মূল বিষয়ে যান
English
সর্বশেষ
আলতাফ হোসেন চৌধুরী

আলতাফ হোসেন চৌধুরী

Altaf Hossain Choudhury

বর্তমান সদস্য, ত্রয়োদশ সংসদমোট ৩ বার নির্বাচিত

সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা

পরিচিতি

আলতাফ হোসেন চৌধুরী পটুয়াখালি-১ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ভাইস চেয়ারম্যান। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি, নির্বাচনী ফলাফল, আগের মেয়াদ, সংসদীয় কমিটি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।

আলতাফ হোসেন চৌধুরী (Altaf Hossain Choudhury) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান। অবসরপ্রাপ্ত এয়ার ভাইস মার্শাল এই প্রবীণ রাজনীতিক ১৯৯১ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রধান ছিলেন।

পরে তিনি খালেদা জিয়া (Khaleda Zia) নেতৃত্বাধীন সরকারে স্বরাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৬ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি তৃতীয়বারের মতো সংসদে এসেছেন।

শৈশব ও পরিবার

জাতীয় সংসদের তথ্য অনুযায়ী আলতাফ হোসেন চৌধুরীর জন্ম ১৯৪৩ সালের ১৩ জুন। তাঁর বাড়ি পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলায়। তাঁর পিতা আব্দুল আজিজ চৌধুরী এবং মাতা মোমেনা খাতুন চৌধুরী।

রাজনৈতিক জীবন

১৯৯৫ সালে বিমানবাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি পটুয়াখালী-১ আসন থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য হন। ২০০১ সালের অষ্টম সংসদ নির্বাচনে একই আসনে আবার জয়ী হওয়ার পর খালেদা জিয়ার সরকারে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পান এবং ২০০৪ সাল পর্যন্ত তা পালন করেন। ২০০৪ সালের ২৫ মার্চ মন্ত্রিসভা রদবদলে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর (Amir Khasru Mahmud Chowdhury) জায়গায় তাঁকে বাণিজ্যমন্ত্রী করা হয়। ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি সরকারে তিনি মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৮ সালে তিনি পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন। ২০০৮ ও ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী শাহজাহান মিয়ার কাছে পরাজিত হন। ২০১৬ সাল থেকে তিনি দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন।

২০২৬ নির্বাচন

নির্বাচনের আগে বাসসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এলাকার মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ, মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল ও কলেজের উন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেন।

২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ১,৫২,০৮৭ ভোট পান, যা মোট বৈধ ভোটের প্রায় ৫৮.৭ শতাংশ। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোঃ ফিরোজ আলম হাতপাখা প্রতীকে পান ৫৮,১৬১ ভোট; ব্যবধান ৯৩,৯২৬ ভোট। আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) মোহাম্মদ আব্দুল ওহাব পান ৪৬,৩১০ ভোট। রিটার্নিং কর্মকর্তার ফলাফল বিবরণী অনুযায়ী আসনের ৫,০৫,৮৩৪ জন ভোটারের মধ্যে ভোট দেন ৫২.৩০ শতাংশ।

সূত্র: জাতীয় সংসদ ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (বাংলা), উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, bssnews.net, archive.thedailystar.net, bdnews24.com, dailyinqilab.com, 103.183.38.66 ১, 103.183.38.66 ২, জাতীয় সংসদ ২, dhakatimes24.com। ভুল দেখলে জানান।

জন্ম১৩ জুন ১৯৪৩, ৮৩ বছর
জন্মস্থানকাঁঠালতলী, মির্জাগঞ্জ উপজেলা, পটুয়াখালী
লিঙ্গপুরুষ
পেশাঅবসরপ্রাপ্ত বিমানবাহিনী প্রধান
পিতাআব্দুল আজিজ চৌধুরী
মাতামোমেনা খাতুন চৌধুরী
বর্তমান মেয়াদ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০৩১
সংসদ সদস্য নির্বাচিতমোট ৩ বার

বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম

২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি তাঁর সংসদ সদস্য পদের মেয়াদ শুরু হয়। ২০২৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর সংসদে গঠিত বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির তিনি সদস্য।

সংসদ সদস্য হিসেবে আইন প্রণয়ন, বাজেট অনুমোদন ও নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নে ভূমিকার পাশাপাশি স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের কাজ পর্যালোচনায় অংশ নেন।

২০২৬ সালের ৩ জুলাই পটুয়াখালী শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়ন বিষয়ক মতবিনিময় সভায় তিনি দলীয় নেতাদের নিজের বা আত্মীয়স্বজনের নামে উন্নয়নকাজ না নেওয়ার আহ্বান জানান। ৪ জুলাই মির্জাগঞ্জে বাজেট বিষয়ক আরেক মতবিনিময় সভা শেষে তিনি সরকারের ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে উপজেলায় বৃক্ষরোপণের উদ্বোধন করেন এবং প্রত্যেক নাগরিককে অন্তত একটি গাছ লাগিয়ে তার যত্ন নেওয়ার আহ্বান জানান। ৮ অক্টোবর কমিটির বৈঠকে তিনি উপস্থিত ছিলেন; বৈঠকে আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক ও নিরাপদ বিমান ও পর্যটন খাত গড়তে সমন্বিতভাবে কাজ করা এবং মন্ত্রণালয়ের শূন্যপদ অগ্রাধিকার দিয়ে পূরণের সুপারিশ করা হয়।

সূত্র: জাতীয় সংসদ, dhakatimes24.com, dailyinqilab.com ১, dailyinqilab.com ২। ভুল দেখলে জানান।

নির্বাচনী এলাকা

পটুয়াখালি-১

সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।

নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি

পটুয়াখালী-১ জাতীয় সংসদের ১১১ নম্বর আসন। বরিশাল বিভাগের পটুয়াখালী জেলার পটুয়াখালী সদর, মির্জাগঞ্জ ও দুমকি উপজেলা নিয়ে আসনটি গঠিত। রিটার্নিং কর্মকর্তার ফলাফল বিবরণী অনুযায়ী ২০২৬ সালের নির্বাচনে এখানে ভোটার ছিলেন ৫,০৫,৮৩৪ জন, ভোটকেন্দ্র ১৬৩টি।

পটুয়াখালী সদর উপজেলা জেলা শহর ঘিরে গড়ে উঠেছে; এতে পটুয়াখালী পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়ন রয়েছে। আয়তন প্রায় ৩৬২ বর্গকিলোমিটার, ২০২২ সালের জনশুমারিতে জনসংখ্যা ৩,৫৪,৮১৬। বুড়িশ্বর, গলাচিপা ও রাজগঞ্জ এখানকার প্রধান নদী। আয়ের প্রধান উৎস কৃষি, এরপর ব্যবসা ও চাকরি; শুঁটকি মাছ এখানকার প্রধান রপ্তানিপণ্য। পটুয়াখালী সরকারি কলেজ (১৯৫৭) ও সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় (১৮৮৭) উল্লেখযোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

মির্জাগঞ্জ উপজেলায় একটি পৌরসভা ও ছয়টি ইউনিয়ন; আয়তন ১৬৭.১৮ বর্গকিলোমিটার, ২০২২ সালে জনসংখ্যা ১,২৭,১১১। রাজগঞ্জ, বুড়িশ্বর ও শ্রীমন্ত নদীঘেরা এই উপজেলার অধিকাংশ পরিবার কৃষিনির্ভর; ধান, মিষ্টি আলু, মসুর ও মরিচ প্রধান ফসল। মজিদবাড়িয়ার এক গম্বুজ শাহী মসজিদ ও খলিফা ইয়ারউদ্দিনের মাজার এখানে। ১৯৭১ সালে দেউলি গ্রামে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণকেন্দ্র ছিল।

দুমকি উপজেলায় পাঁচটি ইউনিয়ন; আয়তন ৯২.৪১ বর্গকিলোমিটার, ২০২২ সালে জনসংখ্যা ৮১,৮৩৯। প্রায় ৪৩ শতাংশ পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস কৃষি, এরপর চাকরি ও ব্যবসা; ধান, আলু, ডাল ও মরিচ প্রধান ফসল। এখানে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (প্রতিষ্ঠা ২০০১), শ্রীরামপুর জমিদারবাড়ি ও ঘসেটি বিবির মসজিদ রয়েছে।

১৯৯১ সালে আসনটি বিএনপির দখলে ছিল। ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপির আলতাফ হোসেন চৌধুরী জয়ী হন, ২০০১ সালেও তিনি জেতেন। ১৯৯৬ সালের জুন, ২০০৮ ও ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগ এবং ২০১৪ ও ২০২৪ সালে জাতীয় পার্টি আসনটি পায়; ২০২৬ সালে বিএনপি আবার জয়ী হয়। আসনের সীমানা বিভিন্ন সময়ে বদলেছে; ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে সদর উপজেলার আউলিয়াপুর, কমলাপুর ও লোহালিয়া ইউনিয়ন এতে যুক্ত হয়।

সূত্র: জাতীয় সংসদ, 103.183.38.66, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩, en.banglapedia.org ১, en.banglapedia.org ২, en.banglapedia.org ৩, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৪, bssnews.net। ভুল দেখলে জানান।

সংসদে মেয়াদ

ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬পটুয়াখালি-১বর্তমান মেয়াদBNP

সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ৩ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন; আগের ২টি মেয়াদের বিস্তারিত সংসদের তথ্যভান্ডারে পাওয়া যায়নি। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।

২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট

আসনের সব ফল →
ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬২,৫৯,২৯৪ ভোট, ভোট পড়েছে ৫২.৩%
  1. আলতাফ হোসেন চৌধুরীBNPবিজয়ী১,৫২,০৮৭৫৮.৭%
  2. Md Firoz AlamIAB৫৮,১৬১২২.৪%
  3. Md Abdul OhabAB৪৬,৩১০১৭.৯%
  4. Goutam Chandra ShilBangladesh JaSad১,৩৩৪০.৫%
  5. A Mannan HawladarJP(ERSHAD)১,০৫৫০.৪%
  6. Md Shahidul Islam FahimGOP৩৪৭০.১%
উৎস: নির্বাচন কমিশনের ফলাফল শিট। রিটার্নিং কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফল শিট (বার্তা প্রেরণ শিট)। আগে এখানে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের হিসাব দেখানো হচ্ছিল, যা এই শিটের সঙ্গে মেলেনি।ফলাফল শিট

সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন(২)

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের মাননীয় সদস্য জনাব আলতাফ হোসেন চৌধুরীর ১৬-১৮ জুলাই ২০২৬ তারিখে চীনের শিজাং (Xizang) সফরের অনুমোদন জ্ঞাপন।৯ জুলাই ২০২৬, সরকারি আদেশPDF
জনাব আলতাফ হোসেন চৌধুরী৭ মে ২০২৬, সরকারি আদেশPDF

আসন: পটুয়াখালি-১

আসনের পাতা →
এলাকা

(ক)পটুয়াখালী সদর,(খ) মির্জাগঞ্জ এবং(গ) দুমকি উপজেলা

সংসদীয় কমিটি(১)

সংবাদ ও ভিডিও

সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…

কোথা থেকে তথ্য আসে

সদস্য, আসন, কমিটি ও অধিবেশন আসে জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইট থেকে; ভোটার সংখ্যা নির্বাচন কমিশন ও মন্ত্রিসভা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে। ভোটের ফল ও জীবনীর সূত্র আলাদা করে প্রতিটি পাতায় লেখা।

সব সূত্র দেখুন →

কত দিন পরপর হালনাগাদ

প্রতি রাতে পুরো সাইট সংসদের তথ্যভান্ডার থেকে নতুন করে তৈরি হয়। নতুন প্রজ্ঞাপন, বৈঠকের কার্যসূচি বা কমিটির পরিবর্তন পরদিনের মধ্যে যুক্ত হয়; সংবাদ শিরোনাম দিনে কয়েকবার।

পদ্ধতি →

ভুল পেলে

প্রতিটি সদস্যের পাতায় “সংশোধন জানান” বোতাম আছে। সূত্রসহ জানালে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাচাই করে ঠিক করা হয়; সদস্যের দপ্তর নিজের পাতাও হালনাগাদ করাতে পারেন।

যোগাযোগ →