
আবু জাফর মোঃ জাহিদ হোসেন
Abu Zafar Md. Zahid Hossain
সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা
পরিচিতি
আবু জাফর মোঃ জাহিদ হোসেন দিনাজপুর-৬ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং বর্তমানে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী।
অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন (A Z M Zahid Hossain), পুরো নাম আবু জাফর মোঃ জাহিদ হোসেন, দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য।
পেশায় তিনি ইউরোলজিস্ট। ১৯৮৯ সাল থেকে চিকিৎসক ও পেশাজীবী সংগঠনে সক্রিয় এই রাজনীতিক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা
১৯৬০ সালের ২৫ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে তাঁর জন্ম। পৈতৃক নিবাস দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার পুটিমারা ইউনিয়নের মতিহারা গ্রামে। বাবা জাফর আলী সরকার, মা বেগম জেবুন নেছা। তাঁর স্ত্রী ডা. শরীফা করিম শর্ণা (Sharifa Karim Sharna)ও চিকিৎসক।
১৯৮৩ সালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন। পরে বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস থেকে এফসিপিএস (১৯৯৭), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইউরোলজিতে এমএস (২০০১), কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস পাকিস্তান থেকে এফসিপিএস (২০০৪) এবং যুক্তরাজ্যের রয়্যাল কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অব এডিনবরা থেকে এফআরসিপি (২০০৬) অর্জন করেন।
রাজনৈতিক জীবন
১৯৭৯ সালে ছাত্ররাজনীতিতে তাঁর পথচলা শুরু; সে সময় তিনি ময়ূখ সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর সদস্যও ছিলেন। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পড়ার সময় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন। ১৯৮৯ সাল থেকে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সঙ্গে যুক্ত; ১৯৯৮ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে চার মেয়াদে সংগঠনটির মহাসচিব ছিলেন। বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছেন। ২০০৫ সাল থেকে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের সদস্য সচিব এবং ২০২২ সাল থেকে আহ্বায়ক।
দলে ২০১০ সালে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হন, ২০১৬ সালের কাউন্সিলে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং ২০২৪ সালের ১৬ আগস্ট জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মনোনীত হন। বিরোধী দলে থাকার বছরগুলোতে রাজনৈতিক কারণে তিনবার কারাবরণ করেন: ২০০৯ সালের মে থেকে ডিসেম্বর, ২০১১ সালে এবং ২০১৩ সালের মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত। দীর্ঘ এই সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে পঞ্চাশটির বেশি মামলা হয়।
২০২৬ নির্বাচন
১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দিনাজপুর-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে তিনি ২,০৫,১১৮ ভোট পান। সাতজন প্রার্থীর এই লড়াইয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম (Md. Anwarul Islam) পান ১,৯০,৭০৩ ভোট; জয়ের ব্যবধান ১৪,৪১৫ ভোট। তৃতীয় স্থানে থাকা জাতীয় পার্টির মোঃ রেজাউল হক পান ২,৬৮৯ ভোট। নির্বাচনের দিন তিনি নিজ এলাকা নবাবগঞ্জের পুটিমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন।
উল্লেখযোগ্য কাজ ও অবদান
চিকিৎসা পেশায় তিনি বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউরোলজির অধ্যাপক হিসেবে শিক্ষকতা করেছেন। দীর্ঘদিন তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার (Khaleda Zia) ব্যক্তিগত চিকিৎসক ছিলেন এবং তাঁর চিকিৎসার তত্ত্বাবধানে যুক্ত ছিলেন; ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর তিনিই নিশ্চিত করেন। চার মেয়াদে ড্যাবের মহাসচিব এবং সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের নেতা হিসেবে তিনি চিকিৎসক ও পেশাজীবীদের সংগঠিত করার কাজে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
সূত্র: উইকিপিডিয়া (বাংলা), উইকিপিডিয়া (ইংরেজি), tbsnews.net ১, bssnews.net, itvbd.com, dhakatimes24.com, tbsnews.net ২, dailyinqilab.com। ভুল দেখলে জানান।
বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম
২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের (Tarique Rahman) মন্ত্রিসভায় তিনি সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। দুই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বই তিনি পালন করছেন।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতাসহ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণের দায়িত্বে; মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় নারীর ক্ষমতায়ন ও শিশুর সুরক্ষা দেখে। ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ মন্ত্রণালয়ের সভায় তিনি ডিএনএ ল্যাবরেটরি ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরকে আন্তর্জাতিক মানের ল্যাব গড়ার পরামর্শ দেন। ২৮ জুন সংসদে জানান, পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন, ২০১৩ সংশোধন করা হচ্ছে এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বয়স্ক ভাতা মাসে ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা ও প্রতিবন্ধী ভাতা ৯০০ থেকে ১,০০০ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। ৮ সেপ্টেম্বর নরওয়ের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে তিনি নারীর নামে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি তুলে ধরে সহযোগিতা চান। ১৩ অক্টোবর বিশ্ব সেরিব্রাল পালসি দিবসের অনুষ্ঠানে ৫০ শিশুকে বিশেষ অনুদানের চেক দেন।
সূত্র: উইকিপিডিয়া (ইংরেজি), tbsnews.net, prothomalo.com, bssnews.net, dailyinqilab.com, dhakatribune.com। ভুল দেখলে জানান।
নির্বাচনী এলাকা
সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।
নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি
দিনাজপুর-৬ আসন রংপুর বিভাগের দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাংশে। নির্বাচন কমিশনের ২০২৫ সালের সীমানা নির্ধারণ অনুযায়ী নবাবগঞ্জ, বিরামপুর, হাকিমপুর ও ঘোড়াঘাট উপজেলা নিয়ে আসনটি গঠিত। জেলা নির্বাচন অফিসের হিসাবে ২০২৬ সালের নির্বাচনে এখানে ভোটার ছিলেন প্রায় ৫ লাখ ৫৮ হাজার, ভোটকেন্দ্র ছিল ২৩৪টি।
নবাবগঞ্জ উপজেলার আয়তন ৩১৪.৬৮ বর্গকিলোমিটার; ২০২২ সালের জনশুমারিতে জনসংখ্যা ২,৫৪,০৩৬। শালবনঘেরা নবাবগঞ্জ জাতীয় উদ্যান, স্বপ্নপুরী বিনোদনকেন্দ্র ও সীতাকোট বিহার এখানে অবস্থিত; পুটিমারা ইউনিয়নের দীঘিপাড়ায় কয়লার মজুত চিহ্নিত হয়েছে। ভারত সীমান্তঘেঁষা বিরামপুরের জনসংখ্যা ১,৮৪,১৪৪ (২০২২); কৃষিই প্রধান জীবিকা, ধান, গম, ভুট্টা, পাট, আলু ও সবজি প্রধান ফসল। সীমান্তবর্তী হাকিমপুর উপজেলার জনসংখ্যা ৯৫,৯৭২ (২০২২); এখানকার হিলি স্থলবন্দর দেশের অন্যতম বড় স্থলবন্দর। ঘোড়াঘাটের জনসংখ্যা ১,৩১,৪১৩ (২০২২); কর্মজীবীদের প্রায় ৬৯ শতাংশ কৃষিনির্ভর। করতোয়া নদীর তীরে ঘোড়াঘাট দুর্গ মসজিদ (১৭৪০-৪১), ষোড়শ শতকের সুরা মসজিদ এবং ঘোড়াঘাট সরকারি কলেজ এই উপজেলার উল্লেখযোগ্য স্থাপনা।
১৯৯১ ও ২০০১ সালে আসনটিতে জামায়াতে ইসলামীর আজিজুর রহমান চৌধুরী নির্বাচিত হন; ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি এবং জুনে আওয়ামী লীগ জয়ী হয়। ২০০৮ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত আসনটি আওয়ামী লীগের হাতে ছিল, যার মধ্যে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে শিবলী সাদিক নির্বাচিত হন। ২০২৬ সালে বিএনপির এ জেড এম জাহিদ হোসেন জয়ী হন। ১৯৮৬ সালের নির্বাচনের আগে আসনের সীমানায় বড় পরিবর্তন হয়েছিল।
সূত্র: bssnews.net, tbsnews.net, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (বাংলা), উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৪, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৫। ভুল দেখলে জানান।
সংসদে মেয়াদ
সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ১ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।
২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট
আসনের সব ফল →- আবু জাফর মোঃ জাহিদ হোসেন
BNPবিজয়ী২,০৫,১১৮৫১.১% - Md. Anwarul Islam
BJEI১,৯০,৭০৩৪৭.৫%
- Md. Rezaul HaqueJP(ERSHAD)২,৬৮৯০.৭%
- Md. Nur Alam Siddique
IAB১,৬৫৯০.৪% - Md. Abdul HakimBasad৪৪৯০.১%
- Md AbdullahInd৪১৮০.১%
- Md. Shahnewaz Firoz Shuvo ShahInd১৫২০.০%
সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন
আসন: দিনাজপুর-৬
আসনের পাতা →(ক)নবাবগঞ্জ,(খ) বিরামপুর,(গ) হাকিমপুর এবং (ঘ)ঘোড়াঘাট উপজেলা
সংসদীয় কমিটি(২)
সংবাদ ও ভিডিও
সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…