
ড. আবদুল মঈন খান
Dr. Abdul Moyeen Khan
সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা
পরিচিতি
ড. আবদুল মঈন খান নরসিংদী-২ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সংসদ সদস্য এবং বর্তমানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।
ড. আবদুল মঈন খান (Dr. Abdul Moyeen Khan) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য, নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের (Tarique Rahman) মন্ত্রিসভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী। পলাশ উপজেলা এবং নরসিংদী সদরের তিনটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই আসন থেকে তিনি পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক থেকে রাজনীতিতে আসা মঈন খান পরিকল্পনা, তথ্য এবং বিজ্ঞান ও তথ্য-যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা নিয়ে চতুর্থ দফায় মন্ত্রিসভায় এসেছেন।
শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা
১৯৪৭ সালের ১ জানুয়ারি নরসিংদীর পলাশ উপজেলার চরনগরদী গ্রামে তাঁর জন্ম। বাবা আবদুল মোমেন খান (Abdul Momen Khan) ছিলেন দেশের মন্ত্রিপরিষদ সচিব; পরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন নেতাদের একজন হিসেবে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের (Ziaur Rahman) সরকারে খাদ্যমন্ত্রী হন। বাবার হাত ধরেই মঈন খানের রাজনীতিতে আসা। মা বেগম খোরশেদা বানু (Khorsheda Banu) ছিলেন খান ফাউন্ডেশন ও দি মিলেনিয়াম ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারপারসন; শহীদ মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক গিয়াসউদ্দিন আহমদ তাঁর মামা।
তিনি ঢাকার নটর ডেম কলেজ (Notre Dame College) থেকে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করেন এবং ১৯৭৩ সালে যুক্তরাজ্যের সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয় (University of Sussex) থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৯১ সালে সংসদ সদস্য হওয়া পর্যন্ত তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক ছিলেন।
রাজনৈতিক জীবন
১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নরসিংদী-২ আসনে তিনি প্রথমবার জয়ী হন। ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারি ও জুনের দুই নির্বাচনে এবং ২০০১ সালেও একই আসন থেকে নির্বাচিত হন।
খালেদা জিয়ার (Khaleda Zia) সরকারে ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তিনি পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। ২০০১ সালের অক্টোবরে তথ্যমন্ত্রী হন এবং ২০০২ সালের মার্চ থেকে ২০০৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আনোয়ারুল আশরাফ খানের (Anwarul Ashraf Khan) কাছে তিনি পরাজিত হন। ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হন। বিরোধী দলে থাকার বছরগুলোতে বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে দলের যোগাযোগে তিনি সামনের সারিতে ছিলেন; ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে তাঁর গুলশানের বাসায় বিএনপির প্রতিনিধিদল ঢাকায় নিযুক্ত কূটনীতিকদের রাজনৈতিক পরিস্থিতি জানায়। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি আবার প্রার্থী হলেও জয়ী হতে পারেননি; ২০২৪ সালের নির্বাচন বিএনপি বর্জন করে।
২০২৬ নির্বাচন
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে তিনি নরসিংদী-২ আসনে প্রার্থী হন। নির্বাচন কমিশনের ফলাফল শিট অনুযায়ী তিনি পান ৯২,৭৩৯ ভোট; নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. আমজাদ হোসেন (Md. Amjad Hossain) পান ৫৫,৯২০ ভোট। ব্যবধান ৩৬,৮১৯ ভোট। এর মধ্য দিয়ে ২০০১ সালের পর প্রথমবার আসনটি বিএনপির হাতে ফেরে; নরসিংদী জেলার পাঁচটি আসনেই সেবার বিএনপির প্রার্থীরা জয়ী হন।
উল্লেখযোগ্য কাজ ও অবদান
বিজ্ঞান ও তথ্য-যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রী থাকাকালে ২০০২ সালে মন্ত্রিসভা জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নীতি অনুমোদন করে। সে সময় তিনি সরকারের জবাবদিহি ও স্বচ্ছতার জন্য ই-গভর্নমেন্টকে অপরিহার্য বলে তুলে ধরেন এবং সাধারণ মানুষের কাছে পণ্য ও সেবা পৌঁছাতে ই-কমার্সের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আগের মেয়াদগুলোতে পলাশসহ নরসিংদীর বিভিন্ন এলাকায় অবকাঠামো, শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয় তাঁর উদ্যোগে।
সূত্র: উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (বাংলা), thefinancialexpress.com.bd ১, banglatribune.com, itvbd.com, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, thedailystar.net, thefinancialexpress.com.bd ২, unb.com.bd, deshrupantor.com, ittefaq.com.bd, voabangla.com, bssnews.net, 103.183.38.66। ভুল দেখলে জানান।
* চিহ্নিত তথ্য সদস্যের উইকিপিডিয়া নিবন্ধ (বাংলা) ও উইকিপিডিয়া নিবন্ধ (ইংরেজি) থেকে নেওয়া; সংসদ বা নির্বাচন কমিশনের নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি। ভুল দেখলে জানান।
বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম
২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য। একই বছরের ২১ আগস্ট বঙ্গভবনে শপথ নিয়ে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরের প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করা, স্থানীয় উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়া এবং নাগরিকসেবা সহজলভ্য করার দায়িত্বে রয়েছে।
মন্ত্রণালয়ে প্রথম কর্মদিবস ২৩ আগস্ট তিনি জানান, সাংবিধানিক প্রক্রিয়া মেনে যথাসময়ে স্থানীয় সরকারের পাঁচটি স্তরেই নির্বাচন হবে; দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে সেবা পৌঁছানো তাঁর অগ্রাধিকার। ১০ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে তাঁকে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংসদ-বিষয়ক কাজের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। ১৪ সেপ্টেম্বর ডেঙ্গু প্রতিরোধ বিষয়ক কর্মশালায় তিনি মাঠপর্যায়ে কার্যকর বাস্তবায়ন এবং স্থানীয় সরকার বিভাগ ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত পদক্ষেপের ওপর জোর দেন।
সূত্র: ittefaq.com.bd, dhakatribune.com ১, dhakatribune.com ২, rupalibangladesh.com। ভুল দেখলে জানান।
নির্বাচনী এলাকা
সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।
নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি
নরসিংদী-২ (Narsingdi-2) জাতীয় সংসদের ২০০ নম্বর আসন, ঢাকা বিভাগের নরসিংদী জেলায়। নির্বাচন কমিশনের ২০২৫ সালের সীমানা নির্ধারণ অনুযায়ী আসনটি গঠিত পুরো পলাশ উপজেলা (Palash Upazila) এবং নরসিংদী সদর উপজেলার আমদিয়া, পাঁচদোনা ও মেহেরপাড়া ইউনিয়ন নিয়ে। ২০২৬ সালের নির্বাচনে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ২,৮৬,২১৮ জন।
পলাশ নরসিংদী জেলার সবচেয়ে ছোট উপজেলা, আয়তন ৯৪.৪৩ বর্গকিলোমিটার; জেলা শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্ব তীরে এর অবস্থান। ২০২২ সালের জনশুমারিতে জনসংখ্যা ২,৪৯,১৫৬। ঘোড়াশাল পৌরসভা এবং চরসিন্দুর, ডাঙ্গা, গজারিয়া ও জিনারদী ইউনিয়ন নিয়ে উপজেলাটি গঠিত। পলাশ শিল্প-কারখানাসমৃদ্ধ এলাকা: ঘোড়াশাল বিদ্যুৎকেন্দ্র ঢাকার বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ভূমিকা রাখে, আর ২০২৩ সালের নভেম্বরে উদ্বোধন হওয়া ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানার দৈনিক উৎপাদনক্ষমতা ২,৮০০ টন। জনতা জুট মিল ও দেশবন্ধু সুগার মিলসও এখানে। ডাঙ্গা তাঁতের জন্য এবং জিনারদী আনারসের জন্য পরিচিত।
নরসিংদী সদর উপজেলার জনসংখ্যা ২০২২ সালের জনশুমারিতে ৮,৫২,৩৩০, তবে এর মাত্র তিনটি ইউনিয়ন এই আসনে। আমদিয়ায় কৃষি ও তাঁত আয়ের প্রধান উৎস; শহীদ বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক গিয়াসউদ্দিন আহমদ এই ইউনিয়নের সন্তান। পাঁচদোনায় জন্মেছিলেন গিরিশচন্দ্র সেন (Girish Chandra Sen), যিনি ১৮৮৬ সালে কুরআনের প্রথম বাংলা অনুবাদ প্রকাশ করেন। মেহেরপাড়া কাপড়ের হাটের জন্য খ্যাত বাবুরহাটের কাছে।
আসনটির সীমানা ২০০৮ সালে পুনর্নির্ধারিত হয় এবং ২০১৪ সালের আগে শিলমান্দী ইউনিয়ন বাদ পড়ে। ১৯৯১ থেকে ২০০১ পর্যন্ত আসনটি বিএনপির হাতে ছিল; ২০০৮, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ এবং ২০১৪ সালে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হন। ২০২৬ সালে আসনটি আবার বিএনপির হাতে ফেরে।
সূত্র: উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, tbsnews.net ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, উইকিপিডিয়া (বাংলা) ১, tbsnews.net ২, dhakatribune.com, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩, উইকিপিডিয়া (বাংলা) ২, উইকিপিডিয়া (বাংলা) ৩, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৪। ভুল দেখলে জানান।
সংসদে মেয়াদ
সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ৫ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন; আগের ৪টি মেয়াদের মধ্যে ১টির বিস্তারিত এখানে আছে। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।
২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে এই আসনের ফল
আসনের সব ফল →এই আসনের সাধারণ নির্বাচনের বিজয়ী ও বর্তমান সংসদ সদস্যের নাম আলাদা। নিচের কার্ডের শেষে উৎসের বিবরণ দেখুন।
- ড, আবদুল মঈন খান
BNPবিজয়ী৯২,৭৩৯৫৪.৪% - Md. Amjad Hossain
BJEI৫৫,৯২০৩২.৮%
- Md. Golam Sarwar
NCP১৯,৫৪০১১.৫%
- A. N. M. Rafiqul Alam SaleemJP(ERSHAD)১,২৮৫০.৮%
- Asif IqbalIFB৭০৮০.৪%
- Mohammad IbrahimIBB২৩৫০.১%
সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন
আসন: নরসিংদী-২
আসনের পাতা →পলাশ এবং নরসিংদী সদর উপজেলার নিম্নলিখিত ইউনিয়ন সমূহঃ (১)আমদিয়া,(২) পাঁচদোনা,(৩) মেহেরপাড়া
সংসদীয় কমিটি(২)
সংবাদ ও ভিডিও
সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…
সম্পাদকের যাচাই করা ৪টি খবর