মূল বিষয়ে যান
English
সর্বশেষ
মোঃ মোশারফ হোসেন

মোঃ মোশারফ হোসেন

Md. Mosharrf Hossain

বর্তমান সদস্য, ত্রয়োদশ সংসদমোট ২ বার নির্বাচিত

সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা

পরিচিতি

মোঃ মোশারফ হোসেন বগুড়া-৪ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক, বগুড়া জেলা। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি, নির্বাচনী ফলাফল, আগের মেয়াদ, সংসদীয় কমিটি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।

মোঃ মোশারফ হোসেন (Md. Mosharraf Hossain) বগুড়া (Bogura) জেলার কাহালু ও নন্দীগ্রাম উপজেলা নিয়ে গঠিত বগুড়া-৪ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপি (Bangladesh Nationalist Party, BNP) মনোনীত এই রাজনীতিক ২০১৮ সালের পর এবার দ্বিতীয়বার এ আসন থেকে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছেন।

পেশায় তিনি ব্যবসায়ী। জেলা পর্যায়ে বিএনপির সাংগঠনিক নেতৃত্বের পাশাপাশি দলের কৃষক সংগঠনেও তিনি কেন্দ্রীয় দায়িত্বে আছেন।

শৈশব, পরিবার ও শিক্ষা

মোশারফ হোসেনের জন্ম ১৯৭৪ সালের ২১ নভেম্বর। তাঁর বাবার নাম হামির উদ্দিন সরকার, মায়ের নাম মোছাঃ পমিজান। তিনি বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার বুড়ইল এলাকার বাসিন্দা; নিজের নির্বাচনী এলাকাতেই তাঁর বসবাস।

রাজনৈতিক জীবন

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে বগুড়া-৪ আসনে তিনি ১,২৮,৫৮৫ ভোট পেয়ে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন তৎকালীন সংসদ সদস্য, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) এ কে এম রেজাউল করিম তানসেন (A. K. M. Rezaul Karim Tansen); তিনি পান ৮৬,০৪৮ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মোঃ ইদ্রিস আলী পান ৫,২৪৭ ভোট। ১৯৯১ সাল থেকে ২০০৮ পর্যন্ত বিএনপির প্রার্থীরা এ আসনে জিতে এলেও ২০১৪ সালে আসনটি জাসদের হাতে যায়; ২০১৮ সালের এই জয়ের মধ্য দিয়ে বিএনপি আসনটি পুনরুদ্ধার করে। ২০১৯ সালের ২৯ এপ্রিল তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন।

বিএনপির সংসদ সদস্যদের সম্মিলিত পদত্যাগের অংশ হিসেবে ২০২২ সালের ১১ ডিসেম্বর তাঁর আসন শূন্য ঘোষিত হয়। পরে ২০২৩ সালের উপনির্বাচন এবং ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে আসনটিতে জয়ী হন জাসদের রেজাউল করিম তানসেন।

সাংগঠনিকভাবে তিনি বগুড়া জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এবং বিএনপির সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের (Jatiyatabadi Krishak Dal) কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দল তাঁকে আবারও বগুড়া-৪ আসনে মনোনয়ন দেয়।

২০২৬ নির্বাচন

প্রচারণার সময় কাহালু সদর ও মালঞ্চা বাজারে তাঁর নামে রঙিন ডিজিটাল বিলবোর্ড দেখা যায়; তিনি জানান, নির্বাচনী আচরণবিধি মেনেই তাঁর প্রচার চলছে। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে তিনি ১,৫৫,৩৩৯ ভোট পেয়ে জয়ী হন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর (Bangladesh Jamaat-e-Islami) ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ (Mostafa Faisal Parvez) দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পান ১,০৮,৯৭৮ ভোট; ব্যবধান ৪৬,৩৬১ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুহাম্মদ ইদ্রিস আলী পান ২,৯৫৪ ভোট এবং জাতীয় পার্টির শাহীন মোস্তফা কামাল পান ১,১০৭ ভোট। চার প্রার্থীর প্রাপ্ত মোট ভোটের প্রায় ৫৮ শতাংশই পান মোশারফ হোসেন। আসনটিতে মোট ভোটার ছিলেন ৩,৫৯,৫২৩ জন, ভোটকেন্দ্র ছিল ১১৪টি। নির্বাচনের রাতে কাহালু ও নন্দীগ্রামের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা বেসরকারি ফল ঘোষণা করেন। ২০২৪ সালে জাসদের হাতে থাকা আসনটি এর মধ্য দিয়ে আবার বিএনপির কাছে ফেরে।

সূত্র: উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, tbsnews.net, ajkalerkhobor.net, prothomalo.com, bangla.bdnews24.com, northcapitalnews.com, জাতীয় সংসদ ১, জাতীয় সংসদ ২। ভুল দেখলে জানান।

জন্ম২১ নভেম্বর ১৯৭৪, ৫১ বছর
জন্মস্থানবগুড়া
লিঙ্গপুরুষ
পেশাব্যবসা
পিতাহামির উদ্দিন সরকার
মাতামোছাঃ পমিজান
বর্তমান মেয়াদ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে চলমান
সংসদ সদস্য নির্বাচিতমোট ২ বার

বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম

২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য।

সংসদ সদস্য হিসেবে মোশারফ হোসেন কাহালু ও নন্দীগ্রামের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করেন, সংসদে আইন প্রণয়ন ও আলোচনায় অংশ নেন এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে ওই মন্ত্রণালয়ের কাজ পর্যালোচনায় যুক্ত আছেন।

২০২৬ সালের ২৬ জুন কাহালুতে অগ্নিকাণ্ড ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে তিনি প্রায় সাড়ে ৮ লাখ টাকা বিতরণ করেন; নন্দীগ্রামে প্রতিবন্ধী মানুষ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থী ও দরিদ্র পরিবারকে শিক্ষাবৃত্তি, হুইলচেয়ার, বাইসাইকেল ও নগদ সহায়তা দেন। একই দিন তাঁর উদ্যোগে নুন্দহ এলাকার প্রায় ১৪ বছরের একটি পারিবারিক বিরোধের মীমাংসা হয়। ৫ জুলাই তিনি নন্দীগ্রাম পৌরসভার মাঝগ্রামে ১৬০ মিটার আরসিসি সড়কের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন এবং ২০ শয্যার নন্দীগ্রাম হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। এ সময় জানানো হয়, দুই উপজেলার ছয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো সংস্কারে ৯০ লাখ টাকা বরাদ্দ অনুমোদিত হয়েছে।

সূত্র: northcapitalnews.com, dailyinqilab.com ১, dailyinqilab.com ২। ভুল দেখলে জানান।

নির্বাচনী এলাকা

বগুড়া-৪

সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।

নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি

বগুড়া-৪ জাতীয় সংসদের ৩৯ নম্বর আসন। নির্বাচন কমিশনের ২০২৫ সালের সীমানা অনুযায়ী রাজশাহী বিভাগের বগুড়া জেলার কাহালু ও নন্দীগ্রাম উপজেলা নিয়ে আসনটি গঠিত। ২০২৬ সালের নির্বাচনে এখানে ভোটার ছিলেন ৩,৫৯,৫২৩ জন, ভোটকেন্দ্র ছিল ১১৪টি।

কাহালু উপজেলা বগুড়া সদরের পশ্চিমে; এর পশ্চিম সীমানা ধরে বয়ে গেছে নাগর নদ। ২৪০.৪২ বর্গকিলোমিটারের এই উপজেলায় একটি পৌরসভা ও নয়টি ইউনিয়ন রয়েছে; ২০২২ সালের জনশুমারিতে জনসংখ্যা ২,৩৪,৫৮৫। অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর; ধান, পাট, গম, সরিষা ও আলু প্রধান ফসল, আর মাছ ও মাছের পোনা, চাল ও খেজুরের গুড় এখানকার উল্লেখযোগ্য পণ্য। সান্তাহার-কাউনিয়া রেলপথে কাহালু ও পাঁচপীর মাজার স্টেশন রয়েছে। পাইকড় ইউনিয়নের যোগীর ভবন, নরহট্টের জমিদার কাছারি এবং আজিজুল হক স্মৃতি ডিগ্রি কলেজ ও কাহালু ডিগ্রি কলেজ উপজেলার পরিচিত স্থান ও প্রতিষ্ঠান।

নন্দীগ্রাম উপজেলার দক্ষিণে নাটোর জেলা এবং পশ্চিমে নাগর নদের ওপারে নওগাঁ জেলা। ২৬৫.২২ বর্গকিলোমিটারের এ উপজেলায় একটি পৌরসভা ও পাঁচটি ইউনিয়ন; ২০২২ সালের জনশুমারিতে জনসংখ্যা ২,০০,২৯৪। আয়ের সিংহভাগ আসে কৃষি থেকে; ধান ও দই এখানকার প্রধান রপ্তানি পণ্য। নন্দীগ্রাম হাট ও রণবাঘা হাট পরিচিত বাজার। ১৯৭১ সালের ২৮ এপ্রিল বামনগ্রামে সংঘটিত গণহত্যার স্মৃতিবাহী গণকবর রয়েছে।

১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচন এবং ১৯৯৪ সালের উপনির্বাচনে আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী জয়ী হন। ২০১৪ সালে, ২০২৩ সালের উপনির্বাচনে এবং ২০২৪ সালে জয়ী হন জাসদের এ কে এম রেজাউল করিম তানসেন; ২০১৮ ও ২০২৬ সালে বিএনপির মোশারফ হোসেন। ২০০৮ সালের সীমানা পুনর্নির্ধারণে আসনটির সীমানা বদলেছিল, তাই আগের আসনের সঙ্গে হুবহু তুলনা চলে না।

সূত্র: tbsnews.net, prothomalo.com, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ৩, en.banglapedia.org ১, en.banglapedia.org ২। ভুল দেখলে জানান।

সংসদে মেয়াদ

ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬বগুড়া-৪বর্তমান মেয়াদBNP
একাদশ সংসদ, ২০১৮বগুড়া-৪Bogura-4BNP

সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ২ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।

২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট

আসনের সব ফল →
ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬প্রার্থীদের মোট ২,৬৮,৩৭৮ ভোট
  1. মোঃ মোশারফ হোসেনBNPবিজয়ী১,৫৫,৩৩৯৫৭.৯%
  2. Md Mostafa FaisalBJEI১,০৮,৯৭৮৪০.৬%
  3. Muha. Idris AliIAB২,৯৫৪১.১%
  4. Shaheen Mostafa KamalJP(ERSHAD)১,১০৭০.৪%
উৎস: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড। নির্বাচন কমিশনের গেজেটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি।মূল পাতা

সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন(২)

জনাব মোঃ মোশারফ হোসেন, ৩৯ বগুড়া-৪ (চীন সফর)৪ অক্টোবর ২০২৬, অনাপত্তিপত্রPDF
জনাব মোঃ মোশারফ হোসেন, ৩৯ বগুড়া-৪ (থাইল্যান্ড সফর)৪ অক্টোবর ২০২৬, অনাপত্তিপত্রPDF

আসন: বগুড়া-৪

আসনের পাতা →
এলাকা

(ক)কাহালু এবং (খ)নন্দীগ্রাম উপজেলা

সংসদীয় কমিটি(১)

সংবাদ ও ভিডিও

সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…

কোথা থেকে তথ্য আসে

সদস্য, আসন, কমিটি ও অধিবেশন আসে জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইট থেকে; ভোটার সংখ্যা নির্বাচন কমিশন ও মন্ত্রিসভা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে। ভোটের ফল ও জীবনীর সূত্র আলাদা করে প্রতিটি পাতায় লেখা।

সব সূত্র দেখুন →

কত দিন পরপর হালনাগাদ

প্রতি রাতে পুরো সাইট সংসদের তথ্যভান্ডার থেকে নতুন করে তৈরি হয়। নতুন প্রজ্ঞাপন, বৈঠকের কার্যসূচি বা কমিটির পরিবর্তন পরদিনের মধ্যে যুক্ত হয়; সংবাদ শিরোনাম দিনে কয়েকবার।

পদ্ধতি →

ভুল পেলে

প্রতিটি সদস্যের পাতায় “সংশোধন জানান” বোতাম আছে। সূত্রসহ জানালে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাচাই করে ঠিক করা হয়; সদস্যের দপ্তর নিজের পাতাও হালনাগাদ করাতে পারেন।

যোগাযোগ →