
এম, এ, মুহিত
M. A. Muhit
সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা
পরিচিতি
এম, এ, মুহিত সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সংসদ সদস্য এবং বর্তমানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি, আগের মেয়াদ, সংসদীয় কমিটি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।
এম এ মুহিত (M. A. Muhit) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের সংসদ সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের (Tarique Rahman) মন্ত্রিসভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী। তাঁর পুরো নাম মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তিনি প্রথমবার সংসদে এসেছেন।
পেশায় তিনি চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও জনস্বাস্থ্য গবেষক। শিশুদের অন্ধত্ব প্রতিরোধ এবং প্রতিবন্ধী শিশুদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিয়ে দুই দশকের বেশি সময় ধরে কাজের জন্য তিনি পরিচিত।
শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা
১৯৬৯ সালের ৫ অক্টোবর ঢাকায় তাঁর জন্ম। পিতা অধ্যাপক ডা. এম এ মতিন (M. A. Matin) ছিলেন চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও রাজনীতিবিদ; এরশাদ সরকারের সময়ে তিনি উপপ্রধানমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য ও স্বরাষ্ট্রসহ একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। মা তাসমিনা মাহমুদ (Tashmina Mahmood), যিনি তাসমিনা মতিন নামেও পরিচিত, ছিলেন স্ত্রীরোগ ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ এবং সিরাজগঞ্জের নর্থ বেঙ্গল মেডিকেল কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ। নানা আবদুল্লাহ আল মাহমুদ (Abdullah al Mahmood) ছিলেন রাজনীতিবিদ। মামা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু (Iqbal Hasan Mahmud Tuku) বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য; বড় ভাই অধ্যাপক এম এ মুকিত (M. A. Muqueet) হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞ।
লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন (London School of Hygiene & Tropical Medicine) থেকে তিনি জনস্বাস্থ্য চক্ষুবিজ্ঞানে পিএইচডি অর্জন করেন।
রাজনৈতিক জীবন
শাহজাদপুরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত মুহিত শাহজাদপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন; বর্তমানে তিনি সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির প্রধান উপদেষ্টা। ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি প্রথমবার সিরাজগঞ্জ-৬ আসনে দলের মনোনয়ন পান, তবে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। ২০২৫ সালের নভেম্বরে দল তাঁকে আবার এই আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে।
২০২৬ নির্বাচন
১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে তিনি ১,৭১,৫০৮ ভোট পান। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এস এম সাইফ মোস্তাফিজ (S. M. Saif Mostafiz) পান ১,০৩,৮৮৪ ভোট। মোট ১১ জন প্রার্থীর মধ্যে মুহিত ৬৭,৬২৪ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। ২০০১ সালের পর এই প্রথম আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী জিতলেন।
উল্লেখযোগ্য কাজ ও অবদান
২০০০ সালে লন্ডনের ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর আই হেলথের (International Centre for Eye Health) পক্ষে শিশু অন্ধত্ব বিষয়ে প্রথম জাতীয় সমীক্ষার প্রস্তুতিমূলক কাজে তিনি দেশে আসেন। তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত সেই জাতীয় সমীক্ষায় দেখা যায়, বাংলাদেশে ৪০ হাজারের বেশি শিশু দৃষ্টিহীন, যাদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের অন্ধত্বের কারণ প্রতিরোধযোগ্য বা চিকিৎসাযোগ্য।
২০০২ সালের ৩০ ডিসেম্বর তিনি চাইল্ড সাইট ফাউন্ডেশন (Child Sight Foundation) প্রতিষ্ঠা করেন, যা এখন সিএসএফ গ্লোবাল নামে পরিচিত। সংস্থাটি দৃষ্টিহীন শিশুদের খুঁজে বের করে ছানি আক্রান্তদের বিনা খরচে অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করে এবং প্রতিবন্ধী শিশুদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনসেবার সঙ্গে যুক্ত করে। শিশু অন্ধত্ব গবেষণায় পথিকৃৎ হিসেবে ২০০৯ সালে অফথালমোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ তাঁকে স্বর্ণপদক দেয়; এর আগে এশিয়া প্যাসিফিক একাডেমি অব অফথালমোলজি তাঁকে ডিস্টিংগুইশড সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড দিয়েছিল।
শিক্ষা ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানেও তিনি যুক্ত: ঢাকার ইউনিভার্সিটি অব সাউথ এশিয়ার (University of South Asia) ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাবেক উপ-উপাচার্য, নর্থ বেঙ্গল মেডিকেল কলেজের ভাইস চেয়ারম্যান এবং সিরাজগঞ্জের বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের সভাপতি।
সূত্র: উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, bangla.bdnews24.com, bdnews24.com, tbsnews.net, nbmc.edu.bd, archive.thedailystar.net, thedailystar.net ১, thedailystar.net ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, dailyinqilab.com। ভুল দেখলে জানান।
বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম
২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং একই দিন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। ২১ আগস্ট ২০২৬-এর মন্ত্রিসভা রদবদলেও তাঁর দপ্তর অপরিবর্তিত রয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তিনি দেশের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা, হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা, টিকাদান ও পরিবার কল্যাণ কার্যক্রমের দায়িত্বে রয়েছেন।
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সিরাজগঞ্জে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে তিনি জানান, তৃণমূলে সেবা পৌঁছাতে শিগগির এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে; চিকিৎসকদের নিয়মিত নিজ কর্মস্থলে রোগী দেখার নির্দেশও দেন।
২০ এপ্রিল তিনি শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন।
২৮ জুন সংসদে বাজেট আলোচনায় তিনি জানান, স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ প্রায় ৩৫ হাজার কোটি থেকে ৬৯ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে, এবং চিকিৎসা ব্যয়ের প্রায় ৭৯ শতাংশ রোগীর নিজের পকেট থেকে যাওয়াকে বড় সমস্যা হিসেবে তুলে ধরেন। একই বক্তব্যে শাহজাদপুরের নদীভাঙন ও চর এলাকার জন্য তিনি একটি চর উন্নয়ন ফাউন্ডেশন গঠনের প্রস্তাব দেন।
সূত্র: bangla.bdnews24.com ১, tbsnews.net, dhakatribune.com, bangla.bdnews24.com ২, en.prothomalo.com। ভুল দেখলে জানান।
নির্বাচনী এলাকা
সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।
নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি
সিরাজগঞ্জ-৬ জাতীয় সংসদের ৬৭ নম্বর আসন। নির্বাচন কমিশনের ২০২৫ সালের সীমানা নির্ধারণ অনুযায়ী আসনটি রাজশাহী বিভাগের সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলা (Shahjadpur Upazila) নিয়ে গঠিত; উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও শাহজাদপুর পৌরসভা এর অন্তর্ভুক্ত। ২০২৬ সালের নির্বাচনে আসনটির মোট ভোটার ছিলেন ৪,৮৫,৩৮৭ জন।
শাহজাদপুরের আয়তন ৩২৪.১৫ বর্গকিলোমিটার। এর উত্তরে উল্লাপাড়া ও বেলকুচি, পূর্বে চৌহালী, দক্ষিণে পাবনার বেড়া এবং পশ্চিমে পাবনার ফরিদপুর উপজেলা। যমুনা, করতোয়া, হুরাসাগর ও বড়াল নদী এলাকাটির ভেতর দিয়ে বয়ে গেছে। ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী উপজেলার জনসংখ্যা ৬,০১,৬৩৩।
অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর; ধান, পাট, সরিষা, ডাল ও আখ প্রধান ফসল। শাড়ি-লুঙ্গির তাঁতশিল্প ও দুগ্ধখামারের জন্য শাহজাদপুর পরিচিত। বাঘাবাড়ীতে রয়েছে নদীবন্দর এবং সমবায়ভিত্তিক দুগ্ধ প্রতিষ্ঠান মিল্ক ভিটার (Milk Vita) কারখানা। উল্লেখযোগ্য স্থানের মধ্যে আছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের (Rabindranath Tagore) স্মৃতিবিজড়িত শাহজাদপুর কাছারিবাড়ি, যা এখন জাদুঘর; ত্রয়োদশ শতকের মখদুম শাহদৌলার (Makhdum Shah Daulah) মসজিদ ও মাজার এবং পোতাজিয়ার নবরত্ন মন্দির। ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় এবং শাহজাদপুর সরকারি কলেজ এখানকার প্রধান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। মুক্তিযুদ্ধে বাঘাবাড়ী ও ধীতপুরে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের তীব্র লড়াই হয়।
১৯৮৪ সালে পাবনা জেলা ভাগ হলে আসনটি গঠিত হয়; ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে সীমানা পুনর্নির্ধারণে এর সীমানা বদলায়। ১৯৯১ সালে বিএনপির আনসার আলী সিদ্দিকী, ১৯৯৬ সালের জুনে আওয়ামী লীগের মো. শাহজাহান এবং ২০০১ সালে বিএনপির মঞ্জুর কাদের এখানে জয়ী হন। ২০০৮ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত আসনটি আওয়ামী লীগের চয়ন ইসলাম, হাসিবুর রহমান স্বপন ও মেরিনা জাহানের হাতে ছিল; ২০২৬ সালে বিএনপির এম এ মুহিত আসনটি জয় করেন।
সূত্র: tbsnews.net ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, উইকিপিডিয়া (বাংলা), en.banglapedia.org, tbsnews.net ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৪। ভুল দেখলে জানান।
সংসদে মেয়াদ
সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ১ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।
২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট
আসনের সব ফল →- এম, এ, মুহিত
BNPবিজয়ী১,৭১,৫০৮৬২.৩% - S. M. Saif Mostafiz
NCP১,০৩,৮৮৪৩৭.৭%
সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন
আসন: সিরাজগঞ্জ-৬
আসনের পাতা →শাহজাদপুর উপজেলা
সংসদীয় কমিটি(১)
সংবাদ ও ভিডিও
সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…