
এ বি এম মোশাররফ হোসেন
A B M Mosharrof Hossain
সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা
পরিচিতি
এ বি এম মোশাররফ হোসেন পটুয়াখালি-৪ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সভাপতি, কলাপাড়া উপজেলা। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি, নির্বাচনী ফলাফল, আগের মেয়াদ, সংসদীয় কমিটি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।
এ বি এম মোশাররফ হোসেন (A B M Mosharrof Hossain) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালী) আসনের সংসদ সদস্য। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মনোনয়নে ধানের শীষ প্রতীকে তিনি প্রথমবারের মতো সংসদে এসেছেন। দলের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে তিনি পরিচিত।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা এই নেতা দীর্ঘদিন ধরে জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে সক্রিয়। পেশায় তিনি রাজনীতিক ও ব্যবসায়ী; বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের টক শোতে নিয়মিত অতিথি হিসেবেও তাঁকে দেখা যায়।
শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা
জাতীয় সংসদের তথ্য অনুযায়ী তাঁর জন্ম ১৯৬৭ সালের ২৫ মে। পিতা মোঃ নুরুল হক, মাতা সালেহা বেগম। তিনি পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার বাসিন্দা। উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যান এবং কবি জসীমউদ্দীন হলের ছাত্র ছিলেন।
রাজনৈতিক জীবন
তিনি কবি জসীমউদ্দীন হল ছাত্র সংসদের সমাজসেবা সম্পাদক ছিলেন। পরে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি এবং ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হন। তিনি ছাত্রদলের প্রথম যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বও পালন করেন।
মূল দলে তিনি কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পান। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি পটুয়াখালী-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। ২০১৮ সালের ২৬ নভেম্বর গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয় থেকে তিনি আবার এই আসনের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেন। একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে আবার ধানের শীষ নিয়ে লড়েন। দুই নির্বাচনেই আসনটিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জয়ী হন; ২০১৮ সালে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল আওয়ামী লীগের মুহিব্বুর রহমান মুহিব (Muhibur Rahman Muhib)-এর সঙ্গে।
২০২৬ নির্বাচন
নির্বাচনী প্রচারে তিনি কুয়াকাটাকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা, পায়রা বন্দর পুরোপুরি চালু করা, সড়ক ও নৌপথের যোগাযোগ উন্নত করা, নদীভাঙন রোধ এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দেন। কলাপাড়ার চাকামইয়া ইউনিয়নের এক সমাবেশে তিনি এলাকাকে সন্ত্রাস, মাদক ও চাঁদাবাজিমুক্ত করার এবং দলমত নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালীর উন্নয়নের অঙ্গীকার করেন।
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত ফলাফল বিবরণী অনুযায়ী তিনি ১,২৪,০১৩ ভোট পেয়ে জয়ী হন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোস্তাফিজুর রহমান (Mostafizur Rahman) পান ৭০,১২৭ ভোট; ব্যবধান ৫৩,৮৮৬ ভোট। খেলাফত মজলিসের ডা. জহির উদ্দিন আহম্মেদ (Dr Zahir Uddin Ahmed) পান ১৪,৯৮৫ এবং গণঅধিকার পরিষদের মোঃ রবিউল হাসান (Md Rabiul Hasan) ২০২ ভোট।
আসনের ৩,১২,৬০১ জন ভোটারের মধ্যে ভোট পড়ে ৬৮.০৮ শতাংশ। মোট ২,০৯,৩২৭টি বৈধ ভোটের প্রায় ৫৯ শতাংশ তিনি একাই পান।
সূত্র: জাতীয় সংসদ, prothomalo.com, bssnews.net ১, bssnews.net ২, ittefaq.com.bd, gramerkagoj.com, 103.183.38.66 ১, 103.183.38.66 ২, tbsnews.net, deshrupantor.com, bssnews.net ৩, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২। ভুল দেখলে জানান।
বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম
২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন। তিনি সংসদের লাইব্রেরি কমিটির সদস্য এবং ২০২৬ সালের ১৩ জুলাই গঠিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য।
সংসদ সদস্য হিসেবে আইন প্রণয়ন ও নির্বাচনী এলাকার প্রতিনিধিত্বের পাশাপাশি দুটি সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংসদের কাজ পর্যালোচনায় অংশ নেন। ২০২৬ সালের ১৯ এপ্রিল লাইব্রেরি কমিটির প্রথম বৈঠকে ইউএনডিপির একটি প্রকল্পে সংসদ সদস্যদের বাজেট বরাদ্দ পর্যালোচনার জন্য গঠিত উপকমিটির আহ্বায়ক করা হয় তাঁকে। নির্বাচনী এলাকায় ৮ আগস্ট তিনি কুয়াকাটা সৈকতের ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। ২৩ আগস্ট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে বিদেশে বাংলাদেশ মিশনে শিক্ষা কূটনীতি সেবা এবং প্রবাসী নারী কর্মীদের জন্য জরুরি হটলাইন চালুর প্রস্তাব দেয় কমিটি, যাতে মন্ত্রণালয় সম্মত হয়। ৩০ সেপ্টেম্বর পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনাল পরিদর্শন করে তিনি বন্দরের ড্রেজিং ও হপার ড্রেজার কেনার প্রকল্প দ্রুত একনেকের অনুমোদন পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
সূত্র: bssnews.net, prothomalo.com, dailyinqilab.com, khaborpatuakhali.com, deshrupantor.com। ভুল দেখলে জানান।
নির্বাচনী এলাকা
সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।
নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি
পটুয়াখালী-৪ জাতীয় সংসদের ১১৪ নম্বর আসন। বরিশাল বিভাগের পটুয়াখালী জেলার দক্ষিণে, বঙ্গোপসাগরের তীরে কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালী উপজেলা নিয়ে আসনটি গঠিত। রিটার্নিং কর্মকর্তার ফলাফল বিবরণী অনুযায়ী ২০২৬ সালের নির্বাচনে এখানে ভোটার ছিলেন ৩,১২,৬০১ জন, ভোটকেন্দ্র ১১১টি।
কলাপাড়া উপজেলার আয়তন প্রায় ৪৯২ বর্গকিলোমিটার, ২০২২ সালের জনশুমারিতে জনসংখ্যা ২,৮৬,৯৯৩। এতে কলাপাড়া ও কুয়াকাটা পৌরসভা এবং ১২টি ইউনিয়ন রয়েছে। আন্ধারমানিক, নীলগঞ্জ ও ধানখালী এখানকার প্রধান নদী। আয়ের প্রধান উৎস কৃষি; ধান, ইলিশ ও শুঁটকি মাছ প্রধান রপ্তানিপণ্য। প্রায় ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দুই-ই দেখা যায়; কুয়াকাটা বৌদ্ধবিহার, রাখাইনপল্লি ও শুঁটকিপল্লিও পরিচিত। এই উপজেলায় পায়রা সমুদ্রবন্দর, ১,৩২০ মেগাওয়াটের পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন রয়েছে।
রাঙ্গাবালী জেলার সবচেয়ে দক্ষিণের উপজেলা, বঙ্গোপসাগরের চরাঞ্চলে অবস্থিত। ২০১১ সালে গলাচিপা উপজেলার অংশ নিয়ে এটি গঠিত হয়। আয়তন ৩৪৩.৬৯ বর্গকিলোমিটার, ২০২২ সালে জনসংখ্যা ১,১৮,৩৭৭; ইউনিয়ন ছয়টি। আগুনমুখা ও কাজল নদী এবং রাবনাবাদ চ্যানেলঘেরা এই উপজেলার মানুষের প্রধান জীবিকা কৃষি; ধান, গম, আলু, পেঁয়াজ ও ডাল প্রধান ফসল। রাবনাবাদ দ্বীপ সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার জন্য পরিচিত।
১৯৯১ সালে আসনটিতে আওয়ামী লীগ জয়ী হয়, ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬-এর নির্বাচনে বিএনপি। জুন ১৯৯৬ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত প্রতিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জয়ী হন, ২০১৪ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। ২০২৬ সালে বিএনপি আবার আসনটিতে জয় পায়। রাঙ্গাবালী উপজেলা ২০১১ সালে গঠিত হওয়ায় এর আগের নির্বাচনগুলোতে আসনের প্রশাসনিক বিন্যাস এখনকার মতো ছিল না।
সূত্র: 103.183.38.66 ১, 103.183.38.66 ২, tbsnews.net ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, en.banglapedia.org ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, en.banglapedia.org ২, tbsnews.net ২, ittefaq.com.bd, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩, উইকিপিডিয়া (বাংলা), উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৪। ভুল দেখলে জানান।
সংসদে মেয়াদ
সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ১ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।
২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট
আসনের সব ফল →- এ বি এম মোশাররফ হোসেন
BNPবিজয়ী১,২৪,০১৩৫৯.২% - Mostafizur Rahman
IAB৭০,১২৭৩৩.৫% - Dr Zahir Uddin Ahmed
KM১৪,৯৮৫৭.২% - Md Rabiul Hasan
GOP২০২০.১%
সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন(২)
আসন: পটুয়াখালি-৪
আসনের পাতা →(ক)কলাপাড়া এবং(খ) রাঙ্গাবালী উপজেলা
সংসদীয় কমিটি(৪)
সংবাদ ও ভিডিও
সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…