মূল বিষয়ে যান
English
সর্বশেষ
কাজী রফিকুল ইসলাম

কাজী রফিকুল ইসলাম

Kazi Rafiqul Islam

বর্তমান সদস্য, ত্রয়োদশ সংসদমোট ২ বার নির্বাচিত

সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা

পরিচিতি

কাজী রফিকুল ইসলাম বগুড়া-১ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি, নির্বাচনী ফলাফল, আগের মেয়াদ, সংসদীয় কমিটি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।

কাজী রফিকুল ইসলাম (Kazi Rafiqul Islam) বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি ও সোনাতলা উপজেলা নিয়ে গঠিত বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (Bangladesh Nationalist Party, বিএনপি) জাতীয় নির্বাহী কমিটির এই সদস্য ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী হয়ে দ্বিতীয়বারের মতো সংসদে এসেছেন।

এর আগে ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি একই আসন থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। সারিয়াকান্দির বাসিন্দা কাজী রফিকুল ইসলাম পেশায় ব্যবসায়ী; প্রায় দুই দশক পর তিনি আবার নিজ এলাকার প্রতিনিধি হিসেবে সংসদে ফিরেছেন।

শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা

জাতীয় সংসদের তথ্য অনুযায়ী কাজী রফিকুল ইসলামের জন্ম ১৯৫৬ সালের ১২ জানুয়ারি। তাঁর বাবা কাজী এফাজ উদ্দীন এবং মা মোছাঃ রহিমা খাতুন। সংসদের নথিতে তাঁর পেশা ব্যবসা।

রাজনৈতিক জীবন

কাজী রফিকুল ইসলামের রাজনৈতিক জীবন বিএনপিকে ঘিরে। ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়নে বগুড়া-১ আসনে তিনি ১,২০,৩৮২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন; আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবদুল মান্নান (Abdul Mannan) পান ৭৪,৬২২ ভোট। ৪৫,৭৬০ ভোটের ব্যবধানে পাওয়া এই জয়ের মধ্য দিয়ে আসনটি বিএনপির হাতেই থাকে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি সংসদ সদস্য ছিলেন।

পরবর্তী দীর্ঘ সময় বিএনপি ক্ষমতার বাইরে ছিল। ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি আবার বগুড়া-১ আসনে দলের প্রার্থী হন, তবে আওয়ামী লীগের আবদুল মান্নানের কাছে পরাজিত হন।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য বিএনপি ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর তাঁকে বগুড়া-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ঘোষণা করে। এরপর তিনি গণসংযোগ, সভা-সমাবেশ ও উঠান বৈঠকের মধ্য দিয়ে প্রচারণা চালান এবং ২৮ ডিসেম্বর সারিয়াকান্দিতে মনোনয়নপত্র জমা দেন। দল একই আসনে সোনাতলা উপজেলা বিএনপির সভাপতিকেও মনোনয়ন দিলে জেলা বিএনপির সভাপতি জানান, কৌশলগত কারণে তা দেওয়া হয়েছে এবং কাজী রফিকুল ইসলামই দলের মূল প্রার্থী। ব্যাংকঋণ সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁর মনোনয়ন বাতিল চেয়ে করা একটি রিট আবেদন হাইকোর্ট ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে খারিজ করলে তাঁর প্রার্থিতা বহাল থাকে।

২০২৬ নির্বাচন

২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কাজী রফিকুল ইসলাম ধানের শীষ প্রতীকে ১,৭১,৪৪০ ভোট পান। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর (Bangladesh Jamaat-e-Islami) মো. শাহাবুদ্দিন (Md Shahabuddin) পান ৫৭,৯৫৯ ভোট। ফলে তিনি ১,১৩,৪৮১ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন; পাঁচ প্রার্থীর পাওয়া মোট ভোটের প্রায় ৭৪ শতাংশই ছিল তাঁর। অন্য তিন প্রার্থী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এ বি এম মোস্তফা কামাল পাশা, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. আসাদুল হক এবং গণফোরামের মো. জুলফিকার আলী যথাক্রমে ১,০২৬, ৫৯৭ ও ২৯৮ ভোট পান। রিটার্নিং কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী আসনটিতে ভোট পড়ে ৬১.৮৬ শতাংশ। এ নির্বাচনে বগুড়ার সাতটি আসনেই বিএনপির প্রার্থীরা জয়ী হন।

সূত্র: জাতীয় সংসদ ১, জাতীয় সংসদ ২, উইকিপিডিয়া (বাংলা), উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, prothomalo.com, dhakatribune.com, tbsnews.net, bssnews.net ১, bssnews.net ২, bssnews.net ৩। ভুল দেখলে জানান।

জন্ম১২ জানুয়ারি ১৯৫৬, ৭০ বছর
জন্মস্থানসারিয়াকান্দি উপজেলা, বগুড়া
লিঙ্গপুরুষ
পেশাব্যবসা
পিতাকাজী এফাজ উদ্দীন
মাতামোছাঃ রহিমা খাতুন
বর্তমান মেয়াদ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০৩১
সংসদ সদস্য নির্বাচিতমোট ২ বার

বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম

জাতীয় সংসদের তথ্য অনুযায়ী ত্রয়োদশ সংসদে বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে তাঁর মেয়াদ শুরু হয় ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি। এটি তাঁর দ্বিতীয় সংসদীয় মেয়াদ।

সংসদ সদস্য হিসেবে কাজী রফিকুল ইসলাম আইন প্রণয়ন, সরকারের কাজের তদারকি এবং সারিয়াকান্দি ও সোনাতলার মানুষের দাবি সংসদে তুলে ধরার দায়িত্ব পালন করছেন। জাতীয় সংসদের তথ্য অনুযায়ী তিনি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি এবং শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য।

২০২৬ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি বেসরকারি ফল ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, নদীবেষ্টিত সোনাতলা-সারিয়াকান্দিতে নদীভাঙন রোধ, চরবাসীর জীবনমান উন্নয়ন এবং কৃষি, সেচ, যোগাযোগ ও শিক্ষার উন্নয়নে তিনি অগ্রাধিকার দেবেন।

১৫ আগস্ট ২০২৬ তিনি সারিয়াকান্দির কাজলা, কর্ণিবাড়ী ও বোহাইল ইউনিয়নে যমুনার ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি জানান, চরাঞ্চলের নিরাপত্তায় একটি পুলিশ তদন্তকেন্দ্র স্থাপনের বিষয়টি তিনি সংসদে তুলেছেন এবং চরে ২০ শয্যার হাসপাতাল, কৃষকদের জন্য হিমাগার ও প্রতিটি ইউনিয়নে একটি উচ্চ বিদ্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

সূত্র: জাতীয় সংসদ ১, জাতীয় সংসদ ২, bssnews.net, dailyinqilab.com। ভুল দেখলে জানান।

নির্বাচনী এলাকা

বগুড়া-১

সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।

নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি

বগুড়া-১ জাতীয় সংসদের ৩৬ নম্বর আসন। নির্বাচন কমিশনের সীমানা অনুযায়ী রাজশাহী বিভাগের বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি ও সোনাতলা উপজেলা নিয়ে আসনটি গঠিত। ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী দুই উপজেলার মোট জনসংখ্যা ৪,৬৯,৬৬২। ২০২৬ সালের নির্বাচনে এখানে ভোটার ছিলেন প্রায় ৩ লাখ ৭৬ হাজার।

সারিয়াকান্দি উপজেলা জেলার পূর্ব প্রান্তে যমুনা ও বাঙালি নদীর তীরে। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী এর আয়তন ৪০৮.৫০ বর্গকিলোমিটার; ২০২২ সালের জনশুমারিতে জনসংখ্যা ২,৭৬,১৯৯। একটি পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই উপজেলার প্রায় দুই-পঞ্চমাংশ জুড়ে নদী ও জলাভূমি, মূলত যমুনা। ধান, পাট, গম, সরিষা ও সবজি প্রধান ফসল। যমুনার তীরে কালীতলা গ্রোয়েন বাঁধ, হরিণা গ্রামে জমিদার কাশী রায়ের বাড়ি এবং চন্দনবাইশা ডিগ্রি কলেজ (১৯৬৪) এখানকার পরিচিত স্থান ও প্রতিষ্ঠান।

সোনাতলা উপজেলা জেলা শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে। আয়তন ১৫৬.৭৫ বর্গকিলোমিটার, ২০২২ সালের জনশুমারিতে জনসংখ্যা ১,৯৩,৪৬৩; রয়েছে একটি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়ন। কৃষিই প্রধান জীবিকা; ধান, সরিষা, পাট, ভুট্টা, আলু ও আদা প্রধান ফসল; কলা ও আলু অন্য এলাকায় পাঠানো হয়। সান্তাহার-কাউনিয়া রেলপথে সোনাতলা ও সৈয়দ আহমদ কলেজ স্টেশন রয়েছে। সরকারি নাজির আখতার কলেজ (১৯৬৭) এবং গড় ফতেহপুরের প্রাচীন দুর্গ এখানকার উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠান ও নিদর্শন।

১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে বিএনপির হাবিবুর রহমান এবং ২০০১ সালে বিএনপির কাজী রফিকুল ইসলাম আসনটিতে জয়ী হন। ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে জেতেন আওয়ামী লীগের আবদুল মান্নান; তাঁর মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে এবং ২০২৪ সালে নির্বাচিত হন তাঁর স্ত্রী সাহাদারা মান্নান। ২০২৬ সালে আসনটি আবার বিএনপির হাতে আসে। ২০১৪ সালের আগে ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ী ও গোসাইবাড়ী ইউনিয়নও এ আসনের অংশ ছিল, তাই আগের ফল বর্তমান সীমানার সঙ্গে হুবহু তুলনীয় নয়।

সূত্র: জাতীয় সংসদ, bssnews.net, tbsnews.net, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, উইকিপিডিয়া (বাংলা) ১, উইকিপিডিয়া (বাংলা) ২, en.banglapedia.org ১, en.banglapedia.org ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩, prothomalo.com। ভুল দেখলে জানান।

সংসদে মেয়াদ

ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬বগুড়া-১বর্তমান মেয়াদBNP

সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ২ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন; আগের ১টি মেয়াদের বিস্তারিত সংসদের তথ্যভান্ডারে পাওয়া যায়নি। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।

২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট

আসনের সব ফল →
ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬প্রার্থীদের মোট ২,৩১,৩২০ ভোট
  1. কাজী রফিকুল ইসলামBNPবিজয়ী১,৭১,৪৪০৭৪.১%
  2. Md ShahabuddinBJEI৫৭,৯৫৯২৫.১%
  3. ABM Mostofa Kamal PashaIAB১,০২৬০.৪%
  4. Md Asadul HaqueBangladesh Congress৫৯৭০.৩%
  5. Md. Zulfiqar AliGF২৯৮০.১%
উৎস: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড। নির্বাচন কমিশনের গেজেটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি।মূল পাতা

সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন

এই সদস্য সম্পর্কে সংসদ সচিবালয়ের কোনো প্রজ্ঞাপন নেই।সংসদ সচিবালয় কোনো সদস্যের নামে প্রজ্ঞাপন বা সরকারি আদেশ প্রকাশ করলে তা প্রতিদিন এখানে যুক্ত হয়।

আসন: বগুড়া-১

আসনের পাতা →
এলাকা

(ক)সারিয়াকান্দি এবং(খ) সোনাতলা উপজেলা

সংসদীয় কমিটি(২)

সংবাদ ও ভিডিও

সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…

কোথা থেকে তথ্য আসে

সদস্য, আসন, কমিটি ও অধিবেশন আসে জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইট থেকে; ভোটার সংখ্যা নির্বাচন কমিশন ও মন্ত্রিসভা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে। ভোটের ফল ও জীবনীর সূত্র আলাদা করে প্রতিটি পাতায় লেখা।

সব সূত্র দেখুন →

কত দিন পরপর হালনাগাদ

প্রতি রাতে পুরো সাইট সংসদের তথ্যভান্ডার থেকে নতুন করে তৈরি হয়। নতুন প্রজ্ঞাপন, বৈঠকের কার্যসূচি বা কমিটির পরিবর্তন পরদিনের মধ্যে যুক্ত হয়; সংবাদ শিরোনাম দিনে কয়েকবার।

পদ্ধতি →

ভুল পেলে

প্রতিটি সদস্যের পাতায় “সংশোধন জানান” বোতাম আছে। সূত্রসহ জানালে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাচাই করে ঠিক করা হয়; সদস্যের দপ্তর নিজের পাতাও হালনাগাদ করাতে পারেন।

যোগাযোগ →