মূল বিষয়ে যান
English
সর্বশেষ
মোঃ মিজানুর রহমান মিনু

মোঃ মিজানুর রহমান মিনু

Md. Mizanur Rahman Minu

বর্তমান সদস্য, ত্রয়োদশ সংসদমন্ত্রী, ভূমি মন্ত্রণালয়মোট ২ বার নির্বাচিত

সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা

পরিচিতি

মোঃ মিজানুর রহমান মিনু রাজশাহী-২ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সংসদ সদস্য এবং বর্তমানে ভূমি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি, নির্বাচনী ফলাফল, আগের মেয়াদ, সংসদীয় কমিটি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।

মোঃ মিজানুর রহমান মিনু (Md. Mizanur Rahman Minu) ভূমিমন্ত্রী এবং রাজশাহী-২ আসনের সংসদ সদস্য। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপি (Bangladesh Nationalist Party)-র এই নেতা রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র; ১৯৯১ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকার তাঁকে নগরীর মেয়র নিয়োগ দেয়; সে সময় তিনি ছিলেন দেশের সবচেয়ে কম বয়সী মেয়র।

দুই দফায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত মিনু বর্তমানে বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য।

শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা

মিনুর জন্ম ১৯৫৮ সালের ৭ জানুয়ারি, রাজশাহীতে। পৈতৃক বাড়ি রাজশাহী নগরীর শালবাগান এলাকায়। বাবা প্রয়াত মোঃ ফজলার রহমান ব্রিটিশ সরকারের চাকরি করতেন; মা প্রয়াত লতিফা খাতুন ছিলেন হাফেজা ও গৃহিণী।

তিনি রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং রাজশাহী কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন, পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (University of Rajshahi) থেকে স্নাতক হন। রাজশাহী কলেজে পড়ার সময় তিনি ছাত্র সংসদের সহকারী ক্রীড়া সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাঁর স্ত্রী সালমা শাহাদাত রাজশাহীর একটি কলেজের অধ্যক্ষ; তাঁদের এক মেয়ে ও দুই ছেলে।

রাজনৈতিক জীবন

জিয়াউর রহমান (Ziaur Rahman) প্রতিষ্ঠিত জাগদলের মাধ্যমে তাঁর রাজনীতিতে আসা, যা পরে বিএনপিতে রূপ নেয়। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও যুবদলে তিনি বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন; রাজশাহী জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও পরে সভাপতি ছিলেন। এরশাদবিরোধী আন্দোলনেও তিনি সক্রিয় ছিলেন।

পরে ১৯৯৪ ও ২০০২ সালের সিটি নির্বাচনে তিনি মেয়র নির্বাচিত হন এবং টানা প্রায় ১৭ বছর নগরীর দায়িত্বে থেকে রাজশাহীর দীর্ঘতম মেয়াদের মেয়র হিসেবে পরিচিতি পান। মেয়র থাকা অবস্থায় ২০০১ সালের অষ্টম সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-২ আসনে ১,৭৬,৪০৫ ভোট পেয়ে আওয়ামী লীগের এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনকে (A. H. M. Khairuzzaman Liton) হারিয়ে প্রথমবার সংসদ সদস্য হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আসনটিতে মহাজোটের প্রার্থী ফজলে হোসেন বাদশার (Fazle Hossain Badsha) কাছে তিনি পরাজিত হন।

দলে তিনি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, সহসাংগঠনিক সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক ও যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৯ সালের ২৫ নভেম্বর রাজশাহী মহানগর বিএনপির কাউন্সিলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি নির্বাচিত হন। বিরোধী দলে থাকার বছরগুলোতে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয় এবং ২০১৪ ও ২০১৫ সালে তিনি কারাবরণ করেন।

২০২৬ নির্বাচন

২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে তিনি ১,২৮,৫৪৬ ভোট পান। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর (Mohammad Jahangir) পান ১,০০,৩৭০ ভোট; ব্যবধান ২৮,১৭৬ ভোট। প্রচারে তিনি শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও রাজশাহীর সার্বিক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

উল্লেখযোগ্য কাজ ও অবদান

মেয়র থাকাকালে রাজশাহী নগরীর অবকাঠামো, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সেবার সম্প্রসারণে তাঁর ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়। ১৯৯৪ সালে মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব মেয়র সম্মেলনে শিশুস্বাস্থ্যে অবদানের জন্য তিনি স্বীকৃতি পান। বাসসের তথ্যমতে, তাঁর মেয়াদকালে ২০০৬ সালে লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের (London School of Economics) এক গবেষণায় রাজশাহী দেশের সবচেয়ে সুখী শহর হিসেবে উঠে আসে। কানসাট পল্লী বিদ্যুৎ আন্দোলন এবং ফুলবাড়ী-বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিবিরোধী আন্দোলন সংলাপের মাধ্যমে নিরসনেও তিনি ভূমিকা রাখেন।

সূত্র: bssnews.net ১, bssnews.net ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি), উইকিপিডিয়া (বাংলা), bdnews24.com, thedailystar.net ১, en.prothomalo.com, thedailystar.net ২, bssnews.net ৩, tbsnews.net, thedailystar.net ৩। ভুল দেখলে জানান।

জন্ম৭ জানুয়ারি ১৯৫৮, ৬৮ বছর
জন্মস্থানরাজশাহী
লিঙ্গপুরুষ
শিক্ষারাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল
পিতাফজলার রহমান
মাতালতিফা খাতুন
বর্তমান মেয়াদ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০৩১
সংসদ সদস্য নির্বাচিতমোট ২ বার

বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম

২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের (Tarique Rahman) মন্ত্রিসভায় তিনি ভূমি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন।

ভূমিমন্ত্রী হিসেবে তিনি দেশের ভূমি প্রশাসন, খাসজমি ব্যবস্থাপনা এবং মাঠ পর্যায়ের ভূমিসেবার নীতি ও তদারকির দায়িত্বে আছেন। ২০২৬ সালের ১৬ মার্চ নওগাঁর নিয়ামতপুরে বিল লতা খালের ১,২০০ মিটার পুনর্খনন কাজের উদ্বোধন করে তিনি ভূমি মন্ত্রণালয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন। ২৯ মার্চ ঢাকার ভূমি প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে উচ্চতর ভূমি ব্যবস্থাপনা কোর্সের উদ্বোধনে তিনি মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করার আহ্বান জানান এবং ভূমি আইন আয়ত্ত করতে প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেন। ২৪ এপ্রিল রাজশাহীতে নওদাপাড়ার উচ্ছেদ নিয়ে অনশনরত ভূমিহীনদের অনশন ভাঙানোর পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, প্রকৃত ভূমিহীনদের খাসজমি বন্দোবস্ত দেওয়া হবে এবং উচ্ছেদের আগে অন্তত ছয়-সাত দিনের নোটিশ দিতে হবে।

সূত্র: observerbd.com, en.bonikbarta.com, bssnews.net ১, bssnews.net ২। ভুল দেখলে জানান।

নির্বাচনী এলাকা

রাজশাহী-২

সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।

নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি

রাজশাহী-২ জাতীয় সংসদের ৫৩ নম্বর আসন, স্থানীয়ভাবে রাজশাহী সদর আসন নামে পরিচিত। নির্বাচন কমিশনের সীমানা অনুযায়ী আসনটি রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের এলাকা নিয়ে গঠিত; এটি রাজশাহী জেলা ও রাজশাহী বিভাগের অন্তর্ভুক্ত। ২০২৬ সালের নির্বাচনে আসনটিতে ভোটার ছিলেন ৩,৬৯,৫৬৪ জন।

পদ্মা (Padma) নদীর উত্তর তীরে অবস্থিত এই নগরীকে চারদিক থেকে ঘিরে আছে পবা উপজেলা। ১৮৭৬ সালে গঠিত রাজশাহী পৌরসভা ১৯৯১ সালে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত হয়। সিটি কর্পোরেশনের ৩০টি ওয়ার্ড বোয়ালিয়া, রাজপাড়া, মতিহার, শাহমখদুম, চন্দ্রিমা ও কাশিয়াডাঙ্গা থানায় বিস্তৃত। ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী সিটি কর্পোরেশনের জনসংখ্যা ৫,৫৩,২৮৮; এর মধ্যে বোয়ালিয়া থানা এলাকায় সবচেয়ে বেশি, ২,১৩,৪৬৭ জন।

নগরীর অর্থনীতির বড় অংশ ব্যবসা-বাণিজ্য, পরিবহন ও শিক্ষাখাতনির্ভর; রেশম বস্ত্র এবং আম ও লিচুর জন্য রাজশাহীর খ্যাতি দীর্ঘদিনের। শিক্ষানগরী হিসেবে পরিচিত রাজশাহীতে আছে দেশের দ্বিতীয় প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, দেশের তৃতীয় প্রাচীনতম কলেজ রাজশাহী কলেজ এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজ। নিজের ধরনের মধ্যে দেশের প্রাচীনতম জাদুঘর বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর এবং সুফি সাধক শাহ মখদুমের (Shah Makhdum) মাজার নগরীর উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান।

১৯৯১ সাল এবং ১৯৯৬ সালের দুটি নির্বাচনে টানা তিনবার আসনটিতে জয়ী হন বিএনপির কবির হোসেন, ২০০১ সালে জয়ী হন বিএনপির মিজানুর রহমান মিনু। ২০০৮ সালের সীমানা পুনর্নির্ধারণে পবা উপজেলা বাদ পড়ে আসনটি কেবল সিটি কর্পোরেশন এলাকায় সীমিত হয়; ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে ওয়ার্কার্স পার্টির ফজলে হোসেন বাদশা, ২০২৪ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুর রহমান বাদশা এবং ২০২৬ সালে আবার বিএনপির মিনু এখান থেকে নির্বাচিত হন।

সূত্র: bssnews.net, en.banglapedia.org, citypopulation.de, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২। ভুল দেখলে জানান।

সংসদে মেয়াদ

ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬রাজশাহী-২বর্তমান মেয়াদBNP

সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ২ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন; আগের ১টি মেয়াদের বিস্তারিত সংসদের তথ্যভান্ডারে পাওয়া যায়নি। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।

২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট

আসনের সব ফল →
ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬প্রার্থীদের মোট ২,৩১,০৬৫ ভোট
  1. মোঃ মিজানুর রহমান মিনুBNPবিজয়ী১,২৮,৫৪৬৫৫.৬%
  2. Mohammad JahangirBJEI১,০০,৩৭০৪৩.৪%
  3. Saleh Ahmed,Ind৮০১০.৩%
  4. Mu Saeed NomanAB৭৯৬০.৩%
  5. Mohammad Shamsul AlamNO৫৫২০.২%
উৎস: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড। নির্বাচন কমিশনের গেজেটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি।মূল পাতা

সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন

এই সদস্য সম্পর্কে সংসদ সচিবালয়ের কোনো প্রজ্ঞাপন নেই।সংসদ সচিবালয় কোনো সদস্যের নামে প্রজ্ঞাপন বা সরকারি আদেশ প্রকাশ করলে তা প্রতিদিন এখানে যুক্ত হয়।

আসন: রাজশাহী-২

আসনের পাতা →
এলাকা

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের এলাকা সমূহ

সংসদীয় কমিটি(১)

সংবাদ ও ভিডিও

সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…

সম্পাদকের যাচাই করা ১০টি খবর

কোথা থেকে তথ্য আসে

সদস্য, আসন, কমিটি ও অধিবেশন আসে জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইট থেকে; ভোটার সংখ্যা নির্বাচন কমিশন ও মন্ত্রিসভা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে। ভোটের ফল ও জীবনীর সূত্র আলাদা করে প্রতিটি পাতায় লেখা।

সব সূত্র দেখুন →

কত দিন পরপর হালনাগাদ

প্রতি রাতে পুরো সাইট সংসদের তথ্যভান্ডার থেকে নতুন করে তৈরি হয়। নতুন প্রজ্ঞাপন, বৈঠকের কার্যসূচি বা কমিটির পরিবর্তন পরদিনের মধ্যে যুক্ত হয়; সংবাদ শিরোনাম দিনে কয়েকবার।

পদ্ধতি →

ভুল পেলে

প্রতিটি সদস্যের পাতায় “সংশোধন জানান” বোতাম আছে। সূত্রসহ জানালে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাচাই করে ঠিক করা হয়; সদস্যের দপ্তর নিজের পাতাও হালনাগাদ করাতে পারেন।

যোগাযোগ →