মূল বিষয়ে যান
English
সর্বশেষ
মোঃ মনোয়ার হোসেন

মোঃ মনোয়ার হোসেন

Md. Monowar Hosen

বর্তমান সদস্য, ত্রয়োদশ সংসদ

সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা

পরিচিতি

মোঃ মনোয়ার হোসেন মাগুরা-১ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সদস্যসচিব, মাগুরা জেলা বিএনপি। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি, নির্বাচনী ফলাফল, আগের মেয়াদ, সংসদীয় কমিটি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।

মোঃ মনোয়ার হোসেন (Md. Monowar Hosen) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে শ্রীপুর উপজেলা এবং চারটি ইউনিয়ন বাদে মাগুরা সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য। স্থানীয় রাজনীতি ও সংবাদমাধ্যমে তিনি মনোয়ার হোসেন খান (Monowar Hossain Khan) নামে পরিচিত। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি, Bangladesh Nationalist Party) মনোনয়নে ২০২৬ সালের নির্বাচনে জিতে তিনি প্রথমবারের মতো সংসদে এসেছেন।

পেশায় ব্যবসায়ী মনোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন মাগুরা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক কাজে যুক্ত; ২০২৬ সালের নির্বাচনের সময় তিনি জেলা বিএনপির সদস্যসচিব ছিলেন।

শৈশব ও পরিবার

মনোয়ার হোসেনের জন্ম ১৯৬৪ সালের ৩০ মে। তাঁর বাবা ওয়াজেদ আলী খাঁন, মা মনোয়ারা বেগম।

রাজনৈতিক জীবন

মনোয়ার হোসেনের রাজনীতি মূলত মাগুরা জেলা বিএনপিকেন্দ্রিক। ২০১৫ সালে তিনি জেলা বিএনপির সহসভাপতি ছিলেন। বিএনপি তখনও ক্ষমতার বাইরে; ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দল তাঁকে মাগুরা-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী করে। ওই নির্বাচনে আসনটিতে আওয়ামী লীগের সাইফুজ্জামান শিখর (Saifuzzaman Shikhor) জয়ী হন।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে কেন্দ্রীয় বিএনপি জেলার আগের আহ্বায়ক কমিটি ভেঙে দেয়। ১৩ ডিসেম্বর ২০২৪ ঘোষিত নয়জন যুগ্ম আহ্বায়কসহ ১১ সদস্যের নতুন আহ্বায়ক কমিটিতে আলী আহমেদ (Ali Ahmed) আহ্বায়ক এবং মনোয়ার হোসেন সদস্যসচিব হন। দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী (Ruhul Kabir Rizvi) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কমিটি ঘোষণা করেন। তখন মনোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেছিলেন, প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশে গত ১০ বছর জেলায় দলের সম্মেলন করা যায়নি; আহ্বায়ক কমিটি পূর্ণাঙ্গ করে উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি গঠন এবং সম্মেলনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ জেলা কমিটি করাই তাঁর প্রথম কাজ।

২০২৫ সালের নভেম্বরের শুরুতে বিএনপি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রাথমিক প্রার্থী তালিকায় মাগুরা-১ আসনে তাঁর নাম ঘোষণা করে। মনোনয়ন পাওয়ার পর মাগুরায় এক সমাবেশে তিনি নেতাকর্মীদের ভেদাভেদ ভুলে ধানের শীষের বিজয়ের জন্য ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান এবং বলেন, মানুষ পরিবর্তন ও গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার চায়।

২০২৬ নির্বাচন

২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোয়ার হোসেন ধানের শীষ প্রতীকে ১,৮৫,৩৩৮ ভোট পান। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আবদুল মতিন (Abdul Matin) পান ৮৯,৬৯১ ভোট; জয়ের ব্যবধান ৯৫,৬৪৭ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোঃ নাজিরুল ইসলাম ১৩,৪১৪ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন; আসনে মোট সাতজন প্রার্থী ছিলেন; নিবন্ধিত ৪,৩০,৭৭৫ ভোটারের মধ্যে ভোট পড়ে ৬৯.২৪ শতাংশ। নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ (Akhtar Ahmed) ১৩ ফেব্রুয়ারি আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবন থেকে বেসরকারি ফল ঘোষণা করেন। একই দিনের গণভোটে এই আসনে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়ে ১,৫৪,৬১৩টি এবং ‘না’ ভোট ১,১৪,৬৯৫টি।

সূত্র: উইকিপিডিয়া (বাংলা), উইকিপিডিয়া (ইংরেজি), prothomalo.com, banglatribune.com, thefinancialexpress.com.bd, bssnews.net ১, bssnews.net ২, jugantor.com, tbsnews.net, bangla.bdnews24.com, dailyinqilab.com, 103.183.38.66। ভুল দেখলে জানান।

জন্ম৩০ মে ১৯৬৪, ৬২ বছর
জন্মস্থানআবালপুর গ্রাম, মাগুরা সদর উপজেলা, মাগুরা
লিঙ্গপুরুষ
শিক্ষামাগুরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় (এসএসসি)সরকারি ব্রজলাল কলেজ (এইচএসসি)ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (স্নাতক ও স্নাতকোত্তর)
পেশাব্যবসা
পিতাওয়াজেদ আলী খাঁন
মাতামনোয়ারা বেগম
বর্তমান মেয়াদ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০৩১
সংসদ সদস্য নির্বাচিতমোট ১ বার

বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম

২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন। ২০২৪ সালে নির্বাচিত সাকিব আল হাসানের (Shakib Al Hasan) পর তিনি এ আসনের প্রথম সংসদ সদস্য। ১৩ জুলাই ২০২৬ গঠিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির তিনি সদস্য; কমিটির সভাপতি বরিশাল-৩ আসনের জয়নুল আবেদীন (Joynul Abedin)।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে মনোয়ার হোসেন মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন সংস্থাগুলোর কাজ, বাজেট ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনায় অংশ নেন। ১৩ আগস্ট ২০২৬ সংসদ ভবনে কমিটির প্রথম বৈঠকে তিনি উপস্থিত ছিলেন; সেখানে মন্ত্রণালয়ের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৩১,০৯৯ কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করা হয় এবং মাদক ও জুয়া নির্মূলে কার্যকর পদক্ষেপের ওপর জোর দেওয়া হয়।

নির্বাচনী এলাকায় ১ জুলাই ২০২৬ মাগুরা সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা পরিষদ উন্নয়ন তহবিল ও এডিপির অর্থে ৬৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা ও খেলাধুলার উপকরণ এবং ফলদ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ করেন তিনি; শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের বাইরে খেলাধুলায় যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি উদ্বোধন করে তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ক্যাম্পাস পরিষ্কারে অংশ নেন এবং নিয়মিত মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও সচেতনতার ওপর জোর দেন।

সূত্র: dailyinqilab.com ১, dailyinqilab.com ২, dailyinqilab.com ৩। ভুল দেখলে জানান।

নির্বাচনী এলাকা

মাগুরা-১

সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।

নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি

মাগুরা-১ জাতীয় সংসদের ৯১ নম্বর আসন, খুলনা বিভাগের মাগুরা জেলায় অবস্থিত। নির্বাচন কমিশনের ২০২৫ সালের সীমানা অনুযায়ী আসনটি গঠিত শ্রীপুর উপজেলা এবং শত্রুজিৎপুর, গোপালগ্রাম, কুচিয়ামোড়া ও বেরইল পলিতা ইউনিয়ন বাদে মাগুরা সদর উপজেলা নিয়ে; অর্থাৎ মাগুরা পৌরসভা ও সদরের বাকি নয়টি ইউনিয়ন এর অন্তর্ভুক্ত। নির্বাচন কমিশনের ফলাফল বিবরণী অনুযায়ী ২০২৬ সালের নির্বাচনে আসনটিতে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ৪,৩০,৭৭৫ জন।

জেলা শহর মাগুরা সদর উপজেলায়। নবগঙ্গা, গড়াই ও ফটকি নদীবিধৌত এই উপজেলার আয়তন ৪০১.৫৮ বর্গকিলোমিটার; ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী পুরো উপজেলার জনসংখ্যা ৪,২৬,৩৯৬। অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর; ধান, পাট, গম, সরিষা, আখ, পেঁয়াজ ও মরিচ প্রধান ফসল, শহরে ব্যবসা ও ক্ষুদ্র শিল্পও রয়েছে। এখানে আছে ১৮৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত মাগুরা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়, ১৯৪০ সালের হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, ২০১৮ সালে চালু মাগুরা মেডিকেল কলেজ এবং আঠারোখাদার সিদ্ধেশ্বরী মঠ।

শ্রীপুর উপজেলা জেলার উত্তর-পূর্বে, রাজবাড়ী জেলার সীমানাঘেঁষা। আটটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত উপজেলাটির আয়তন ১৭৫.১৫ বর্গকিলোমিটার এবং ২০২২ সালের জনশুমারিতে জনসংখ্যা ১,৮৪,২৪৫। গড়াই ও কুমার নদীবিধৌত এই এলাকার মানুষের প্রধান জীবিকা কৃষি; ধান, পাট, গম, সরিষা ও ডাল এখানকার প্রধান ফসল। শ্রীপুর জমিদারবাড়ি এবং কবি ফররুখ আহমদ ও কাজী কাদের নওয়াজের বাড়ি এখানকার উল্লেখযোগ্য স্থান।

১৯৯১ সালে আসনটিতে বিএনপির মজিদ-উল-হক জয়ী হন। ১৯৯৬ সালের জুন থেকে ২০২৪ পর্যন্ত আসনটি আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের হাতে ছিল; মুহাম্মদ সিরাজুল আকবর একাধিকবার এবং ২০২৪ সালে ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান এখান থেকে নির্বাচিত হন। ২০২৬ সালে আসনটিতে আবার বিএনপি জয়ী হয়। আসনের সীমানা বিভিন্ন সময়ে পুনর্নির্ধারিত হয়েছে, তাই আগের নির্বাচনগুলোর এলাকা বর্তমান সীমানার সঙ্গে হুবহু এক না-ও হতে পারে।

সূত্র: উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩, উইকিপিডিয়া (বাংলা) ১, উইকিপিডিয়া (বাংলা) ২, thefinancialexpress.com.bd, bssnews.net, 103.183.38.66। ভুল দেখলে জানান।

সংসদে মেয়াদ

ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬মাগুরা-১বর্তমান মেয়াদBNP

সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ১ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।

২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট

আসনের সব ফল →
ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬প্রার্থীদের মোট ২,৯২,৫৬০ ভোট
  1. মোঃ মনোয়ার হোসেনBNPবিজয়ী১,৮৫,৩৩৮৬৩.৪%
  2. Abdul MatinBJEI৮৯,৬৯১৩০.৭%
  3. Md Nazirul IslamIAB১৩,৪১৪৪.৬%
  4. Md Zakir Hossain MollaJP(ERSHAD)১,৭৬৭০.৬%
  5. Shompa BasuBasad১,২৩৭০.৪%
  6. Kazi Rezaul HossainBangladesh Congress৮২১০.৩%
  7. Md Khalilur RahmanGOP২৯২০.১%
উৎস: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড। নির্বাচন কমিশনের গেজেটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি। উইকিপিডিয়ায় (ইংরেজি) বিজয়ীর ভোট ১,৮৩,৬৬৬।মূল পাতা

সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন

এই সদস্য সম্পর্কে সংসদ সচিবালয়ের কোনো প্রজ্ঞাপন নেই।সংসদ সচিবালয় কোনো সদস্যের নামে প্রজ্ঞাপন বা সরকারি আদেশ প্রকাশ করলে তা প্রতিদিন এখানে যুক্ত হয়।

আসন: মাগুরা-১

আসনের পাতা →
এলাকা

(ক)শ্রীপুর এবং(খ) নিম্নলিখিত ইউনিয়নসমূহ ব্যতীত মাগুরা সদর উপজেলাঃ(১) শত্রুজিৎপুর,(২) গোপালগ্রাম,(৩) কুচিয়ামোড়া,(৪) বেরইল পলিতা ইউনিয়ন

সংসদীয় কমিটি(১)

সংবাদ ও ভিডিও

সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…

কোথা থেকে তথ্য আসে

সদস্য, আসন, কমিটি ও অধিবেশন আসে জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইট থেকে; ভোটার সংখ্যা নির্বাচন কমিশন ও মন্ত্রিসভা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে। ভোটের ফল ও জীবনীর সূত্র আলাদা করে প্রতিটি পাতায় লেখা।

সব সূত্র দেখুন →

কত দিন পরপর হালনাগাদ

প্রতি রাতে পুরো সাইট সংসদের তথ্যভান্ডার থেকে নতুন করে তৈরি হয়। নতুন প্রজ্ঞাপন, বৈঠকের কার্যসূচি বা কমিটির পরিবর্তন পরদিনের মধ্যে যুক্ত হয়; সংবাদ শিরোনাম দিনে কয়েকবার।

পদ্ধতি →

ভুল পেলে

প্রতিটি সদস্যের পাতায় “সংশোধন জানান” বোতাম আছে। সূত্রসহ জানালে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাচাই করে ঠিক করা হয়; সদস্যের দপ্তর নিজের পাতাও হালনাগাদ করাতে পারেন।

যোগাযোগ →