মূল বিষয়ে যান
English
সর্বশেষ
মোঃ হাসান রাজীব প্রধান

মোঃ হাসান রাজীব প্রধান

Md Hasan Rajib Prodhan

বর্তমান সদস্য, ত্রয়োদশ সংসদ

সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা

পরিচিতি

মোঃ হাসান রাজীব প্রধান লালমনিরহাট-১ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সদস্য, কেন্দ্রীয় কমিটি, বিএনপি। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি, নির্বাচনী ফলাফল, আগের মেয়াদ, সংসদীয় কমিটি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।

মোঃ হাসান রাজীব প্রধান (Md Hasan Rajib Prodhan) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে লালমনিরহাট-১ (পাটগ্রাম ও হাতীবান্ধা) আসনের সংসদ সদস্য। ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। ২০২৬ সালের নির্বাচনে তিনি প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা

হাসান রাজীব প্রধান ১৯৬৬ সালের ১ জুলাই লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন। শ্রীরামপুরের পরিচিত প্রধান পরিবারে তাঁর জন্ম। বাবা মোঃ আবেদুর রহমান প্রধান, মা হোসনে আরা প্রধান।

আইন পেশাকে তিনি কর্মজীবন হিসেবে বেছে নেন। জাতীয় সংবাদমাধ্যম ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) তাঁকে ব্যারিস্টার হিসেবে পরিচয় দেয়।

রাজনৈতিক জীবন

২০২৫ সালের জুলাইয়ে পাটগ্রাম থানায় হামলার ঘটনার পর উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি ঘটনায় দলের সম্পৃক্ততা নাকচ করেন এবং জানান, দলের নামে কারও ব্যক্তিগত অপকর্মের দায় বিএনপি নেবে না; জেলা বিএনপি বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে।

২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকার গুলশানে বিএনপির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলের তৎকালীন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (Mirza Fakhrul Islam Alamgir) লালমনিরহাট-১ আসনে তাঁকে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেন। আজকালের খবরের প্রতিবেদনে তাঁর মনোনয়নের কারণ হিসেবে দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং দুই উপজেলার ভোটারদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতার কথা উল্লেখ করা হয়। প্রচারণায় তিনি তিস্তা নদী ও বন্যাকে এলাকার সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে স্থায়ী সমাধানের কথা বলেন এবং হাতীবান্ধা ও পাটগ্রামে শিল্পকারখানা গড়ে বেকারত্ব কমানোর প্রতিশ্রুতি দেন।

২০২৬ নির্বাচন

২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে তিনি ১,৩৮,৬৮৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম রাজু (Md Anwarul Islam Raju) দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পান ১,২৯,৫৭২ ভোট; ব্যবধান ৯,১১৪ ভোট। আসনটিতে প্রার্থী ছিলেন নয়জন, নিবন্ধিত ভোটার ৪,০৩,৫৬১ জন। ভোট পড়ে ৭২.১৬ শতাংশ, আর বৈধ ভোটের প্রায় ৪৮.৭ শতাংশ পান তিনি। এবারের নির্বাচনে লালমনিরহাটের তিনটি আসনেই বিএনপির প্রার্থীরা জয়ী হন।

জয়ের পর ১৪ ফেব্রুয়ারি এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বিজয়ীদের প্রথম দায়িত্ব হলো পরাজিতদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তিনি আরও বলেন, তিনি রাজনীতি থেকে আয় করতে নয়, মানুষের সেবা করতে এসেছেন, এবং দেশকে সবার আগে রাখার আহ্বান জানান।

সূত্র: উইকিপিডিয়া (বাংলা), উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, জাতীয় সংসদ, thedailystar.net, ajkalerkhobor.net, bangla.bdnews24.com, prothomalo.com, tbsnews.net, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, bssnews.net ১, bssnews.net ২, dailyinqilab.com, 103.183.38.66। ভুল দেখলে জানান।

জন্ম১ জুলাই ১৯৬৬, ৬০ বছর
জন্মস্থানশ্রীরামপুর, পাটগ্রাম, লালমনিরহাট
লিঙ্গপুরুষ
পেশাআইনজীবী (ব্যারিস্টার)
পিতামোঃ আবেদুর রহমান প্রধান
মাতাহোসনে আরা প্রধান
বর্তমান মেয়াদ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০৩১
সংসদ সদস্য নির্বাচিতমোট ১ বার

বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম

২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আগস্ট ২০২৬-এর শেষে সংসদে পুনর্গঠিত আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির তিনি সদস্য।

সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি আইন প্রণয়নে অংশ নেন এবং পাটগ্রাম ও হাতীবান্ধার মানুষের দাবি ও সমস্যা সংসদ ও প্রশাসনের কাছে তুলে ধরেন। স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কাজ পর্যালোচনা ও তদারকিতেও তাঁর ভূমিকা রয়েছে।

২০২৬ সালের ৩ জুলাই হাতীবান্ধা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দের ক্রীড়াসামগ্রী ২৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ৪৭টি ক্রীড়া ক্লাবের মধ্যে বিতরণ করেন। সেপ্টেম্বরে বুড়িমারী ইউনিয়নের ধরলা সেতু এলাকা পরিদর্শন করে তিনি ধরলা নদী থেকে অবৈধ বালু ও পাথর উত্তোলন বন্ধে কঠোর অবস্থান নেন এবং উত্তোলনকারীদের সহায়তাকারী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দেন। ১৯ অক্টোবর পাটগ্রামে ১৭ জন অসহায় মানুষকে ১০ হাজার টাকা করে অনুদানের চেক দেন এবং স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে উন্নয়নে সহযোগিতা চান; সভায় যানজট, বাল্যবিবাহ, মাদক ও বুড়িমারী স্থলবন্দরের সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়।

সূত্র: dailyinqilab.com, bssnews.net, prothomalo.com, dailybanglapost.com, dailynayadiganta.com। ভুল দেখলে জানান।

নির্বাচনী এলাকা

লালমনিরহাট-১

সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।

নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি

লালমনিরহাট-১ আসন রংপুর বিভাগের লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম ও হাতীবান্ধা উপজেলা নিয়ে গঠিত; নির্বাচন কমিশনের সীমানা অনুযায়ী দুই উপজেলার পুরো এলাকা এই আসনের অন্তর্ভুক্ত। দুই উপজেলার মোট আয়তন প্রায় ৫৩৫ বর্গকিলোমিটার। জাতীয় সংসদের ১৬ নম্বর এই আসনে ২০২৬ সালের নির্বাচনে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ৪,০৩,৫৬১ জন।

পাটগ্রাম দেশের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তের সীমান্ত উপজেলা; এর উত্তর, পূর্ব ও পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ। আয়তন প্রায় ২৪৭ বর্গকিলোমিটার, একটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়ন। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২২ সালের জনশুমারিতে জনসংখ্যা ২,৬২,৫৭৬। কৃষিই প্রধান জীবিকা; ধান, তামাক, ভুট্টা, আলু ও পাট ফলে, আর ধরলা নদীর বালু ও পাথরের জন্যও এলাকাটি পরিচিত। ভারতের চ্যাংড়াবান্ধার বিপরীতে বুড়িমারী স্থলবন্দর, তিনবিঘা করিডোর দিয়ে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা এবং সরকারি জসিমউদ্দিন কাজী আব্দুল গণি কলেজ এখানকার উল্লেখযোগ্য স্থান। ১৯৭১ সালে বুড়িমারী উচ্চবিদ্যালয়ে মুক্তিযুদ্ধের ৬ নম্বর সেক্টরের সদর দপ্তর ছিল।

হাতীবান্ধা পাটগ্রামের দক্ষিণে, তিস্তা নদীর তীরে; আয়তন প্রায় ২৮৮ বর্গকিলোমিটার, ইউনিয়ন ১২টি। ২০২২ সালের জনশুমারিতে জনসংখ্যা ২,৬৪,১০৭। প্রায় ৭৮ শতাংশ মানুষ কৃষিনির্ভর; তামাক, তেজপাতা, পেঁয়াজ, রসুন ও কলা এখান থেকে বাইরে যায়। তিস্তা ব্যারাজ ও নওদাবাসের শালবন এখানকার পরিচিত স্থান, আর সরকারি আলিমুদ্দিন কলেজ উল্লেখযোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

আসনটি ১৯৮৪ সালে লালমনিরহাট জেলা গঠনের সময় তৈরি হয়। জাতীয় পার্টির জয়নাল আবেদীন সরকার ১৯৯৬ সালের জুনসহ একাধিকবার এখানে জেতেন; প্রধান দলগুলোর বর্জন করা ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়ী হন বিএনপির হাসানুজ্জামান হাসান। ২০০১ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত টানা পাঁচবার আওয়ামী লীগের মোতাহার হোসেন (Motahar Hossain) নির্বাচিত হন, যিনি ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। ২০২৬ সালে আসনটি বিএনপির হাতে যায়।

সূত্র: উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, tbsnews.net, en.banglapedia.org ১, উইকিপিডিয়া (বাংলা) ১, citypopulation.de ১, en.banglapedia.org ২, উইকিপিডিয়া (বাংলা) ২, citypopulation.de ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৪, prothomalo.com। ভুল দেখলে জানান।

সংসদে মেয়াদ

ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬লালমনিরহাট-১বর্তমান মেয়াদBNP

সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ১ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।

২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট

আসনের সব ফল →
ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬প্রার্থীদের মোট ২,৬৮,২৫৮ ভোট
  1. মোঃ হাসান রাজীব প্রধানBNPবিজয়ী১,৩৮,৬৮৬৫১.৭%
  2. Anowarul Islam RazuBJEI১,২৯,৫৭২৪৮.৩%
উৎস: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড। নির্বাচন কমিশনের গেজেটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি। উৎসে ৭ জন প্রার্থীর ভোটের সংখ্যা নেই। উইকিপিডিয়াতেও বিজয়ীর ভোট একই।মূল পাতা

সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন(১)

জনাব মোঃ হাসান রাজীব প্রধান, ১৬ লালমনিরহাট-১ (থাইল্যান্ড সফর)৮ জুলাই ২০২৬, অনাপত্তিপত্রPDF

আসন: লালমনিরহাট-১

আসনের পাতা →
এলাকা

(ক)পাটগ্রাম এবং(খ) হাতীবান্ধা উপজেলা

সংসদীয় কমিটি(১)

সংবাদ ও ভিডিও

সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…

কোথা থেকে তথ্য আসে

সদস্য, আসন, কমিটি ও অধিবেশন আসে জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইট থেকে; ভোটার সংখ্যা নির্বাচন কমিশন ও মন্ত্রিসভা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে। ভোটের ফল ও জীবনীর সূত্র আলাদা করে প্রতিটি পাতায় লেখা।

সব সূত্র দেখুন →

কত দিন পরপর হালনাগাদ

প্রতি রাতে পুরো সাইট সংসদের তথ্যভান্ডার থেকে নতুন করে তৈরি হয়। নতুন প্রজ্ঞাপন, বৈঠকের কার্যসূচি বা কমিটির পরিবর্তন পরদিনের মধ্যে যুক্ত হয়; সংবাদ শিরোনাম দিনে কয়েকবার।

পদ্ধতি →

ভুল পেলে

প্রতিটি সদস্যের পাতায় “সংশোধন জানান” বোতাম আছে। সূত্রসহ জানালে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাচাই করে ঠিক করা হয়; সদস্যের দপ্তর নিজের পাতাও হালনাগাদ করাতে পারেন।

যোগাযোগ →