মূল বিষয়ে যান
English
সর্বশেষ
আসাদুল হাবিব দুলু

আসাদুল হাবিব দুলু

Asadul Habib Dulu

বর্তমান সদস্য, ত্রয়োদশ সংসদমন্ত্রী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়মোট ৩ বার নির্বাচিত

সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা

পরিচিতি

আসাদুল হাবিব দুলু লালমনিরহাট-৩ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বর্তমানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।

আসাদুল হাবিব দুলু (Asadul Habib Dulu) লালমনিরহাট-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) এই নেতা আসনটি থেকে তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

চারদলীয় জোট সরকারে উপমন্ত্রী হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি এখন পূর্ণ মন্ত্রী। উত্তরাঞ্চলে তিনি তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হিসেবেও পরিচিত।

শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা

১৯৬০ সালে লালমনিরহাটে তাঁর জন্ম। বাবা আবুল কাশেম মিয়া মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালের ৯ নভেম্বর বড়বাড়িতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে শহীদ হন; মা প্রয়াত হাবিবা খাতুন। রংপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে এইচএসসি ও অর্থনীতিতে স্নাতক এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পেশায় তিনি শিক্ষক ও ব্যবসায়ী। স্ত্রী লায়লা হাবিব; তাঁদের দুই ছেলে, আহনাফ হাবিব ও আহমিক হাবিব।

রাজনৈতিক জীবন

১৯৭৬ সালে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর মাধ্যমে ছাত্ররাজনীতিতে তাঁর যাত্রা শুরু। ১৯৮৬ সালে খালেদা জিয়ার (Khaleda Zia) নেতৃত্বে বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৯০ সালে লালমনিরহাট সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং ১৯৯১ সাল থেকে জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে লালমনিরহাট-৩ আসনে তিনি ২১,৭৪৪ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে প্রথমবার সংসদ সদস্য হন; একই বছরের জুনের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির জি এম কাদেরের (GM Quader) কাছে ২,৮৭৪ ভোটের ব্যবধানে হেরে যান। ২০০১ সালের ১ অক্টোবরের নির্বাচনে ৬৩,৩৫৯ ভোট পেয়ে আবার জয়ী হন। ওই মেয়াদে তিনি পর্যায়ক্রমে যোগাযোগ মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী ছিলেন; দ্বিতীয় দায়িত্বটি ছিল ২০০৩ সালের মে থেকে ২০০৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত। ২০০৮ সালের নির্বাচনে ৭৪,৬৫৩ ভোট পেলেও জি এম কাদেরের কাছে পরাজিত হন। এরপর দল দীর্ঘ সময় বিরোধী রাজনীতিতে ছিল, আর তিনি রংপুর অঞ্চলে সংগঠনের কাজে যুক্ত থাকেন।

২০২৬ নির্বাচন

১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লালমনিরহাট-৩ আসনে ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দুলু পান ১,৩৯,৬৫১ ভোট; নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মোঃ আবু তাহের (Md Abu Taher) পান ৫৬,২৪৪ ভোট। জয়ের ব্যবধান ৮৩,৪০৭ ভোট।

উল্লেখযোগ্য কাজ ও অবদান

লালমনিরহাট সদরের বড়বাড়ি শহীদ আবুল কাশেম মহাবিদ্যালয়ের তিনি প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ। ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ নামের সামাজিক আন্দোলনেরও প্রধান সমন্বয়ক তিনি।

তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে তিনি তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা, ভাঙন রোধ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে রংপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলার মানুষকে সংগঠিত করেন। আন্দোলনটিকে তিনি কোনো দলের নয়, গোটা রংপুরবাসীর আন্দোলন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ২০২৫ সালের ১৭ ও ১৮ ফেব্রুয়ারি ‘জাগো বাহে, তিস্তা বাঁচাই’ স্লোগানে তিস্তার দুই তীরে ১১টি পয়েন্টে অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়; একই বছরের ১৬ অক্টোবর লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, রংপুর ও গাইবান্ধার তিস্তাপাড়ে মশাল প্রজ্বলন কর্মসূচি হয়। নদী ও মানুষের অধিকার নিয়ে তিনি ‘জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাই: নদী ও মানুষের অধিকার’ নামে একটি বইও লিখেছেন।

সূত্র: prothomalo.com ১, উইকিপিডিয়া (বাংলা), উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, tbsnews.net, prothomalo.com ২, bangla.thedailystar.net, bssnews.net। ভুল দেখলে জানান।

জন্ম৫ আগস্ট ১৯৬০, ৬৬ বছর
জন্মস্থানলালমনিরহাট
লিঙ্গপুরুষ
শিক্ষারাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর)
পেশাশিক্ষকতা, ব্যবসা*
পিতাআবুল কাশেম মিয়া
মাতাহাবিবা খাতুন
বর্তমান মেয়াদ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০৩১
সংসদ সদস্য নির্বাচিতমোট ৩ বার

* চিহ্নিত তথ্য সদস্যের উইকিপিডিয়া নিবন্ধ (বাংলা) ও উইকিপিডিয়া নিবন্ধ (ইংরেজি) থেকে নেওয়া; সংসদ বা নির্বাচন কমিশনের নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি। ভুল দেখলে জানান।

বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম

২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের (Tarique Rahman) মন্ত্রিসভায় তিনি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। দলে তিনি বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় দুর্যোগের প্রস্তুতি ও ঝুঁকি হ্রাস, ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি এবং দুর্গত মানুষের ত্রাণ ও পুনর্বাসনের দায়িত্বে। ২০২৬ সালের ৯ জুলাই সংসদে বিবৃতিতে মন্ত্রী জানান, ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ধসে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, বান্দরবান ও রাঙামাটিতে ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে; দুর্গতদের জন্য ১,০৫৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং প্রতিটি দুর্গত জেলায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ২০ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ১৪ জুলাই তিনি জানান, সিলেটসহ আট জেলায় প্রায় ৬,০৯,৪১১ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত; জরুরি ত্রাণে ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ও ৩,২৫০ টন চাল বরাদ্দ হয়েছে। ৫ অক্টোবর সচিবালয়ে মিয়ানমারবিষয়ক স্বাধীন তদন্ত সংস্থার (IIMM) প্রধান নিকোলাস কুমজিয়ানের (Nicholas Koumjian) সঙ্গে বৈঠকে তিনি রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এবং তাদের টেকসই প্রত্যাবাসনে সহায়তার আহ্বান জানান।

সূত্র: উইকিপিডিয়া (ইংরেজি), bangla.thedailystar.net, bssnews.net, unb.com.bd। ভুল দেখলে জানান।

নির্বাচনী এলাকা

লালমনিরহাট-৩

সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।

নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি

লালমনিরহাট-৩ আসন রংপুর বিভাগের লালমনিরহাট জেলায়। নির্বাচন কমিশনের ২০২৫ সালের সীমানা নির্ধারণ অনুযায়ী পুরো লালমনিরহাট সদর উপজেলা নিয়ে আসনটি গঠিত; এর মধ্যে রয়েছে লালমনিরহাট পৌরসভা এবং মোগলহাট, কুলাঘাট, মহেন্দ্রনগর, হারাটি, খুনিয়াগাছ, রাজপুর, গোকুন্ডা, পঞ্চগ্রাম ও বড়বাড়ি ইউনিয়ন। ২০২৬ সালের নির্বাচনে আসনটিতে ভোটার ছিলেন ৩,০৭,৯৭০ জন।

জেলা সদর এই উপজেলার আয়তন প্রায় ২৬৪ বর্গকিলোমিটার। ২০২২ সালের জনশুমারিতে জনসংখ্যা ৩,৭৩,৪৭০, যাঁদের প্রায় এক-চতুর্থাংশ শহরে বাস করেন। উপজেলার উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, ভেতর দিয়ে বয়ে গেছে তিস্তা নদী; অধিকাংশ মানুষ কৃষিনির্ভর। ১৯০০ সালে চালু হওয়া লালমনিরহাট জংশন উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ রেল কেন্দ্র, যেখানে বুড়িমারী–লালমনিরহাট–পার্বতীপুর ও লালমনিরহাট–গীতালদহ রেলপথ মিলেছে। শহরের কাছে ১৯৩১ সালে নির্মিত লালমনিরহাট বিমানঘাঁটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মিত্রবাহিনীর ঘাঁটি ছিল; এখন এটি বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ও এভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (Aviation and Aerospace University Bangladesh) পরিচালনা করে। উপজেলায় ১৯টি কলেজ আছে, এর মধ্যে লালমনিরহাট সরকারি কলেজ ও মজিদা খাতুন সরকারি মহিলা কলেজ উল্লেখযোগ্য। হারানো মসজিদ, নিদারিয়া মসজিদ ও সিন্দুরমতি মন্দির এখানকার পরিচিত ধর্মীয় স্থাপনা।

আসনটি ১৯৮৪ সালে রংপুর জেলা ভেঙে লালমনিরহাট জেলা গঠনের সময় তৈরি হয়। ১৯৯১ সালে জাতীয় পার্টি, ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি, জুনে জাতীয় পার্টি এবং ২০০১ সালে বিএনপি জয়ী হয়। ২০০৮ ও ২০১৮ সালে জাতীয় পার্টির জি এম কাদের (GM Quader), ২০১৪ ও ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এবং ২০২৬ সালে বিএনপির আসাদুল হাবিব দুলু নির্বাচিত হন।

সূত্র: উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (বাংলা), bssnews.net, tbsnews.net, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৪। ভুল দেখলে জানান।

সংসদে মেয়াদ

ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬লালমনিরহাট-৩বর্তমান মেয়াদBNP

সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ৩ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন; আগের ২টি মেয়াদের বিস্তারিত সংসদের তথ্যভান্ডারে পাওয়া যায়নি। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।

২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট

আসনের সব ফল →
ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬প্রার্থীদের মোট ১,৯৫,৮৯৫ ভোট
  1. আসাদুল হাবিব দুলুBNPবিজয়ী১,৩৯,৬৫১৭১.৩%
  2. Md Abu TaherBJEI৫৬,২৪৪২৮.৭%
উৎস: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড। নির্বাচন কমিশনের গেজেটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি। উৎসে ৪ জন প্রার্থীর ভোটের সংখ্যা নেই। উইকিপিডিয়াতেও বিজয়ীর ভোট একই।মূল পাতা

সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন

এই সদস্য সম্পর্কে সংসদ সচিবালয়ের কোনো প্রজ্ঞাপন নেই।সংসদ সচিবালয় কোনো সদস্যের নামে প্রজ্ঞাপন বা সরকারি আদেশ প্রকাশ করলে তা প্রতিদিন এখানে যুক্ত হয়।

আসন: লালমনিরহাট-৩

আসনের পাতা →
এলাকা

লালমনিরহাট সদর উপজেলা

সংসদীয় কমিটি(১)

সংবাদ ও ভিডিও

সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…

সম্পাদকের যাচাই করা ৪টি খবর

কোথা থেকে তথ্য আসে

সদস্য, আসন, কমিটি ও অধিবেশন আসে জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইট থেকে; ভোটার সংখ্যা নির্বাচন কমিশন ও মন্ত্রিসভা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে। ভোটের ফল ও জীবনীর সূত্র আলাদা করে প্রতিটি পাতায় লেখা।

সব সূত্র দেখুন →

কত দিন পরপর হালনাগাদ

প্রতি রাতে পুরো সাইট সংসদের তথ্যভান্ডার থেকে নতুন করে তৈরি হয়। নতুন প্রজ্ঞাপন, বৈঠকের কার্যসূচি বা কমিটির পরিবর্তন পরদিনের মধ্যে যুক্ত হয়; সংবাদ শিরোনাম দিনে কয়েকবার।

পদ্ধতি →

ভুল পেলে

প্রতিটি সদস্যের পাতায় “সংশোধন জানান” বোতাম আছে। সূত্রসহ জানালে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাচাই করে ঠিক করা হয়; সদস্যের দপ্তর নিজের পাতাও হালনাগাদ করাতে পারেন।

যোগাযোগ →