
হাবিবুর রশিদ
Habibur Rashid
সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা
পরিচিতি
হাবিবুর রশিদ ঢাকা-৯ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সংসদ সদস্য এবং বর্তমানে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি, সংসদীয় কমিটি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।
হাবিবুর রশিদ হাবিব (Habibur Rashid Habib) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য এবং রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির এই সদস্য জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক।
ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা হাবিব দীর্ঘদিন ঢাকা মহানগরের দক্ষিণাংশে দলের সাংগঠনিক কাজে যুক্ত ছিলেন। ২০২৬ সালের নির্বাচনে তিনি প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা
১৯৭৩ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর তাঁর জন্ম। বাবা আব্দুর রশিদ আহম্মেদ, মা রহিমা আক্তার খাতুন। ঢাকা সিটি কলেজে পড়াশোনার পর তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন। পেশায় ব্যবসায়ী হাবিব গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঠিকাদার হিসেবে কাজ করেছেন। স্ত্রী মাবিয়া আক্তার; তাঁদের তিন ছেলে।
রাজনৈতিক জীবন
ঢাকা সিটি কলেজে পড়ার সময় তিনি ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ২০১১ সালে তিনি ছাত্রদলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার আহ্বায়ক ছিলেন; সে বছরের ৪ এপ্রিল শান্তিনগরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে মাথা ও বুকে আহত হয়ে তিনি প্রাণে বেঁচে যান। ২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া (Khaleda Zia) ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করেন, যাতে আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল সভাপতি এবং হাবিব সাধারণ সম্পাদক হন।
এরপর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারবিরোধী হরতাল ও আন্দোলনে তিনি সামনের সারিতে ছিলেন। বিরোধী রাজনীতির বছরগুলোতে তাঁর বিরুদ্ধে বহু মামলা হয় (২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরেই ৮০টি) এবং একাধিকবার কারাগারে যেতে হয়; সর্বশেষ ২০২৪ সালের ১৭ মে তিনি জামিনে মুক্তি পান। পরে তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হন।
২০২৬ নির্বাচন
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পান ১,১১,২১২ ভোট, যা প্রদত্ত ভোটের প্রায় ৫১ শতাংশ। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জাবেদ রাসিন (Javed Rasin) পান ৫৩,৪৬০ ভোট; ব্যবধান ৫৭,৭৫২ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা (Tasnim Jara) পান ৪৪,৬৮৪ ভোট। প্রচারে তিনি খাল উদ্ধার করে জলাবদ্ধতা দূর করা, সড়ক-সেতু মেরামত, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং তরুণদের জন্য খেলার মাঠ ও কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
উল্লেখযোগ্য কাজ ও অবদান
রাজনীতির পাশাপাশি তিনি ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে পরিচিত। তিনি দিলকুশা স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) কাউন্সিলর এবং অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় ফুটবল লিগ কমিটির সদস্য। বিভিন্ন শিক্ষা ও সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও তিনি যুক্ত।
সূত্র: mor.gov.bd, উইকিপিডিয়া (বাংলা), উইকিপিডিয়া (ইংরেজি), habiburrashid.com, thedailystar.net ১, today.thefinancialexpress.com.bd, thedailystar.net ২, deshrupantor.com, bssnews.net, tbsnews.net, prothomalo.com, bangla.thedailystar.net ১, en.prothomalo.com, bangla.thedailystar.net ২। ভুল দেখলে জানান।
* চিহ্নিত তথ্য সদস্যের উইকিপিডিয়া নিবন্ধ (বাংলা) ও উইকিপিডিয়া নিবন্ধ (ইংরেজি) থেকে নেওয়া; সংসদ বা নির্বাচন কমিশনের নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি। ভুল দেখলে জানান।
বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম
২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। ৪ মার্চ দপ্তর পুনর্বণ্টনের পর থেকে তিনি রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী; ২১ আগস্টের মন্ত্রিসভা রদবদলের পরও এই দায়িত্বে আছেন।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ে রেল নেটওয়ার্ক, ট্রেন পরিচালনা ও রেলের সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে জাতীয় মহাসড়ক ও সড়ক অবকাঠামোর তত্ত্বাবধান তাঁর দায়িত্বের আওতায়। ২০২৬ সালের ২০ মার্চ চট্টগ্রাম রেলস্টেশন পরিদর্শনে তিনি জানান, পরীক্ষামূলকভাবে তিনটি ট্রেনে ওয়াই-ফাই সেবা চালু হয়েছে এবং টিকিট কালোবাজারি ঠেকাতে টিকিট বিক্রির সফটওয়্যার হালনাগাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ১৮ জুলাই তিনি চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য এলাকায় বন্যা ও টানা বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কারের নির্দেশের কথা জানান; প্রাথমিক হিসাবে শুধু চট্টগ্রাম অঞ্চলেই প্রায় ২১২ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ১ আগস্ট কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশন পরিদর্শন করে তিনি ঢাকা-কক্সবাজার পথে আরও এক জোড়া ট্রেন চালুর কথা জানান এবং একই দিন চট্টগ্রামে বলেন, রেলের জমি আর নতুন করে ইজারা দেওয়া হবে না।
সূত্র: tbsnews.net, bssnews.net ১, bangla.thedailystar.net, bangla.bdnews24.com, bssnews.net ২। ভুল দেখলে জানান।
নির্বাচনী এলাকা
সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।
নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি
ঢাকা-৯ (Dhaka-9) জাতীয় সংসদের ১৮২ নম্বর আসন; এটি ঢাকা বিভাগের ঢাকা জেলায় রাজধানীর পূর্ব দিকের একটি নগর-আসন। নির্বাচন কমিশনের সীমানা অনুযায়ী আসনটি গঠিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (Dhaka South City Corporation) ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৭১, ৭২, ৭৩, ৭৪ ও ৭৫ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে, যার মধ্যে পড়েছে খিলগাঁও, সবুজবাগ ও মুগদা থানা। ২০২২ সালের জনশুমারিতে এই ১২টি ওয়ার্ডের জনসংখ্যা ৮,৪৮,২৩৯। ২০২৬ সালের নির্বাচনে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ৪,৬৯,৩৬০ জন।
খিলগাঁও (Khilgaon) থানা (২০২২ সালে জনসংখ্যা ৩,৮০,৭৪৭; ওয়ার্ড ১, ২, ৩, ৭৫ ও ৭৪-এর একাংশ) আসনের সবচেয়ে জনবহুল অংশ; এর উত্তরে রামপুরা ও বাড্ডা, পূর্বে রূপগঞ্জ। ২০০৫ সালে চালু হওয়া ১.৯ কিলোমিটার দীর্ঘ খিলগাঁও ফ্লাইওভার মালিবাগ, মতিঝিল ও যাত্রাবাড়ীর যাতায়াত সহজ করেছে। সবুজবাগ (Sabujbagh) থানায় (২,৫৮,৫১৮; ওয়ার্ড ৪, ৫, ৭৩ ও ৭৪-এর বেশির ভাগ) রয়েছে বাসাবোর ধর্মরাজিক বৌদ্ধ বিহার, ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত ঢাকার প্রথম বৌদ্ধ বিহার ও দেশের বৌদ্ধদের ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, এবং সবুজবাগ সরকারি কলেজ। ২০১২ সালে গঠিত মুগদা (Mugda) থানায় (২,০৮,৯৭৪; ওয়ার্ড ৬, ৭, ৭১ ও ৭২) আছে ৫০০ শয্যার মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল; কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়াম ঘরোয়া ফুটবলের অন্যতম প্রধান ভেন্যু। প্রতি বর্গকিলোমিটারে প্রায় ২৩ হাজার মানুষের মুগদাসহ পুরো এলাকাটি ঘনবসতিপূর্ণ।
ঢাকা-৯ নামের আসনে ১৯৯১ সালে বিএনপির খালেদা জিয়া (Khaleda Zia) জিতে আসনটি ছেড়ে দিলে উপনির্বাচনেও বিএনপি জেতে; ১৯৯৬ সালের জুনে আওয়ামী লীগের মকবুল হোসেন এবং ২০০১ সালে বিএনপির খন্দকার মাহবুব উদ্দিন আহমদ নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের আগে সীমানা নতুন করে নির্ধারণ করায় সেই আসন আজকের এলাকার সঙ্গে হুবহু মেলে না। নতুন সীমানায় ২০০৮ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত চারবার আওয়ামী লীগের সাবের হোসেন চৌধুরী এবং ২০২৬ সালে বিএনপির হাবিবুর রশিদ নির্বাচিত হন।
সূত্র: tbsnews.net, উইকিপিডিয়া (বাংলা) ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, citypopulation.de, উইকিপিডিয়া (বাংলা) ২, উইকিপিডিয়া (বাংলা) ৩, উইকিপিডিয়া (বাংলা) ৪, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩, en.banglapedia.org, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৪, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৫। ভুল দেখলে জানান।
সংসদে মেয়াদ
সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ১ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।
২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট
আসনের সব ফল →- হাবিবুর রশিদ
BNPবিজয়ী১,১১,২১২৫১.১% - Javed Rasin
NCP৫৩,৪৬০২৪.৬%
- Tasnim JaraInd৪৪,৬৮৪২০.৫%
- Shah Iftekhar Ahsan
IAB৫,৮২৭২.৭% - kazi abul khairJP(ERSHAD)১,২০২০.৬%
- Md. MoniruzzamanCPB৪৬২০.২%
- Shaheen KhanNPP২০৪০.১%
- Nazma AkhtarGF১৭১০.১%
- Nahid Hasan Chowdhury JunaidIBB১৩১০.১%
- Mohammad Shafi Ullah ChowdhuryBNF১২৪০.১%
- Masud HossainBML১১৮০.১%
- Khandaker Mizanur RahmanSPB-M৯৩০.০%
সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন
আসন: ঢাকা-৯
আসনের পাতা →ঢাকা দক্ষিন সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড- ১,২,৩,৪,৫,৬,৭,৭১,৭২,৭৩,৭৪ ও ৭৫
সংসদীয় কমিটি(২)
সংবাদ ও ভিডিও
সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…