
আবদুল আউয়াল মিন্টু
Abdul Awal Mintoo
সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা
পরিচিতি
আবদুল আউয়াল মিন্টু ফেনী-৩ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সংসদ সদস্য এবং বর্তমানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি, সংসদীয় কমিটি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।
আবদুল আউয়াল মিন্টু (Abdul Awal Mintoo) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী এবং ফেনী-৩ (সোনাগাজী-দাগনভূঞা) আসনের সংসদ সদস্য। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপির (Bangladesh Nationalist Party) ভাইস চেয়ারম্যান এই শিল্পোদ্যোক্তা দুই মেয়াদে দেশের শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের (FBCCI) সভাপতি ছিলেন।
শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা
১৯৪৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার আলাইয়াপুর গ্রামে তাঁর জন্ম। বাবা আলহাজ শফিউল্লাহ দুবার দাগনভূঞা উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন; মা বদরের নেছা। ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬৪ সালে এসএসসি এবং কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে ১৯৬৬ সালে এইচএসসি পাস করেন। ১৯৬৮ সালে তৎকালীন পাকিস্তান মেরিন একাডেমি থেকে নটিক্যাল সায়েন্সে ডিপ্লোমা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্ক মেরিটাইম কলেজ (State University of New York Maritime College) থেকে মেরিন ট্রান্সপোর্টেশনে স্নাতক এবং পরিবহন ব্যবস্থাপনায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
তাঁর স্ত্রী নাসরীন ফাতেমা আউয়াল উইমেন এন্টারপ্রেনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। তাঁদের তিন ছেলে: তাবিথ, তাফসির ও তাজওয়ার আউয়াল।
রাজনৈতিক জীবন
রাজনীতির শুরুতে তিনি আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, পরে বিএনপিতে যোগ দিয়ে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার (Khaleda Zia) উপদেষ্টা হন। ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে বিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি গ্রেপ্তার হন এবং পরে জামিনে মুক্তি পান। ২০১৪ সালের ১৮ জুলাই ঘোষিত বিএনপির ঢাকা মহানগর আহ্বায়ক কমিটিতে তাঁকে এক নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়।
২০১৫ সালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে তিনি মনোনয়নপত্র জমা দেন, তবে সমর্থনকারী ভোটার সিটি এলাকার বাইরের হওয়ায় নির্বাচন কমিশন তা বাতিল করে এবং উচ্চ আদালতও সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। পরে বিএনপি তাঁর ছেলে তাবিথ আউয়ালকে সমর্থন দেয়। ২০১৬ সালের আগস্টে ঘোষিত বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটিতে তিনি ভাইস চেয়ারম্যান হন।
২০২৬ নির্বাচন
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি প্রথমবার সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হন। ৫,০৮,১৯৪ জন নিবন্ধিত ভোটারের ফেনী-৩ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পান ১,৫৭,৮২৫ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন (Mohammad Fakhruddin) পান ১,০৮,১৬০ ভোট; জয়ের ব্যবধান ৪৯,৬৬৫ ভোট।
উল্লেখযোগ্য কাজ ও অবদান
১৯৮১ সালে তিনি মাল্টিমোড গ্রুপ (Multimode Group) প্রতিষ্ঠা করেন। এর প্রতিষ্ঠান লাল তীর সিড (Lal Teer Seed) ও লাল তীর লাইভস্টক ডেভেলপমেন্টের মাধ্যমে বীজ উৎপাদন ও গবেষণা এবং প্রাণিসম্পদ খাতে তিনি কাজ করেছেন। কৃষি ও খাদ্য খাতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ওয়ার্ল্ড ফুড প্রাইজ ফাউন্ডেশন (World Food Prize Foundation) ২০২৫ সালে তাঁকে ‘টপ অ্যাগ্রি-ফুড পাইওনিয়ার’ সম্মাননা দেয়; ২২ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের ডেময়েনে তা প্রদান করা হয়।
তিনি ১৯৯৮–২০০০ মেয়াদে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি ছিলেন এবং ২০০৩ সালের আগস্টে ২০০৩–০৫ মেয়াদে আবার সভাপতি নির্বাচিত হন। বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি (১৯৯৭–৯৯) এবং বাংলাদেশ ওশান গোয়িং শিপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান (১৯৮৮–২০০০) ছিলেন। ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশ ব্যাংক ন্যাশনাল ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার পর তিনি ব্যাংকটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। নিজ এলাকায় ইকবাল মেমোরিয়াল কলেজ, বদরের নেছা উচ্চ বিদ্যালয় ও আলহাজ শফিউল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের সঙ্গে তিনি যুক্ত।
সূত্র: উইকিপিডিয়া (ইংরেজি), উইকিপিডিয়া (বাংলা), dhakatimes24.com, prothomalo.com, today.thefinancialexpress.com.bd ১, dhakatribune.com ১, today.thefinancialexpress.com.bd ২, bdnews24.com, archive.thedailystar.net, dhakatribune.com ২, en.prothomalo.com, tbsnews.net, moef.gov.bd। ভুল দেখলে জানান।
বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম
২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের (Tarique Rahman) মন্ত্রিসভায় শপথ নিয়ে তিনি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। পাশাপাশি তিনি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় পরিবেশ অধিদপ্তর, বন অধিদপ্তর, বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট ও বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে দূষণ নিয়ন্ত্রণ, বন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু অভিযোজনের কাজ দেখে। মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আছেন শেখ ফরিদুল ইসলাম।
৮ জুলাই সচিবালয়ে তিনি জানান, পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং শব্দ, বায়ু ও পানিদূষণে নজরদারি জোরদার হবে; জানুয়ারি থেকে জুনে অভিযানে ১১২টি অবৈধ কারখানার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। ১০ জুলাই এক অনুষ্ঠানে তিনি এই ‘ন্যাশনাল গ্রিন মিশন’-এর কথা তুলে ধরেন। ২৯ জুলাই বিশ্ব বাঘ দিবসে তিনি বলেন, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের সামঞ্জস্য ছাড়া উন্নয়ন টেকসই হবে না। ২৬ আগস্ট মঙ্গোলিয়ার উলানবাটরে জাতিসংঘের মরুকরণবিরোধী সনদের কপ-১৭ সম্মেলনে তিনি চারণভূমি ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে যুক্ত করার আহ্বান জানান।
সূত্র: moef.gov.bd, bdnews24.com, bssnews.net, prothomalo.com, dailyinqilab.com। ভুল দেখলে জানান।
নির্বাচনী এলাকা
সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।
নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি
ফেনী-৩ আসন চট্টগ্রাম বিভাগের ফেনী জেলার দুটি উপজেলা নিয়ে গঠিত: সোনাগাজী ও দাগনভূঞা। নির্বাচন কমিশনের হিসাবে ২০২৬ সালের নির্বাচনে আসনটিতে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ৫,০৮,১৯৪ জন।
সোনাগাজী (Sonagazi) জেলার দক্ষিণে, বঙ্গোপসাগরের উপকূলে; এটি ফেনীর একমাত্র উপকূলীয় এবং আয়তনে বৃহত্তম উপজেলা (প্রায় ২৮৫ বর্গকিলোমিটার)। ২০২২ সালের জনশুমারিতে জনসংখ্যা ২,৯০,৬৬৭। একটি পৌরসভা ও নয়টি ইউনিয়নের এই উপজেলার পূর্বে ফেনী নদী ও পশ্চিমে ছোট ফেনী নদী। অর্থনীতির মূল ভিত্তি ধানচাষ; উপকূলের চরে মাছ ও পশুপালনও গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৮৬ সালে সম্পন্ন মুহুরী সেচ প্রকল্প বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সেচের পাশাপাশি পিকনিক ও পাখি দেখার জায়গা হিসেবে পরিচিত; এখানে একটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রও চালু রয়েছে। লেখক শহীদুল্লা কায়সার (Shahidullah Kaiser) ও চলচ্চিত্রকার জহির রায়হান (Zahir Raihan) এ উপজেলার সন্তান।
দাগনভূঞা (Daganbhuiyan) জেলার পশ্চিমে, ফেনী-নোয়াখালী মহাসড়কের পাশে। ২০২২ সালের জনশুমারিতে জনসংখ্যা ২,৭৬,৯১৫; একটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়ন রয়েছে। ভাষাশহীদ আবদুস সালামের (Abdus Salam) জন্মস্থান এই উপজেলা; এখানে তাঁর নামে গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর রয়েছে। সরকারি ইকবাল মেমোরিয়াল কলেজ, প্রতাপপুর জমিদারবাড়ি এবং সিন্দুরপুর, রাজাপুর ও দুধমুখার মতো হাটবাজার এলাকার পরিচিত স্থান।
১৯৮৪ সালে নোয়াখালী-৩ থেকে আসনটি গঠিত হয় এবং ২০০৮ সালের আগে সীমানা পুনর্নির্ধারণ হয়। ১৯৯১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত টানা বিএনপির প্রার্থীরা জয়ী হন। ২০১৪ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং ২০১৮ ও ২০২৪ সালে জাতীয় পার্টির মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী জয়ী হন; ২০২৬ সালে আসনটি আবার বিএনপির হাতে আসে।
সূত্র: tbsnews.net, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, উইকিপিডিয়া (বাংলা) ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩, উইকিপিডিয়া (বাংলা) ২। ভুল দেখলে জানান।
সংসদে মেয়াদ
সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ১ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।
২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট
আসনের সব ফল →- আবদুল আউয়াল মিন্টু
BNPবিজয়ী১,৫৭,৮২৫৫৭.২% - Md. Fakhruddin
BJEI১,০৮,১৬০৩৯.২%
- Md. Saif Uddin
IAB৬,৭০১২.৪% - Md. Abu SufianJP(ERSHAD)১,৪২৭০.৫%
- Abdul MalekBasad৭৩১০.৩%
- Md. Abu NasirIFB৫৩১০.২%
- Md. Hasan AhmadIBB৩২৭০.১%
- Md. Khalekuzzaman PatwaryBKA৩২০০.১%
সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন
আসন: ফেনী-৩
আসনের পাতা →(ক)সোনাগাজী এবং(খ) দাগনভুঁঞা উপজেলা
সংসদীয় কমিটি(১)
সংবাদ ও ভিডিও
সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…
সম্পাদকের যাচাই করা ২টি খবর