
ড. মুহাম্মদ ওসমান ফারুক
Dr. Muhammad Osman Farruk
সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা
পরিচিতি
ড. মুহাম্মদ ওসমান ফারুক কিশোরগঞ্জ-৩ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সংসদ সদস্য। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি, নির্বাচনী ফলাফল, আগের মেয়াদ, সংসদীয় কমিটি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।
ড. মুহাম্মদ ওসমান ফারুক (Dr. Muhammad Osman Farruk) কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ ও তাড়াইল) আসনের সংসদ সদস্য, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভাইস চেয়ারম্যান এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত দেশের শিক্ষামন্ত্রী। পেশায় তিনি কৃষি অর্থনীতিবিদ। ২০২৬ সালে দ্বিতীয়বারের মতো সংসদে আসা এই নেতাকে গণমাধ্যমে ত্রয়োদশ সংসদে নির্বাচিতদের মধ্যে সবচেয়ে প্রবীণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা
১৯৪০ সালের ১৮ জুলাই তাঁর জন্ম। পৈতৃক নিবাস করিমগঞ্জ উপজেলার গুজাদিয়া ইউনিয়নের বৈরাটিয়াপাড়া গ্রামে। বাবা ড. মুহাম্মদ ওসমান গনি (Muhammad Osman Ghani) ছিলেন শিক্ষাবিদ ও বিজ্ঞানী; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেন। মা সামশুন্নাহার গনি। স্ত্রী রানা ফারুক।
সেন্ট গ্রেগরীজ স্কুল ও ঢাকা কলেজে পড়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক সম্মান ও ১৯৬২ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন। ইউএসএইডের (USAID) ফেলোশিপে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৪ সালে কৃষি অর্থনীতিতে এমএস এবং ১৯৭০ সালে কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় (Cornell University) থেকে একই বিষয়ে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন।
রাজনৈতিক জীবন
১৯৭০ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন; সেখানে অপারেশন ও মার্কেটিং পড়াতেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, স্বাধীনতার পর তৎকালীন সরকারের অনুমতি নিয়ে তিনি বিশ্বব্যাংকে যোগ দেন এবং পরে করিমগঞ্জ-তাড়াইলের মানুষের কল্যাণে কাজ করতে সেই চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে আসেন।
২০০১ সালে বিএনপিতে যোগ দিয়ে সে বছরই অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তৎকালীন কিশোরগঞ্জ-৪ আসন থেকে ৬৫,৪৪৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন; আওয়ামী লীগের মিজানুল হকের (Mizanul Haque) সঙ্গে ব্যবধান ছিল ১,২১৫ ভোট। ২০০১ সালের ১০ অক্টোবর খালেদা জিয়ার (Khaleda Zia) মন্ত্রিসভায় শিক্ষামন্ত্রী হন এবং ২০০৬ সালের ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন। পরে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন; বর্তমানে তিনি দলের ভাইস চেয়ারম্যান।
২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা একাত্তরের ভূমিকা নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে; তিনি অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে নাকচ করেন। সে বছরের মে মাসে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যান এবং প্রায় আট বছর পর ২০২৪ সালের ২৪ অক্টোবর দেশে ফেরেন।
২০২৬ নির্বাচন
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আসনটিতে সাতজন প্রার্থী ছিলেন। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পান ১,১২,৪৬৬ ভোট; নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অধ্যাপক ডা. কর্নেল (অব.) জেহাদ খান (Jehad Khan) পান ১,০২,৪৭৬ ভোট। জয়ের ব্যবধান ৯,৯৯০ ভোট। একই দিনের গণভোটে এ আসনে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়ে ১,৪৩,৫৭১টি এবং ‘না’ ভোট ৬১,৩৯৩টি।
ফল ঘোষণার দিন রাতে জেহাদ খান ফুল ও মিষ্টি নিয়ে করিমগঞ্জে তাঁর গ্রামের বাড়িতে যান। ওসমান ফারুক আসনটিকে মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে তাঁর সহযোগিতা ও দোয়া চান; জেহাদ খান দলমত-নির্বিশেষে এলাকার উন্নয়নে একসঙ্গে কাজের আশ্বাস দেন।
উল্লেখযোগ্য কাজ ও অবদান
শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০০৩-এর অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এমপিও ও সরকারি অনুদান ন্যূনতম মান অর্জনের শর্তে দিতে হবে এবং পাঠ্যক্রম হতে হবে জীবনমুখী; শিক্ষা অধিদপ্তর ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সেবা বিকেন্দ্রীকরণের পরিকল্পনাও জানান। ২০০৫ সালের জুলাইয়ে সংসদে তিনি জানান, মাদ্রাসা শিক্ষা আধুনিকায়নে নতুন পাঠ্যক্রম চালু হচ্ছে, ফাজিল ও কামিল ডিগ্রিকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের সমমান দেওয়ার কথা বিবেচনা চলছে। একই বছরের সেপ্টেম্বরে তিনি এসএসসি পরীক্ষা পদ্ধতি পুনর্গঠনসহ মাধ্যমিক শিক্ষা সংস্কারের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন।
সূত্র: উইকিপিডিয়া (বাংলা), উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, জাতীয় সংসদ, jugantor.com ১, observerbd.com, bangla.thedailystar.net, jugantor.com ২, bssnews.net ১, bssnews.net ২, tbsnews.net, thedailystar.net ১, alokitobangladesh.com, jugantor.com ৩, dailyinqilab.com, ajkerpatrika.com, jugantor.com ৪, dailynayadiganta.com, thedailystar.net ২, archive.thedailystar.net, voabangla.com। ভুল দেখলে জানান।
বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম
২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য। সরকারে তাঁর কোনো মন্ত্রীর পদ নেই।
সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ গঠিত প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য। এই কমিটি মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তরগুলোর কাজ, বাজেট ও ব্যয় পর্যালোচনা করে সুপারিশ দেয়; ৭ অক্টোবরের প্রথম বৈঠকে কমিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ দ্রুত পূরণ এবং প্রাথমিক স্তরে নৈতিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ করে। ১ সেপ্টেম্বর গঠিত সংসদের বিশেষ কমিটিতেও তিনি সদস্য। এপ্রিলে স্পিকার বিইউপি আইন অনুযায়ী তাঁকে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) সিনেট সদস্য মনোনীত করেন; সংসদ সচিবালয়ের ১৬ এপ্রিলের চিঠিতে আরও চার সংসদ সদস্যের সঙ্গে তাঁর নাম আসে। নির্বাচনী এলাকায় ১৯ মে করিমগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের আয়োজিত ভূমি সেবা মেলা-২০২৬-এ তিনি প্রধান অতিথি ছিলেন।
সূত্র: জাতীয় সংসদ ১, জাতীয় সংসদ ২, ntvbd.com, jugantor.com, dailyinqilab.com, amarbangladesh24.com। ভুল দেখলে জানান।
নির্বাচনী এলাকা
সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।
নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি
কিশোরগঞ্জ-৩ ঢাকা বিভাগের কিশোরগঞ্জ জেলার একটি সংসদীয় আসন, জাতীয় সংসদের ১৬৪ নম্বর আসন। নির্বাচন কমিশনের ২০২৫ সালের সীমানা নির্ধারণ অনুযায়ী আসনটি গঠিত (ক) তাড়াইল এবং (খ) করিমগঞ্জ উপজেলা নিয়ে। ২০২৬ সালের নির্বাচনে এখানে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ৪,৪৮,৬২৫ জন: পুরুষ ২,৩০,২১০, নারী ২,১৮,৪১২ এবং হিজড়া ৩ জন।
করিমগঞ্জ (আয়তন ২০০.৫০ বর্গকিলোমিটার) জেলা সদরের পূর্বে; একটি পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। ২০২২ সালের জনশুমারিতে জনসংখ্যা ৩,২৮,২৮৮। নরসুন্দা, ধনু ও সিংগুয়া নদী এবং বেশ কয়েকটি বিল এ উপজেলায়; আয়ের প্রধান উৎস কৃষি, এরপর ব্যবসা। ধান, পাট, গম, সরিষা ও সবজি প্রধান ফসল। ষোড়শ শতকের ঈসা খাঁর (Isa Khan) জঙ্গলবাড়ি দুর্গ ও তাঁর নামের মসজিদ এখানকার প্রধান ঐতিহাসিক নিদর্শন। বালিখলায় মাছের বাজার ও ফেরিঘাট রয়েছে; করিমগঞ্জকে হাওরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার বলা হয়।
তাড়াইল (আয়তন ১৪১.৪৩ বর্গকিলোমিটার) করিমগঞ্জের উত্তরে; একটি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। ২০২২ সালে জনসংখ্যা ১,৭০,০৮৫। নরসুন্দা, বাথাইল ও বারুনী নদী এ উপজেলা দিয়ে বয়ে গেছে; আয়ের প্রায় ৭০ শতাংশ আসে কৃষি থেকে, প্রধান ফসল ধান, পাট ও সরিষা। জাওয়ারের সাহেববাড়ি মসজিদ ও পুরুড়ার মোগল আমলের মসজিদ উল্লেখযোগ্য নিদর্শন; তাড়াইল মুক্তিযোদ্ধা ডিগ্রি কলেজ এখানকার উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
আসন নম্বর ও সীমানা সময়ের সঙ্গে বদলেছে। ২০০৮ সালের আগে এ এলাকা তৎকালীন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের অংশ ছিল, যেখানে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের জুনে আওয়ামী লীগ এবং ২০০১ সালে বিএনপি জয়ী হয়। ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নু (Mujibul Haque Chunnu) নির্বাচিত হন। ২০২৬ সালে আসনটিতে জয় পায় বিএনপি।
সূত্র: tbsnews.net, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৪, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৫, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৬, en.banglapedia.org ১, en.banglapedia.org ২, dailynayadiganta.com, jugantor.com, bssnews.net। ভুল দেখলে জানান।
সংসদে মেয়াদ
সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ২ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।
২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট
আসনের সব ফল →- ড. মুহাম্মদ ওসমান ফারুক
BNPবিজয়ী১,১২,৪৬৬৪৯.২% - Jehad Khan
BJEI১,০২,৪৭৬৪৪.৮%
- Md. Alamgir Hossain
IAB১০,৭৭৭৪.৭% - A.K.M. AlamgirInd১,৪৮৭০.৭%
- Md. Abu Bakr SiddiqueJP(ERSHAD)১,২৪৯০.৫%
- Delowar Hossain BhuiyanGP১৯১০.১%
- Mohammad Aminul IslamNPP১১৮০.১%
সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন(১)
আসন: কিশোরগঞ্জ-৩
আসনের পাতা →(ক)তাড়াইল এবং(খ) করিমগঞ্জ উপজেলা
সংসদীয় কমিটি(২)
সংবাদ ও ভিডিও
সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…