মূল বিষয়ে যান
English
সর্বশেষ
হুমাম কাদের চৌধুরী

হুমাম কাদের চৌধুরী

Humam Quader Chowdhury

বর্তমান সদস্য, ত্রয়োদশ সংসদ

সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা

পরিচিতি

হুমাম কাদের চৌধুরী চট্টগ্রাম-৭ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সংসদ সদস্য। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি, নির্বাচনী ফলাফল, আগের মেয়াদ, সংসদীয় কমিটি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।

হুমাম কাদের চৌধুরী (Humam Quader Chowdhury) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির এই সদস্য ২০২৬ সালে প্রথমবার সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়েই জয়ী হন। গণমাধ্যমে তাঁর নাম ‘হুম্মাম কাদের চৌধুরী’ বানানেও লেখা হয়।

তাঁর পরিবারের আদি নিবাস চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার গহিরা ইউনিয়নে। ত্রয়োদশ সংসদে এই একটি ইউনিয়ন থেকেই বিএনপির তিনজন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, তিনি তাঁদের একজন।

শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা

১৯৮৩ সালের ২৩ জুন চট্টগ্রামে তাঁর জন্ম। মা ফারহাত কাদের চৌধুরী। বাবা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী (Salauddin Quader Chowdhury) ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং চট্টগ্রামের বিভিন্ন আসন থেকে সাতবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য; ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে ২০১৫ সালে তাঁর ফাঁসি কার্যকর হয়। হুমাম তাঁর কনিষ্ঠ পুত্র। চাচা গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী (Giasuddin Quader Chowdhury) বর্তমানে চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনের সংসদ সদস্য।

তিনি যুক্তরাজ্যের ক্র্যানলি স্কুলে (Cranleigh School) পড়াশোনা করেন; স্কুলটির প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সংগঠন তাঁকে ২০০০ সালের ব্যাচের শিক্ষার্থী হিসেবে উল্লেখ করে।

রাজনৈতিক জীবন

যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরে তিনি বাবার বিচার ও আপিল চলাকালে ন্যায্য বিচারের দাবিতে প্রচারণায় সক্রিয় ছিলেন। বাবার মৃত্যুর পর বিএনপির নতুন কেন্দ্রীয় কমিটিতে তিনি নির্বাহী কমিটির সদস্যপদ পান এবং দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামে দলীয় কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০১৬ সালের ৪ আগস্ট বাবার মামলা-সংক্রান্ত একটি শুনানিতে মায়ের সঙ্গে ঢাকার আদালতে যাওয়ার পথে বংশাল এলাকা থেকে সাদা পোশাকের লোকজন তাঁকে তুলে নেয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে তাঁকে বংশাল থানা ও পরে মিন্টো রোডে গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে নেওয়া হয়। প্রায় সাত মাস গোপনে আটক থাকার পর ২০১৭ সালের ২ মার্চ ভোরে ধানমন্ডিতে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে তিনি জানান, তাঁকে ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিত যৌথ জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্রে রাখা হয়েছিল।

২০২৬ নির্বাচন

১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আট প্রার্থীর লড়াইয়ে ধানের শীষ প্রতীকে তিনি ১,০১,৪৪৫ ভোট পান। প্রচারণায় তিনি বাবার সময়ের উন্নয়নকাজ ও রাজনৈতিক আদর্শ সামনে আনেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এটিএম রেজাউল করিম (ATM Rezaul Karim) পান ৪১,৭১৯ ভোট; ব্যবধান ৫৯,৭২৬ ভোট। বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মুহাম্মদ ইকবাল হাসান ৩০,২৩৯ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন। ২০০৮ সাল থেকে টানা চারবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী জয়ী হওয়া আসনটি এবার বিএনপির হাতে আসে।

উল্লেখযোগ্য কাজ ও অবদান

গুমের বিচারপ্রক্রিয়ায় তিনি নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। ২০২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি যৌথ জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্রে গোপন আটক ও নির্যাতনের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ তিনি রাষ্ট্রপক্ষের প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন। সেখানে তিনি আটক অবস্থায় মারধর ও ইনজেকশন দেওয়াসহ নির্যাতনের বিবরণ দেন। তিনি জানান, কালো রং করা জানালার সেই কক্ষে প্রথম দুই মাস দেয়ালে দাগ কেটে তিনি দিন গুনতেন। জবানবন্দির শেষে তিনি দায়ীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।

সূত্র: উইকিপিডিয়া (ইংরেজি), উইকিপিডিয়া (বাংলা), thedailystar.net ১, tbsnews.net ১, tbsnews.net ২, tbsnews.net ৩, en.prothomalo.com, ocsociety.org, thedailystar.net ২, bssnews.net ১, ittefaq.com.bd, bssnews.net ২, themailbd.com। ভুল দেখলে জানান।

জন্ম২৩ জুন ১৯৮৩, ৪৩ বছর
জন্মস্থানচট্টগ্রাম
লিঙ্গপুরুষ
পিতাসালা উদ্দীন কাদের চৌধুরী
মাতাফারহাত কাদের চৌধুরী
বর্তমান মেয়াদ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০৩১
সংসদ সদস্য নির্বাচিতমোট ১ বার

বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম

১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন। সংসদে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি এবং লাইব্রেরি কমিটির সদস্য।

সংসদ সদস্য হিসেবে আইন প্রণয়নে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি তিনি সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ের কাজের তদারকিতে যুক্ত এবং নির্বাচনী এলাকার মানুষের পাশে থাকার দায়িত্ব পালন করেন। ১৯ এপ্রিল ২০২৬ সব সংসদ সদস্যের নাম ও নির্বাচনী এলাকার তথ্য সহজে খুঁজে পেতে একটি ডাটাবেস তৈরির জন্য সংসদের গ্রন্থাগার-বিষয়ক কমিটি যে সাব-কমিটি গঠন করে, তিনি তার আহ্বায়ক। ১৭ জুন ২০২৬ সংসদ গ্রন্থাগারকে ই-পার্লামেন্টের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়ে ইউএনডিপির সঙ্গে আলোচনার দলেও তাঁকে রাখা হয়। ২৪ আগস্ট ২০২৬ পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির বৈঠকে তাঁর উপস্থিতিতে বিদেশি মিশনে ‘শিক্ষা কূটনীতি’ সেবা এবং নারী শ্রমিকদের জন্য জরুরি হটলাইন চালুর প্রস্তাব আসে, যাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্মতি দেন। ১৫ মে ২০২৬ ওমানে মারা যাওয়া রাঙ্গুনিয়ার চার ভাইয়ের পরিবারকে দেখতে গিয়ে তিনি মরদেহ দেশে ফেরানোর উদ্যোগ ও সহায়তার আশ্বাস দেন।

সূত্র: bssnews.net ১, bssnews.net ২, themailbd.com, sarabangla.net, en.prothomalo.com। ভুল দেখলে জানান।

নির্বাচনী এলাকা

চট্টগ্রাম-৭

সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।

নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি

চট্টগ্রাম-৭ জাতীয় সংসদের ২৮৪ নম্বর আসন, চট্টগ্রাম বিভাগের চট্টগ্রাম জেলায় অবস্থিত। নির্বাচন কমিশনের ২০২৫ সালের সীমানা নির্ধারণ অনুযায়ী আসনটি গঠিত পুরো রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নিয়ে। আগের সীমানায় বোয়ালখালী উপজেলার শ্রীপুর-খরনদ্বীপ ইউনিয়নও এ আসনের অংশ ছিল, নতুন সীমানায় তা নেই। ২০২৬ সালের নির্বাচনে এখানে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ৩,১৯,০০৮ জন; এর মধ্যে পুরুষ ১,৬৭,৫৩১, নারী ১,৫১,৪৭৬ এবং হিজড়া ১ জন।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ৩২ কিলোমিটার পূর্বে, কর্ণফুলী নদীর দুই তীরে। এর উত্তর ও পূর্বে রাঙামাটি জেলার কাউখালী, কাপ্তাই ও রাজস্থলী এবং বান্দরবান সদর, পশ্চিমে রাউজান, বোয়ালখালী ও পটিয়া, দক্ষিণে চন্দনাইশ। আয়তন ৩৬১.৫৪ বর্গকিলোমিটার; ২০২২ সালের জনশুমারিতে জনসংখ্যা ৩,৯২,৯০৪। একটি পৌরসভা ও ১৫টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত উপজেলাটি রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার আওতাধীন। কর্ণফুলী ও ইছামতি প্রধান নদী। অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর; প্রায় ৩,০০০ হেক্টরের গুমাই বিল বৃহত্তর চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় বিল। আগুনিয়া, কোদালা ও ঠাণ্ডাছড়ি চা বাগান, বাঁশশিল্প ও প্রবাসী আয়ও গুরুত্বপূর্ণ। রাঙ্গুনিয়া ইকোপার্ক ও পক্ষিশালা, দুধপুকুরিয়া-ধোপাছড়ি বন্যপ্রাণ অভয়ারণ্য, চাকমা রাজবাড়ির ধ্বংসাবশেষ এবং রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজ এখানকার উল্লেখযোগ্য স্থান ও প্রতিষ্ঠান।

আসনের সীমানা বিভিন্ন সময়ে বদলেছে, তাই আগের ফলাফলগুলো ভিন্ন সীমানার। ১৯৯১ সালে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মো. ইউসুফ, ১৯৯৬ সালের জুন ও ২০০১ সালে বিএনপির সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং ২০০৮ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত চারটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের হাছান মাহমুদ (Hasan Mahmud) এখান থেকে নির্বাচিত হন। ২০২৬ সালে আসনটিতে জয়ী হন বিএনপির হুমাম কাদের চৌধুরী।

সূত্র: tbsnews.net, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (বাংলা) ১, উইকিপিডিয়া (বাংলা) ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২। ভুল দেখলে জানান।

সংসদে মেয়াদ

ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬চট্টগ্রাম-৭বর্তমান মেয়াদBNP

সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ১ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।

২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট

আসনের সব ফল →
ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬প্রার্থীদের মোট ১,৭৫,৮৪৯ ভোট
  1. হুমাম কাদের চৌধুরীBNPবিজয়ী১,০১,৪৪৫৫৭.৭%
  2. ATM Rezaul KarimBJEI৪১,৭১৯২৩.৭%
  3. Muhammad Iqbal HasanBIF৩০,২৩৯১৭.২%
  4. Abdullah Al HaroonIAB১,৩০৭০.৭%
  5. Pramod Baran BaruaCPB৪৪১০.৩%
  6. Md. Mehdi RashedJP(ERSHAD)৪১১০.২%
  7. Md. Abdur RahmanAB১৫৮০.১%
  8. Md. Belal UddinGOP১২৯০.১%
উৎস: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড। নির্বাচন কমিশনের গেজেটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি।মূল পাতা

সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন

এই সদস্য সম্পর্কে সংসদ সচিবালয়ের কোনো প্রজ্ঞাপন নেই।সংসদ সচিবালয় কোনো সদস্যের নামে প্রজ্ঞাপন বা সরকারি আদেশ প্রকাশ করলে তা প্রতিদিন এখানে যুক্ত হয়।

আসন: চট্টগ্রাম-৭

আসনের পাতা →
এলাকা

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা

সংসদীয় কমিটি(৩)

সংবাদ ও ভিডিও

সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…

সম্পাদকের যাচাই করা ২টি খবর

কোথা থেকে তথ্য আসে

সদস্য, আসন, কমিটি ও অধিবেশন আসে জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইট থেকে; ভোটার সংখ্যা নির্বাচন কমিশন ও মন্ত্রিসভা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে। ভোটের ফল ও জীবনীর সূত্র আলাদা করে প্রতিটি পাতায় লেখা।

সব সূত্র দেখুন →

কত দিন পরপর হালনাগাদ

প্রতি রাতে পুরো সাইট সংসদের তথ্যভান্ডার থেকে নতুন করে তৈরি হয়। নতুন প্রজ্ঞাপন, বৈঠকের কার্যসূচি বা কমিটির পরিবর্তন পরদিনের মধ্যে যুক্ত হয়; সংবাদ শিরোনাম দিনে কয়েকবার।

পদ্ধতি →

ভুল পেলে

প্রতিটি সদস্যের পাতায় “সংশোধন জানান” বোতাম আছে। সূত্রসহ জানালে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাচাই করে ঠিক করা হয়; সদস্যের দপ্তর নিজের পাতাও হালনাগাদ করাতে পারেন।

যোগাযোগ →