
গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ
Golam Mohammad Siraj
সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা
পরিচিতি
গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ বগুড়া-৫ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সদস্য, কেন্দ্রীয় উপদেষ্টামণ্ডলী, বিএনপি। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি, নির্বাচনী ফলাফল, আগের মেয়াদ, সংসদীয় কমিটি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।
গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ (Golam Mohammad Siraj), রাজনীতিতে যিনি জি এম সিরাজ নামে বেশি পরিচিত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনের সংসদ সদস্য। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি, Bangladesh Nationalist Party) এই প্রবীণ নেতা ২০২৬ সালের নির্বাচনে জিতে ষষ্ঠবারের মতো সংসদে এসেছেন।
রাজনীতির পাশাপাশি তিনি একজন ব্যবসায়ী; এসআর গ্রুপের (SR Group) প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) তথ্য অনুযায়ী তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য।
শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা
জি এম সিরাজের জন্ম ১৯৫০ সালের ১৫ জানুয়ারি। তাঁর বাবা প্রয়াত গোলাম রব্বানী, মা বেগম সেতারা রব্বানী। তাঁর বাড়ি বগুড়ার শেরপুর উপজেলায়, যা এখন তাঁর নির্বাচনী এলাকারই অংশ।
রাজনৈতিক জীবন
বিএনপির প্রার্থী হিসেবে জি এম সিরাজ ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৫ আসন থেকে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন; সেবার তিনি আওয়ামী লীগের ফেরদৌস জামান মুকুলকে (Ferdous Zaman Mukul) পরাজিত করেন। এরপর ১৯৯৬ সালে এবং ২০০১ সালের অষ্টম সংসদ নির্বাচনে তিনি একই আসনে জয়ী হন। ২০০১ সালে তিনি পান ১,৫৮,৮৪২ ভোট, যা ছিল মোট প্রদত্ত ভোটের অর্ধেকের বেশি।
এক-এগারো পর্বে তিনি দলের সংস্কারপন্থী নেতাদের একজন হিসেবে পরিচিত হন। ২০১৮ সালের ২৫ অক্টোবর দল যে ১৪ জন নেতাকে আবার সক্রিয় করে, তিনি তাঁদের একজন। সে বছরের ডিসেম্বরের নির্বাচনে তিনি বগুড়া-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন।
তৎকালীন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (Mirza Fakhrul Islam Alamgir) বগুড়া-৬ (সদর) আসনে জিতেও শপথ না নেওয়ায় আসনটি শূন্য হয়। ২০১৯ সালের ২৪ জুনের উপনির্বাচনে জি এম সিরাজ সেখানে ৮৯,৭৪২ ভোট পেয়ে জয়ী হন; নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের টি জামান নিকেতা পান ৩২,২৯৭ ভোট। একই বছরের ১১ জুলাই তিনি একাদশ জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ নেন। ২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর ঢাকার গোলাপবাগের সমাবেশে দলের সিদ্ধান্তে বিএনপির সংসদ সদস্যরা পদত্যাগের ঘোষণা দেন; পরদিন তিনি আরও চারজনের সঙ্গে স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন।
দলীয় সংগঠনে তিনি আহ্বায়ক হিসেবে বগুড়া জেলা বিএনপির নেতৃত্ব দেন। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে জেলা বিএনপির নতুন পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার সময় তিনি ছিলেন সদ্য সাবেক আহ্বায়ক।
২০২৬ নির্বাচন
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি তাঁকে আবার বগুড়া-৫ আসনে মনোনয়ন দেয়। পাঁচ প্রার্থীর এই লড়াইয়ে ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পান ২,৪৮,৮৪১ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. দবিবুর রহমান পান ১,৪৩,৩২৯ ভোট; ব্যবধান ১,০৫,৫১২ ভোট। আসনটিতে মোট ভোটার ছিলেন ৫,৭২,৩৪০ জন। প্রচারের সময় তিনি কর্মসংস্থান, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাকে অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেন এবং বলেন, তিনি রাজনীতি করেন মানুষের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য। দলমত নির্বিশেষে সব নাগরিকের উন্নয়ন নিশ্চিত করাকে তিনি নিজের লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন।
সূত্র: উইকিপিডিয়া (বাংলা), উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, dhakatimes24.com ১, bssnews.net ১, bssnews.net ২, bssnews.net ৩, tbsnews.net, en.prothomalo.com, dhakatimes24.com ২, prothomalo.com ১, prothomalo.com ২, ittefaq.com.bd। ভুল দেখলে জানান।
বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম
২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বগুড়া-৫ আসনের প্রতিনিধিত্ব করছেন। দলে তিনি কেন্দ্রীয় উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য হিসেবে যুক্ত আছেন।
সংসদ সদস্য হিসেবে জি এম সিরাজ শেরপুর ও ধুনট উপজেলার মানুষের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য। এই কমিটি মন্ত্রণালয়ের কাজ ও ব্যয় পর্যালোচনা করে সুপারিশ দেয়।
২০২৬ সালের ৮ অক্টোবর সংসদ ভবনে কমিটির বৈঠকে তিনি অংশ নেন। সেখানে মন্ত্রণালয়ের কর্মপরিধি ও বাজেট বরাদ্দ পর্যালোচনা করা হয় এবং বিমানবন্দরে প্রবাসী কর্মীরা যেন অবহেলা বা হয়রানির শিকার না হন, সে জন্য নজরদারির সুপারিশ করা হয়। অনিয়ম ও দুর্নীতি এড়াতে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার পরামর্শও দেয় কমিটি।
এর আগে ১ সেপ্টেম্বর শেরপুরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, রাষ্ট্র সংস্কার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের (Tarique Rahman) সরকারের প্রথম কাজ। জনস্বার্থবিরোধী কাজে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না জানিয়ে তিনি নেতাকর্মীদের জনগণের পাশে থাকার আহ্বান জানান।
সূত্র: prothomalo.com, dailyinqilab.com। ভুল দেখলে জানান।
নির্বাচনী এলাকা
সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।
নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি
বগুড়া-৫ জাতীয় সংসদের ৪০ নম্বর আসন। নির্বাচন কমিশনের সীমানা অনুযায়ী রাজশাহী বিভাগের বগুড়া জেলার শেরপুর ও ধুনট উপজেলা নিয়ে এই আসন গঠিত। দুই উপজেলার আয়তন মিলিয়ে প্রায় ৫৪৩ বর্গকিলোমিটার। ২০২৬ সালের নির্বাচনে এখানে ভোটার ছিলেন ৫,৭২,৩৪০ জন, যাঁদের মধ্যে শেরপুরে ৩,০৬,৮৪১ এবং ধুনটে ২,৬৫,৪৯৯ জন; ভোটকেন্দ্র ছিল ১৮৮টি।
শেরপুর উপজেলা সিরাজগঞ্জ ও নাটোর জেলার সীমানাঘেঁষা। এর আয়তন ২৯৫.৯৩ বর্গকিলোমিটার; একটি পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে উপজেলাটি গঠিত। ২০২২ সালের জনশুমারিতে জনসংখ্যা ৩,৮৩,৫৩৯। কৃষি এখানকার প্রধান জীবিকা, এরপর ব্যবসা-বাণিজ্য। ১৫৮২ সালে নির্মিত মোগল আমলের খেরুয়া মসজিদ, ভবানীপুর শক্তিপীঠ এবং পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ) শেরপুরে অবস্থিত।
ধুনট উপজেলা যমুনা নদীর পশ্চিম তীরে, সিরাজগঞ্জ জেলার সীমানায়। এর আয়তন ২৪৭.৪৩ বর্গকিলোমিটার; একটি পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়ন রয়েছে। ২০২২ সালের জনশুমারিতে জনসংখ্যা ৩,০৭,৫২১। ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত ধুনট ডিগ্রি কলেজ, ১৯৪১ সালের ধুনট উচ্চ বিদ্যালয় এবং ১৯১১ সালে প্রতিষ্ঠিত জোড়খালী সিনিয়র মাদ্রাসা এখানকার উল্লেখযোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
১৯৭৩ সালে গঠিত এই আসনের সীমানা ২০০৮ সালের আগে পুনর্নির্ধারিত হয় এবং ২০১৪ সালের আগে ধুনটের ভান্ডারবাড়ী ও গোসাইবাড়ী ইউনিয়ন এতে যুক্ত হয়। ১৯৯১ থেকে ২০০১ পর্যন্ত প্রতিটি নির্বাচনে বিএনপির জি এম সিরাজ আসনটিতে জয়ী হন। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের হাবিবর রহমান জেতেন এবং ২০১৪ ও ২০১৮ সালেও আসনটি ধরে রাখেন; ২০২৪ সালে নির্বাচিত হন মজিবর রহমান মজনু। ২০২৬ সালে আসনটি আবার বিএনপির হাতে ফেরে।
সূত্র: tbsnews.net, bssnews.net ১, bssnews.net ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩। ভুল দেখলে জানান।
সংসদে মেয়াদ
সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ৬ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন; আগের ৫টি মেয়াদের মধ্যে ১টির বিস্তারিত এখানে আছে। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।
২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট
আসনের সব ফল →- গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ
BNPবিজয়ী২,৪৮,৮৪১৬২.১% - Md Dabibur Rahman
BJEI১,৪৩,৩২৯৩৫.৮%
- Mir Md Mahmudur Rahman
IAB৫,৫৫৮১.৪% - Shipon Kumar RabidasCPB১,৭৮২০.৪%
- Khan Qudrat-e-SakrainLDP১,১৩৪০.৩%
সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন
আসন: বগুড়া-৫
আসনের পাতা →(ক)শেরপুর এবং(খ) ধুনট উপজেলা
সংসদীয় কমিটি(২)
সংবাদ ও ভিডিও
সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…