
আ ন ম এহছানুল হক মিলন
A N M Ehsanul Hoque Milon
সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা
পরিচিতি
আ ন ম এহছানুল হক মিলন চাঁদপুর-১ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সদস্য, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি, বিএনপি এবং বর্তমানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী।
ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন (A N M Ehsanul Hoque Milon) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতা, চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনের সংসদ সদস্য এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০২৬ সালে তিনবার তিনি এই আসন থেকে সংসদে নির্বাচিত হয়েছেন।
শিক্ষাবিদ ও লেখক মিলন ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে পাবলিক পরীক্ষায় নকলবিরোধী অভিযানের জন্য দেশজুড়ে পরিচিতি পান। দীর্ঘদিন তিনি বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন; ২০২২ সালে তাঁকে ওই পদ থেকে সরিয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য করা হয়।
শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা
১৯৫৭ সালে চাঁদপুরের কচুয়ায় তাঁর জন্ম। বাবা ওবায়দুল হক, মা মাহমুদা হক।
রাজনৈতিক জীবন
১৯৯৬ সালের জুনে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-১ থেকে তিনি প্রথমবার সংসদ সদস্য হন। ২০০১ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীরকে ২২,৯৭০ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয়বার জয়ী হন। ২০০৬ সালের পর দল ক্ষমতার বাইরে থাকার সময় তাঁর বিরুদ্ধে বহু মামলা হয় এবং ২০১৮ সালের নভেম্বরে বিদেশ থেকে ফেরার পর তিনি গ্রেপ্তার হন; পরে উচ্চ আদালত থেকে বিভিন্ন মামলায় জামিন পান।
২০২৬ নির্বাচন
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে তিনি ১,৩৩,০৩২ ভোট পান। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আবু নসর মোহাম্মদ মাকবুল আহমেদ (Abu Nasr Mohammad Maqbul Ahmed) পান ৭০,৩৬৮ ভোট; ব্যবধান ৬২,৬৬৪ ভোট। আসনটিতে ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এই জয়ে ২০০১ সালের পর প্রথমবার আসনটি বিএনপির হাতে ফেরে।
উল্লেখযোগ্য কাজ ও অবদান
২০০১ সালের ১০ অক্টোবর থেকে ২০০৬ সালের ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে তিনি পরীক্ষাকেন্দ্রে নকলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন এবং সারা দেশে কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। দ্য ডেইলি স্টারের (The Daily Star) ২০০৪ সালের এক প্রতিবেদনে সে বছর এসএসসিতে পাসের হার বেড়ে প্রায় ৫০ শতাংশে পৌঁছানোর পেছনে তাঁর পরিদর্শন অভিযানের ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়।
লেখক হিসেবেও তিনি সক্রিয়।
সূত্র: উইকিপিডিয়া (বাংলা), উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, tbsnews.net, dhakatimes24.com ১, thedailystar.net ১, thedailystar.net ২, en.prothomalo.com, moedu.gov.bd, banglatribune.com, dhakatimes24.com ২, archive.thedailystar.net। ভুল দেখলে জানান।
* চিহ্নিত তথ্য সদস্যের উইকিপিডিয়া নিবন্ধ থেকে নেওয়া; সংসদ বা নির্বাচন কমিশনের নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি। ভুল দেখলে জানান।
বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম
২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের (Tarique Rahman) মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান।
শিক্ষামন্ত্রী এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী হিসেবে প্রাক্-প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা, পাবলিক পরীক্ষা এবং শিক্ষক নিয়োগ ও কল্যাণ-সংক্রান্ত নীতিনির্ধারণ তাঁর দায়িত্বের আওতায়। ২২ ফেব্রুয়ারি শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি শিক্ষক-কর্মচারীদের ঈদ উৎসব ভাতা ২৫ থেকে ৫০ শতাংশে উন্নীত করার কথা জানান এবং বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) নিয়োগব্যবস্থা পর্যালোচনার ঘোষণা দেন। ১৭ এপ্রিল দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি বলেন, শিক্ষক নিয়োগে মেধাই হবে একমাত্র মানদণ্ড। ১০ আগস্ট তিনি জানান, নতুন বিধান অনুযায়ী এসএসসির উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নে অভিজ্ঞ কমিটি খাতা নতুন করে দেখবে। ১৪ অক্টোবর তিনি চীনের তিয়ানজিনে বিশ্ব বৃত্তিমূলক ও কারিগরি শিক্ষা উন্নয়ন সম্মেলনে যোগ দিতে তিন দিনের সফরে যান।
সূত্র: moedu.gov.bd, bangla.thedailystar.net, en.prothomalo.com, bssnews.net, banglatribune.com। ভুল দেখলে জানান।
নির্বাচনী এলাকা
সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।
নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি
চাঁদপুর-১ জাতীয় সংসদের ২৬০ নম্বর আসন, চট্টগ্রাম বিভাগের চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত। নির্বাচন কমিশনের সীমানা নির্ধারণ অনুযায়ী পুরো কচুয়া উপজেলা এই আসনের অন্তর্ভুক্ত; এর মধ্যে রয়েছে কচুয়া পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়ন। ২০২৬ সালের নির্বাচনে এখানে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ৩,৫৬,৪৮৫ জন, ভোটকেন্দ্র ছিল ২১১টি।
কচুয়া জেলার উত্তর প্রান্তে অবস্থিত; উত্তরে ও পূর্বে কুমিল্লা জেলার চান্দিনা, দাউদকান্দি ও বরুড়া উপজেলা, দক্ষিণে হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তি এবং পশ্চিমে মতলব দক্ষিণ উপজেলা। আয়তন ২৩৫.৮১ বর্গকিলোমিটার। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী উপজেলার জনসংখ্যা ৪,০৫,৪৯৭ এবং সাত বছর ও তার বেশি বয়সীদের সাক্ষরতার হার ৭৫.০২ শতাংশ।
এখানকার অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর। ধান, গম, আলু, সরিষা ও তিল প্রধান ফসল; কুল, কলা ও আলু বাইরে সরবরাহ হয়। কচুয়া, রহিমানগর, সাচার ও বড়দৈল উল্লেখযোগ্য বাজার। চাঁদপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এই উপজেলায় অবস্থিত। ঐতিহাসিক নিদর্শনের মধ্যে রয়েছে আঠারো শতকের গোড়ায় নির্মিত উজানীর বখতিয়ার খাঁ মসজিদ, ১৯০১ সালে প্রতিষ্ঠিত উজানীর জামিয়া ইসলামিয়া ইব্রাহিমিয়া মাদ্রাসা, তুলাতুলী মঠ, আশ্রাফপুর তিন গম্বুজ মসজিদ এবং সাচারের শ্রীশ্রী জগন্নাথ মন্দির।
আসনটি ১৯৮৪ সালে গঠিত হয়। ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগ, ১৯৯৬ সালের দুটি নির্বাচন ও ২০০১ সালে বিএনপি এবং ২০০৮ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ এখানে জয়ী হয়; ২০২৬ সালে আসনটি আবার বিএনপির হাতে যায়। ২০১৪ সালের আগে মতলব দক্ষিণ উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নও এই আসনের অংশ ছিল, তাই সব নির্বাচনের এলাকা হুবহু এক ছিল না।
সূত্র: উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (বাংলা), উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, tbsnews.net, bssnews.net। ভুল দেখলে জানান।
সংসদে মেয়াদ
সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ৩ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন; আগের ২টি মেয়াদের মধ্যে ১টির বিস্তারিত এখানে আছে। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।
২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট
আসনের সব ফল →- আ ন ম এহছানুল হক মিলন
BNPবিজয়ী১,৩৩,০৩২৬৩.৭% - Abu Nasr Mohammad Maqbul Ahmed
BJEI৭০,৩৬৮৩৩.৭%
- Mohammad Nasir UddinBIF৪,৩৭১২.১%
- Habib KhanJP(ERSHAD)৬৫২০.৩%
- Mohammad Azad HossainGF৩২৯০.২%
- Md Enayet Hossain
GOP২১৭০.১%
সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন
আসন: চাঁদপুর-১
আসনের পাতা →কচুয়া উপজেলা
সংসদীয় কমিটি(২)
সংবাদ ও ভিডিও
সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…
সম্পাদকের যাচাই করা ১৯টি খবর