মূল বিষয়ে যান
English
সর্বশেষ
আহম্মদ সোহেল মনজুর

আহম্মদ সোহেল মনজুর

Ahammad Sohel Monzoor

বর্তমান সদস্য, ত্রয়োদশ সংসদপ্রতিমন্ত্রী, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়

সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা

পরিচিতি

আহম্মদ সোহেল মনজুর পিরোজপুর-২ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সংসদ সদস্য এবং বর্তমানে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি, আগের মেয়াদ, সংসদীয় কমিটি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।

আহম্মদ সোহেল মনজুর সুমন (Ahammad Sohel Monzoor Sumon) পিরোজপুর-২ (কাউখালী, ভান্ডারিয়া ও নেছারাবাদ) আসনের সংসদ সদস্য এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) এই নেতা ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জীবনে প্রথমবার প্রার্থী হয়েই জয়ী হন। পেশায় তিনি শিল্পপতি।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ও দেশ রূপান্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ৪৭ বছর পর এই জেলা থেকে বিএনপির কোনো নেতা মন্ত্রিসভায় স্থান পেলেন। খবর পৌঁছালে পিরোজপুরে দলের নেতা-কর্মীরা মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ মিছিল করেন।

শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা

১৯৭০ সালে পিরোজপুর জেলায় তাঁর জন্ম। তিনি একটি রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। বাবা অ্যাডভোকেট মোঃ নুরুল ইসলাম মনজুর (মঞ্জু) ছিলেন ভাষাসৈনিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা; মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি দক্ষিণাঞ্চলের ৯ নম্বর সেক্টরের বেসামরিক প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি এমএনএ, সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী ছিলেন এবং একজন শিল্পোদ্যোক্তা হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। শেখ মুজিবুর রহমানের (Sheikh Mujibur Rahman) সরকারে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের পর তিনি বিএনপিতে যোগ দেন এবং ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে পিরোজপুর-২ আসন থেকে বিএনপির সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

রাজনৈতিক জীবন

সুমন দীর্ঘদিন ধরে পিরোজপুরে বিএনপির সাংগঠনিক রাজনীতিতে সক্রিয়। তিনি পিরোজপুর জেলা বিএনপির সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ভান্ডারিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি। ২০২৫ সালের নভেম্বরের মধ্যেই দল তাঁকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পিরোজপুর-২ আসনে মনোনয়ন দেয়। নির্বাচনের আগে উপজেলায় দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তিনি নেতৃত্ব দেন; যেমন ২০২৫ সালের ৭ নভেম্বর ভান্ডারিয়ায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের আলোচনা সভায় তিনি প্রধান অতিথি ছিলেন।

২০২৬ নির্বাচন

১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে তিনি ১,০৫,১৮৫ ভোট পান। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শামীম সাঈদী (Shamim Saeedi) পান ৯৬,৮৯৭ ভোট; জয়ের ব্যবধান ৮,২৮৮ ভোট। সাত প্রার্থীর এই লড়াইয়ে মোট বৈধ ভোট পড়ে ২,৩০,২৩৮টি, যার প্রায় ৪৫.৭ শতাংশ পান সুমন। স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহমুদ হোসেন পান ১৬,২১৯ ভোট; বিজয়ী ও নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাড়া বাকি পাঁচ প্রার্থীই জামানত হারান। জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার ১২ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে ফল ঘোষণা করেন। ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির পর এই প্রথম আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী জয়ী হলেন।

সূত্র: bssnews.net, deshrupantor.com, dailyinqilab.com, khoborsangjog.com ১, itvbd.com, khoborsangjog.com ২, tbsnews.net, bangla.thedailystar.net ১, bangla.thedailystar.net ২, উইকিপিডিয়া (বাংলা) ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (বাংলা) ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২। ভুল দেখলে জানান।

জন্ম১ ডিসেম্বর ১৯৭০, ৫৫ বছর
জন্মস্থানপিরোজপুর জেলা, বাংলাদেশ*
লিঙ্গপুরুষ
পেশাশিল্পপতি
পিতামোঃ নুরুল ইসলাম মনজুর
মাতাসুফিয়া বেগম
বর্তমান মেয়াদ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০৩১
সংসদ সদস্য নির্বাচিতমোট ১ বার

* চিহ্নিত তথ্য সদস্যের উইকিপিডিয়া নিবন্ধ থেকে নেওয়া; সংসদ বা নির্বাচন কমিশনের নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি। ভুল দেখলে জানান।

বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম

২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের (Tarique Rahman) নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় তিনি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের (Zakaria Taher)। ২০২৬ সালের ২১ আগস্টের মন্ত্রিসভা রদবদলের পরও তাঁর দপ্তর অপরিবর্তিত রয়েছে।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় দেশের আবাসন নীতি, নগর উন্নয়ন এবং সরকারি ভবনের নকশা, নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে; রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ এই মন্ত্রণালয়ের অধীন। শপথের পর প্রতিমন্ত্রী বাসসকে বলেন, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন ও সুশাসনই উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি এবং জনগণের অর্থ জনকল্যাণে ব্যয় হবে।

২৩ মে ২০২৬ রাজউক মিলনায়তনে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ে তিনি উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ শাখার কাজ পর্যালোচনা করেন এবং নগরবাসীর সেবা নিশ্চিতে দলগতভাবে কাজের আহ্বান জানান। ১৬ জুলাই নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে নিউ আরবান এজেন্ডার মধ্যমেয়াদি পর্যালোচনা বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি বাংলাদেশের পক্ষে অন্তর্ভুক্তিমূলক, সাশ্রয়ী ও জলবায়ু-সহনশীল নগর গড়ার অঙ্গীকার তুলে ধরেন। ৫ আগস্ট তিনি জানান, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও গুরুতর আহতদের পরিবারের জন্য রাজধানীর মিরপুরে বহুতল ভবনে বিনামূল্যে ফ্ল্যাট নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।

সূত্র: উইকিপিডিয়া (ইংরেজি), bssnews.net ১, bssnews.net ২, bssnews.net ৩, ittefaq.com.bd, bssnews.net ৪, dhakatimes24.com। ভুল দেখলে জানান।

নির্বাচনী এলাকা

পিরোজপুর-২

সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।

নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি

পিরোজপুর-২ জাতীয় সংসদের ১২৮ নম্বর আসন। বরিশাল বিভাগের পিরোজপুর জেলার কাউখালী, ভান্ডারিয়া ও নেছারাবাদ উপজেলা নিয়ে আসনটি গঠিত। জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুযায়ী ২০২৬ সালের নির্বাচনে এখানে মোট ভোটার ছিলেন ৪,০৯,২৮৮ জন।

কাউখালী উপজেলার আয়তন ৭৯.৫৬ বর্গকিলোমিটার; পূর্বে ঝালকাঠি জেলা। ২০২২ সালের জনশুমারিতে পাঁচ ইউনিয়নের এই উপজেলার জনসংখ্যা ৭০,৭৮৬। মোংলা বন্দর থেকে ঢাকামুখী নৌপথের গাবখান চ্যানেল কাউখালীর কাছ থেকে শুরু হয়েছে; সুপারি, কলা ও পান এখানকার প্রধান কৃষিপণ্য।

ভান্ডারিয়া উপজেলা (১৬৩.৫৬ বর্গকিলোমিটার) কাউখালীর দক্ষিণে, কচা ও বলেশ্বর নদীর তীরে। একটি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়নের এই উপজেলার জনসংখ্যা ২০২২ সালের জনশুমারিতে ১,৬৩,৬৫৪। ধান, পান ও মরিচ প্রধান ফসল; চালকল, করাতকল ও শীতলপাটি শিল্পও আছে। হরিণপালা রিভারভিউ ইকোপার্ক, ভান্ডারিয়া সরকারি কলেজ (১৯৭০) ও বিহারীলাল মিত্র পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় (১৯১১) উল্লেখযোগ্য।

নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) উপজেলা (২০০.৩৩ বর্গকিলোমিটার) স্বরূপকাঠি পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত; ২০২২ সালের জনশুমারিতে জনসংখ্যা প্রায় ২,৩১,০০০। কাঠের ব্যবসার জন্য উপজেলাটি দেশজুড়ে পরিচিত; নৌযান নির্মাণ ও বিসিক শিল্প এলাকাও রয়েছে। পেয়ারা বাগান ও ভাসমান বাজার পর্যটকদের আকর্ষণ করে; ছারছীনা দরবার শরীফ এখানকার বড় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান।

১৯৯১ সাল থেকে আসনটিতে বেশির ভাগ সময় জয়ী হয়েছেন আনোয়ার হোসেন মঞ্জু (Anwar Hossain Manju), জাতীয় পার্টি ও পরে জাতীয় পার্টি (মঞ্জু) থেকে। ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ জয়ী হয়। ২০২৪ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী মহিউদ্দিন মহারাজ জয়ী হন; ২০২৬ সালে আবার বিএনপি জয়ী হয়। বিভিন্ন সময়ে সীমানা পুনর্নির্ধারণে আসনের উপজেলাগুলো বদলেছে, তাই সব নির্বাচনে এলাকাটি হুবহু এক ছিল না।

সূত্র: উইকিপিডিয়া (বাংলা) ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, itvbd.com, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, উইকিপিডিয়া (বাংলা) ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩, উইকিপিডিয়া (বাংলা) ৩, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৪, উইকিপিডিয়া (বাংলা) ৪, bssnews.net। ভুল দেখলে জানান।

সংসদে মেয়াদ

ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬পিরোজপুর-২বর্তমান মেয়াদBNP

সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ১ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।

২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট

আসনের সব ফল →
ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬প্রার্থীদের মোট ২,৩০,২৩৮ ভোট
  1. আহম্মদ সোহেল মনজুরBNPবিজয়ী১,০৫,১৮৫৪৫.৭%
  2. Shamim SaeediBJEI৯৬,৮৯৭৪২.১%
  3. Mahmud HossainInd১৬,২১৯৭.০%
  4. Md. Abul Kalam AzadIAB৬,৬৯৭২.৯%
  5. Md Mahibul HossainJP(ERSHAD)৪,৭০৫২.০%
  6. Faisal KhanAB৩৯০০.২%
  7. Md. Anisur RahmanGOP১৪৫০.১%
উৎস: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড। নির্বাচন কমিশনের গেজেটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি। উইকিপিডিয়াতেও বিজয়ীর ভোট একই।মূল পাতা

সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন

এই সদস্য সম্পর্কে সংসদ সচিবালয়ের কোনো প্রজ্ঞাপন নেই।সংসদ সচিবালয় কোনো সদস্যের নামে প্রজ্ঞাপন বা সরকারি আদেশ প্রকাশ করলে তা প্রতিদিন এখানে যুক্ত হয়।

আসন: পিরোজপুর-২

আসনের পাতা →
এলাকা

(ক)কাউখালি,(খ) ভান্ডারিয়া এবং(গ) নেছারাবাদ উপজেলা

সংসদীয় কমিটি(১)

সংবাদ ও ভিডিও

সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…

সম্পাদকের যাচাই করা ৩টি খবর

কোথা থেকে তথ্য আসে

সদস্য, আসন, কমিটি ও অধিবেশন আসে জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইট থেকে; ভোটার সংখ্যা নির্বাচন কমিশন ও মন্ত্রিসভা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে। ভোটের ফল ও জীবনীর সূত্র আলাদা করে প্রতিটি পাতায় লেখা।

সব সূত্র দেখুন →

কত দিন পরপর হালনাগাদ

প্রতি রাতে পুরো সাইট সংসদের তথ্যভান্ডার থেকে নতুন করে তৈরি হয়। নতুন প্রজ্ঞাপন, বৈঠকের কার্যসূচি বা কমিটির পরিবর্তন পরদিনের মধ্যে যুক্ত হয়; সংবাদ শিরোনাম দিনে কয়েকবার।

পদ্ধতি →

ভুল পেলে

প্রতিটি সদস্যের পাতায় “সংশোধন জানান” বোতাম আছে। সূত্রসহ জানালে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাচাই করে ঠিক করা হয়; সদস্যের দপ্তর নিজের পাতাও হালনাগাদ করাতে পারেন।

যোগাযোগ →