মূল বিষয়ে যান
English
সর্বশেষ
মোঃ রুহুল আমীন দুলাল

মোঃ রুহুল আমীন দুলাল

Md. Ruhul Amin Dulal

বর্তমান সদস্য, ত্রয়োদশ সংসদ

সরকারি পদ সর্বশেষ যাচাই: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, মন্ত্রিসভা

পরিচিতি

মোঃ রুহুল আমীন দুলাল পিরোজপুর-৩ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের আহ্বায়ক, মঠবাড়িয়া উপজেলা। এই পাতায় তাঁর পরিচিতি, নির্বাচনী ফলাফল, আগের মেয়াদ, সংসদীয় কমিটি ও যোগাযোগের তথ্য রয়েছে।

মোঃ রুহুল আমীন দুলাল (Md. Ruhul Amin Dulal) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া) আসনের সংসদ সদস্য। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (Bangladesh Nationalist Party, BNP) মনোনয়নে ধানের শীষ প্রতীকে তিনি ২০২৬ সালে প্রথমবারের মতো সংসদে আসেন। সংবাদমাধ্যমে তাঁর নাম রুহুল আমিন দুলাল বানানেও লেখা হয়।

তৃণমূল থেকে উঠে আসা এই রাজনীতিক মঠবাড়িয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক। দলীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্যে তিনি প্রায় চার দশক ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। নিজের উপজেলা মঠবাড়িয়াই তাঁর নির্বাচনী এলাকা; ২০১৮ সালে দলের মনোনয়ন পেয়ে পরাজিত হওয়ার পর ২০২৬ সালের নির্বাচনে তিনি এই আসনে জয়ী হন।

শৈশব ও পরিবার

জাতীয় সংসদের তথ্য অনুযায়ী রুহুল আমীন দুলাল ১৯৬৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা আঃ আজিজ খলিফা এবং মাতা কুলসুম বিবি। তাঁর স্থায়ী ঠিকানা পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলায়। সংসদের নথিতে তাঁর পেশা রাজনীতি ও ব্যবসা হিসেবে উল্লেখ আছে।

রাজনৈতিক জীবন

দেশ রূপান্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী ছাত্ররাজনীতি দিয়ে তাঁর পথচলা শুরু; তিনি ছাত্রদলের সভাপতি এবং যুবদলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে দীর্ঘদিন তিনি মঠবাড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও আহ্বায়কের দায়িত্বে ছিলেন।

২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি তাঁকে পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া) আসনে দলীয় মনোনয়ন দেয় এবং তিনি ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তাঁর নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে মঠবাড়িয়ায় যুবদলের একটি কর্মসূচিতে হামলায় তিনি, তাঁর ছেলে এবং প্রায় ৫০ জন নেতাকর্মী আহত হন।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিএনপি তাঁকে বহিষ্কার করেছিল; পরে সেই আদেশ প্রত্যাহার করা হয়। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি আবার তাঁকে পিরোজপুর-৩ আসনে মনোনয়ন দেয়। ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর মঠবাড়িয়ার শহীদ মোস্তফা খেলার মাঠে তাঁর সমর্থনে আয়োজিত জনসভায় তিনি সভাপতিত্ব করেন; সেখানে প্রধান অতিথি বিএনপির একজন কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি হামলার শিকার হয়ে আহত হয়েছিলেন।

২০২৬ নির্বাচন

২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসারের স্বাক্ষরিত ফলাফল শিট অনুযায়ী তিনি ৬৩,৭৯১ ভোট পেয়ে জয়ী হন, যা বৈধ ভোটের প্রায় ৪৬.৬ শতাংশ। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মোঃ শামীম হামিদী পান ৩৬,৬১৬ ভোট; ব্যবধান ২৭,১৭৫ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ও চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য মোঃ রুস্তম আলী ফরাজী পান ৩৫,৯৬৮ ভোট। আসনটিতে মোট ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং ডাক ভোটসহ ৮৬টি কেন্দ্রের সবগুলোর ফল ঘোষিত হয়।

২০০১ সালের পর এই প্রথম আসনটি বিএনপির প্রার্থীর হাতে এল; মাঝের নির্বাচনগুলোতে এখানে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছিলেন। আসনের ২,৪১,৩৬০ জন ভোটারের মধ্যে ভোট দেন ১,৩৯,৮১৩ জন, অর্থাৎ ভোটের হার ৫৭.৯৩ শতাংশ। জয়ের পর তিনি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেন এবং মঠবাড়িয়ার ভোটারদের ধন্যবাদ জানান।

সূত্র: জাতীয় সংসদ, deshrupantor.com, prothomalo.com ১, prothomalo.com ২, bssnews.net ১, desh.tv, bssnews.net ২, bssnews.net ৩, 103.183.38.66 ১, 103.183.38.66 ২, tbsnews.net, prothomalo.com ৩, dhakatimes24.com। ভুল দেখলে জানান।

জন্ম৩১ ডিসেম্বর ১৯৬৪, ৬১ বছর
জন্মস্থানপিরোজপুর জেলা, বাংলাদেশ*
লিঙ্গপুরুষ
পেশারাজনীতি ব্যবসা
পিতাআঃ আজিজ খলিফা
মাতাকুলসুম বিবি
বর্তমান মেয়াদ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০৩১
সংসদ সদস্য নির্বাচিতমোট ১ বার

* চিহ্নিত তথ্য সদস্যের উইকিপিডিয়া নিবন্ধ থেকে নেওয়া; সংসদ বা নির্বাচন কমিশনের নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি। ভুল দেখলে জানান।

বর্তমান দায়িত্ব ও কার্যক্রম

২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নিয়ে তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব শুরু করেন। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে গঠিত সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির তিনি সদস্য।

সংসদ সদস্য হিসেবে মঠবাড়িয়া উপজেলার মানুষের প্রতিনিধিত্ব, আইন প্রণয়নে অংশ নেওয়া এবং সরকারের কাজের জবাবদিহি নিশ্চিত করা তাঁর মূল দায়িত্ব। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে তিনি এই মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তরগুলোর কাজ পর্যালোচনায় অংশ নেন।

নির্বাচনের পরপরই ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে মঠবাড়িয়া পৌরসভার একটি মসজিদে প্রায় ৩৫ বছর ধরে বসবাসরত এক ভূমিহীন মুয়াজ্জিনের খবর সংবাদমাধ্যমে দেখে তিনি তাঁকে নগদ অর্থ ও ইফতারসামগ্রী সহায়তা পাঠান। ১৮ এপ্রিল ২০২৬ তিনি মঠবাড়িয়ায় আলগী বাজার পর্যন্ত নাব্যতা হারানো প্রায় সাড়ে সাত কিলোমিটার খালের পুনঃখনন কাজ উদ্বোধন করেন। সেখানে তিনি বলেন, পানির সমস্যার সমাধান করা গেলে এলাকায় কৃষি উৎপাদন বাড়বে।

সূত্র: জাতীয় সংসদ, dhakatimes24.com, deshrupantor.com ১, deshrupantor.com ২, rupalibangladesh.com। ভুল দেখলে জানান।

নির্বাচনী এলাকা

পিরোজপুর-৩

সীমানা নির্বাচন কমিশনের আসনের বর্ণনা থেকে; উপজেলা OpenStreetMap, সিটি কর্পোরেশন OCHA আর সিটি ওয়ার্ড geoBoundaries (BBS, ২০১৫)-এর মানচিত্রে; আনুমানিক। পটভূমির মানচিত্র OpenStreetMap-এর।

নির্বাচনী এলাকার পরিচিতি

পিরোজপুর-৩ জাতীয় সংসদের ১২৯ নম্বর আসন। নির্বাচন কমিশনের সীমানা অনুযায়ী আসনটি পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া (মঠবাড়ীয়া) উপজেলা নিয়ে গঠিত; উপজেলায় একটি পৌরসভা এবং তুষখালী, ধানীসাফা, মিরুখালী, দাউদখালী, মঠবাড়িয়া, টিকিকাটা, বেতমোর রাজপাড়া, আমড়াগাছিয়া, সাপলেজা, গুলিশাখালী ও বড় মাছুয়া, এই ১১টি ইউনিয়ন রয়েছে। আসনটি বরিশাল বিভাগে।

বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী উপজেলার আয়তন প্রায় ৩৪৪ বর্গকিলোমিটার। এটি জেলার দক্ষিণে; পশ্চিমে বলেশ্বর নদীর ওপারে বাগেরহাটের শরণখোলা ও মোরেলগঞ্জ, দক্ষিণে বরগুনার পাথরঘাটা। বলেশ্বর, কচা ও পোনা এখানকার প্রধান নদী। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২২ সালের জনশুমারিতে উপজেলার জনসংখ্যা ২,৭৭,৬২৭। ২০২৬ সালের নির্বাচনে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন ২,৪১,৩৬০ জন।

এলাকার অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর; ধান, গম, আখ, ডাল ও সবজি প্রধান ফসল, আর সুপারি ও নারকেল এখানকার প্রধান রপ্তানিপণ্য। মঠবাড়িয়া সরকারি ডিগ্রি কলেজ, মহিউদ্দিন মহিলা কলেজ ও কে এম লতিফ ইনস্টিটিউশন উল্লেখযোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সোনাখালী জমিদারবাড়ি ও সাপলেজার কুঠিবাড়ি এখানকার ঐতিহাসিক স্থাপনা; পহেলা বৈশাখে মঠবাড়িয়া বন্দরে মেলা বসে।

আসনটিতে ১৯৯১ সালে মহিউদ্দিন আহমেদ জয়ী হন। রুস্তম আলী ফরাজী ১৯৯৬ সালের জুনে জাতীয় পার্টি, ২০০১ সালে বিএনপি, ২০১৪ সালে স্বতন্ত্র এবং ২০১৮ সালে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে জেতেন; ২০০৮ সালে জয়ী হন আওয়ামী লীগের আনোয়ার হোসেন। ২০২৪ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী শামীম শাহনেওয়াজ এবং ২০২৬ সালে বিএনপির রুহুল আমীন দুলাল নির্বাচিত হন। সময়ের সঙ্গে আসনের সীমানারও পুনর্বিন্যাস হয়েছে।

সূত্র: en.banglapedia.org, উইকিপিডিয়া (বাংলা), citypopulation.de, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ১, 103.183.38.66, tbsnews.net, prothomalo.com ১, dhakatimes24.com, উইকিপিডিয়া (ইংরেজি) ২, prothomalo.com ২। ভুল দেখলে জানান।

সংসদে মেয়াদ

ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬পিরোজপুর-৩বর্তমান মেয়াদBNP

সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী তিনি মোট ১ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানে ৪র্থ, ৫ম ও ৭ম থেকে ১২শ সংসদের রেকর্ড আছে; ১ম থেকে ৩য় ও ৬ষ্ঠ সংসদের তালিকা নেই, তাই তার আগের মেয়াদ থাকলে এখানে দেখা যাবে না।

২০২৬ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট

আসনের সব ফল →
ত্রয়োদশ সংসদ, ২০২৬প্রার্থীদের মোট ১,৩৬,৯৮৭ ভোট
  1. মোঃ রুহুল আমীন দুলালBNPবিজয়ী৬৩,৭৯১৪৬.৬%
  2. Md Shamim HamidiNCP৩৬,৬১৬২৬.৭%
  3. Md Rustam Ali FaraziIAB৩৫,৯৬৮২৬.৩%
  4. TauhiduzzamanInd২৩১০.২%
  5. Karim SikdarBangladesh JaSad২১২০.২%
  6. Md Mashreful Azam (Rabi)JP(ERSHAD)১৬৯০.১%
উৎস: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড। নির্বাচন কমিশনের গেজেটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়নি। উইকিপিডিয়াতেও বিজয়ীর ভোট একই।মূল পাতা

সংসদ সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন(১)

জনাব মোঃ রুহুল আমিন দুলাল, ১২৯ পিরোজপুর-৩৬ অক্টোবর ২০২৬, অনাপত্তিপত্রPDF

আসন: পিরোজপুর-৩

আসনের পাতা →
এলাকা

মঠবাড়ীয়া উপজেলা

সংসদীয় কমিটি(১)

সংবাদ ও ভিডিও

সংবাদ ও ভিডিও আনা হচ্ছে…

কোথা থেকে তথ্য আসে

সদস্য, আসন, কমিটি ও অধিবেশন আসে জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইট থেকে; ভোটার সংখ্যা নির্বাচন কমিশন ও মন্ত্রিসভা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে। ভোটের ফল ও জীবনীর সূত্র আলাদা করে প্রতিটি পাতায় লেখা।

সব সূত্র দেখুন →

কত দিন পরপর হালনাগাদ

প্রতি রাতে পুরো সাইট সংসদের তথ্যভান্ডার থেকে নতুন করে তৈরি হয়। নতুন প্রজ্ঞাপন, বৈঠকের কার্যসূচি বা কমিটির পরিবর্তন পরদিনের মধ্যে যুক্ত হয়; সংবাদ শিরোনাম দিনে কয়েকবার।

পদ্ধতি →

ভুল পেলে

প্রতিটি সদস্যের পাতায় “সংশোধন জানান” বোতাম আছে। সূত্রসহ জানালে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাচাই করে ঠিক করা হয়; সদস্যের দপ্তর নিজের পাতাও হালনাগাদ করাতে পারেন।

যোগাযোগ →