
ফারজানা শারমীন
Farzana Sharmin
সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা
পরিচিতি
ফারজানা শারমীন নাটোর-১ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সংসদ সদস্য এবং বর্তমানে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি, নির্বাচনী ফলাফল, আগের মেয়াদ, সংসদীয় কমিটি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।
ফারজানা শারমীন পুতুল (Farzana Sharmin Putul) নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) এই নেতা পেশায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী।
২০২৬ সালের নির্বাচনে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ৭২টি আসনের মধ্যে তিনিই একমাত্র নির্বাচিত নারী সংসদ সদস্য। প্রথমবার সংসদে এসেই তিনি মন্ত্রিসভায় জায়গা পান।
শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা
১৯৮৪ সালের ২ নভেম্বর তাঁর জন্ম। বাবা প্রয়াত ফজলুর রহমান পটল (Fazlur Rahman Potol) নাটোর-১ আসন থেকে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। মা কামরুন নাহার শিরিন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (University of Dhaka) ও লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় (University of London) থেকে তিনি আইনে স্নাতক ডিগ্রি নেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং লন্ডনের বিপিপি ইউনিভার্সিটি কলেজ (BPP University College) থেকে আইনে দুটি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
রাজনৈতিক জীবন
বিএনপিতে তিনি চেয়ারপারসনের বৈদেশিক বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির বিশেষ সহকারী এবং দলের মানবাধিকার কমিটি ও মিডিয়া সেলের সদস্য হিসেবে কাজ করেছেন।
২০২৪ সালের অক্টোবরে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী চ্যালেঞ্জ করা রিট মামলায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (Mirza Fakhrul Islam Alamgir) পক্ষভুক্ত হলে বিএনপির পক্ষে শুনানিতে দাঁড়ানো আইনজীবীদের মধ্যে তিনিও ছিলেন। নভেম্বরে হাইকোর্টের শুনানিতে তিনি বিএনপির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।
বাবার মৃত্যুর পর ২০১৮ সালের নির্বাচনে মা এই আসনে বিএনপির হয়ে লড়ে জিততে পারেননি। ২০২৬ সালে দলের মনোনয়ন পেয়ে ফারজানা শারমীন বাবার আসনে প্রার্থী হন।
২০২৬ নির্বাচন
ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে তিনি ১,০২,৭২৬ ভোট পান। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর (Bangladesh Jamaat-e-Islami) মোঃ আবুল কালাম আজাদ পান ৯০,৫৬৮ ভোট; ব্যবধান ১২,১৫৮ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী তাইফুল ইসলাম টিপু ৭৩,১৭৩ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন।
এই জয়ে ১৮ বছর পর আসনটি আবার পটল পরিবারের কাছে ফেরে। ফল ঘোষণার পর তিনি বলেন, কে তাঁকে ভোট দিয়েছেন আর কে দেননি, সে বিচারে কাউকে দেখবেন না; সবাইকে নিয়ে কাজ করতে চান।
উল্লেখযোগ্য কাজ ও অবদান
২০০৮ সালে জেলা আদালতে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর ২০১২ সালে তিনি সুপ্রিম কোর্টে আইন পেশার অনুমতি পান। ফৌজদারি মামলা, বিচারিক পর্যালোচনা ও সাংবিধানিক আইন তাঁর কাজের প্রধান ক্ষেত্র। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসে সহযোগী হিসেবে কাজের পর তিনি রাইটস চেম্বার্সের (RIGHTS Chambers) অংশীদার হন। বিভিন্ন ব্যাংক, বিমা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের আইন উপদেষ্টা এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) আইনজীবী হিসেবেও কাজ করেছেন। ঢাকার ব্রিটিশ হাইকমিশনের ইংরেজিভাষী আইনজীবীদের তালিকায় তাঁর নাম রয়েছে; তিনি ইন্টারন্যাশনাল বার অ্যাসোসিয়েশন, মিডল টেম্পল ও ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য।
২০২৪ সালের অক্টোবরে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার কমিশনের সদস্য হন তিনি। ইফতেখারুজ্জামানের (Iftekharuzzaman) নেতৃত্বাধীন এই কমিশনে তিনি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে যুক্ত ছিলেন।
সূত্র: উইকিপিডিয়া (বাংলা), উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, bssnews.net, dhakatribune.com, thedailystar.net ১, thedailystar.net ২, en.prothomalo.com ১, tbsnews.net, en.prothomalo.com ২, en.prothomalo.com ৩, bdnews24.com, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, জাতীয় সংসদ। ভুল দেখলে জানান।
* চিহ্নিত তথ্য সদস্যের উইকিপিডিয়া নিবন্ধ থেকে নেওয়া; সংসদ বা নির্বাচন কমিশনের নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি। ভুল দেখলে জানান।
বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম
২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের (Tarique Rahman) মন্ত্রিসভায় তিনি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। শুরুতে তাঁকে মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়; ৪ মার্চের দপ্তর পুনর্বণ্টনের পর থেকে তিনি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ভাতাসহ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সেবা এবং পথশিশু ও সংশোধন কেন্দ্রের কাজ তাঁর দায়িত্বের আওতায়।
১৫ মার্চ ২০২৬ সংসদে তিনি জানান, সামাজিক নিরাপত্তার সব ভাতা ও সুবিধাভোগীকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রকল্পের মাধ্যমে একই ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে এবং বিদ্যমান তালিকা যাচাই করে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের অন্তর্ভুক্ত করার কাজ চলছে। ২২ মে ঢাকা ট্রিবিউনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ভাতা জিটুপি পদ্ধতিতে সরাসরি সুবিধাভোগীর কাছে পাঠানো হচ্ছে এবং ভাতার পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানে জোর দেওয়া হবে। ২ জুলাই প্রতিবন্ধী অধিকার বিষয়ক আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির সভার পর তিনি জানান, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রশিক্ষণ, আইনি সহায়তা ও কর্মসংস্থান সেবা এক জায়গায় আনতে পর্যায়ক্রমে পাইলট কার্যক্রম শুরু হবে।
সূত্র: bangla.bdnews24.com, dhakatribune.com, dailyinqilab.com, en.prothomalo.com। ভুল দেখলে জানান।
নির্বাচনী এলাকা
সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।
নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি
নাটোর-১ জাতীয় সংসদের ৫৮ নম্বর আসন। নির্বাচন কমিশনের ২০২৫ সালের সীমানা নির্ধারণ অনুযায়ী রাজশাহী বিভাগের নাটোর জেলার লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলা নিয়ে আসনটি গঠিত। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের নির্বাচনী পাতা অনুযায়ী ২০২৬ সালের নির্বাচনে এখানে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ৩,৬৮,২৭৬ জন।
জেলার দক্ষিণ প্রান্তে পদ্মা নদীর তীরে লালপুর উপজেলা, আয়তন প্রায় ৩২৮ বর্গকিলোমিটার। এর দক্ষিণ ও পূর্বে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা ও দৌলতপুর এবং পাবনার ঈশ্বরদী, পশ্চিমে রাজশাহীর বাঘা। গোপালপুর পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত উপজেলার জনসংখ্যা ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী ৩,০৬,৩৫৭। কৃষি প্রধান জীবিকা; ধান, পাট, গম ও আখ প্রধান ফসল, পদ্মায় মাছ ধরাও গুরুত্বপূর্ণ। গোপালপুরের নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলস (North Bengal Sugar Mills) উপজেলার প্রধান শিল্প প্রতিষ্ঠান; চিনি এখান থেকে বাইরে যায়। ভেল্লাবাড়িয়ায় মোগল আমলের শাহ বাঘু দেওয়ানের মাজার ও মসজিদ এবং আড়বাবের সরাইখানা উল্লেখযোগ্য স্থাপনা। ১৯৭১ সালের ৩০ মার্চ ময়নার যুদ্ধ এবং ৫ মে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে চিনিকলের প্রায় ৫০ কর্মীর নিহত হওয়ার স্মৃতি এখানকার ইতিহাসের অংশ।
উত্তরের বাগাতিপাড়া উপজেলার আয়তন প্রায় ১৪০ বর্গকিলোমিটার; এর উত্তরে নাটোর সদর, পশ্চিমে রাজশাহীর চারঘাট, বাঘা ও পুঠিয়া। বড়াল প্রধান নদী। বাগাতিপাড়া পৌরসভা ও ৫টি ইউনিয়নে ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী ১,৪০,৬৯৯ জনের বাস। কৃষিই প্রধান আয়ের উৎস; আখ ও খেজুরের গুড়, আম ও কাঁঠাল এখান থেকে বাইরে যায়। দয়ারামপুর রাজবাড়ি (১৮৯১) ও বাগাতিপাড়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৫৯) এখানকার পরিচিত স্থাপনা।
১৯৯১ সালে, ১৯৯৬ সালের দুটি নির্বাচনে ও ২০০১ সালে আসনটিতে বিএনপির ফজলুর রহমান পটল জয়ী হন। ২০০৮ সালে জাতীয় পার্টি (এরশাদ), ২০১৪ ও ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগ এবং ২০২৪ সালে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী আসনটি পান; ২০২৬ সালে তা আবার বিএনপির হাতে আসে।
সূত্র: উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, tbsnews.net, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, উইকিপিডিয়া (বাংলা), en.banglapedia.org ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩, en.banglapedia.org ২, bssnews.net। ভুল দেখলে জানান।
সংসদে মেয়াদ
সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ১ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।
২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট
আসনের সব ফল →- ফারজানা শারমীন
BNPবিজয়ী১,০২,৭২৬৩৮.২% - Md. Abul Kalam Azad
BJEI৯০,৫৬৮৩৩.৭%
- Taiful Islam TipuInd৭৩,১৭৩২৭.২%
- Abdullah Hil Baki
IAB১,২৬৯০.৫% - Md . Shahed Ali JInnahJP(ERSHAD)৫৫২০.২%
- Md Mehedi Hasan
GOP২৯৮০.১%
- Md. Moazzem HossainInd১১৫০.০%
- Md Yeasir ArshadInd৮০০.০%
সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন
আসন: নাটোর-১
আসনের পাতা →(ক)লালপুর এবং(খ) বাগাতিপাড়া
সংসদীয় কমিটি(৩)
সংবাদ ও ভিডিও
সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…
সম্পাদকের যাচাই করা ১টি খবর