
এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত
M. Rashiduzzaman Millat
সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা
পরিচিতি
এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জামালপুর-১ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষ এবং বর্তমানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি, সংসদীয় কমিটি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।
এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত (M. Rashiduzzaman Millat) বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এবং জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির কোষাধ্যক্ষ এই নেতা আসনটি থেকে দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
রাজনীতির পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিনের ব্যবসায়ী। দেওয়ানগঞ্জের স্থানীয় রাজনীতি থেকে উঠে এসে তিনি এখন জাতীয় সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে।
শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা
১৯৬১ সালের ১৪ জানুয়ারি জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ পৌর শহরের কালিকাপুর গ্রামে তাঁর জন্ম। বাবা প্রয়াত নবাব আলী প্রধান, মা প্রয়াত রোকেয়া বেগম; তিনি বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। দেওয়ানগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতক ডিগ্রি নেওয়ার পর ২০১৪ সালে উত্তরা ইউনিভার্সিটি (Uttara University) থেকে ইসলামিক স্টাডিজে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউট (National Democratic Institute) এবং সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (Centre for Governance Studies) থেকে নেতৃত্ব ও সুশাসন বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। তাঁর স্ত্রী মাবিয়া সুরাইয়া (Mabia Suraiya)।
রাজনৈতিক জীবন
১৯৮৬ সালে ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদারের (Abdus Salam Talukder) হাত ধরে তিনি বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন। দলের সাংস্কৃতিক সংগঠন জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ১৯৯১ সালে পুরোপুরি মূল দলের রাজনীতিতে আসেন। পরে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এবং জামালপুর জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবার প্রার্থী হয়েই তিনি জামালপুর-১ আসনে জয়ী হন। ওই নির্বাচনে তিনি পান ৯৩,৬১৬ ভোট; আওয়ামী লীগের আবুল কালাম আজাদ (Abul Kalam Azad) পান ৭৩,৯৫৯ ভোট। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি সংসদ সদস্য ছিলেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন সাহিদা আক্তার রীতা (Sahida Akter Rita); সেবার আওয়ামী লীগ জয়ী হয়। এরপর দীর্ঘ সময় দল বিরোধী রাজনীতিতে থাকে, আর তিনি সংগঠনের কাজে যুক্ত থাকেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির কোষাধ্যক্ষ।
২০২৬ নির্বাচন
ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুর-১ আসনে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ধানের শীষ প্রতীকে মিল্লাত পান ১,৭২,১১৫ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মুহাম্মদ নাজমুল হক সাঈদী (Muhammad Nazmul Haque Sayedee) পান ৯৩,৬৬১ ভোট। জয়ের ব্যবধান ৭৮,৪৫৪ ভোট। এ জয়ে তিনি দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য হন।
উল্লেখযোগ্য কাজ ও অবদান
ব্যবসায়ী হিসেবে তিনি বৈদ্যুতিক ও নির্মাণসামগ্রীর ট্রেডিং, ইনডেন্টিং, উৎপাদন ও বিপণনের সঙ্গে যুক্ত। তিনি সৌরভ গ্রুপ অব কোম্পানিজের (Shourov Group of Companies) চেয়ারম্যান; প্রতিষ্ঠানটি নির্মাণ, প্রকৌশল, মৎস্য ও কৃষি খাতে কাজ করে।
দলীয় রাজনীতিতে তিনি দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা থেকে জামালপুর জেলা পর্যন্ত বিএনপির সংগঠনে নেতৃত্ব দিয়েছেন, পরে দলের কেন্দ্রীয় আর্থিক দায়িত্ব পেয়েছেন। সংসদ সদস্য হিসেবে ২০০১-২০০৬ মেয়াদে তিনি দেওয়ানগঞ্জ ও বকশীগঞ্জের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করেন।
সূত্র: banglatribune.com, thefinancialexpress.com.bd, উইকিপিডিয়া (বাংলা), উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, tbsnews.net, bangladeshmonitor.com.bd। ভুল দেখলে জানান।
বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম
২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের (Tarique Rahman) সরকারে তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী হন। প্রায় ছয় মাস পর, ২১ আগস্ট ২০২৬, বঙ্গভবনের দরবার হলে তিনি একই মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। সেদিন শপথ নেওয়া চারজন নতুন পূর্ণ মন্ত্রীর মধ্যে কেবল তিনিই আগে প্রতিমন্ত্রী ছিলেন।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় দেশের বিমান চলাচল ও পর্যটনের নীতি প্রণয়ন করে; বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ও বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড এর আওতাধীন। প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে মার্চে তিনি মধ্যরাতে আকস্মিকভাবে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পরিদর্শন করে যাত্রীসেবার মান বাড়ানোর নির্দেশ দেন। পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে প্রথম কর্মদিবসে জানান, শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনাল ১৬ ডিসেম্বর আংশিকভাবে চালুর লক্ষ্যে কাজ চলছে এবং আগামী বছর ঢাকা-নিউইয়র্ক ফ্লাইট আবার চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। ১ সেপ্টেম্বর ১৯৮৪ সালের বিধিমালার বদলে নতুন বেসামরিক বিমান চলাচল বিধিমালা চূড়ান্ত করার সভায় তিনি বিধিমালাকে বিনিয়োগ ও যাত্রীবান্ধব করার তাগিদ দেন। ১২ অক্টোবর জানান, নভেম্বরে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর উদ্বোধনের লক্ষ্যে প্রস্তুতি চলছে।
সূত্র: উইকিপিডিয়া (ইংরেজি), bangladeshmonitor.com.bd ১, dhakatribune.com, bangladeshmonitor.com.bd ২, bangla.bdnews24.com। ভুল দেখলে জানান।
নির্বাচনী এলাকা
সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।
নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি
জামালপুর-১ জাতীয় সংসদের ১৩৮ নম্বর আসন, ময়মনসিংহ বিভাগের জামালপুর জেলার উত্তরাংশে অবস্থিত। সীমানা অনুযায়ী আসনটি গঠিত বকশীগঞ্জ ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নিয়ে; দুই উপজেলাই ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সীমান্তঘেঁষা। ২০২৬ সালের নির্বাচনে এখানে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ৪,৩১,৭০৭ জন; এর মধ্যে পুরুষ ২,১৬,২০৭, নারী ২,১৫,৪৯৮ এবং হিজড়া ২ জন।
দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার আয়তন প্রায় ২৬৮ বর্গকিলোমিটার; ২০২২ সালের জনশুমারিতে জনসংখ্যা ২,৮৮,১৬৬। একটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই উপজেলার প্রধান নদী যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র ও জিঞ্জিরাম। অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর; ধান, পাট, গম, সরিষা, আখ ও আলু প্রধান ফসল। রাষ্ট্রায়ত্ত জিল বাংলা চিনিকল এখানে অবস্থিত। যমুনার তীরের বাহাদুরাবাদ ঘাটে ১৯৭১ সালের ৩০ জুলাই মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে পাকিস্তানি বাহিনীর সম্মুখযুদ্ধ হয়। দেওয়ানগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় (১৯১৯) ও এ কে মেমোরিয়াল কলেজ (১৯৭০) এখানকার পুরোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
বকশীগঞ্জ উপজেলার আয়তন প্রায় ২৩৮ বর্গকিলোমিটার; ২০২২ সালের জনশুমারিতে জনসংখ্যা ২,৩৯,৮৫৭। একটি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত উপজেলাটির উত্তর-পূর্বে গারো পাহাড়, যেখানে গারো জনগোষ্ঠীর বসবাস। আয়ের প্রধান উৎস কৃষি; পুরাতন ব্রহ্মপুত্র ও দশানী এখানকার নদী। এখানে রয়েছে ধানুয়া কামালপুর স্থলবন্দর। মুক্তিযুদ্ধে কামালপুরের পাকিস্তানি সেনাঘাঁটিতে মুক্তিযোদ্ধারা বারবার আক্রমণ চালান; ১৯৭১ সালের ৫ ডিসেম্বর বকশীগঞ্জ মুক্ত হয়। কামালপুরে শহীদদের স্মরণে স্মৃতিসৌধ রয়েছে।
১৯৯১ সালে আসনটিতে আওয়ামী লীগের আবুল কালাম আজাদ, ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬-এ বিএনপির একেএম মঈনুল হক এবং জুন ১৯৯৬-এ আবার আজাদ জয়ী হন। ২০০১ সালে বিএনপির এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত নির্বাচিত হন। ২০০৮ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত আসনটি আওয়ামী লীগের হাতে ছিল; আজাদের পর ২০২৪ সালে নূর মোহাম্মদ সংসদ সদস্য হন। ২০২৬ সালে আসনটি আবার বিএনপির হাতে আসে।
সূত্র: উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, tbsnews.net ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩, citypopulation.de, en.banglapedia.org ১, en.banglapedia.org ২, tbsnews.net ২। ভুল দেখলে জানান।
সংসদে মেয়াদ
সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ২ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।
২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট
আসনের সব ফল →- এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত
BNPবিজয়ী১,৭২,১১৫৬৪.৮% - Muhammad Nazmul Haque Sayedee
BJEI৯৩,৬৬১৩৫.২%
সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন
আসন: জামালপুর-১
আসনের পাতা →(ক)বকশীগঞ্জ এবং(খ) দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা
সংসদীয় কমিটি(১)
সংবাদ ও ভিডিও
সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…
সম্পাদকের যাচাই করা ২টি খবর