
মোঃ লুৎফুজ্জামান বাবর
Md Lutfozzaman Babar
সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা
পরিচিতি
মোঃ লুৎফুজ্জামান বাবর নেত্রকোনা-৪ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সংসদ সদস্য। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি, নির্বাচনী ফলাফল, আগের মেয়াদ, সংসদীয় কমিটি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।
মোঃ লুৎফুজ্জামান বাবর (Md Lutfozzaman Babar) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে নেত্রকোনা-৪ (মোহনগঞ্জ, মদন ও খালিয়াজুড়ী উপজেলা) আসনের সংসদ সদস্য। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) এই নেতা ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন; তখন তিনি ছিলেন মন্ত্রিসভার সর্বকনিষ্ঠ সদস্য।
হাওরবেষ্টিত এই আসন থেকে এর আগেও তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। প্রায় সাড়ে ১৭ বছর কারাবন্দী থাকার পর ২০২৫ সালে মুক্তি পেয়ে ২০২৬ সালের নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জিতে তিনি আবার সংসদে ফেরেন।
শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা
১৯৫৮ সালের ১০ অক্টোবর নেত্রকোনায় তাঁর জন্ম; গ্রামের বাড়ি মদন উপজেলায়। বাবা এ কে লুৎফর রহমান (A K Lutfor Rahman) ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের (Ziaur Rahman) নিরাপত্তা দলের সদস্য; মা জোবেদা রহমান। চার ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়, বেড়ে উঠেছেন ঢাকার মগবাজারে। স্ত্রী তাহমিনা জামান (Tahmina Zaman) ২০১৮ সালের নির্বাচনে নেত্রকোনা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। এই দম্পতির দুই ছেলে ও দুই মেয়ে।
রাজনৈতিক জীবন
আশির দশকে তিনি ডিজিটাল ঘড়ি আমদানির ব্যবসায় পরিচিতি পান এবং একই সময়ে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের (Hussain Muhammad Ershad) শাসনবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত হন। ১৯৯১ সালের মধ্যে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটিতে জায়গা পান এবং সে বছরের নির্বাচনে ৬১,২৩৩ ভোট পেয়ে নেত্রকোনা-৪ আসনে জয়ী হন। ১৯৯৬ সালের জুনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আবদুল মমিনের (Abdul Momin) কাছে হারলেও ২০০১ সালে তাঁকে হারিয়ে আবার নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের ১০ অক্টোবর থেকে ২০০৬ সালের ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত তিনি খালেদা জিয়ার (Khaleda Zia) মন্ত্রিসভায় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ছিলেন।
২০০৭ সালের ২৮ মে গুলশানের বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০০৮ সালের নির্বাচনে কারাগার থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে তিনি ৯১,৯৯৪ ভোট পান; এ কারণে দল ওই বছরের ২৭ ডিসেম্বর তাঁকে বহিষ্কার করলেও ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে। ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলায় ২০১৮ সালে বিচারিক আদালত তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দিলেও ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর হাইকোর্ট তাঁকে খালাস দেন এবং ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগ সেই রায় বহাল রাখে; চট্টগ্রামের ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় ২০১৪ সালের মৃত্যুদণ্ডের রায় থেকেও ২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর হাইকোর্টে তিনি খালাস পান। ২০২৫ সালের ১৬ জানুয়ারি কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান।
২০২৬ নির্বাচন
১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পান ১,৬০,৮০১ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. আল হেলাল তালুকদার (Md. Al Helal Talukder) পান ৩৯,৮৪০ ভোট; ব্যবধান ১,২০,৯৬১ ভোট। ভোট দেওয়ার পর তিনি বলেন, জীবনে আবার ভোট দিতে পারবেন তা তিনি কল্পনা করেননি। জয়ের পর তাঁর প্রতিক্রিয়া ছিল, ‘এই বিজয় জনগণের বিজয়।’
উল্লেখযোগ্য কাজ ও অবদান
স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) গঠনে তিনি মুখ্য ভূমিকা রাখেন; ২০০৪ সালের ২৬ মার্চ বাহিনীটির যাত্রার সময় এর তত্ত্বাবধান ছিল তাঁর হাতে। ২০২৫ সালে তাঁর মুক্তির খবরে মদন ও খালিয়াজুড়ীর মানুষ তোরণ সাজিয়ে ও মিছিল করে আনন্দ প্রকাশ করেন; স্থানীয়দের ভাষ্যে, ক্ষমতায় থাকার সময় তিনি হাওরাঞ্চলে উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান এনেছিলেন।
সূত্র: উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (বাংলা), উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, prothomalo.com ১, prothomalo.com ২, prothomalo.com ৩, unb.com.bd, dhakatribune.com, observerbd.com, tbsnews.net, জাতীয় সংসদ। ভুল দেখলে জানান।
বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম
২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নিয়ে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে নেত্রকোনা-৪ আসনের প্রতিনিধিত্ব করছেন। ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে তিনি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য।
একজন সংসদ সদস্যের কাজ আইন প্রণয়ন, সংসদে সরকারের জবাবদিহি আদায় এবং নিজ এলাকার মানুষের দাবি ও সমস্যা সংসদ ও প্রশাসনের সামনে তুলে ধরা। হাওরনির্ভর এই আসনে ফসল রক্ষা, বাঁধ ও নৌপথ তাঁর কাজের কেন্দ্রে। নির্বাচনের পর উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম:
১১ এপ্রিল ২০২৬ খালিয়াজুড়ীর মেন্দিপুর ইউনিয়নের একটি হাওরে হারভেস্টার যন্ত্র দিয়ে তিনি বোরো ধান কাটার উদ্বোধন করেন এবং সদর ইউনিয়নের কীর্তনখোলা বাঁধসহ কয়েকটি বাঁধ পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, এ বছর কৃষকেরা ধানের ন্যায্য দাম পাবেন এবং খাল, বিল ও নদীর নাব্যতা ফেরাতে খনন করা হবে।
৮ মে ২০২৬ ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত নূরানীপুর এলাকা ঘুরে তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা নতুন করে যাচাই করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের ঈদের আগে সহায়তা দেওয়া হবে। হাওরের বাস্তবতা বিবেচনায় বিচ্ছিন্ন নয়, পরিকল্পিত ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের দাবি জানান তিনি।
সূত্র: observerbd.com, ittefaq.com.bd। ভুল দেখলে জানান।
নির্বাচনী এলাকা
সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।
নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি
নেত্রকোনা-৪ ময়মনসিংহ বিভাগের নেত্রকোনা জেলার একটি সংসদীয় আসন, জাতীয় সংসদের ১৬০ নম্বর আসন। নির্বাচন কমিশনের ২০২৫ সালের সীমানা নির্ধারণ অনুযায়ী আসনটি গঠিত (ক) মোহনগঞ্জ, (খ) মদন এবং (গ) খালিয়াজুড়ী উপজেলা নিয়ে। পুরো এলাকাটি হাওরবেষ্টিত। ২০২৬ সালের নির্বাচনে এখানে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ৩,৭৫,৩০৮ জন।
মোহনগঞ্জ (আয়তন প্রায় ২৪২ বর্গকিলোমিটার) একটি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত; উত্তরে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা। ২০২২ সালের জনশুমারিতে জনসংখ্যা ১,৬৬,৪২১। কৃষি প্রধান জীবিকা; ধান, মাছ, শুঁটকি ও ডিম এখানকার বড় পণ্য। কংস নদী, ডিঙ্গাপোতা হাওর, হোসেনশাহী আমলের শেখবাড়ি মসজিদ এবং ১৯২৮ সালে চালু হওয়া মোহনগঞ্জ রেলস্টেশন পরিচিত।
মদন (আয়তন ২২৫.৮৫ বর্গকিলোমিটার) একটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত; দক্ষিণে কিশোরগঞ্জের ইটনা ও তাড়াইল। ২০২২ সালে জনসংখ্যা ১,৪৯,৮৭৮। প্রায় ৭৯ শতাংশ মানুষের জীবিকা কৃষি, ধান প্রধান ফসল; মৎস্য ও পোলট্রি খামারও আছে। উচিতপুর হাওর ও মগড়া নদী পর্যটকদের কাছে পরিচিত; মদন ডিগ্রি কলেজ উল্লেখযোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
খালিয়াজুড়ী (আয়তন ২৯৭.৬৪ বর্গকিলোমিটার) আসনের পূর্ব প্রান্তে; এর পূর্বে সুনামগঞ্জের শাল্লা ও দিরাই। ছয়টি ইউনিয়নের এই উপজেলায় ২০২২ সালে জনসংখ্যা ৯৬,৩৪৫। প্রায় ৮১ শতাংশ মানুষ কৃষিনির্ভর; ধনু প্রধান নদী, লেপসিয়া ও কৃষ্ণপুর বাজার পরিচিত।
১৯৮৪ সালে নেত্রকোনা জেলা গঠনের সময় এই তিন উপজেলা নিয়ে আসনটি তৈরি হয়। ১৯৯১ ও ২০০১ সালে লুৎফুজ্জামান বাবর (Lutfozzaman Babar) এবং ১৯৯৬ সালের জুনে আওয়ামী লীগের আবদুল মমিন (Abdul Momin) জয়ী হন। ২০০৮ সাল থেকে আসনটি আওয়ামী লীগের রেবেকা মমিনের (Rebecca Momin) হাতে ছিল; ২০২৩ সালে তাঁর মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে সাজ্জাদুল হাসান (Sajjadul Hassan) বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। ২০২৬ সালে আসনটি আবার বিএনপির হাতে আসে।
সূত্র: উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, prothomalo.com ১, prothomalo.com ২, citypopulation.de, উইকিপিডিয়া (বাংলা) ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, উইকিপিডিয়া (বাংলা) ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩, en.banglapedia.org ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৪, en.banglapedia.org ২, prothomalo.com ৩। ভুল দেখলে জানান।
সংসদে মেয়াদ
সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ৪ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন; আগের ৩টি মেয়াদের মধ্যে ১টির বিস্তারিত এখানে আছে। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।
২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট
আসনের সব ফল →- মোঃ লুৎফুজ্জামান বাবর
BNPবিজয়ী১,৬০,৮০১৭৭.৯% - Md. Al-Helal
BJEI৩৯,৮৪০১৯.৩%
- Jolly TalukderCPB৩,৩৫৯১.৬%
- Md. Mukhlesur Rahman
IAB২,০২৫১.০% - Champa Rani GovernmentRWPB২৮২০.১%
সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন
আসন: নেত্রকোনা-৪
আসনের পাতা →(ক)মোহনগঞ্জ,(খ) মদন এবং(গ) খালিয়াজুড়ী উপজেলা
সংসদীয় কমিটি(১)
সংবাদ ও ভিডিও
সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…