মূল বিষয়ে যান
English
সর্বশেষ
ইশরাক হোসেন

ইশরাক হোসেন

Ishraque Hossain

পরিচিতি

ইশরাক হোসেন ঢাকা-৬ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সংসদ সদস্য। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি, নির্বাচনী ফলাফল, আগের মেয়াদ, সংসদীয় কমিটি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।

ইশরাক হোসেন (Ishraque Hossain) পেশায় প্রকৌশলী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতা। পুরান ঢাকার ঢাকা-৬ আসন থেকে তিনি প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদে নির্বাচিত হয়েছেন।

ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক বিএনপির তরুণ নেতাদের একজন। ২০২০ সালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচনে দলের প্রার্থী হয়ে তিনি সারা দেশে পরিচিতি পান।

শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা

১৯৮৭ সালের ৫ এপ্রিল ঢাকায় তাঁর জন্ম। মা ইসমত আরা। বাবা সাদেক হোসেন খোকা (Sadeque Hossain Khoka) উনিশ বছর বয়সে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। পরে তিনি ঢাকা-৭ আসন থেকে তিনবার সংসদ সদস্য, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী, মৎস্য ও পশুসম্পদ মন্ত্রী এবং ২০০২ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র ছিলেন। ২০১৯ সালের ৪ নভেম্বর নিউইয়র্কে তাঁর মৃত্যু হয়।

ইশরাক ঢাকার স্কলাস্টিকা স্কুল থেকে ও লেভেল ও এ লেভেল শেষ করেন। এরপর যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব হার্টফোর্ডশায়ার (University of Hertfordshire) থেকে যন্ত্রকৌশলে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর সাবেক মন্ত্রী নূর মোহাম্মদ খানের বড় মেয়ে ব্যারিস্টার নুসরাত খানের সঙ্গে তাঁর বাগদান হয়।

রাজনৈতিক জীবন

২০১৯ সালে বাবার মৃত্যুর পর ইশরাক সক্রিয় রাজনীতিতে আসেন। তিনি বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য এবং দলের ঢাকা মহানগর শাখার একজন জ্যেষ্ঠ নেতা হিসেবে কাজ করেছেন।

২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচনে তিনি ধানের শীষ প্রতীকে লড়েন। বেসরকারি ফলাফলে তিনি ২,৩৬,৫১২ ভোট পান এবং আওয়ামী লীগের শেখ ফজলে নূর তাপসকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। বিএনপি কারচুপির অভিযোগ তুলে এ ফল প্রত্যাখ্যান করে; ওই বছরের ৩ মার্চ ইশরাক ফল বাতিল চেয়ে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন।

বিরোধী দলে থাকার বছরগুলোতে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। ২০২৪ সালের ১৯ মে একটি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠান।

২০২৬ নির্বাচন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ইশরাক ৭৮,৮৫০ ভোট পেয়ে জয়ী হন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. আবদুল মান্নান পান ৫৫,৬৯৭ ভোট; ব্যবধান ২৩,১৫৩ ভোট। প্রচারে তিনি সড়ক দখলমুক্ত করা, বাস রুট পুনর্বিন্যাস, তরুণদের কারিগরি প্রশিক্ষণ ও তথ্যপ্রযুক্তি উদ্যোগের সুযোগ এবং নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ডের প্রতিশ্রুতি দেন। এই জয়ে আসনটি আওয়ামী লীগের কাছ থেকে বিএনপির হাতে আসে।

উল্লেখযোগ্য কাজ ও অবদান

সিটি নির্বাচনের ফল নিয়ে পাঁচ বছরের আইনি লড়াইয়ে ইশরাক শেষ পর্যন্ত জয় পান। ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ ঢাকার নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল তাপসের পক্ষে জারি করা গেজেট বাতিল করে তাঁকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ঘোষণা করেন। ২৭ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন তাঁকে মেয়র ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে। শপথের দাবিতে মে মাসে তাঁর সমর্থকেরা নগর ভবনে টানা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন; তবে মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে জানিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার শপথ পড়ায়নি।

সূত্র: উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (বাংলা), উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, bangla.bdnews24.com, dhakatribune.com, unb.com.bd, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩, en.prothomalo.com, tbsnews.net ১, tbsnews.net ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৪, bangla.thedailystar.net। ভুল দেখলে জানান।

জন্ম৫ এপ্রিল ১৯৮৭, ৩৯ বছর
জন্মস্থানঢাকা
লিঙ্গপুরুষ
শিক্ষাস্কলাস্টিকা, ঢাকাইউনিভার্সিটি অব হার্টফোর্ডশায়ার, যুক্তরাজ্য (যন্ত্রকৌশলে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর)
পেশাপ্রকৌশলী
পিতাসাদেক হোসেন খোকা
মাতাইসমত আরা
মুক্তিযোদ্ধাহ্যাঁ
বর্তমান মেয়াদ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০৩১
সংসদ সদস্য নির্বাচিতমোট ১ বার

বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম

২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ এবং মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণের দায়িত্বে নিয়োজিত। নতুন সরকারের শুরু থেকে অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত ইশরাক হোসেন এই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। জুলাইয়ের শেষে জারি করা প্রজ্ঞাপনে তাঁকে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি ও নির্বাহী কমিটির সদস্য করা হয়। ৩১ জুলাই মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে একটি রণাঙ্গন পরিদর্শন করে তিনি জানান, সারা দেশে মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গন চিহ্নিত করে ইতিহাস সংরক্ষণ এবং সম্ভব হলে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হবে। ৩০ আগস্ট গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবসের অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর জন্য মন্ত্রণালয়ের আর্থিক ও প্রশাসনিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে। ১৭ অক্টোবর গেন্ডারিয়ায় একটি মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্রসহ উপস্থিতি নিয়ে সমালোচনার পর ১৯ অক্টোবর তিনি প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়ার ঘোষণা দেন; তিনি জানান, সরকার ও দল যেন বিব্রত না হয়, সে জন্য তিনি নিজেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সূত্র: উইকিপিডিয়া (ইংরেজি), dailyinqilab.com, observerbd.com ১, observerbd.com ২, bdnews24.com, prothomalo.com ১, prothomalo.com ২, en.prothomalo.com, dhakatribune.com। ভুল দেখলে জানান।

নির্বাচনী এলাকা

ঢাকা-৬

সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।

নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি

ঢাকা-৬ জাতীয় সংসদের ১৭৯ নম্বর আসন, ঢাকা বিভাগের ঢাকা জেলায় অবস্থিত এবং পুরোটাই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মধ্যে। নির্বাচন কমিশনের ২০২৫ সালের সীমানা অনুযায়ী আসনটি সিটি করপোরেশনের ৩৪, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪১, ৪২, ৪৩, ৪৪, ৪৫ ও ৪৬ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। ২০২৬ সালের নির্বাচনে এখানে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ২,৯২,২৮৩ জন: পুরুষ ১,৫২,৫১৯, নারী ১,৩৯,৭৬১ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ৩ জন।

এই ওয়ার্ডগুলোতে পুরান ঢাকার ওয়ারী, সূত্রাপুর ও গেন্ডারিয়া থানা পুরোপুরি পড়েছে; সঙ্গে আছে কোতোয়ালী থানার ৩৭ নম্বর ওয়ার্ড, বংশাল থানার ৩৪ নম্বর ওয়ার্ড এবং ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের যাত্রাবাড়ী অংশ। ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী ১১টি ওয়ার্ডে প্রায় ৪ লাখ ১৮ হাজার মানুষের বাস; গেন্ডারিয়া থানায় ১,৪০,৩০৭, ওয়ারীতে ১,২৫,০১৫ এবং সূত্রাপুরে ৮৫,০৩৩ জন।

বুড়িগঙ্গার তীরঘেঁষা এই ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা ঢাকার প্রাচীনতম অংশের একটি। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, আসগর আলী মেডিকেল কলেজ, আহসান মঞ্জিল, বলধা গার্ডেন, জয়কালী মন্দির, সদরঘাট, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল, নারিন্দা ও ধূপখোলা এই আসনের পরিচিত স্থান। গ্যাস ও পানির সংকট, তীব্র যানজট এবং বুড়িগঙ্গার দূষণ ও দখল এখানকার প্রধান নাগরিক সমস্যা হিসেবে উঠে আসে।

১৯৯১ ও ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ সালে এই আসনে বিএনপির মির্জা আব্বাস জয়ী হন, জুন ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের সাবের হোসেন চৌধুরী এবং ২০০১ সালে আবার মির্জা আব্বাস। ২০০৮ সালে ঢাকার আসনসংখ্যা বাড়ানোর সময় আসনটির সীমানা অনেকটা ছোট হয়, তাই আগের ও পরের এলাকা এক নয়। এরপর ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ এবং ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের সাঈদ খোকন জয়ী হন। ২০২৬ সালে আসনটি আবার বিএনপির হাতে আসে।

সূত্র: উইকিপিডিয়া (ইংরেজি), tbsnews.net, bangla.thedailystar.net, citypopulation.de। ভুল দেখলে জানান।

সংসদে মেয়াদ

ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬ঢাকা-৬বর্তমান মেয়াদBNP

সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ১ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।

২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট

আসনের সব ফল →
ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬প্রার্থীদের মোট ১,৩৭,১৭৯ ভোট
  1. ইশরাক হোসেনBNPবিজয়ী৭৮,৮৫০৫৭.৫%
  2. Md. Abdul MannanBJEI৫৫,৬৯৭৪০.৬%
  3. Amir Uddin Ahmed (Dalu)JP(ERSHAD)১,৭৭৮১.৩%
  4. Md. Yunus Ali AkandBangladesh Congress৩১৯০.২%
  5. Md. Aktar HossainBML২৪৫০.২%
  6. Ahmed Ali SheikhGF১৫২০.১%
  7. Md. Fakhrul IslamGOP১৩৮০.১%
উৎস: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড। নির্বাচন কমিশনের গেজেটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি। উইকিপিডিয়াতেও বিজয়ীর ভোট একই।মূল পাতা

সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন

এই সদস্য সম্পর্কে সংসদ সচিবালয়ের কোনো প্রজ্ঞাপন নেই।সংসদ সচিবালয় কোনো সদস্যের নামে প্রজ্ঞাপন বা সরকারি আদেশ প্রকাশ করলে তা প্রতিদিন এখানে যুক্ত হয়।

আসন: ঢাকা-৬

আসনের পাতা →
এলাকা

ঢাকা দক্ষিন সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড-৩৪,৩৭,৩৮,৩৯,৪০,৪১,৪২,৪৩,৪৪,৪৫ ও ৪৬

সংসদীয় কমিটি(১)

সংবাদ ও ভিডিও

সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…

সম্পাদকের যাচাই করা ২০টি খবর

কোথা থেকে তথ্য আসে

সদস্য, আসন, কমিটি ও অধিবেশন আসে জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইট থেকে; ভোটার সংখ্যা নির্বাচন কমিশন ও মন্ত্রিসভা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে। ভোটের ফল ও জীবনীর সূত্র আলাদা করে প্রতিটি পাতায় লেখা।

সব সূত্র দেখুন →

কত দিন পরপর হালনাগাদ

প্রতি রাতে পুরো সাইট সংসদের তথ্যভান্ডার থেকে নতুন করে তৈরি হয়। নতুন প্রজ্ঞাপন, বৈঠকের কার্যসূচি বা কমিটির পরিবর্তন পরদিনের মধ্যে যুক্ত হয়; সংবাদ শিরোনাম দিনে কয়েকবার।

পদ্ধতি →

ভুল পেলে

প্রতিটি সদস্যের পাতায় “সংশোধন জানান” বোতাম আছে। সূত্রসহ জানালে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাচাই করে ঠিক করা হয়; সদস্যের দপ্তর নিজের পাতাও হালনাগাদ করাতে পারেন।

যোগাযোগ →