
আফরোজা খানম
Afroza Khanam
সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা
পরিচিতি
আফরোজা খানম মানিকগঞ্জ-৩ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সংসদ সদস্য এবং বর্তমানে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি, নির্বাচনী ফলাফল, আগের মেয়াদ, সংসদীয় কমিটি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।
আফরোজা খানম রিতা (Afroza Khanam Rita) মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের (Tarique Rahman) মন্ত্রিসভায় খাদ্যমন্ত্রী। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপির (Bangladesh Nationalist Party) এই নেতা পেশায় শিল্পোদ্যোক্তা, মুন্নু গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের (Monno Group of Industries) চেয়ারম্যান।
প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েই তিনি মন্ত্রিসভায় জায়গা পান। স্বাধীনতার পর এই আসন থেকে নির্বাচিত তিনিই একমাত্র নারী সংসদ সদস্য।
শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা
১৯৬২ সালের ৪ এপ্রিল মানিকগঞ্জে তাঁর জন্ম। বাবা হারুনার রশিদ খান মুন্নু (Harunur Rashid Khan Monno) ছিলেন শিল্পপতি ও বিএনপির রাজনীতিক। তিনি মানিকগঞ্জ-২ ও মানিকগঞ্জ-৩ আসন থেকে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে দুটি আসনেই জিতে তিনি মানিকগঞ্জ-৩ আসনটি রেখে দেন এবং সে বছর খালেদা জিয়ার (Khaleda Zia) মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী হন; ২০১৭ সালে তিনি মারা যান। মা হুরুন নাহার রশিদও মুন্নু গ্রুপের চেয়ারম্যান ছিলেন; ২০২৬ সালের ১ মার্চ ৮৩ বছর বয়সে তিনি মারা যান।
উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় রিতা সারা দেশের সম্মিলিত মেধা তালিকায় অষ্টম স্থান পান। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিসাববিজ্ঞানে বি.কম (সম্মান) ডিগ্রি নেন। তাঁর স্বামী মইনুল ইসলাম; তাঁদের তিন ছেলে।
রাজনৈতিক জীবন
বাবার হাত ধরেই রাজনীতিতে আসেন রিতা। ২০০১ সালের অষ্টম সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-২ ও মানিকগঞ্জ-৩ আসনে বাবার নির্বাচনী কার্যক্রমের প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে তিনি ধানের শীষ প্রতীকে মানিকগঞ্জ-২ (হরিরামপুর ও সিংগাইর) আসনে প্রার্থী হয়ে ১,২৬,৪২৩ ভোট পান; সেবার আসনটিতে জাতীয় পার্টির প্রার্থী জয়ী হন। একই নির্বাচনে তাঁর বাবা মানিকগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন।
২০১০ সালে তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৩ সালে মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব নেন এবং ২০২১ সালে কাউন্সিলে ভোটের মাধ্যমে আবার সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদেরও সদস্য। বিরোধী দলে থাকার বছরগুলোতে হামলা ও মামলার মুখে পড়া কর্মীদের পাশে থেকে তিনি জেলায় দলকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছিলেন বলে স্থানীয় নেতারা মনে করেন। ২০২৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি তাঁকে সাত সদস্যের জেলা বিএনপি কমিটির আহ্বায়ক করা হয়।
২০২৬ নির্বাচন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-৩ (সদর ও সাটুরিয়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী রিতা ১,৬৭,৩৪৫ ভোট পান। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. সাঈদ নূর (Muhammad Saidanur) পান ৬৪,২৪২ ভোট। জয়ের ব্যবধান ১,০৩,১০৩ ভোট। ৪,০০,০৫৯ জন নিবন্ধিত ভোটারের এই আসনে মোট নয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, নারী ভোটারদের কাছে তাঁর সরাসরি প্রচার, দলের ঐক্য এবং বাবার উন্নয়নকাজের স্মৃতি এই জয়ে ভূমিকা রাখে।
উল্লেখযোগ্য কাজ ও অবদান
শিল্পোদ্যোক্তা হিসেবে রিতা মুন্নু গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন, পরে গ্রুপের চেয়ারম্যান হন। এই শিল্পগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে মুন্নু সিরামিকস, মুন্নু জুটেক্স ও মুন্নু ফ্যাব্রিকস। রাজনীতিতে এক যুগের বেশি সময় ধরে তিনি মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির নেতৃত্ব দিয়েছেন।
সূত্র: prothomalo.com ১, prothomalo.com ২, dhakatimes24.com, ittefaq.com.bd, উইকিপিডিয়া (বাংলা), উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩, thefinancialexpress.com.bd, tbsnews.net, bangladeshmonitor.com.bd, thedailystar.net। ভুল দেখলে জানান।
* চিহ্নিত তথ্য সদস্যের উইকিপিডিয়া নিবন্ধ থেকে নেওয়া; সংসদ বা নির্বাচন কমিশনের নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি। ভুল দেখলে জানান।
বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম
২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি তারেক রহমানের মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ নেন। ২১ আগস্ট ২০২৬ থেকে তিনি খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী।
খাদ্যমন্ত্রী হিসেবে সরকারি খাদ্যশস্যের সংগ্রহ, মজুদ, সংরক্ষণ ও বিতরণ এবং নিরাপদ খাদ্য সরবরাহের নীতিগত দায়িত্ব তাঁর হাতে।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ে আসার আগে প্রায় ছয় মাস তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন। ৩০ মার্চ ২০২৬ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসে (Biman Bangladesh Airlines) লাগেজ চুরির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা, যাত্রীদের প্রতি সম্মানজনক আচরণ ও টিকিট বিক্রিতে স্বচ্ছতার নির্দেশ দেন।
খাদ্যমন্ত্রী হিসেবে ২৮ আগস্ট ২০২৬ তিনি জানান, ৬৪ জেলার সরকারি খাদ্যগুদামে পর্যায়ক্রমে নিরীক্ষা হবে; ঘিওরের গুদামে চাল ও গমের ঘাটতির ঘটনা তিনি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন। ৬ সেপ্টেম্বর খাদ্য অধিদপ্তরের সভায় দেশজুড়ে জীর্ণ গুদাম প্রয়োজন অনুযায়ী সংস্কারের নির্দেশ দেন। ১০ সেপ্টেম্বর ঢাকায় বাপা ফুডপ্রো আন্তর্জাতিক এক্সপোর উদ্বোধনে খাদ্য নিরাপত্তায় সরকারের অঙ্গীকারের কথা বলেন।
সূত্র: tbsnews.net, observerbd.com ১, observerbd.com ২, bssnews.net ১, bssnews.net ২। ভুল দেখলে জানান।
নির্বাচনী এলাকা
সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।
নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি
মানিকগঞ্জ-৩ ঢাকা বিভাগের মানিকগঞ্জ জেলার একটি সংসদীয় আসন, জাতীয় সংসদের ১৭০ নম্বর আসন। নির্বাচন কমিশনের ২০২৫ সালের সীমানা নির্ধারণ অনুযায়ী আসনটি গঠিত (ক) হাটিপাড়া ও ভাড়ারিয়া ইউনিয়নসমূহ ব্যতীত মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা এবং (খ) সাটুরিয়া উপজেলা নিয়ে। অর্থাৎ সদরের মানিকগঞ্জ পৌরসভা ও বাকি আটটি ইউনিয়ন এবং সাটুরিয়ার নয়টি ইউনিয়ন এই আসনে পড়েছে। আগের সীমানায় সদরের পুটাইল ইউনিয়নও আসনের বাইরে ছিল। ২০২৬ সালের নির্বাচনে এখানে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ৪,০০,০৫৯ জন।
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা (আয়তন প্রায় ২১৫ বর্গকিলোমিটার) জেলার মাঝখানে, ধলেশ্বরী, ইছামতী ও কালীগঙ্গা নদীর অববাহিকায়। ২০২২ সালের জনশুমারিতে উপজেলার জনসংখ্যা ৩,৬৩,৮২৯। কৃষি প্রধান আয়ের উৎস, এরপর সেবা ও ব্যবসা। সরকারি দেবেন্দ্র কলেজ (১৯৪২), মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ, মানিকগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় (১৮৮৪) ও জয়রার গরুর হাট এখানকার পরিচিত প্রতিষ্ঠান ও স্থান। ঐতিহাসিক গড়পাড়ায় সুলতান সিকান্দার শাহ যুদ্ধে নিহত হন; ১৬৬২ সালে মীর জুমলা সেখানে মোগল ঘাঁটি স্থাপন করেন।
সাটুরিয়া উপজেলা (প্রায় ১৪০ বর্গকিলোমিটার) সদরের উত্তরে, ধলেশ্বরী, বংশী ও গাজীখালী নদীর তীরে। ২০২২ সালে এর জনসংখ্যা ১,৯৩,২০৬। জনগোষ্ঠীর বড় অংশ কৃষিনির্ভর; ধান, পাট, গম ও সরিষা প্রধান ফসল। বালিয়াটি জমিদারবাড়ি ও ধানকোড়া জমিদারবাড়ি এখানকার উল্লেখযোগ্য ঐতিহাসিক স্থাপনা; সাটুরিয়া হাট ও বালিয়াটি বাজার পরিচিত বাণিজ্যকেন্দ্র।
১৯৯১ সালে বিএনপির নিজাম উদ্দিন খান এবং ২০০১ সালে বিএনপির হারুনার রশিদ খান মুন্নু এই আসনে জয়ী হন। ২০০৮ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত চারটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জাহিদ মালেক (Zahid Maleque) নির্বাচিত হন। ২০২৬ সালে বিএনপির আফরোজা খানম রিতা আসনটিতে জয়ী হন। ২০২৬ সালের আগের সব ফলাফল আগের সীমানার অধীনে।
সূত্র: tbsnews.net, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, bangla.thedailystar.net, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩, en.banglapedia.org ১, en.banglapedia.org ২। ভুল দেখলে জানান।
সংসদে মেয়াদ
সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ১ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।
২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট
আসনের সব ফল →- আফরোজা খানম
BNPবিজয়ী১,৬৭,৩৪৫৬২.৯% - Muhammad Saidanur
BKM৬৪,২৪২২৪.১% - Md. Ataur Rahman AtaInd২০,৫৫১৭.৭%
- Rafiqul Islam KhanInd৩,৬১০১.৪%
- Md Shahjahan AliBangladesh JaSad৩,৫১০১.৩%
- Shamsuddin
IAB২,৭৮৭১.০% - Abul Bashar BadshaJP(ERSHAD)১,৯৬৬০.৭%
- Moazzem Hossain Khan MajlishJP(ERSHAD)১,৩২৭০.৫%
- Mofizul Islam Khan KamalInd৬৮৪০.৩%
সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন
আসন: মানিকগঞ্জ-৩
আসনের পাতা →(ক) হাটিপাড়া ও ভাড়ারিয়া ইউনিয়নসমূহ ব্যতীত মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা এবং (খ) সাটুরিয়া উপজেলা
সংসদীয় কমিটি(১)
সংবাদ ও ভিডিও
সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…