মূল বিষয়ে যান
English
সর্বশেষ
আহমেদ আযম খান

আহমেদ আযম খান

Ahmed Aazam Khan

বর্তমান সদস্য, ত্রয়োদশ সংসদমন্ত্রী, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়

সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা

পরিচিতি

আহমেদ আযম খান টাঙ্গাইল-৮ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ভাইস চেয়ারম্যান এবং বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি, আগের মেয়াদ, সংসদীয় কমিটি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।

আহমেদ আযম খান (Ahmed Azam Khan) টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখিপুর) আসনের সংসদ সদস্য এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভাইস চেয়ারম্যান এই নেতা পেশায় আইনজীবী এবং সুপ্রিম কোর্ট বারের সদস্য।

এর আগে দুবার একই আসনে দলের প্রার্থী হয়ে পরাজিত হলেও ২০২৬ সালে তিনি নিজ এলাকার প্রতিনিধি নির্বাচিত হন এবং তারেক রহমানের (Tarique Rahman) নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় জায়গা পান।

শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা

১৯৫৭ সালের ১৪ জানুয়ারি টাঙ্গাইলের বাসাইলে তাঁর জন্ম। বাবা প্রয়াত হাবিবুর রহমান খান, মা প্রয়াত বেগম সাজেদা খাতুন; তিনি বাবা-মায়ের জ্যেষ্ঠ ছেলে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (University of Dhaka) থেকে ১৯৭৮ সালে বিএসএস (সম্মান), ১৯৭৯ সালে এমএসএস এবং ১৯৮২ সালে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন।

স্ত্রী বেগম নার্গিস সিদ্দিকা দুটি আইন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক। তাঁদের দুই মেয়ে: ড. আনান হাবিবা সিদ্দিকা যুক্তরাজ্যের ওয়েস্টমিনস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেধাস্বত্ব বিষয়ে পিএইচডি করেছেন, আর ব্যারিস্টার আদ্রী আফিফা সিদ্দিকা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী।

রাজনৈতিক জীবন

রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসসের প্রকাশিত জীবনবৃত্তান্ত অনুযায়ী, ১৯৬৭ সালে তাঁর রাজনৈতিক পথচলা শুরু। ছাত্র অবস্থায় তিনি আঞ্চলিক পর্যায়ে ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেন।

বিএনপিতে তিনি বাসাইল উপজেলা শাখার সভাপতি এবং পরে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন। দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৬ সালে খালেদা জিয়ার (Khaleda Zia) ঘোষিত কেন্দ্রীয় কমিটিতে তিনি ভাইস চেয়ারম্যান হন; দলের গঠনতন্ত্রে এক নেতার এক পদের বিধান আসায় তখন তিনি টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতির পদ ছেড়ে দেন।

বিরোধী রাজনীতির সময়ে ২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর ঢাকার গোলাপবাগে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশে, যেদিন দলের সাত সংসদ সদস্য পদত্যাগের ঘোষণা দেন, সেদিন তিনি জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যদেরও আসন ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।

টাঙ্গাইল-৮ আসনে বিএনপির মনোনয়নে তিনি ২০০১ সালের নির্বাচনে ৫১,১৩৫ ভোট পেয়ে তৃতীয় এবং ২০০৮ সালের নির্বাচনে ৬৫,৫২১ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হন। ওই দুই নির্বাচনে আসনটিতে জয়ী হন যথাক্রমে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের আবদুল কাদের সিদ্দিকী (Abdul Kader Siddique) এবং আওয়ামী লীগের শওকত মোমেন শাহজাহান (Shawkat Momen Shahjahan)।

২০২৬ নির্বাচন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ছয় প্রার্থীর লড়াইয়ে তিনি ১,১৪,২১৭ ভোট পেয়ে জয়ী হন, যা প্রদত্ত ভোটের প্রায় ৪৬ শতাংশ। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীর পান ৭৭,১৩০ ভোট; ব্যবধান ৩৭,০৮৭ ভোট। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. শফিকুল ইসলাম খান ৫৫,৭০৯ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন। এই জয়ের মধ্য দিয়ে প্রায় তিন দশক পর আসনটি বিএনপির হাতে ফেরে।

উল্লেখযোগ্য কাজ ও অবদান

আইন পেশায় তিনি দীর্ঘদিন সুপ্রিম কোর্টে কাজ করেছেন এবং আইনজীবীদের সংগঠন জাতীয়তাবাদী ট্যাক্স ল'ইয়ার্স ফোরামের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছেন। দলের সংগঠক হিসেবে তিনি তিনবার টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।

সূত্র: bssnews.net, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (বাংলা), উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, en.prothomalo.com, tbsnews.net, bdnews24.com, thedailystar.net, dhakatribune.com। ভুল দেখলে জানান।

জন্ম১৪ জানুয়ারি ১৯৫৭, ৬৯ বছর
জন্মস্থানবাসাইল, টাঙ্গাইল, বাংলাদেশ*
লিঙ্গপুরুষ
পেশাআইনজীবী
পিতাহাবিবুর রহমান খান
মাতাবেগম সাজেদা খাতুন
বর্তমান মেয়াদ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০৩১
সংসদ সদস্য নির্বাচিতমোট ১ বার

* চিহ্নিত তথ্য সদস্যের উইকিপিডিয়া নিবন্ধ থেকে নেওয়া; সংসদ বা নির্বাচন কমিশনের নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি। ভুল দেখলে জানান।

বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম

২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি সংসদ সদস্য। একই বছরের ১২ মার্চ রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে শপথ নিয়ে তিনি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হন।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা ও গেজেট, তাঁদের কল্যাণ এবং মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও স্থাপনা সংরক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে তিনি এই মন্ত্রণালয় পরিচালনা করছেন।

২৯ এপ্রিল ২০২৬ সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি জানান, সরকার মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে; মন্ত্রণালয়ের গেজেটে বর্তমানে ৬,৪৮০ জন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার নাম রয়েছে। ২৭ জুলাই ২০২৬ যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন (Brent Christensen) তাঁর সঙ্গে বৈঠকে যাচাইকৃত মুক্তিযোদ্ধা ডেটাবেজ তৈরিতে কারিগরি সহায়তার প্রস্তাব দেন। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তিনি ঢাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের স্থানে ভাস্কর্যের বদলে ফোয়ারা বসানোর খবর নাকচ করে বলেন, স্বাধীনতা স্তম্ভ প্রকল্প কীভাবে সম্পন্ন করা যায় তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

সূত্র: bdnews24.com ১, bdnews24.com ২, bdnews24.com ৩, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। ভুল দেখলে জানান।

নির্বাচনী এলাকা

টাঙ্গাইল-৮

সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।

নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি

টাঙ্গাইল-৮ আসন ঢাকা বিভাগের টাঙ্গাইল জেলার বাসাইল (Basail) ও সখিপুর (Sakhipur) উপজেলা নিয়ে গঠিত। দুই উপজেলার মোট আয়তন প্রায় ৫৯৩ বর্গকিলোমিটার। ২০২৬ সালের নির্বাচনে আসনটিতে ভোটার ছিলেন ৪,১৪,৮২৬ জন।

বাসাইল উপজেলা জেলা সদরের পূর্ব দিকে; উত্তরে কালিহাতী, পূর্বে সখিপুর এবং দক্ষিণে মির্জাপুর ও দেলদুয়ার। আয়তন ১৫৭.৭৭ বর্গকিলোমিটার, ছয়টি ইউনিয়ন। ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী জনসংখ্যা ১,৮৮,৯৩৬। বংশাই, লৌহজং ও লাঙ্গুলিয়া নদী এবং কাউলজানী, চাপড়াসহ কয়েকটি বিল এখানকার কৃষির ভিত্তি; ধান, পাট, আখ ও আলু প্রধান ফসল। বাসাইল গোবিন্দ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৪৫) এবং বাসাইল এমদাদ হামিদা ডিগ্রি কলেজ উল্লেখযোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। মুক্তিযুদ্ধে ঝিনাই নদীর তীরে কামুটিয়ায় পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের লড়াই হয়, সেখানে স্মৃতিস্তম্ভ রয়েছে।

সখিপুর উপজেলা জেলার পূর্ব প্রান্তে, গাজীপুর ও ময়মনসিংহ জেলার সীমানা ঘেঁষে। আয়তন ৪৩৫.১৯ বর্গকিলোমিটার; একটি পৌরসভা ও দশটি ইউনিয়ন। ২০২২ সালের জনশুমারিতে জনসংখ্যা ৩,২২,৩৪৫। বংশাই ও সালদা নদী বয়ে গেছে; প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ কৃষিনির্ভর, ধান, কলা, কাঁঠাল ও সবজি বাইরে যায়। ১৯৭১ সালের ১০ জুন বহেড়াতৈলে কাদেরিয়া বাহিনীর শপথ হয়, সেখানে স্মৃতিস্তম্ভ আছে। গড় গোবিন্দপুরে শাহ কামালের (রহ.) মাজার, কুতুবপুর মসজিদ এবং ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত মুজিব ডিগ্রি কলেজ এখানে।

১৯৯১ সালে আসনটি বিএনপি পায়। ১৯৯৬ সালের জুনে আওয়ামী লীগের আবদুল কাদের সিদ্দিকী এবং ২০০১ সালে তাঁর দল কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ জেতে। ২০০৮ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ টানা জয়ী হয়; ২০২৬ সালে আসনটি আবার বিএনপির হাতে আসে। আসনের সীমানা অতীতে পুনর্নির্ধারিত হয়েছে, তাই পুরোনো ফলাফল বর্তমান এলাকার সঙ্গে হুবহু মেলানো যায় না।

সূত্র: en.banglapedia.org ১, en.banglapedia.org ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩, tbsnews.net। ভুল দেখলে জানান।

সংসদে মেয়াদ

ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬টাঙ্গাইল-৮বর্তমান মেয়াদBNP

সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ১ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।

২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট

আসনের সব ফল →
ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬প্রার্থীদের মোট ২,৪৮,৪৬১ ভোট
  1. আহমেদ আযম খানBNPবিজয়ী১,১৪,২১৭৪৬.০%
  2. Salauddin AlamgirInd৭৭,১৩০৩১.০%
  3. Md. Shafiqul Islam KhanBJEI৫৫,৭০৯২২.৪%
  4. Md. Nazmul HasanJP(ERSHAD)৫৬৫০.২%
  5. Awal MahmudRWPB৫১০০.২%
  6. Md. Alamgir HossainAmjanatar Dol৩৩০০.১%
উৎস: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড। নির্বাচন কমিশনের গেজেটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি। উইকিপিডিয়ায় (বাংলা) বিজয়ীর ভোট ৫২,৭৩৪।মূল পাতা

সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন

এই সদস্য সম্পর্কে সংসদ সচিবালয়ের কোনো প্রজ্ঞাপন নেই।সংসদ সচিবালয় কোনো সদস্যের নামে প্রজ্ঞাপন বা সরকারি আদেশ প্রকাশ করলে তা প্রতিদিন এখানে যুক্ত হয়।

আসন: টাঙ্গাইল-৮

আসনের পাতা →
এলাকা

(ক)বাসাইল এবং (খ)সখিপুর উপজেলা

সংসদীয় কমিটি(১)

সংবাদ ও ভিডিও

সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…

সম্পাদকের যাচাই করা ১টি খবর

কোথা থেকে তথ্য আসে

সদস্য, আসন, কমিটি ও অধিবেশন আসে জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইট থেকে; ভোটার সংখ্যা নির্বাচন কমিশন ও মন্ত্রিসভা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে। ভোটের ফল ও জীবনীর সূত্র আলাদা করে প্রতিটি পাতায় লেখা।

সব সূত্র দেখুন →

কত দিন পরপর হালনাগাদ

প্রতি রাতে পুরো সাইট সংসদের তথ্যভান্ডার থেকে নতুন করে তৈরি হয়। নতুন প্রজ্ঞাপন, বৈঠকের কার্যসূচি বা কমিটির পরিবর্তন পরদিনের মধ্যে যুক্ত হয়; সংবাদ শিরোনাম দিনে কয়েকবার।

পদ্ধতি →

ভুল পেলে

প্রতিটি সদস্যের পাতায় “সংশোধন জানান” বোতাম আছে। সূত্রসহ জানালে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাচাই করে ঠিক করা হয়; সদস্যের দপ্তর নিজের পাতাও হালনাগাদ করাতে পারেন।

যোগাযোগ →