
মোঃ আসাদুজ্জামান
Md. Asaduzzaman
সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা
পরিচিতি
মোঃ আসাদুজ্জামান ঝিনাইদহ-১ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সংসদ সদস্য এবং বর্তমানে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি, আগের মেয়াদ, সংসদীয় কমিটি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।
মোঃ আসাদুজ্জামান (Md. Asaduzzaman) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী এবং ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসনের সংসদ সদস্য। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপি (Bangladesh Nationalist Party)-র এই নেতা পেশায় সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী; সংসদে আসার আগে তিনি দেশের ১৭তম অ্যাটর্নি জেনারেল ছিলেন।
শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা
১৯৭১ সালের ৩১ জানুয়ারি ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বারইপাড়া গ্রামে তাঁর জন্ম। বাবা শেখ মোঃ ইসরাইল হোসেন ছিলেন স্কুলশিক্ষক, মা বেগম রোকেয়া; ছয় ভাইবোনের মধ্যে তিনি একজন। গাড়াগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ১৯৮৭ সালে এসএসসি এবং শৈলকুপা সরকারি ডিগ্রি কলেজ থেকে ১৯৮৯ সালে এইচএসসি পাস করেন। সে বছরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (University of Dhaka)-এর আইন বিভাগে ভর্তি হন এবং সেখান থেকে এলএলবি (সম্মান) ও এলএলএম ডিগ্রি নেন। তাঁর স্ত্রী শিরীন সুলতানা একজন শিক্ষক; তাঁদের দুই মেয়ে।
রাজনৈতিক জীবন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তিনি জাসদ ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন। ১৯৯৩ সালে সংগঠনের বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ১৯৯৪ সালে কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক হন।
পরে তিনি বিএনপির রাজনীতিতে আসেন। দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন এবং চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া (Khaleda Zia)-র উপদেষ্টার দায়িত্বও পালন করেন। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ-১ আসনে তিনি বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। অ্যাটর্নি জেনারেল হওয়ার পর তিনি দলের মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদকের পদ ছেড়ে দেন।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর ৮ আগস্ট রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন (Mohammed Shahabuddin) তাঁকে অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ দেন। প্রায় এক বছর পাঁচ মাস এ দায়িত্বে থাকার পর সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষে তিনি পদত্যাগ করেন।
২০২৬ নির্বাচন
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ-১ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে তিনি ১,৭৩,৩৮১ ভোট পান। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আবু সালেহ মোঃ মতিউর রহমান (Abu Saleh Md Matiur Rahman) পান ৫৭,০৫৫ ভোট; ব্যবধান ১,১৬,৩২৬ ভোট। আসনে মোট প্রদত্ত ২,৩২,৩২৪ ভোটের প্রায় ৭৫ শতাংশই তিনি পান; বাকি তিন প্রার্থীর কেউ এক হাজার ভোটও পাননি। এই জয়ের মধ্য দিয়ে তিনি প্রথমবার সংসদ সদস্য হন।
উল্লেখযোগ্য কাজ ও অবদান
১৯৯৫ সালে বার কাউন্সিলের সনদ পাওয়ার পর তিনি ১৯৯৬ সালে হাইকোর্ট বিভাগে এবং ২০০৫ সালে আপিল বিভাগে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন; ২০২৩ সালে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট হন। পেশাজীবনের শুরুতে আইনজীবী নিজামুল হক নাসিমের (পরে বিচারপতি) সঙ্গে কাজ করেন। ১৯৯৮ সালে ব্যারিস্টার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ (Syed Ishtiaq Ahmed)-এর জুনিয়র হিসেবে যোগ দিয়ে পরে তাঁর আইন প্রতিষ্ঠানের অংশীদার হন। রিট, কর, কোম্পানি ও দেওয়ানি আইন তাঁর চর্চার প্রধান ক্ষেত্র।
অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টের শুনানিতে ২০২৪ সালের নভেম্বরে তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের বিরোধিতা করেন এবং গণভোটের বিধান ফিরিয়ে আনার পক্ষে যুক্তি দেন।
সূত্র: উইকিপিডিয়া (বাংলা), উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, bssnews.net, dhakatimes24.com, tbsnews.net ১, dhakatribune.com, en.prothomalo.com ১, en.prothomalo.com ২, tbsnews.net ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২। ভুল দেখলে জানান।
বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম
২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন এবং একই দিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman)-এর মন্ত্রিসভায় আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রধান হিসেবে তিনি নতুন আইন প্রণয়ন, বিচার বিভাগের প্রশাসনিক সহায়তা এবং সংসদে সরকারের আইনি কার্যক্রম দেখভালের দায়িত্বে আছেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে তোলা হয়। ১২ এপ্রিল তিনি জানান, এর ৯৭টি অপরিবর্তিত এবং ১৩টি সংশোধিত আকারে আইনে পরিণত হয়েছে।
২৭ আগস্ট তিনি সংসদে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬ এবং সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬ উত্থাপন করেন; প্রস্তাবিত কমিশনে অন্তত একজন নারী কমিশনার রাখার বিধান রয়েছে।
৯ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন ডিজিটাল করার প্রকল্পে ব্র্যাক (BRAC)-এর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এতে বাল্যবিবাহ ও ভুয়া নিবন্ধন সনদ রোধ সহজ হবে। প্রথম ধাপে ১০ জেলার ১০২টি ইউনিয়নে এটি চালু হবে।
সূত্র: bssnews.net, tbsnews.net ১, tbsnews.net ২, tbsnews.net ৩। ভুল দেখলে জানান।
নির্বাচনী এলাকা
সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।
নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি
ঝিনাইদহ-১ (Jhenaidah-1) জাতীয় সংসদের ৮১ নম্বর আসন; খুলনা বিভাগের ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলা নিয়ে এটি গঠিত। ২০২৬ সালের নির্বাচনে আসনটিতে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ৩,২৫,২৭৮ জন: পুরুষ ১,৬৩,০০১ ও নারী ১,৬২,২৭৭।
শৈলকূপা (Shailkupa) জেলার উত্তর প্রান্তে, জেলা সদর থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে; এর উত্তরে কুষ্টিয়া ও রাজবাড়ী, পূর্বে মাগুরা জেলা। আয়তন প্রায় ৩৭৩ বর্গকিলোমিটার। ২০২২ সালের জনশুমারিতে জনসংখ্যা ৪,০৬,৭৪৪। উপজেলায় একটি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়ন রয়েছে। গড়াই, কুমার ও ডাকুয়া নদী এর ভেতর দিয়ে বয়ে গেছে; শৈলকূপা শহর কুমার নদীর তীরে। অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর; ধান, পেঁয়াজ, গম, সবজি, পান ও পাট প্রধান ফসল।
কুমার নদীর পাড়ে সুলতানি আমলের শৈলকূপা শাহী মসজিদ, শৈলকূপা জমিদারবাড়ি, মুক্তিযুদ্ধের কামান্না ২৭ শহীদের সমাধি এবং আশুরহাটের পাখিগ্রাম এলাকার পরিচিত স্থান। ১৮৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত শৈলকূপা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও শৈলকূপা সরকারি ডিগ্রি কলেজ উল্লেখযোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কবি গোলাম মোস্তফা (Golam Mostafa), মরমি কবি পাঞ্জু শাহ (Panju Shah) ও চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার (Mustafa Monwar) এ উপজেলার সন্তান।
যশোর জেলা ভাগ হওয়ার পর ১৯৮৪ সালে আসনটি গঠিত হয়। ১৯৯১ সালে এবং ১৯৯৬ সালের দুটি নির্বাচনে বিএনপির আবদুল ওয়াহাব এখানে জয়ী হন। ২০০১ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের আবদুল হাই টানা নির্বাচিত হন এবং ২০২৪ সালের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের নায়েব আলী জোয়ার্দার সংসদ সদস্য হন। ২০২৬ সালে আসনটি আবার বিএনপির হাতে আসে।
সূত্র: উইকিপিডিয়া (বাংলা) ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, tbsnews.net, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, উইকিপিডিয়া (বাংলা) ২। ভুল দেখলে জানান।
সংসদে মেয়াদ
সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ১ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।
২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট
আসনের সব ফল →- মোঃ আসাদুজ্জামান
BNPবিজয়ী১,৭৩,৩৮১৭৪.৬% - Abu Saleh Md Matiur Rahman
BJEI৫৭,০৫৫২৪.৬%
- Monika AlamJP(ERSHAD)৯৬৯০.৪%
- Md. Matiar RahmanAB৬১০০.৩%
- Shahidul Enam Pallab MiaSPB-M৩০৯০.১%
সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন
আসন: ঝিনাইদহ-১
আসনের পাতা →শৈলকূপা উপজেলা
সংসদীয় কমিটি(৬)
সংবাদ ও ভিডিও
সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…