
এম ইকবাল হোসেইন
M. Iqbal Hossain
সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা
পরিচিতি
এম ইকবাল হোসেইন ময়মনসিংহ-৩ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সংসদ সদস্য এবং বর্তমানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি, সংসদীয় কমিটি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।
এম ইকবাল হোসেইন (M. Iqbal Hossain) ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনের সংসদ সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের (Tarique Rahman) সরকারে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জাতীয় নির্বাহী কমিটির এই সদস্য পেশায় প্রকৌশলী; নিজ এলাকায় তিনি ‘ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল’ নামে পরিচিত।
দুবার পরাজয়ের পর তৃতীয়বারের চেষ্টায় ২০২৬ সালে তিনি প্রথমবার সংসদে আসেন এবং প্রথম মেয়াদেই মন্ত্রিসভায় জায়গা পান। ময়মনসিংহ জেলা থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়ে মন্ত্রিসভায় আসা দুজনের একজন তিনি; অন্যজন ইয়াসের খান চৌধুরী (Yasser Khan Choudhury)।
শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা
১৯৫০ সালের ১৭ অক্টোবর ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর উপজেলার সিধলা ইউনিয়নের তাতরাকান্দা গ্রামে তাঁর জন্ম। বাবা ইসমাইল হোসেন তালুকদার ছিলেন বাংলাদেশ মুসলিম লীগের রাজনীতিবিদ; ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। মা সৈয়দা ফাতেমা খাতুন। ছেলের মন্ত্রিত্বের খবরে একটি জাতীয় দৈনিক শিরোনাম করেছিল, ‘বাবা ছিলেন এমপি, ছেলে হলেন প্রতিমন্ত্রী’।
তিনি ময়মনসিংহের আনন্দমোহন কলেজ এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) পড়াশোনা করেছেন।
রাজনৈতিক জীবন
বিএনপির রাজনীতিতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে গৌরীপুরে দলের প্রার্থী হিসেবে মাঠে ছিলেন। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়নে ময়মনসিংহ-৩ আসনে তিনি ৭৬,৫১৭ ভোট পান, তবে ১,৭৭,২৮০ ভোট পাওয়া আওয়ামী লীগের মজিবুর রহমান ফকিরের (Mozibur Rahman Fakir) কাছে পরাজিত হন। সে সময় আসনটির সীমানায় গৌরীপুরের বাইরে ফুলপুর উপজেলার একটি ও ময়মনসিংহ সদরের পাঁচটি ইউনিয়নও ছিল। ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনেও তিনি এ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন, সেবারও জয় পাননি।
বিরোধী রাজনীতির বছরগুলোতে তাঁর বিরুদ্ধে পাঁচটি রাজনৈতিক মামলা হয়, যার মধ্যে ২০১৩ সালে গৌরীপুরে একটি আন্তনগর ট্রেনে হামলার ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইন ও বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের মামলাও ছিল; পরে রাজনৈতিক বিবেচনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে মামলাগুলো প্রত্যাহার করা হয়। দলে তিনি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য।
২০২৬ নির্বাচন
২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর বিএনপি ২৩৭ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করলে ময়মনসিংহ-৩ আসনে তাঁর নাম আসে। মনোনয়নবঞ্চিত সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আহাম্মদ তায়েবুর রহমান হিরণের (Ahmed Tayebur Rahman Hiron) অনুসারীরা প্রার্থী বদলের দাবিতে বিক্ষোভ করেন, পরদিন গৌরীপুর জংশনে একটি আন্তনগর ট্রেন প্রায় ৩৭ মিনিট আটকে রাখেন; পরে হিরণসহ ছয়জনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। ইকবাল হোসেইন তখন বলেন, দল পরীক্ষিত প্রার্থী হিসেবেই তাঁকে বেছে নিয়েছে।
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আসনটিতে পাঁচজন প্রার্থী ছিলেন। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পান ৭৫,৩২০ ভোট; নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিরণ পান ৬৫,৯৯৫ ভোট। জয়ের ব্যবধান ৯,৩২৫ ভোট। তৃতীয় হন মো. আবু তাহের খান, তিনি পান ২৫,৭০৬ ভোট। একই দিনের গণভোটে এ আসনে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়ে ১,০৪,০৯২টি এবং ‘না’ ভোট ৪২,৬৭৫টি।
সূত্র: উইকিপিডিয়া (বাংলা), উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, dailynayadiganta.com, dhakatimes24.com, prothomalo.com ১, prothomalo.com ২, en.prothomalo.com, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, bdnews24.com, tbsnews.net, bssnews.net, thebangladeshtoday.com, modmr.gov.bd। ভুল দেখলে জানান।
* চিহ্নিত তথ্য সদস্যের উইকিপিডিয়া নিবন্ধ থেকে নেওয়া; সংসদ বা নির্বাচন কমিশনের নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি। ভুল দেখলে জানান।
বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম
২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি দুপুরে সংসদ সদস্য হিসেবে এবং বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তিনি শপথ নেন; দায়িত্ব পান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের। ২১ আগস্ট ২০২৬-এর মন্ত্রিসভা রদবদলের পরও তিনি এই দায়িত্বে রয়েছেন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস, ত্রাণ বিতরণ ও পুনর্বাসনের কাজ দেখে; ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর এর আওতায়। ৫ জুলাই থেকে ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ধসে চট্টগ্রামে বন্যা দেখা দিলে ১১ জুলাই চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে প্রতিমন্ত্রী জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা ও পুনর্বাসন পরিকল্পনা তৈরি হচ্ছে এবং সরকারের হাতে পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুত আছে। ৩ সেপ্টেম্বর সংসদে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ভূমিকম্পসহ বড় দুর্যোগ মোকাবিলায় এক লাখ প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক গড়ে তোলা হচ্ছে, যার ৭০ হাজার এরই মধ্যে প্রস্তুত; কেনা উদ্ধার সরঞ্জাম সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও আনসারকে দেওয়া হয়েছে। ১৭ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার (Michael Miller) তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকে বিশ্বের জন্য মডেল হিসেবে উল্লেখ করেন।
সূত্র: উইকিপিডিয়া (ইংরেজি), bdnews24.com, thefinancialexpress.com.bd, deshrupantor.com, npbnews.com, modmr.gov.bd। ভুল দেখলে জানান।
নির্বাচনী এলাকা
সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।
নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি
ময়মনসিংহ-৩ জাতীয় সংসদের ১৪৮ নম্বর আসন। নির্বাচন কমিশনের সীমানা অনুযায়ী ময়মনসিংহ বিভাগের ময়মনসিংহ জেলার পুরো গৌরীপুর উপজেলা নিয়ে এটি গঠিত। উপজেলায় ১৯২৭ সালে প্রতিষ্ঠিত গৌরীপুর পৌরসভা (৯টি ওয়ার্ড) এবং ১০টি ইউনিয়ন: মইলাকান্দা, গৌরীপুর, অচিন্তপুর, মাওহা, সহনাটি, বোকাইনগর, রামগোপালপুর, ডৌহাখলা, ভাংনামারী ও সিধলা। ২০২৬ সালের নির্বাচনে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ২,৯৮,২৬৮ জন।
জেলা শহর থেকে সড়কপথে প্রায় ২০ কিলোমিটার পূর্বে উপজেলা সদর। পশ্চিমে ময়মনসিংহ সদর, উত্তরে তারাকান্দা ও নেত্রকোনার পূর্বধলা, পূর্বে নেত্রকোনা সদর ও কেন্দুয়া এবং দক্ষিণে ঈশ্বরগঞ্জ। আয়তন প্রায় ২৭৫ বর্গকিলোমিটার। ২০২২ সালের জনশুমারিতে জনসংখ্যা ৩,৫৭,৩৫৩, যার প্রায় ১১ শতাংশ শহরে বাস করেন। পুরাতন ব্রহ্মপুত্র, সোয়াইন, সুরিয়া ও মগড়া প্রধান নদী।
অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর: ধান, পাট ও গম প্রধান ফসল; কুমড়া, আলু ও সরিষাও প্রচুর হয়। হাঁস-মুরগি, গবাদিপশু ও মাছের খামার এবং কুটির শিল্পও আয়ের উৎস। গৌরীপুর জংশন এ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ রেলসংযোগস্থল। গৌরীপুর রাজবাড়ি, রামগোপালপুর জমিদারবাড়ি, অনন্তসাগর দিঘি, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবাহী শালীহর বধ্যভূমি ও কেল্লা তাজপুর উল্লেখযোগ্য স্থান; উপজেলায় একটি সরকারি টেক্সটাইল কলেজও রয়েছে।
১৯৯১ সালে আসনটিতে আওয়ামী লীগের নজরুল ইসলাম এবং ১৯৯৬ সালের জুনে বিএনপির এ এফ এম নাজমুল হুদা জয়ী হন। এরপর ২০০১, ২০০৮ ও ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের মজিবুর রহমান ফকির, ২০১৬ সালের উপনির্বাচন ও ২০১৮ সালে একই দলের নাজিম উদ্দিন আহমেদ এবং ২০২৪ সালে নিলুফার আনজুম পপি নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে সীমানা ছোট করা হয়; তার আগে আসনে ফুলপুর উপজেলার একটি ও ময়মনসিংহ সদরের পাঁচটি ইউনিয়নও ছিল। ২০২৬ সালে ১৯৯৬ সালের পর প্রথমবার আসনটি বিএনপির হাতে আসে।
সূত্র: উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, tbsnews.net, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, উইকিপিডিয়া (বাংলা), citypopulation.de। ভুল দেখলে জানান।
সংসদে মেয়াদ
সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ১ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।
২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট
আসনের সব ফল →- এম ইকবাল হোসেইন
BNPবিজয়ী৭৫,৩২০৪৪.৩% - Ahmed Tayebur RahmanInd৬৫,৯৯৫৩৮.৮%
- Md. Abu Taher KhanBNIP২৫,৭০৬১৫.১%
- Md. Shariful Islam
IAB২,৭৪৫১.৬% - AKM Ariful HasanSPB-M৩৫৪০.২%
সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন
আসন: ময়মনসিংহ-৩
আসনের পাতা →গৌরীপুর উপজেলা
সংসদীয় কমিটি(১)
সংবাদ ও ভিডিও
সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…