
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত
Aninda Islam Amit
সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা
পরিচিতি
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত যশোর-৩ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সংসদ সদস্য এবং বর্তমানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি, সংসদীয় কমিটি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত (Anindya Islam Amit) যশোর-৩ (যশোর সদর) আসনের সংসদ সদস্য এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) এই নেতা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে প্রথমবার নির্বাচিত হয়েছেন।
প্রাণরসায়নে উচ্চশিক্ষা নেওয়া অমিত পেশায় ব্যবসায়ী। তাঁর বাবা প্রয়াত তরিকুল ইসলাম (Tariqul Islam) এই আসনেরই সাবেক সংসদ সদস্য এবং খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন।
শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা
১৯৭৫ সালের ২৪ আগস্ট যশোরে তাঁর জন্ম। বাবা তরিকুল ইসলাম ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য; ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে খাদ্য, তথ্য এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ সালের ৪ নভেম্বর তিনি মারা যান। মা নার্গিস বেগম। অমিত তাঁদের ছোট ছেলে।
যশোরের সেক্রেড হার্ট স্কুল ও দাউদ পাবলিক স্কুলে প্রথম পাঠ শেষে ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ থেকে ১৯৯১ সালে এসএসসি ও ১৯৯৩ সালে এইচএসসি পাস করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞানে ১৯৯৬ সালে বিএসসি (সম্মান) এবং ১৯৯৭ সালে এমএসসি ডিগ্রি নেন। ২০০২ সালে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় (North South University) থেকে এমবিএ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে টেলিভিশন বিতর্ক প্রতিযোগিতায় ফজলুল হক হলের দলনেতা ছিলেন। স্ত্রী সোহানা পারভীন; তাঁদের দুই ছেলে।
রাজনৈতিক জীবন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তিনি ছাত্ররাজনীতিতে যুক্ত হন। বাবার হাত ধরে যশোর জেলা বিএনপির তৃণমূল কর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন এবং ১৯৯৬ সাল থেকে দলের জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে ভূমিকা রাখেন। পরে যশোর জেলা বিএনপির সদস্য হন।
২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হয়ে আওয়ামী লীগের কাজী নাবিল আহমেদের (Kazi Nabil Ahmed) কাছে পরাজিত হন। বাবার মৃত্যুর পর জেলায় দলের ঐক্য ধরে রাখায় তিনি ভূমিকা রাখেন। দল প্রায় ১৭ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকার সময় যশোরে সরকারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। কেন্দ্রীয় বিএনপিতে খুলনা বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এবং পরে ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পান। ২০২৫ সালের নভেম্বরে দল তাঁকে যশোর-৩ আসনে একক প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয়। তখন তিনি বলেছিলেন, নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে এবং সুখে-দুঃখে সব সময় তিনি যশোরের মানুষের পাশে থেকেছেন।
২০২৬ নির্বাচন
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে তিনি ২,০১,৩৩৯ ভোট পান। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. আব্দুল কাদের পান ১,৮৭,৪৬৩ ভোট; ব্যবধান ১৩,৮৭৬ ভোট। তৃতীয় হন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. শোয়াইব হোসেন, তাঁর ভোট ১৩,৩২২। আসনে মোট ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
উল্লেখযোগ্য কাজ ও অবদান
ব্যবসায়ী হিসেবে তিনি ল্যাবস্ক্যান মেডিকেল সার্ভিসেস লিমিটেড (Labscan Medical Services Limited) এবং লোকসমাজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। যশোর রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, যশোর ইনস্টিটিউট, বাংলা একাডেমি, যশোর প্রেসক্লাব, যশোর চেম্বার অব কমার্স ও বাংলাদেশ বায়োকেমিক্যাল সোসাইটিসহ নানা সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী প্রতিষ্ঠানের আজীবন সদস্য তিনি।
সূত্র: উইকিপিডিয়া (বাংলা), উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, tbsnews.net ১, prothomalo.com, itvbd.com, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩, tbsnews.net ২, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, banglatribune.com। ভুল দেখলে জানান।
* চিহ্নিত তথ্য সদস্যের উইকিপিডিয়া নিবন্ধ থেকে নেওয়া; সংসদ বা নির্বাচন কমিশনের নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি। ভুল দেখলে জানান।
বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম
২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের (Tarique Rahman) সরকারে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে তিনি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। আগস্টের মন্ত্রিসভা রদবদলের পরও তিনি একই পদে আছেন।
প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তিনি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের (Iqbal Hassan Mahmood) সঙ্গে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ, গ্যাস ও জ্বালানি তেল এবং খনিজ সম্পদ খাতের নীতি ও তদারকিতে কাজ করেন। ২০ ফেব্রুয়ারি যশোর সার্কিট হাউসে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর জানান, রমজানে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের চেষ্টা চলছে এবং বোরো সেচ মৌসুমে কৃষকেরা অগ্রাধিকার পাবেন। ২ সেপ্টেম্বর সংসদে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটে জনদুর্ভোগের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে পায়রা ও মাতারবাড়ী কেন্দ্রের বন্ধ ইউনিট দ্রুত চালুকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেন। পরদিন সচিবালয়ে জানান, ঘাটতি সামলাতে বেশি দামে হলেও খোলাবাজার থেকে এলএনজি কেনা হচ্ছে। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে যশোরে নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিষয়ক এক কর্মশালায় ঘোষণা দেন, ছাদের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ সরকার প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সায় কিনবে।
সূত্র: bssnews.net, thefinancialexpress.com.bd, banglatribune.com ১, banglatribune.com ২। ভুল দেখলে জানান।
নির্বাচনী এলাকা
সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।
নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি
যশোর-৩ আসন খুলনা বিভাগের যশোর জেলায়। নির্বাচন কমিশনের সীমানা অনুযায়ী বসুন্দিয়া ইউনিয়ন বাদে পুরো যশোর সদর উপজেলা নিয়ে আসনটি গঠিত। এর মধ্যে রয়েছে জেলা শহর যশোর পৌরসভা, যশোর সেনানিবাস এবং আরবপুর, উপশহর, ইছালী, কচুয়া, কাশিমপুর, চাঁচড়া, চূড়ামনকাটি, দেয়াড়া, নরেন্দ্রপুর, নওয়াপাড়া, ফতেপুর, রামনগর, লেবুতলা ও হৈবতপুর ইউনিয়ন। ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হিসাবে আসনের ভোটার ছিলেন ৬,০৮,৬৯৫ জন।
যশোর সদর উপজেলার আয়তন প্রায় ৪৩৫ বর্গকিলোমিটার। ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী পুরো উপজেলার জনসংখ্যা ৮,৪৪,৩৭৪, যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শহরবাসী। উপজেলার উত্তরে বাঘারপাড়া ও ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ, দক্ষিণে অভয়নগর ও মণিরামপুর, পশ্চিমে ঝিকরগাছা ও চৌগাছা। ভৈরব নদের তীরে যশোর শহর; চিত্রা নদীও এই অঞ্চলে বয়ে গেছে। পশ্চিমাংশের বুকভরা বাঁওড় মাছের বড় উৎস।
কৃষি এখানকার প্রধান জীবিকা, এরপর ব্যবসা ও চাকরি। ধান, আলু, গম, সরিষা, আখ ও সবজি প্রধান ফসল; খেজুরের গুড়, চামড়া ও সবজি বাইরে যায়। চালকল, আটাকল, তেলকল এবং চামড়া ও ইস্পাতের কারখানা আছে। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর মেডিকেল কলেজ, সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজ ও যশোর জিলা স্কুল এখানকার উল্লেখযোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। মুড়লীতে হাজী মুহম্মদ মহসীনের নির্মিত ইমামবাড়া এবং শেখহাটির ভুবনেশ্বরী মন্দির পুরোনো স্থাপনা।
১৯৯১ সালে আসনটিতে আওয়ামী লীগ জেতে। ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারি ও ২০০১ সালে বিএনপির তরিকুল ইসলাম এবং ১৯৯৬ সালের জুন ও ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জয়ী হন। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের কাজী নাবিল আহমেদ নির্বাচিত হন; ২০২৬ সালে আসনটি আবার বিএনপির হাতে আসে। সীমানা পুনর্নির্ধারণে বিভিন্ন সময়ে আসনের এলাকায় কিছু পরিবর্তন হয়েছে।
সূত্র: উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, উইকিপিডিয়া (বাংলা), en.banglapedia.org, itvbd.com, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৪। ভুল দেখলে জানান।
সংসদে মেয়াদ
সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ১ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।
২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট
আসনের সব ফল →- অনিন্দ্য ইসলাম অমিত
BNPবিজয়ী২,০১,৩৩৯৪৯.৩% - Md Abdul Qader
BJEI১,৮৭,৪৬৩৪৫.৯%
- Md Shoaib Hossain
IAB১৩,৩২২৩.৩% - Md Khobir GaziJP(ERSHAD)৩,৪০৪০.৮%
- Md Nizamuddin Amit
JAGPA১,৭৭২০.৪%
- Md Rashed KhanCPB৭৫৩০.২%
সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন
আসন: যশোর-৩
আসনের পাতা →বসুন্দিয়া ইউনিয়ন ব্যতীত যশোর সদর উপজেলা
সংসদীয় কমিটি(১)
সংবাদ ও ভিডিও
সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…
সম্পাদকের যাচাই করা ৩টি খবর