
ফকির মাহবুব আনাম
Faqir Mahbub Anam
সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা
পরিচিতি
ফকির মাহবুব আনাম টাঙ্গাইল-১ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সংসদ সদস্য এবং বর্তমানে বিজ্ঞান ও প্রযু্ক্তি মন্ত্রণালয় ও ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।
ফকির মাহবুব আনাম স্বপন (Faqir Mahbub Anam Swapan) টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের (Tarique Rahman) মন্ত্রিসভায় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) এই নেতা প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েই মন্ত্রিত্ব পেয়েছেন।
রাজনীতির পাশাপাশি চার দশকের বেশি সময় তিনি মাছ ও চিংড়ি রপ্তানি, হ্যাচারি, তৈরি পোশাক ও কৃষিভিত্তিক শিল্পে ব্যবসা পরিচালনা করেছেন।
শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা
১৯৫৩ সালের ৫ মার্চ টাঙ্গাইলে তাঁর জন্ম; পৈতৃক নিবাস জেলার ভূঞাপুর উপজেলায়। বাবা মকবুল হোসেন ফকির, মা মরিয়ম বানু। চাচা আফাজ উদ্দিন ফকির (Afaz Uddin Fakir) টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন; আরেক চাচা একুশে পদকপ্রাপ্ত গীতিকার লোকমান হোসেন ফকির (Lokman Hossain Fakir)।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ডিগ্রি নেওয়ার পর ১৯৭৯ সালে তিনি লন্ডনের উইলসডেন কলেজ অব টেকনোলজিতে (Willesden College of Technology) অটোমোবাইল প্রকৌশল বিষয়ে পড়াশোনা করেন। স্ত্রী ডা. রেশমা আনাম চিকিৎসক; তাঁদের দুই ছেলে।
রাজনৈতিক জীবন
২০০০ সালের দিকে মধুপুরে বাড়ি করে তিনি মধুপুর ও ধনবাড়ীতে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে টাঙ্গাইল-১ আসনে দলের মনোনয়ন পান; স্থানীয় এক নেতা বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় দলের ভোট ভাগ হয়ে যায়, আর তিনি ৪০,৯৭২ ভোট পেয়ে আওয়ামী লীগের মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাকের (Mohammad Abdur Razzaque) কাছে পরাজিত হন। ২০০৮ সালে আবার দলের প্রার্থী হয়ে পান ৮৮,৪৬১ ভোট, তবে জয় পাননি। ২০১৮ সালে তিনি দলের মনোনয়ন পাননি।
দলে তিনি বৃহত্তর টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বর্তমানে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য।
২০২৬ নির্বাচন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি তিনি টাঙ্গাইল-২ আসন ঘিরে নিচ্ছিলেন, তবে দলের নেতাদের পরামর্শে টাঙ্গাইল-১ থেকে প্রার্থী হন। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে এ আসনে ছয়জন প্রার্থী ছিলেন। বিএনপির প্রার্থী হিসেবে তিনি পান ১,৫৩,৯৩২ ভোট; নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মুহাম্মদ আবদুল্লাহেল কাফী (Muhammad Abdullah Kafi) পান ৯৪,৪৬২ ভোট। জয়ের ব্যবধান ৫৯,৪৭০ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আসাদুল ইসলাম পান ২৮,২৫৯ ভোট। ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির পর এই প্রথম আসনটিতে বিএনপি জয় পায়।
উল্লেখযোগ্য কাজ ও অবদান
১৯৮২ সাল থেকে শিমিজু স্পেশালাইজড ফিশিং প্রাইভেট লিমিটেডের (Shimizu Specialized Fishing Pvt. Ltd.) ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে তিনি ২০০৪ সাল পর্যন্ত চিংড়ি ও মাছ রপ্তানি পরিচালনা করেন। ১৯৯৫ সালে হ্যাচারি ব্যবসায় যুক্ত হন; তাঁর হ্যাচারি ১৯৯৮ সালে দেশের সেরা হ্যাচারি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর স্বর্ণপদক পায়। ১৯৯৩ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত ভাস অ্যাপারেলস লিমিটেডের (Vase Apparels Ltd.) চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি পোশাক রপ্তানিতে যুক্ত ছিলেন।
ব্যবসায়ী সংগঠনেও তিনি ভূমিকা রেখেছেন: বাংলাদেশ মেরিন ফিশারিজ অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব এবং বাংলাদেশ ফেডারেশন অব চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) মানবসম্পদ উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানবিষয়ক স্থায়ী কমিটির কো-চেয়ারম্যান ছিলেন। সমাজসেবা ও খেলাধুলায় তিনি টাঙ্গাইল রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান এবং মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেছেন।
সূত্র: most.gov.bd ১, prothomalo.com ১, prothomalo.com ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (বাংলা), উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, tbsnews.net, thefinancialexpress.com.bd, most.gov.bd ২, ittefaq.com.bd, bdnews24.com। ভুল দেখলে জানান।
বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম
২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। ২১ আগস্ট ২০২৬-এর মন্ত্রিসভা রদবদলের পরও দুটি মন্ত্রণালয় তাঁর দায়িত্বে রয়েছে।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ডাক, টেলিযোগাযোগ, ব্রডব্যান্ড ও স্পেকট্রাম নীতি এবং ডিজিটাল অর্থনীতির নীতি দেখে; বিটিআরসি, টেলিটক ও ডাক বিভাগ এর আওতায়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কার্যক্রম সমন্বয় করে; পরমাণু শক্তি কমিশন ও বিসিএসআইআর এর অধীন। ২৮ এপ্রিল রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিংয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনে মন্ত্রী বলেন, পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তায় বড় ভূমিকা রাখবে। ৭ জুলাই তিনি জানান, রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটক বিক্রি না করে এর নেটওয়ার্ক উন্নত করা হবে। ৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায় এপিটি ওয়্যারলেস গ্রুপের ৩৭তম সভায় তিনি বলেন, টেলিযোগাযোগ খাতের পরের লক্ষ্য শুধু সংযোগ বাড়ানো নয়, সেবার মান, সাশ্রয় ও নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করা।
সূত্র: উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, world-nuclear-news.org, unb.com.bd, bdnews24.com, ittefaq.com.bd, khoborsangjog.com। ভুল দেখলে জানান।
নির্বাচনী এলাকা
সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।
নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি
টাঙ্গাইল-১ (Tangail-1) জাতীয় সংসদের ১৩০ নম্বর আসন; ঢাকা বিভাগের টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর ও ধনবাড়ী উপজেলা নিয়ে এটি গঠিত। ২০২৬ সালের নির্বাচনে আসনটিতে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ৪,৩৭,৪৩৩ জন: পুরুষ ২,১৬,০০৭, নারী ২,২১,৪২৪ ও হিজড়া ২ জন।
মধুপুর (Madhupur) জেলার উত্তরতম উপজেলা, টাঙ্গাইল শহর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে; আয়তন প্রায় ৩৬৭ বর্গকিলোমিটার। ২০২২ সালের জনশুমারিতে জনসংখ্যা ৩,৩৭,৩৯৩। বংশী নদী এর ভেতর দিয়ে বয়ে গেছে। অর্থনীতি কৃষিনির্ভর; আনারসের জন্য মধুপুর সারা দেশে পরিচিত, জলছত্রে আনারসের বড় পাইকারি বাজার বসে। ধান, পাট, কলা, কাঁঠাল ও হলুদেরও চাষ হয়। শালবনঘেরা মধুপুর গড়ের একাংশ ১৯৮২ সালে মধুপুর জাতীয় উদ্যান ঘোষিত হয়; বনের আশপাশে গারো জনগোষ্ঠীর বসবাস। জলছত্রে ড্যামিয়েন ফাউন্ডেশন পরিচালিত যক্ষ্মা ও কুষ্ঠ হাসপাতাল এবং মধুপুর কলেজ এখানকার উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠান।
ধনবাড়ী (Dhanbari) ২০০৬ সালে মধুপুর উপজেলা ভাগ করে গঠিত হয়। আয়তন প্রায় ১৩৪ বর্গকিলোমিটার; ২০২২ সালের জনশুমারিতে জনসংখ্যা ১,৮৯,১২৯। একটি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়ন নিয়ে উপজেলাটি গঠিত; ঝিনাই নদী এর ভেতর দিয়ে বয়ে গেছে। ধান, পাট, আখ ও সবজির পাশাপাশি কলা, কাঁঠাল ও আনারসের চাষ হয়। মোগল স্থাপত্যরীতির ধনবাড়ী নবাব মঞ্জিল ও এর পাশের মসজিদ জেলার পরিচিত দর্শনীয় স্থান; ১৯১০ সালে প্রতিষ্ঠিত ধনবাড়ী নবাব ইনস্টিটিউশন এখানকার পুরোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
১৯৭৩ সালে গঠিত আসনটির সীমানা ১৯৮৬ সালের নির্বাচনের আগে বড় পরিসরে বদলায়। ১৯৯১ সালে ও ১৯৯৬ সালের জুনে আওয়ামী লীগের আবুল হাসান চৌধুরী এবং ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপির আবদুস সালাম তালুকদার এখানে জয়ী হন। ২০০১ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক টানা নির্বাচিত হন; ২০২৬ সালে আসনটি বিএনপির হাতে আসে।
সূত্র: উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (বাংলা) ১, tbsnews.net, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, উইকিপিডিয়া (বাংলা) ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩, উইকিপিডিয়া (বাংলা) ৩, prothomalo.com, ngobase.org, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৪। ভুল দেখলে জানান।
সংসদে মেয়াদ
সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ১ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।
২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট
আসনের সব ফল →- ফকির মাহবুব আনাম
BNPবিজয়ী১,৫৩,৯৩২৫৪.৭% - Muhammad Abdullah Kafi
BJEI৯৪,৪৬২৩৩.৬%
- Md. Asadul IslamInd২৮,২৫৯১০.০%
- Muhammad Ilyas HossainJP(ERSHAD)২,১৯৪০.৮%
- Md. Harun Or Rashid
IAB১,৭৩১০.৬% - Muhammad AliInd৭২৩০.৩%
সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন
আসন: টাঙ্গাইল-১
আসনের পাতা →(ক)মধুপুর এবং(খ) ধনবাড়ী উপজেলা
সংসদীয় কমিটি(২)
সংবাদ ও ভিডিও
সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…
সম্পাদকের যাচাই করা ২টি খবর