিনি ব্যাপক উদ্যোগ নেন। ২০১৯ সালে সরকার সিলেট নগরের জলাবদ্ধতা নিরসন ও অবকাঠামো উন্নয়নে ১,২২৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়; এই প্রকল্পের আওতায় সিটি করপোরেশন ৩২৭ কিলোমিটার নালা ও ৮ কিলোমিটার প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণ করে। মেয়াদের শেষ দিকে নগরীর বর্ধিত ওয়ার্ডগুলো ঘুরে তিনি নালা ও সড়কের সমস্যা চিহ্নিত করেন এবং সেগুলোর সমাধানে সরকারের কাছে অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব পাঠান।
সূত্র: উইকিপিডিয়া (বাংলা), উইকিপিডিয়া (ইংরেজি), ittefaq.com.bd, tbsnews.net ১, dhakatribune.com ১, dhakatribune.com ২, prothomalo.com, dhakatribune.com ৩, bssnews.net, tbsnews.net ২, tbsnews.net ৩, bangla.bdnews24.com। ভুল দেখলে জানান।
* চিহ্নিত তথ্য সদস্যের উইকিপিডিয়া নিবন্ধ থেকে নেওয়া; সংসদ বা নির্বাচন কমিশনের নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি। ভুল দেখলে জানান।
বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম
২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের (Tarique Rahman) মন্ত্রিসভায় পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে তিনি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদেরও সদস্য।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বিদেশে কর্মী পাঠানো এবং প্রবাসীদের সুরক্ষা ও কল্যাণের কাজ দেখে; আর শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় দেখে শ্রমিক কল্যাণ, শিল্প সম্পর্ক, কর্মস্থলের নিরাপত্তা ও শ্রম আইন প্রয়োগ।
কাজ শুরুর প্রথম দিনেই তিনি শ্রম খাতে ১০০ দিনের কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেন, যাতে ঈদের আগে শ্রম অসন্তোষ ঠেকানোয় জোর দেওয়া হয়। ৭ মে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক অভিবাসন পর্যালোচনা ফোরামে তিনি অনিয়মিত অভিবাসন রোধ, ন্যায্য নিয়োগ ও মজুরির জন্য বৈশ্বিক সহযোগিতা চান এবং ২০২৬–২০৩০ মেয়াদের জাতীয় কর্মপরিকল্পনার কথা জানান। ৩০ আগস্ট লস অ্যাঞ্জেলেসে প্রবাসীদের সঙ্গে মতবিনিময়ে তিনি সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচিতে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা তুলে ধরেন। ১০ অক্টোবর সিলেটে শ্রম পরিদর্শকদের এক প্রশিক্ষণে তিনি কারখানার অগ্নি ও বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে পেশাদার ও জবাবদিহিমূলক পরিদর্শনের আহ্বান জানান।
সূত্র: tbsnews.net, en.prothomalo.com ১, prothomalo.com, dhakatribune.com, en.prothomalo.com ২। ভুল দেখলে জানান।
নির্বাচনী এলাকা
সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।
নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি
সিলেট-৪ জাতীয় সংসদের ২৩২ নম্বর আসন। নির্বাচন কমিশনের সীমানা নির্ধারণ অনুযায়ী সিলেট বিভাগের সিলেট জেলার কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর উপজেলা নিয়ে আসনটি গঠিত। তিনটি উপজেলারই উত্তরে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সীমান্ত। ২০২৬ সালের নির্বাচনে এখানে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ৫,১২,৯৩৩ জন।
কোম্পানীগঞ্জের জনসংখ্যা ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী ১,৯২,৩৫০। সুরমা ও পিয়াইন এখানকার প্রধান নদী; পাথর উত্তোলন ও ব্যবসা স্থানীয় অর্থনীতির বড় ভিত্তি। দেশের সবচেয়ে বড় পাথর কোয়ারি ভোলাগঞ্জ এবং পর্যটনকেন্দ্র সাদাপাথর এই উপজেলায়।
গোয়াইনঘাট তিন উপজেলার মধ্যে আয়তনে বড়, প্রায় ৪৮১ বর্গকিলোমিটার; ২০২২ সালে জনসংখ্যা ৩,৫৫,৯৭৯। সারি, গোয়াইন ও পিয়াইন নদী এখান দিয়ে বয়ে গেছে। পাথর, কয়লা ও চুনাপাথরের ব্যবসা এবং চা ও পান চাষ এখানকার জীবিকার মূল উৎস। জাফলং, বিছনাকান্দি, রাতারগুল জলাবন ও পান্থুমাই এখানকার পরিচিত পর্যটনস্থান। ২০১৭ সালে চালু হওয়া তামাবিল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে কয়লা, পাথর ও চুনাপাথর আমদানি হয়।
জৈন্তাপুরের জনসংখ্যা ২০২২ সালে ২,০০,১২৮। প্রাচীন জৈন্তিয়া রাজ্যের রাজবাড়ির ধ্বংসাবশেষ, সারি নদীর লালাখাল এবং শ্রীপুর ও লালাখাল চা-বাগান এই উপজেলায়।
১৯৯১ সালে আসনটিতে আওয়ামী লীগের ইমরান আহমদ (Imran Ahmad) জেতেন। ১৯৯৬ সালের দুটি নির্বাচনে বিএনপির সাইফুর রহমান (Saifur Rahman) জয়ী হন; তিনি মৌলভীবাজার-৩ আসন রেখে দিলে সেপ্টেম্বরের উপনির্বাচনে ইমরান আহমদ ফিরে আসেন। ২০০১ সালে বিএনপির দিলদার হোসেন সেলিম (Dildar Hossain Selim) এবং ২০০৮ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত চারবার ইমরান আহমদ নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের আগে সীমানা পুনর্নির্ধারণ হওয়ায় আগের নির্বাচনগুলোর সঙ্গে আসনটির হুবহু মিল ধরা যায় না। ২০২৬ সালে আসনটি বিএনপির দখলে আসে।
সূত্র: উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, tbsnews.net, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩, উইকিপিডিয়া (বাংলা), উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৪, bangla.thedailystar.net। ভুল দেখলে জানান।
সংসদে মেয়াদ
সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ১ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।
২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট
আসনের সব ফল →- আরিফুল হক চৌধুরী
BNPবিজয়ী১,৮১,৬০৯৭৩.৪% - Md. Joynal Abedin
BJEI৬৫,৭৭৬২৬.৬%
সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন
আসন: সিলেট-৪
আসনের পাতা →(ক)কোম্পানীগঞ্জ,(খ) গোয়াইনঘাট এবং(গ) জৈন্তাপুর উপজেলা
সংসদীয় কমিটি(২)
সংবাদ ও ভিডিও
সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…
সম্পাদকের যাচাই করা ২টি খবর